ভ্রমন: মৌসুনি আইল্যান্ড (পর্ব- ০৩)
বন্ধুরা,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি, সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও বেশ ভালো আছি। |
|---|
আজকের নতুন একটি ব্লগে প্রথমেই সবাইকে স্বাগতম জানাই। বেশ কিছুদিন আগে বন্ধুদের সাথে মৌসুনি আইল্যান্ড নামক একটি জায়গায় ঘুরতে গেছিলাম তাই নিয়ে আজকের তৃতীয় পর্বের ব্লগে কিছু কথা শেয়ার করব।
দুপুরের কিছুটা পরে ভাটা শুরু হয় আর ধীরে ধীরে আমরা সমুদ্র সৈকতের দেখা পাই। আমার দেখা অন্যান্য সমুদ্র সৈকতের মতো এই সমুদ্র সৈকতটি ছিল না। অন্যান্য সমুদ্র সৈকতে বালির পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু এই সমুদ্র সৈকতে কাদার পরিমাণ বেশি ছিল। ভাটার পরে যখন কাদাময় এই সমুদ্র সৈকতটি দেখতে পেয়েছিলাম কিছুটা নিরাশ হয়েছিলাম। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম যেহেতু একটি আইল্যান্ডে যাচ্ছি তাই বালির সমুদ্র সৈকত দেখতে পারবো কিন্তু তেমনটা হয়নি। তাই বলে তো বেশি হতাশ হলে চলবে না! এত টাকা খরচ করে যখন গেছি ভালো করে ঘুরে আসতে হবে এই মোটিভেশন নিজেদের মধ্যে ছিল।
আস্তে আস্তে যখন অনেকটা সমুদ্র সৈকতের বিস্তৃতি আমরা দেখতে পাই , অনেকটা স্ট্রাগল করেই এই সমুদ্র সৈকতে যাই কারণ সরাসরি সমুদ্র সৈকতে নামার কোন ব্যবস্থা ছিল না । এখানে যে সমুদ্রের পাড় ছিল সেগুলো বাঁশ দিয়ে ঘেরা ছিল কারণ যখন প্রচন্ড জোয়ার হয় এখানে তখন সমুদ্রের পাড় ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখার ব্যাপারটি ফটোগ্রাফিতে তোমরা স্পষ্ট দেখতে পারবে। সমুদ্র সৈকতে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করার সময় কাদামাটির গোল গোল অংশ দেখতে পেয়েছিলাম । এগুলো সমুদ্রের স্রোতের কারণে হয়েছিলো ।এগুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিল ।
আমি একা একাই সমুদ্র সৈকতের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম আর অন্যদিকে আমার বন্ধুরা সমুদ্র সৈকতে স্নান করার জন্য প্রথমে তারা রিসোর্টের রুমে চলে যায় এবং জামা কাপড় চেঞ্জ করে এসে সমুদ্রের জলে গিয়ে নেমে পড়ে। এই সময়টাতে তারা আমাকেও সমুদ্রের জলে নামার কথা বলেছিল স্নান করার জন্য কিন্তু সমুদ্রের ঘোলা জল দেখে আমি সমুদ্রের জলের নামবো না বলে জানিয়ে দি তাদের। এই সময় তারা আমাকে একটু বেশি কথাও শুনেছিল দিয়েছিল। যেমন: এত হিসাব করতে গেলে হয় না, যেখানে যেরকম সেটা মেনে নিয়েই চলতে হয়, জল ঘোলা তা কি হয়েছে, স্নান করলে কোন অসুবিধা হবে না ইত্যাদি অনেক কথা। আমি তখন তাদের জানিয়েছিলাম আমি সমুদ্রে না নেমেই দূর থেকে সমুদ্রের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চাই। কিছুটা দূরে মাছ ধরার কয়েকটি নৌকাও দেখা যাচ্ছিল এই সময়। এগুলো সমুদ্রের স্রোতের সাথে সাথে দোল খাচ্ছিল যা দেখতে বেশ ভালই লাগছিল।
সমুদ্র সৈকতে যখন ভাটা শুরু হয় তখন এই সমুদ্র সৈকতে অনেক কুকুরের দেখা পাওয়া যায়। ভাটার কারণে অনেক ধরনের খাবার এই সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যায় এইগুলো খাওয়ার জন্যই কুকুরগুলো এই সমুদ্র সৈকতের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই সমুদ্র সৈকতের পাশে অনেকগুলো রিসোর্ট ছিল, সেখানের অবশিষ্ট পড়ে থাকা খাবারগুলো এই সমুদ্রেই ফেলা হয়। ভাটার সময় যার কিছু অংশ থেকে যায় সেইখানে। সেগুলো খাওয়ার জন্যই কুকুরদের ছোটাছুটি দেখতে পাওয়া যায়। এই সমুদ্র সৈকতটি প্রায় সম্পূর্ণভাবেই ফাঁকা ছিল। আমরা কয়েকজন ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলাম না সেখানে। এই ফাঁকা সমুদ্র সৈকতে আমি একা একা হেঁটে চারপাশের সবকিছু দেখে বেড়াচ্ছিলাম ।
ক্যামেরা: স্যামসাং
মডেল: SM-M317F
ফটোগ্রাফার: @ronggin
অবস্থান: মৌসুনি আইল্যান্ড, ওয়েস্ট বেঙ্গল।
সমুদ্র সৈকতের দারুন দৃশ্য গুলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন আপনি আপনার আজকের এই অসাধারণ একটি পোস্টের মধ্য দিয়ে। যেখানে ভ্রমণ করতে গিয়ে তুলেছেন সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আর ফটোগ্রাফি গুলো পাশাপাশি বর্ণনা সহকারে তুলে ধরেছেন এই পোস্টের মাঝে। যা থেকে অনেক ধারণা অর্জন করতে পারলাম।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই আমার শেয়ার করা এই সমুদ্র সৈকতের ফটোগ্রাফি গুলোর প্রশংসা করার জন্য।