বর্ষার দিনে কাটানো শৈশবের কিছু স্মৃতি
নমস্কার সবাইকে,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমিও খুব ভালো আছি। |
|---|
ছোটবেলায় আমি গ্রামেই বড় হয়েছি । যে দিন থেকে বুঝতে শিখেছি তারপরও প্রায় পাঁচ বছর গ্রামে থেকেছি ।গ্রামের পরিবেশটাকে ভালোবেসেই বড় হয়েছি। এই শৈশবে গ্রামে থাকাকালীন সময়ে জীবনযাত্রা ছিল অন্যরকম। বর্ষার সময় সে একটা আলাদা ব্যাপার থাকতো । আমাদের আশেপাশের যে বাড়িঘর গুলো ছিল সেখানে আমার বয়সী যেসব ছেলে অথবা মেয়েরা ছিল তাদের সাথে এই বর্ষার দিনে অনেক মজা করেছি। তার মধ্য থেকে কিছু কিছু ঘটনা আজকের ব্লগে তুলে ধরবো আমি । যেমন বর্ষার সময় হলেই আমার আশেপাশের সমবয়সী ছেলে মেয়েদের নিয়ে বারান্দায় বসে লুডু খেলতে বসে যেতাম ।
সবাই মিলে অনেক মজা করে লুডু খেলতাম । বর্ষার সময়টাতে আমরা কোনরকম পড়াশোনাই করতাম না। লুডু খেলা শেষ করে আমরা চোর, পুলিশ, ডাকাত নামক একটি খেলা খেলতাম। হয়তো শহরের বাচ্চারা এই খেলার নামই কখনো শুনিনি কিন্তু গ্রামের বাচ্চারা এই খেলাটি খুব ইনজয় করে খেলতো । সময়ের সাথে যদিও এখন বর্তমানে এইসব খেলা গুলো নেই কিন্তু আমাদের সময়কালে ছিল। যখন অতিরিক্ত বৃষ্টি হতো তখন বাইরে না গিয়ে আমরা ঘরে বসে এইসব ইনজয় করতাম। আবার মাঝে মাঝে বর্ষার মধ্যে নেমে যেতাম উঠানে। বর্ষায় ভিজতে ভিজতে কাদামাটি নিয়ে খেলা শুরু করে দিতাম।
তাছাড়া বর্ষার দিনে আমরা পুকুরে স্নান করতে চলে যেতাম। তার অনুভূতি হয়তো সত্যি বলে বোঝানো সম্ভব না। এছাড়া বর্ষার দিনে বন্ধুরা মিলে মাছ ধরতাম পুকুরে গিয়ে। শৈশবের এই স্মৃতিগুলো সত্যি অনেক মধুর ছিল। বর্ষার সময় মাঝে মাঝে মেঘে প্রচন্ড গর্জন দিত তখন বাড়ির বড়রা বলতো বাইরে না যেতে কিন্তু তখন এই ব্যাপারগুলো আমরা বুঝতামই না তাই আমরা মেঘের গর্জন কে ভয় পেতাম না । আমরা আমাদের মতো করে আমাদের কাজগুলো সম্পন্ন করতাম। বর্ষার সময় বর্ষার জল ধরে রাখতাম বিভিন্ন পাত্রে এবং বর্ষা শেষ হলে সেই জল রান্নার কাজের জন্য মাকে এগিয়ে দিয়ে আসতাম। কোন কোন বর্ষায় ছাতি নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম নিকটবর্তী বাজারে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে নিয়ে আসতাম এবং খাবার কিনে নিয়ে এসে বন্ধুরা মিলে ঘরে বসে খেতাম আর গল্প করতাম। এভাবে কেটেছে আমার শৈশব বর্ষার দিন গুলোতে । শৈশবের হাজারো স্মৃতি রয়েছে সেখান থেকে কিছু কিছু স্মৃতি শেয়ার করার চেষ্টা করলাম আমি আজকের ব্লগে।
ভাইয়া বর্ষার দিনে কাটানো শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করলেন।খুবই আনন্দের দিন ছিল সে সময়।আমাদের তো বৃষ্টির দিনে প্রায়ই ক্লাস হতোনা।আমরা খাতা থেকে কাগজ ছিঁড়ে নৌকা করে পানিতে ভাসিয়ে দিতাম।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লেগেছে। আমরাও লুডু খেলতাম।আপনি ছাতা মাথায় দিয়ে বাজারে চলে যেতেন খাবার আনতে।সত্যি ই দিনগুলো খুব মধুর ছিল।ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু সত্যি অনেক মধুর ছিল শৈশবের সেই সময় গুলো। মাঝে মাঝে বর্ষার দিনে এই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য এই স্মৃতিগুলো মনে করতে করতে কেমন জানি শৈশবে ফিরে যায়।
জানেন তো ভাই আপনার লেখাগুলো পড়ছিলাম আর ভীষণ আফসোস করছিলাম, আমার শৈশবটা গ্রামে বেড়ে ওঠে নি বলে। কারণ গ্রামের বাড়িতে বর্ষাকালের মজাটাই অন্যরকম। বন্ধুদেরকে নিয়ে একসাথে খেলাধুলা করা ,বৃষ্টিতে ভেজা, নদীতে বা পুকুরে স্নান করা এসব গ্রাম ছাড়া একদমই সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে লুডু খেলাটা উঠে গেছে প্রায়। সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত 😭।
আপনার আবেগপ্রবণ কথাটা শুনে আমারও খারাপ লাগলো ভাই কিন্তু কি আর করা যাবে সবার শৈশব তো আর গ্রামে কাটেনা। আমি সেই দিক থেকে লাকি কারণ আমার শৈশব গ্রামে কেটেছে। গ্রামের প্রকৃতির মাঝে আমি বড় হয়েছি। শৈশবে গ্রামীন জীবনের সবকিছুই উপভোগ করেছি মোটামুটি।