গল্প: স্কুল বন্ধুদের সাথে নৌকা ভ্রমণ// পর্ব-শেষ
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@ripon40 বাংলাদেশের নাগরিক
- স্কুল বন্ধুদের সাথে নৌকা ভ্রমণ
- ১০, সেপ্টেম্বর ,২০২৩
- রবিবার
আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আমি "স্কুল বন্ধুদের সাথে নৌকা ভ্রমণ" গল্প শেয়ার করছি । আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
পুকুরের গভীরতা অনেক ছিল। হঠাৎ আমি বলে উঠলাম মাটি তুলতে হবে পুকুর থেকে সবাই নতুন পুকুর ভয়ে ডুব দিয়ে মাটি তোলার সাহস করল না। আমি কিছুটা চেষ্টা করলাম অনেক গভীর একটু ভয় লাগলো। কয়েকবার চেষ্টা করার পর মাটি তুলতে সফল হই। আমি তো অনেক উচ্ছ্বাসিত যেকোন টার্গেট নিলে সেটা পূরণ করার দুঃসাহসিক কাজে অনেক পটু ছিলাম। প্রায় এক ঘন্টা মত গোসল করেছিলাম পুকুরে। তারপর সেখান থেকে উঠে চারিপাশে পরিবেশটা আবার কিছু সময় ঘোরাঘুরি করার পর রওনা দেয়ার পালা।
আমরা যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই তখন আকাশ অনেক মেঘলা ছিল যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি থেকে শিলাইদাহ পদ্মা নদীর ঘাট আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আমাদের হেঁটে যেতে সর্বোচ্চ 10 মিনিট সময় লাগবে ।আমরা মাঝ পথে যখন চলে আসি সেই মুহূর্তে প্রচন্ড বৃষ্টি নামে। পুকুরে গোসল করার পর বৃষ্টিতে ভেজার প্রতি আর আগ্রহ নেই পাশে একটা বাড়ি ছিল সেই বাড়িতে ঢুকে পড়লাম। অপরিচিত একটি জায়গা হঠাৎ করে বিপদের মধ্যে বাড়িতে ঢুকে করেছি তারাও অবাক হয়ে গিয়েছে।
একটি বাড়িতে ১০-১২ জন ঢুকলে অবাক হওয়াটাই
স্বাভাবিক। প্রায় আধা ঘন্টা যাবত ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। বৃষ্টি যখন থেমে গেল আবার আমরা সেই বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করলে আবার বৃষ্টি নেমে যায় । অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই আসলে সেই দিনটার কথা কখনো ভুলবো না। একসময় বৃষ্টি শেষ হয়ে গেল আমরা নদীর তীরে গিয়ে পৌছালাম গিয়ে দেখি নৌকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ার পরিক্রমা হয়ে গিয়েছে। বন্ধু রোমান তার ছোট ভাইকে বলল পানি সেচে নৌকা পরিষ্কার করতে।
আমরা প্রথমে যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি যাত্রা শুরু করি তখন স্রোতের প্রতিকূলে গিয়েছিলাম যেখানে সময় লেগেছিল সাড়ে তিন ঘন্টা। ফিরে যেতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘন্টা অনুকূলে খুবই দ্রুত এবং অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাইতে পেরেছিলাম। আমরা বিকেলের শেষ মুহূর্তে রওনা দিয়েছিলাম যেতে যেতে সন্ধ্যা লেগে গিয়েছিল। আমাদের সাথে কোন লাইট ছিল না কারণ রাত হয়ে গেলে নদীপথে চলাচল করা খুবই কঠিন কাজ। সেদিন দুঃসাহসিকতার সবকিছুই করেছিলাম যেটা এখন চিন্তা করলে অবাক লাগে। বন্ধু পলাশের বাড়িতে রান্না করার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এসে দেখি রান্নার কাজ শেষ প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছে খাওয়া-দাওয়া করলাম। সবাই অনেক ক্লান্ত ছিল। দ্রুত খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। সেদিনটার কথা কখনো ভুলবার নয় এটাই ছিল নৌকা ভ্রমণের গল্প।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি মোঃ রিপন মাহমুদ। আমার স্টীমিট একাউন্ট@ripon40। আমি একজন বাঙালি আর আমি বাঙালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমি স্টীমিটকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসি পড়তে, লিখতে, ব্লগিং,ফটোগ্রাফি,মিউজিক,রেসিপি ডাই আমার অনেক পছন্দের। আমি ঘুরতে অনেক ভালোবাসি। আমার সবচেয়ে বড় গুণ হলো কারোর উপর রাগ করলে সহজেই ভুলে যাই।
ছোটবেলায় আমরাও এরকম পুকুর থেকে এক ডুবে মাটি উঠাতাম। এতে আসলে অনেক সাহসিকতারও প্রয়োজন রয়েছে, সাথে দম থাকা জরুরি। আর এটা ঠিক বলেছেন একসাথে এতজন মানুষ কারো বাড়িতে ডুকলে নির্দ্বিধায় তারা ভয় পাবে। তবে এটা শুনে অবাক লাগলো লাইট বিহীন আপনারা নদী পারাপার করেছেন। সত্যি এটাই চ্যালেঞ্জিং এবং দুঃসাহসের একটি বিষয় ছিল। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনার লেখা গুলো পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। আর ছোট বেলায় মধুর স্মৃতি গুলো মনে পড়ে গেলো। আমাদের এলাকায় কোথায় নতুন পুকুর খনন করলে আমরা সেখানে গিয়ে গোসল করতাম। এবং আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো কে পুকুরের নিচে থেকে মাটি উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারবে। চমৎকার লিখেছেন ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
বন্ধুদের সঙ্গে নৌকা ভ্রমণের গল্পটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো। উপরের মধ্যে ডুব দিয়ে মাটি তোলার ব্যাপারটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে এরকম দুঃসাহ স সকলেই করতে পারে না তবে আপনি দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। যাত্রাপথে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে সত্যি খুবই খারাপ লাগে যদিও গোসল করার পরে বৃষ্টি নেমেছে যার কারণে হয়তোবা বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি। সকলে মিলে বন্ধুর বাসায় গিয়ে একত্রে খাবার খেয়েছেন এই ব্যাপারটা সত্যিই অনেক বেশি সুন্দর এবং রোমাঞ্চকর সব সময়ই। নৌকা ভ্রমণের এই গল্পটা আমাদের মাঝে চমৎকারভাবে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আসলে অপরিচিত একটা জায়গাতে যখনই আপনারা ঢুকে গিয়েছেন তখন তারা একটু অবাক হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তারপরও তারা বুঝতে পেরেছে যে আপনারা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ির মধ্যে ঢুকে গিয়েছেন। শিলাইদহ ভ্রমণ করার সাথে সাথে পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। বিষয়টা খুবই মজাদার।