ফোটোগ্রাফি : রথের মেলায় শেষদিন

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

এবছরের রথের মেলায় গিয়েছি মোট ৩ বার । তার মধ্যে ৫ই জুলাই সন্ধ্যায় শেষবারের মতো গিয়েছিলাম মেলায় । এদিন তেমন একটা কেনাকাটি করিনি । টুকটাক শুধু খাবার খেয়েছি আর ঘুরেছি । এদিন টিনটিনবাবু দুটো রাইডে চড়েছিল মেলায় । একটা হলো "মেরি গো রাউন্ড" আরেকটি হলো "ড্রাগন রাইড" । "মেরি গো রাউন্ড" রাইডটা টিনটিনবাবু আমাদের কমিউনিটির মডারেটর স্বাগতা ম্যাডাম এর কোলে চড়েই সেরেছিলো ।

আর "ড্রাগন রাইড"-এ একেবারে প্রথম সারিতে আমি আর তনুজা । আর দ্বিতীয় সারিতে টিনটিন আর স্বাগত উঠেছিলো । অনেকদিন পরে উঠলাম এই রাইডে । বছর পাঁচেক আগে আমার ভাইঝিকে কোলে করে নিক্কো পার্কে একটা রাইডে উঠেছিলাম আর এই দিন আবার উঠলাম ।

টিনটিন এসব রাইডে জীবনে ফার্স্ট উঠলো । বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলো তাই । আমি চেয়েছিলাম নাগরদোলায় উঠতে । কিন্তু, আর কেউ সাহস পেলো না । তাই, আর ওঠা হলো না । আমি লাইফে কোনোদিনও নাগরদোলায় উঠিনি । এবারও ওঠা সেই অধরাই থেকে গেলো ।

রাইডে ওঠা হয়ে গেলে আমরা মেলা এক চক্কর দিয়ে কয়েকটা পাঁপড় কিনে খেলাম । এরপরে কিনলাম এক ঠোঙা গুড়ের গজা । বেশ লাগে খেতে এই গুড়ের গজা । এরপরে তনুজা হরেক আকৃতির আর হরেক রঙের পাঁপড় কিনলো । কাঁচা পাঁপড় । বাড়িতে ভেজে খাওয়ার জন্য ।

এরপরে আবারো মেলায় ঘুরলাম কিছুক্ষন । এরই মধ্যে তনুজা বায়না ধরলো "পাঁপড়ি চাট" খাবে । এই বস্তুটা কেন জানি আমার গলা দিয়ে নামে না কোনোদিনও । তাই তনুজার জন্য "পাঁপড়ি চাট" আর আমার জন্য "আলু চাট" অর্ডার করলাম । ১৩০ টাকা করে অর্ডার নিলো । কিন্তু, খেতে একদমই ভালো লাগলো না ।

এরপর মেলা থেকে বেরিয়ে আমরা বাড়ি ফেরার পথ ধরলাম । পথিমধ্যে একটা "ভুট্টা পোড়া" কিনলাম । কিন্তু, সেটাও বাড়িতে ফিরে খেতে ভুলে গেলাম । পরের দিন তনুজা সেটা ফেলে দিলো । ইশ রে, "ভুট্টা পোড়া" খেতে না পারার দুঃখটা কিছুতেই ভুলতে পারছি না, এখনো ।


IMG_20220705_184801.jpg

IMG-20220705-WA0003.jpg

মেরি গো রাউন্ডে স্বাগতার সাথে টিনটিনবাবু

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৬ টা ৪৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


IMG-20220705-WA0013.jpg

IMG-20220705-WA0001.jpg

IMG-20220705-WA0004.jpg

ড্রাগন রাইডে স্বাগতার সাথে টিনটিনবাবু । আর প্রথম সারিতে আমি আর তনুজা । আমার পিছন দেখা যাচ্ছে, হলুদ টি-শার্ট ।

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৬ টা ৫৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


IMG-20220705-WA0016.jpg

IMG-20220705-WA0017.jpg

ড্রাগন রাইডে স্বাগতার সাথে টিনটিনবাবুর সেলফি । রাইড উপভোগ করছে ।

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৬ টা ৫৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


IMG-20220705-WA0005.jpg

IMG-20220705-WA0006.jpg

IMG-20220705-WA0007.jpg

মেলার এক আইসক্রিম পার্লারে টিনটিনবাবু ।

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৭ টা ২৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


IMG-20220705-WA0009.jpg

মেলার থেকে বেরিয়ে আসার পথে একটা গ্রূপ সেলফি । লাল টি-শার্ট আমার ভাই, আর হলদে টি শার্ট আমি ।

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৭ টা ৩৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


IMG-20220705-WA0011.jpg

মেলার বাইরে কাকার বাইকে চড়ে পোজ টিনটিনবাবুর

তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২২
সময় : দুপুর ৭ টা ৪০ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


ক্যামেরা পরিচিতি : OnePlus
ক্যামেরা মডেল : EB2101
ফোকাল লেংথ : ৫ মিমিঃ


Sort:  

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



Hi @rme,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.

Come and visit Italy Community

 4 years ago 

প্রতিদিন তো ছোট সানগ্লাস থাকে। আজকে এত বড় সানগ্লাস কই পেলেন? নাগরদোলায় উঠতে ভালোই লাগে। আমি দুই একবার উঠেছিলাম। একটু ভয় ভয় ও লাগে। আপনি উঠলে নির্ঘাত ভয় পেতেন😛😜। না উঠে ভালোই করেছেন। টিনটিন বাবু তো খুব খুশি মনে হয় বিভিন্ন রাইডে উঠে। কাকার মোটরসাইকেলের পোজটা কিন্তু সেই হয়েছে।

 4 years ago 

টিনটিন যে আসলেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে ভাই , তা কিন্তু ওর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , তবে ছোটদার বাইকে বসা ছবিটা দেখতে বেশ ভালোই লাগছে । তবে পাঁপড়ি চাট আমার কখনো খাওয়া হয়নি , তবে ভুট্টা ভাজা মাঝেমাঝেই খাওয়া হয় । বেশ ভালোই লাগল আপনাদের পারিবারিক সুন্দর মুহূর্ত গুলো দেখে ।

ভালোবাসা রইল।

 4 years ago 

সবাইকে এক সাথে দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। সবাই মিলে সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন। টিনটিন বাবুর ছবি গুলো দেখে অনেক ভালো লাগলো। আমাদের সবার সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার পুরো পরিবারের জন্য শুভ কামনা রইলো ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময় এই কামনাই করি।

 4 years ago 

রথের মেলায় কাটানো খুবই আনন্দঘন কিছু মুহূর্ত আজকে আপনি আমাদের মাঝে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে শেয়ার করেছেন দাদা। ড্রাগণ রাইট করতে আমারও অনেক ভালো লাগে কিন্তু একটু ভয় ভয় লাগে।

ইশ রে, "ভুট্টা পোড়া" খেতে না পারার দুঃখটা কিছুতেই ভুলতে পারছি না, এখনো ।

সেটা খুবই বড় ধরনের একটা মিস করে ফেলেছেন দাদা। আমি তো ভুট্টা পোড়া দেখলে আগে খেতে শুরু করে দেই।

দাদা, বৌদি টিনটিনবাবু পরিবারের সকলকে নিয়ে রথের মেলায় ভালোই সময় কাটিয়েছেন বুঝা যাচ্ছে। তবে আমি বেশ কয়েকবার নাগর দোলায় চড়েছি। নাগরদোলা চড়ার সময় ওঠার চাইতে নামার সময় বেশি ভয় লাগে। না চড়লে এর অনুভূতিটা কখনো বুঝতে পারবেন না। তাই সুযোগ পেলে একবার চড়ে নেবেন। অভিজ্ঞতা হবে। আপনার সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

 4 years ago 

ঘুরতে শুধু ছোটরা নয় , সবাই পছন্দ করে ।আপনাদের সবাইকে বেশ প্রানবন্ত লাগছে । ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর ফটোগ্রাফি দিয়ে আপনাদের আনন্দ আমাদের মাঝে ভাগ করে দেয়ার জন্য ।

 4 years ago 

নাগরদোলায় আমিও শেষ চড়েছি সেই ১২ বছর আগে ।এর পরে আর কখনো চড়া হয়নি । এই দুই বছরে আর কোন মেলা বা পার্কে ত যাওয়ায় হচ্ছেনা ।
আপনাদের আনন্দময় স্ময় গুলো ছবির মাধ্যমে দেখেও ভালো লাগলো । যেন গল্প কথায় আমিও ঘুরে এলাম রথের মেলা ।

 4 years ago 

আমি লাইফে কোনোদিনও নাগরদোলায় উঠিনি ।

দাদা আপনার এই কথাটার সাথে আমার মিল আছে কারন আমিও জীবনে কখনো নাগরদোলায় ওঠেনি সময় হয়নি তা নয়, উঠতে ভয় পাই এই জন্যই উঠেনি। টিনটিন বাবুকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক আনন্দ পেয়েছে তা তো হওয়ারি কথা কারন জীবনের প্রথম যখন বিভিন্ন রাইডে উঠা হয় তখনকার অনুভূতিটা একটু ব্যতিক্রমী হয়। টিনটিন বাবুর এত সুন্দর অনুভূতি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.074
BTC 63807.58
ETH 1667.04
USDT 1.00
SBD 0.42