বৌভাতের নিমন্ত্রণে
বন্ধুরা ,
| সবাই তোমরা কেমন আছো ? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমিও অনেক অনেক ভালো আছি। |
|---|
গত দুইদিন আগে আমার এক প্রতিবেশী দাদার বিয়ের বৌভাতের নিমন্ত্রণ ছিল আমাদের বাড়ির সবার। যেহেতু আমাদের নিমন্ত্রণ ছিল সন্ধ্যার পরে তাই আমি এবং আমার দাদা একটু সন্ধ্যা করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলাম। সন্ধ্যার দিকে মা বাড়িতে ছিল না, মা বিয়ে বাড়িতেই ছিল আর বৌভাত হচ্ছিল একটি কমিউনিটি হলে। এটিকে যদিও কমিউনিটি হল বলা যায় না, এটি ছিল মূলত একটি গ্রন্থাগার। তার উপরে কমিউনিটি হলের মতো তৈরি করা হয়েছে বিয়ে অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানের ভাড়া দেওয়ার জন্য । এটি একেবারে আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল, হেঁটে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিটের দূরত্ব। আমি এবং আমার দাদা সেখানে গিয়ে দেখি লোকজন তখনও তেমন এসে পারিনি। আমরা যখন বুঝতে পারি আমরা একটু তাড়াতাড়ি এসে পড়েছি তখন সেখান থেকে কফি, ফুচকা পকোড়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে কিছু সময় একটু ওয়েট করি লোকজনের জন্য। আমরা কিছু সময় অপেক্ষা করে একটু বাইরে হাঁটার জন্য বেরিয়ে পড়ি। বাইরে বেশ ঠান্ডা ছিল তারপরও হাঁটতে বেরেছিলাম কারণ সেইখানে তেমন একটা লোক ছিল না ,কয়েকজনের বসে থাকতে বোরিং লাগছিল মূলত সেইজন্য।
ততক্ষণে আমাদের বৃহস্পতিবারের হ্যাংআউট শুরু হয়ে গেছিল। আমার ফোনে এমবি কম থাকায় দাদার ফোন দিয়েই আমি হ্যাংআউট শুনছিলাম। হ্যাংআউট শুনতে শুনতে আমরা আমাদের এলাকায় চারপাশে একটু ঘুরাঘুরি করি। বেশ একটু ঠান্ডা লাগছিল, তারপর যখন দেখি নয়টার বেশি বেজে গেছে তখন আবার আমরা বৌভাতের অনুষ্ঠানে এসে হাজির হয়ে যাই। এসে দেখি তখন সবাই উপস্থিত হয়ে গেছে। মাও ততক্ষণে চলে এসেছিল বিয়ে বাড়ি থেকে বৌভাতের অনুষ্ঠান আয়োজন করা কমিউনিটি হলটিতে। সেখানে আসার পর আমরা কিছু সময় বসলাম। তারপর দাদা বৌদি সবার সাথে গিয়ে কথা বললাম , কিছু ছবিও তুলে নিলাম তাদের সাথে ।
দাদা বৌদি বিভিন্ন পোজ দিয়ে দিয়ে ছবি তুলছিল ফটোগ্রাফারদের সামনে সেখান থেকেও কয়েকটি ফটোগ্রাফি করে নিয়েছিলাম তাদের। তাদের সাথে কথা বলা শেষ করে একটু বাইরে আসতেই আমার এক পরিচিত বোন ফোন করে এবং আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কোথায় আছি ? তখন আমি বলি আমি বৌভাতের অনুষ্ঠানে অলরেডি পৌঁছে গেছি। কথা বলার ৫ মিনিটের মধ্যে বোনও অনুষ্ঠান হলটির সামনে চলে আসে। অনেকদিন পর বোনের সাথে দেখা হওয়ার পরও বেশ ভালো লেগেছিল আমার। একসাথে অনেকটা কথা বলার সুযোগ হয় । আমরা কমিউনিটি হলের মধ্যে বসে অনেক গল্প গুজব করি, অনেক আনন্দ হয়। সবাই আমাদের কাছে এসে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করছিল আমাদেরও বেশ ভালো সময় যাচ্ছিল তখন।
সেখানে যাওয়ার পরে আমার এক বন্ধু এবং এক বান্ধবীর সাথেও দেখা হয়ে যায়, তাদেরও নিমন্ত্রণ ছিল এই বৌভাতে। রাত প্রায় ১o.৩০ টার দিকে যারা খাবারের দায়িত্বে ছিল তারা আমাদেরকে খেতে যাওয়ার জন্য বলে কিন্তু আমরা কিছুটা সময় লেট করি। আমরা সবাই মিলে একটু গল্প গুজব করছিলাম , দাদার সাথে অনেক মজা করছিলাম সবাই মিলে। প্রায় ১১ টার সময় গিয়ে যখন মেয়ে পক্ষের দিক থেকে লোকজন আসে তাদের সাথে একটু পরিচয় হয়ে, তার প্রায় আধা ঘন্টা পরে আমরা খাবারের জন্য যাই। খাবারের ওইখানেও ভালো ভালো আইটেমের আয়োজন করা ছিল কিন্তু সেখানে খাওয়ার ব্যস্ততার মধ্যে ফটোগ্রাফি করার সুযোগ পায়নি। যাইহোক খাবার দাবার খেয়ে বেশ ভালোই লেগেছিল। অনেক আইটেমেরই আয়োজন করেছিল তারা। আমাদের খাবার দাবার শেষ করতে মোটামুটি ১২.৩০ এর কাছাকাছি বেজে যায়। তারপর আমার যে প্রতিবেশী বোনের সাথে দেখা হয়েছিল তাকে তার বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে এসে আমি ,মা এবং দাদা বাড়িতে চলে আসি।
কথায় আছে, খাওয়ার আগে মেলে পিছনে😜😜।তাই দুই ভাই মিলে আগে আগে মানুষ আসার আগেই আপনারা চলে গিয়েছেন😆😆।বউ টা মনে হয় দেখতে বেশ কিউট।যাক অনেক খাবার খেয়ে খেয়েছেন।প্রোগ্রাম আসলে সবার সাথে দেখা হয় ভালোই লাগে।বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে
আগে গেলেও খুব বেশি একটা খেতে পারিনি। প্রথমে তো মনে হয় এক কেজির মতো চিকেন পকোড়া খেয়েছিলাম। আর খাসির মাংসও ঠিকঠাক মত খেতে পারিনি, মাত্র আধা কেজি বা তার একটু বেশিই হবে। আমার আবার খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অতটা লোভ নেই।🤭
এত কিছু খাওয়ার পরও যদি মন না ভরে তাহলে আর কিছু বলার নেই।
ভাগ্যিস খাওয়া দাওয়ার প্রতি লোভ নেই, তাহলে তো বিয়েবাড়ির সবাইকে না খেয়ে বাড়ি ফিরতে হত।কম খেয়েই এত বেশি খেলে না জানি কি হত😜😜
হিহি... কথা সত্য আপু।
ঐদিন আর একবার খেতে বসলে মনে হয় ভালো হতো। আমি খাসির মাংস ঠিকঠাক মত খেতে পারিনি। কারণ প্রথম দিকে এত পরিমাণে পকোড়া খেয়ে ফেলেছিলাম যে, শেষে খাওয়ার ইচ্ছাটাই প্রায় মরে গেছিল। তবে সবাই মিলে প্রচন্ড মজা করেছিলাম এটা ঠিক কথা।
চিকেন পকোড়া এত বেশি খেতে কে বলেছিল ? যদি এতই খাসির মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকে!
বৌভাতের নিমন্ত্রণে গিয়ে বেশ ভালো মুহূর্তে কাটিয়েছেন দেখছি ৷ আসলে অনেক দিন হলো কোনো বিয়ের নিমন্ত্রণ আসছে না ৷ কিন্তু আপনাদের কাটানো সুন্দর মুহূর্ত গুলো দেখে অনেক ভালো লাগলো ৷ দাদা সহ একটু আগেই অনুষ্ঠানে গিয়ে খাওয়া দাওয়া ঘোরাঘুরি বেশ ভালোই করেছেন ৷ যাই হোক ভালো লাগলো পোস্টটি ৷ ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য ৷