পরিবারের সাথে "বারাসাত স্পন্দন" আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাওয়া।
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও মোটামুটি ঠিক আছি। |
|---|
প্রথমেই আজকের নতুন একটি ব্লগে সবাইকে স্বাগতম। আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে "বারাসাত স্পন্দন" আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করব।
কয়েকদিন আগেই বারাসাত ইভিনিং কলেজে "বারাসাত স্পন্দন" আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে ছোট বাচ্চাদের গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নাট্য অভিনয় এর আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারটা আমি জানতে পেরেছিলাম আমার নিজের কাকিমার কাছ থেকে। আমার কাকিমার ছেলের বয়স মোটামুটি ১০-১১ হবে, তারও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কথা করার কথা ছিল। সে ছোট করে একটি নাটক নিজে লিখেছিলো এবং এই অনুষ্ঠানে তার এই নাটক উপস্থাপন করার কথা ছিল। এই বিষয়টা কাকিমা কয়েকদিন আগেই আমাদের জানিয়ে ছিল এবং এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার নিমন্ত্রণ পত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়েছিল আমাদের বাড়ির সবাইকে।
যেহেতু ছোট ভাইয়ের নাটকের অভিনয় ছিল তাই যেদিন এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সেই দিন বিকালের সময় আমি, মা এবং দাদা তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই বারাসাতের এই জায়গাটিতে। এই জায়গাটি আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি দু থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরেই ছিল। আমাদের বাড়ি থেকে সরাসরি সেখানে যাওয়ার অটো বা টোটো পাওয়া যায় না সেইজন্য আমরা হেঁটে যাওয়াটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেইদিন। তবে আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে একটু দেরি হয়ে গেছিল সেই জন্য অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পরে গিয়ে আমরা সেখানে পৌঁছাই। অনুষ্ঠান বিকাল পাঁচটা থেকে হওয়ার কথা ছিল আর পাঁচটাতেই শুরু হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম অনুষ্ঠান একটু দেরিতে শুরু হবে সেই জন্য আমরা পাঁচটার পরে বাড়ি থেকে রওনা করেছিলাম আর সেখানে পৌঁছেছিলাম সাড়ে পাঁচটার দিকে।
এই দেরি করে সেখানে যাওয়ার কারণে আমরা ভাইয়ের নাটকের অভিনয় দেখা মিস করে দিয়েছিলাম কারণ অনুষ্ঠান শুরুর প্রথমে ভাইয়ের প্রোগ্রামটি ছিল। সেজন্য সেখানে পৌঁছে আমাদের সবারই বেশ আফসোস লাগছিল। যাই হোক সেখানে পৌঁছানোর পর ভাইয়ের নাটকের অভিনয় দেখতে না পেয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেছিলো তারপরও সেই অনুষ্ঠান হল এর মধ্যে গিয়ে বসি এবং অন্যান্য বাচ্চাদের নাটকের অভিনয়, আবৃত্তি, গান সবকিছুই এনজয় করি। অনুষ্ঠান চলাকালে মাঝে মাঝে আমি ও দাদা হলের বাইরে থেকে একটু চা খেয়ে নিচ্ছিলাম। হলের বাইরে চায়ের স্টল বসেছিল যেখান থেকে যে যার ইচ্ছামতো চা খেতে পারবে সে রকম ব্যবস্থা ছিল।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পরে সবাইকে হালকা-পাতলা খাবারও দিয়েছিল প্যাকেটে করে। যেখানে সিঙ্গারা, জুস ও মিষ্টি ছিল। আমরা এই খাবারগুলো ইনজয় করেছিলাম অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে। ছোট বাচ্চাদের এই অনুষ্ঠান দেখতে অনেক ভালো লাগছিল। ছোট কিউট বাচ্চাদের অভিনয়ের মধ্যে ন্যাচারাল একটা ব্যাপার ছিল যা সত্যি অনেক বেশি ভালো লাগছিল ।এভাবে প্রায় দু'ঘণ্টার মতো সময় আমরা সেখানে ছিলাম। তারপর আমি এবং দাদা সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ি। মা সেখানে কাকিমাদের সাথে বসে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্তই ইনজয় করেছিল। আমি একটা জরুরী কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান ইনজয় করতে পারিনি তবে যতটুকু সময় সেখানে ছিলাম অনেকটা ভালো সময় কাটিয়েছিলাম।
ক্যামেরা: স্যামসাং
মডেল: SM-M317F
ফটোগ্রাফার: @ronggin
অবস্থান: বারাসাত , নর্থ চব্বিশ পরগনা, ওয়েস্ট বেঙ্গল।
যখন দেখবেন কোন ভালো সময় আসে তখন নিজের প্রয়োজনীয় কাজ পরে যায়। যাই হোক পরিবারের সাথে যে কোন প্রোগ্রামে গেলে অনেক ভালো লাগে। আর যদি এরকম দারুণ প্রোগ্রাম হয় তাহলে তো কথাই নেই। সত্যি ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন বোঝাই যাচ্ছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে নিজের কাটানো মুহূর্তগুলো তুলে ধরার জন্য।
হ্যাঁ আপু পরিবারের সাথে কোনো প্রোগ্রাম কাটাতে পারলে বেশ ভালই লাগে। আপনার সুন্দর মন্তব্যটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এই ধরনের অনুষ্ঠানে গেলে দারুণ সময় কাটে। বাচ্চাদের পারফরম্যান্স দেখতে সত্যিই খুব ভালো লাগে। বাচ্চারাও তাদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে হয়তোবা বড় কিছু হতে পারে। আপনারা সবাই গিয়েছেন ঠিকই, তবে আপনার ছোট ভাইয়ের অভিনয় মিস করেছেন। আপনারা থাকলে হয়তোবা আপনার ছোট ভাই অভিনয় আরো ভালো করতে পারতো। কারণ মনের মধ্যে অন্য রকম সাহস পেত। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ছোট ভাইয়ের অভিনয়টা মিস করে গেছি এটাই আফসোস ভাই😭। এত সুন্দর গুছিয়ে কথাগুলো বলার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।