শৈশবের স্মৃতিচারণ: তাল কুড়ানো (পর্ব-০১)

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বন্ধুরা,

তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও বেশ ভালো আছি।

palm-166795_1280.jpg

ইমেজ সোর্স

শহরের ছেলেমেয়েরা তাল কুড়ানোর ব্যাপারটা না বুঝে থাকলেও গ্রামের ছেলেমেয়েরা অবশ্যই এই ব্যাপারটির সাথে খুবই পরিচিত। এই ব্যাপারটি খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার । যারা এই কাজগুলো করেছে তারাই জানতে পারবে এর মজা। আমার জীবনের অনেকটা সময় আমি গ্রামে কাটিয়েছি। এই জন্য গ্রামীণ জীবনের সবকিছুর সাথে কম বেশি আমার পরিচিতি রয়েছে। গ্রামে থাকা দুষ্টু ছেলের মত আমিও সারাদিন কমবেশি দুষ্টুমি করে বেড়াতাম। বন্ধুদের সাথে প্রতিদিন কোন না কোন দুষ্টুমি প্ল্যান করে রাখতাম পরের দিন করার জন্য। তালের মৌসুমে অন্যের গাছ থেকে তাল কুড়ানোর ব্যাপারটা আমরা বন্ধুরা মিলে প্লান করে করতাম । বন্ধুরা মিলে একসাথে তাল কুড়াতে গিয়ে আগে তাল কে দৌড়ে ধরতে পারবে সেই কম্পিটিশন থাকতো আমাদের মধ্যে।

পাকা তাল পড়ার কোন নির্দিষ্ট সময় থাকে না। যে কোন সময়ই এই তাল পড়তে পারে। আমাদের বাড়িতে বড় বড় দুটি তালগাছ ছিল। একটি একদম বাড়ির পিছনে এবং অন্য আরেকটি ছিল বাঁশ বাগানের মধ্যে। বাড়ির পাশে যে তালগাছটি ছিল সেই গাছ থেকে তাল পড়ার শব্দ খুব সহজেই পেয়ে যেতাম আমরা। তবে সেই তাল আনতে যাওয়া একটু কষ্টকর ছিল কারণ তাল গাছের পাশেই ছিল খাল। গাছ থেকে পাকা তাল পড়ার পরই গড়িয়ে খালের মধ্যে গিয়ে পড়তো আর না হয় গাছের পাশে যে বুনো গাছ পালা দিয়ে ভরা থাকতো তার মধ্যে পড়ে থাকতো। অনেকটা জঙ্গলের মত থাকার কারণে সেখান থেকে যেকোনো সময় তালা আনা একটা কষ্টকর ব্যাপার ছিল। এই জন্য স্নান করার পূর্বে এই তালগুলো কুড়িয়ে রাখা হতো ।

অনেক সময় আমি এগুলো করে রাখতাম আবার অনেক সময় বাড়ির অন্যান্য লোকও এই তালগুলো কুড়িয়ে রাখত। আর আমাদের যে তাল গাছ টি বাঁশ বাগানের মধ্যে ছিল সেই গাছের তাল পড়ার আওয়াজ সব সময় বুঝতে আমরা পারতাম না কিন্তু যখন বুঝতে পারতাম তখন ছুটে যেতাম তাল আনতে। দিনের সময় হলে একা গিয়ে তাল নিয়ে আসতাম আর রাতের সময় তাল পড়লে একা একা গিয়ে তাল আনা সম্ভব হতো না। তখন বাড়ির বড় কেউ গিয়ে সেই তাল নিয়ে আসতো। গ্রামের অনেক ছেলেরাই ছিল যারা রাতের বেলায় গাছের তাল কুড়ানোর জন্য বের হতো এই তাল পাকার মৌসুমে। তারা কোনো দিন চুপি চুপি এসে তাল গুলো নিয়ে গেলে সেদিন আমরা আর তাল পেতাম না।

চলবে...



বন্ধুরা, তাল কুড়ানো নিয়ে শেয়ার করা ব্লগটির প্রথম পর্ব তোমাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানিও। সবাই ভালো থাকো, সুস্থ থাকো , সুন্দর থাকো ,হাসিখুশি থাকো , নিজের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো , সবার জন্য এই শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে

Sort:  
 3 years ago 

দাদা চমৎকার করে আপনি আপনার শৈশবের স্মৃতিচারন করলেন। সত্যি বললে শৈশবের এমন স্মৃতিগুলো কিন্তু আমায় বেশ মুগ্ধ করে। আপনার মত আমারও কিন্তু অনেক স্মৃতি আছে ।শৈশবে আম আর বড়ই কুড়ানোর গল্প কিন্তু আজও স্মৃতির পাতায় বার বার ‍উকি দেয়।

 3 years ago 

সবার জীবনেই এরকম কমবেশি স্মৃতি থাকে আপু। শৈশবের এমন স্মৃতিগুলো আপনাকে মুগ্ধ করে জেনে ভালো লাগলো আপু।

 3 years ago 

আপনার ছোটবেলায় কাল কুড়ানোর অভিজ্ঞতা অনুভূতিগুলো শুনে ভীষণ ভালো লাগলো। তবে আমি সবসময়ই শহরে শহরে থাকায় এই অনুভূতিগুলো তেমন অনুভব করতে পারি না। যাই হোক আপনার তাল কুড়ানোর কথাগুলো শুনে কেমন যেন ছোট্ট বেলায় হারিয়ে যাচ্ছিলাম।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আমার শৈশবের তাল কুড়ানোর অভিজ্ঞতার অনুভূতি শুনে আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো ভাই।

 3 years ago 

তাল কুড়ানো বা ঝড়ের সময় আম কুড়ানো এগুলোর মূহুর্ত শহরে বড় হওয়া ছেলে মেয়েরা আসলেই কখনো বুঝবে না ভাই। পাকা তাল পড়ার কোনো সময় না থাকলেও একেবারে ভোরে গেলেই বেশি তাল পাওয়া যায় সাধারণত। আপনার তাল কুড়ানো পোস্ট এর প্রথম পর্বটা পড়ে বেশ ভালো লাগল ভাই।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

তাল কুড়ানো নিয়ে শেয়ার করা প্রথম পর্বের ব্লগটা আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক খুশি হলাম ভাই। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আপনার শৈশবে তাল কুড়ানো গল্পের প্রথম পর্ব পড়ে খুব ভালো লাগলো। আপনার গল্পটি পড়ে আমিও শৈশব কালে হারিয়ে গেলাম। আপনার শৈশবের স্মৃতিচারণ দুর্দান্ত হয়েছে। আসলে শৈশবে যখন সকাল বেলা তালগাছ তলে যেতাম তখন অনেক তাল পেলে কি যে আনন্দ অনুভূতি হতো তা বলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনুভূতিগুলো সত্যি খুব অসাধারণ। আপনার গল্পের প্রথম পর্বটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

বাহ! অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে কথা গুলো বললেন তো ভাই। বেশ ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটি পড়ে। আমার শেয়ার করা এই ব্লগ টি আপনার কাছে ভালো লেগেছে এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয় । অনেক অনেক ভালো থাকবেন এবং এমন সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করে পাশে থাকবেন ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64236.74
ETH 1844.25
USDT 1.00
SBD 0.38