টেনিস বলে ক্রিকেট
copyright free image source:Pixabay
বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হয়েছে ভারতের মাটিতে । কাপ নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই বিশাল দেশ । এ স্বপ্ন তারা দেখতেই পারে । কারণ, ক্রিকেট খেলাটা তাদের দেশ বেশ ভালো করেই রপ্ত করেছে । এর আগে দু'বার বিশ্বকাপ জয়ী হচ্ছে আমাদের দেশ । ক্রিকেট পাগল দেশে তাই ছোটদের কাছেও ক্রিকেট খেলাটা খুবই জনপ্রিয় ।
ছোটবেলায় আমরাও ক্রিকেট খেলতাম আমাদের গ্রামের বাড়িতে । তবে, এখনকার বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলা আর আমাদের তখনকার ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলার মধ্যে এক আকাশ তফাৎ রয়েছে । আমাদের সময়ে সামান্য একটা ক্রিকেট ব্যাট বা বল কেনারও সামর্থ্য ছিল না । আর এখনকার বাচ্চারা হেলমেট, প্যাড, গ্লাভস, ক্রিকেট ব্যাট, ক্রিকেট বল, স্ট্যাম্প-বেল এমনকি ক্রিকেট খেলার উপযোগী ট্রাউজার্স জার্সি কেডস সবকিছুই খুব সহজেই পেয়ে যায় । আর আমরা এর একটি উপকরণও কখনো পাইনি ।
কিন্তু, তা বলে যে আমাদের খেলায় আনন্দ ছিল না, তা কিন্তু নয় । ভীষণ রঙিন আর আনন্দময় ছিল শৈশবের ক্রিকেট খেলার দিনগুলি । আমাদের গ্রামে ফুটবল তেমন একটা জনপ্রিয় খেলা ছিল না । ফুটবলের চাইতে বরং ক্রিকেট আর ব্যাডমিন্টনটাই চলতো বেশি । তবে, শীত পড়লে আমরা ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিও খেলতাম । সে এক মজার খেলা । আমাদের কারোরই না ছিল হকিস্টিক না ছিল হকির বল । তবুও আমরা খেজুঁরগাছের ডাল কেটে হকিস্টিক বানাতাম । আর প্লাস্টিকের হকির বল । তাই দিয়ে দুর্দান্ত জমে যেত ম্যাচ ।
তো যেটা বলছিলাম । ক্রিকেট খেলায় আমাদের কোনো ধরণেরই কোনো সরঞ্জাম ছিল না । আমরা নিজেরাই কাঠ কেটে ক্রিকেট ব্যাট তৈরী করতাম । আমাদের দলের কয়েকজন এ ব্যাপারে ভীষণ এক্সপার্ট ছিল । কাঠ কেটে তারা এমন সুন্দর ব্যাট বানাতে পারতো যে সেগুলো হুবহু উইলো কাঠের ক্রিকেট ব্যাটের মতোই হতো ।
ব্যাট তো হলো, কিন্তু ক্রিকেট বল ? এটাও কেনার সাধ্য ছিল না আমাদের । আর তাছাড়া ক্রিকেট বলের উপযোগী ব্যাট আর প্যাড হেলমেট গ্লাভস এসবও কেনার সাধ্য ছিল না । তাই ভরসা ছিল টেনিস বল । খুবই কম টাকায় পাওয়া যেতো টেনিস বলগুলো । একটা টেনিস বলের দাম ছিল ২০-২৫ টাকা মাত্র । এই টাকাও জোগাড় করা খুবই কঠিন ছিল আমাদের জন্য ।
আট-দশ জনে চাঁদা তুলে কিনতাম টেনিস বল । তার ওপর আবার একটা টেনিস বলে বেশিদিন খেলা যেতো না । বড়জোর সপ্তাহ দু'য়েক । আবার খুব বেশি পিটিয়ে খেলা হলে একদিনেই বল ফেটে যেতো । তখন আবার সঙ্গে সঙ্গে আর একটা কেনা খুবই কষ্টকর ছিল আমাদের জন্য । এই নিয়ে একটা মজার ঘটনা আছে । আমাদের দলে একটা ছেলে ছিল, নাম মুন্না । তো একবার বল ফেটে যাওয়াতে বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করে তাকে টাকা দিলাম বল কেনার জন্য । এক টাকা শর্ট ছিল ।
তাই মুন্নাকে বলেছিলাম দোকানদারকে বলে কয়ে এক টাকা কম দিয়ে বল কিনে আনতে । কিছুক্ষণ পরে সে এসে হাসতে হাসতে দুটি বল দিয়ে টাকা ফেরত দিলো। কি করে সম্ভব এটি ? সে যা বললো তাতে হাসতে হাসতে শেষ আমরা । দোকানদার এক টাকা কম নিতে রাজি না হওয়াতে রাগ করে কৌশলে ফাটা বলটা চেঞ্জ করে এনেছে । আর দুই নম্বর বলটা ফেরার সময় একবাড়ির উঠোন থেকে সংগ্রহ করে এনেছে । মানে সাদা বাংলায় চুরি আর কি । হাসি চেপে রাখতে পারিনি সেদিন আমরা তার কান্ডকারখানা দেখে ।
আমাদের ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প বানানো হতো গাছের ডাল কেটে চেঁছেপুঁছে । আম্পায়ার বানানো হতো যেদল ব্যাট করতো তাদের মধ্যে একজনকে । সাধারণত যে আগে আউট হয়ে যেতো বা যার অনেক পরে ব্যাটিং থাকতো তাকে আম্পায়ার করা হতো । খেলার মাঠের কাছেই ছিল বিশাল এক পুকুর । কেউ যদি ছক্কা মেরে বল জলে ফেলতো তবে সে সঙ্গে সঙ্গে আউট । এমন সব অদ্ভুত নিয়ম ছিল আমাদের খেলায় ।
------- ধন্যবাদ -------
পরিশিষ্ট
Account QR Code
VOTE @bangla.witness as witness
OR
দাদা আপনার আজকের পোস্টটি পড়ে যেন আমার ছোট্ট বেলা খুঁজে পাচ্ছিলাম। প্রতিটি ঘটনার সাথে হুবহু অনিক কিছু আমার স্মৃতিতে রয়েছে। সত্যিই একসময় দশ জনে মিলে একটা বল কিনতাম, আর এখন একা একটা বল কিনতে পারলেও দশজন বন্ধুকে আর কখনো একসাথে দেখা যাবে না।
সত্যিই আমাদের ছেলেবেলা অনেক আনন্দের ছিল।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
Hi @rme,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.
Come and visit Italy Community
দাদা কাঠ কেটে ক্রিকেট ব্যাট তো তৈরি করলেন কিন্তু বল কি দিয়ে খেললেন সেটা তো বললেন না । আসলেই আগেকার দিনে ক্রিকেট খেলায় মনে হয় বেশি মজা ছিল অনেক আনন্দ ছিল সেই খেলাতে । আমরাও দেখেছি ছোট ছোট ছেলেরা নিজেদের ব্যাট বানিয়ে নিয়ে খেলতো । টেনিস বল বলতে যেটা বুঝিয়েছেন ওই বলটা দিয়েই খেলতো সবাই । আর এখন তো খেলার সময় অন্য বল নিয়ে খেলে । আসলে আগেকার দিনের প্রত্যেকটা খেলাই অনেক মজা ছিল । হকি খেলাটা যদিও সামনাসামনি দেখিনি তবে ভালই লাগে মনে হয় খেলাটা । আর এখনকার বাচ্চারা তো না চাইতেই সবকিছু হাতের কাছে পেয়ে যায় ।
খেজুঁরগাছের ডাল কেটে হকিস্টিক তৈরি করার আইডিয়াটা কিন্তু বেশ দারুন। আর আপনাদের সাথে যেহেতু একজন ছিল যে ভালোভাবে ব্যাট বানাতে পারতো তাইতো ব্যাট বানানোটাও আপনাদের কাছে বেশ সহজ ছিল বুঝতেই পারছি দাদা। তবে ক্রিকেট খেলা সবারই অনেক পছন্দের। বিশেষ করে ছেলেবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি ছেলেদের একটু বেশি আগ্রহ থাকে। তবে দেখা যাক বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এবারের বিজয়ী দল কে হয়। দাদা আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
কাঠ কেটে ক্রিকেট ব্যাট বানানোর আইডিয়াটা দারুণ ছিলো দাদা। ছোটবেলায় তো প্রায় সারাদিনই ক্রিকেট খেলতাম। শীতের দিন রাতের বেলা ব্যাডমিন্টন খেলতাম। আসলেই এখনকার বাচ্চারা ক্রিকেট খেলার সব সরঞ্জামাদি খুব সহজেই পেয়ে যায়। আমারও ক্রিকেট খেলার কিছু কিছু সরঞ্জামাদি ছিলো ছোটবেলায়। তবে কোরিয়াতে গিয়ে কাঠ কেটে আমরাও ব্যাট তৈরি করেছিলাম ক্রিকেট খেলার জন্য। কারণ ব্যাট খুঁজে পাচ্ছিলাম না কোথাও। পরবর্তীতে পাকিস্তানি দোকানে ব্যাট পেয়েছিলাম এবং বাংলাদেশ থেকে একজনের মাধ্যমে ব্যাট নিয়ে গিয়েছিলাম কোরিয়াতে। যাইহোক বল কিভাবে তৈরি করতেন সেটা তো জানা হলো না দাদা। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
আসলে দাদা এরকম টেনিস বল দিয়ে আমি অনেক ক্রিকেট খেলা খেলেছি ।আসলে সেই ক্রিকেট খেলার কথা মনে পড়লে মনের মধ্যে এখনো মনে বলে আবার খেলি খেলা। আসলে টেনিস বল গুলো বিশ টাকা করে নিতো এবং আরো দশ টাকা দিয়ে দিয়ে একটা টেপ কিনে খুব সুন্দর ভাবে জড়িয়ে টেপ টেনিস বল তৈরি করতাম এবং ক্রিকেট খেলতাম বেশ ভালই লাগতো। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
দাদা আপনারা টেনিস দিয়ে খেলেছেন। আর আমরা খেলতাম কি দিয়ে জানেন দাদা? রাবারের বল দিয়ে😃। কি করবো দাদা টেনিস বল দিয়ে বেশি ব্যায় হতো। তাই রাবার বল দিয়ে খেলতাম। তবে একটা সুবিধা ছিল ব্যাট দিয়ে মারলে অনেক দূরে চলে যেত। অবশ্য পরে আমরা থ্রি স্টার বা ফাইভ স্টার দেখে খেলেছি। তবে থ্রি স্টার দিয়ে খেলা শুরু করায় প্রত্যেক বছরে আটটা দশটা করে বল ফেটে যেত। দাদা মুন্না ভাইয়ের কান্ডটা পড়ে আমার নিজেরও বেশ হাসি পেয়েছিল। দোকানদারকে বেশ ভালো মত শিক্ষা দিয়ে এসেছে।
আমার ভাইদের দেখতাম এভাবে কাঠ দিয়ে ব্যাট বানিয়ে খেলতে। মাঝে মাঝে আমিও খেলতাম। কেননা কলোনিতে বড় হওয়া তো। অনেক বড় মাঠ ছিল সেই মাঠেই ছেলে মেয়েরা সবাই খেলতাম। তখন কোন বাঁধা ছিল না খেলতে। তবে ভাইদেরকে দেখতেম টেনিস বল স্কচ টেপ দিয়ে প্যাচিয়ে নিতো। ফলে অনেকটা কাঠের বলের মতো শক্ত হয়ে যেতো। ভাইয়ারাও বেশ অদ্ভুত আদ্ভুত নিয়ম বানাতো ক্রিকেট খেলার সময়। মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ দাদা।