সমাজ - The society.
হ্যালো বন্ধুরা।
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আজকে আমি আমাদেরকে নিয়েই লিখতে চলেছি। মানুষ সেই আদিকাল থেকেই সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করছে।মানবজাতি বুঝতে পেরেছিল সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করলে যে কোন কঠিন বিপদ-আপদ সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব। কিন্তু একাকী বাস করলে চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এটা অনুধাবন করতে পেরেই মানবজাতির সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাস করতে শিখেছিল।
আমরা এখনো সেই নিয়ম অনুসরণ করে যাচ্ছি। কালের পরিবর্তনে আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি। এখন সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে আমাদের চলা ফেরার ধরনে। আমাদের কথাবার্তা, আমাদের আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান সর্বত্রই যেন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। পশ্চিমাদের কালচার ঢুকে গেছে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে। জাতির আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এটা ভালো, কিন্তু আমরা যে সামাজিক জীব' সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করি, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে যে বন্ধন, ভালোবাসা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, থাকা উচিত সেটার খুবই অভাব লক্ষ্য করা যায় ইদানিং।
সমাজে প্রতিনিয়ত অপরাধের প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে। ধর্মীয় চর্চার অভাব আর অতিরিক্ত পশ্চিমা কালচার অনুসরণ করা এর অন্যতম কারণ। কারো মধ্যে যদি মৃত্যুর পরে কি হবে এই ভয়টা না থাকে তাহলে অনায়াসে বিভিন্ন রাজনৈতিক আশ্রয়ে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়াবে। কারণ তাঁরা নিশ্চিত যে তাদের কোন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য খুবই সহজলভ্য হওয়ার ফলে সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি সমাজের অন্যান্যদের থেকে একটু ভিন্ন ধাঁচে চলাফেরা করে। সামাজিক বন্ধন তাদের মধ্যে কাজ করে না। মানুষকে সম্মান করা শ্রদ্ধা করা এই ব্যাপারগুলোও কোন ভাবে তাদের থেকে আশা করা যায় না।
একটু খোঁজখবর রাখলেই বুঝতে পারবেন পারিবারিক বন্ধন গুলো আগের থেকে কতটা ভঙ্গুর। এখন প্রতিনিয়তই কত শত সংসার ভেঙে যাচ্ছে বিভিন্ন ছোট ছোট কারনে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে মাশুল গুনতে হচ্ছে সন্তানকে। আমরা কিভাবে যেন অন্ধকারের দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি। চারিদিকে শুধু অপরাধ অপরাধ আর অপরাধ। ঘরে বাহিরে অফিসে সর্বত্র। প্রত্যেকেই নিজের বলয় গড়ার প্রতিযোগিতায় মগ্ন। নিজে উপরে উঠতে হবে এতে কারোর যদি কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সেটা হোক। এ ধরনের বিষাক্ত মনমানসিকতার মানুষ আমাদের চারপাশে প্রচুর আছে। একটু চোখ কান খোলা রাখলেই বুঝতে পারবেন।
লোভ মানুষকে নিকৃষ্ট করে ফেলে, পার্সোনালিটি নষ্ট করে ফেলে। আর অনেকেই তার পার্সোনালিটি হারিয়ে অর্থ উপার্জনে মগ্ন। সমাজের চেইন ভাঙ্গার জন্য এরাও দায়ী কারণ এদের লোভের জন্য অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত লোক যে ঘুষ নেয় সেটাও কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সমাজে শৃংখলার এতই অভাব প্রত্যেকটা সেক্টরেই সমস্যা। সমাজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সকল জায়গাতে রয়েছে দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য।
সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে অপরাধীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরণ ও পাল্টাচ্ছে৷ অপরাধীরা তাদের অপরাধের সিস্টেমকে করেছে ডিজিটালাইজেশন। প্রায় সবার কাছেই এখন স্মার্টফোন, অনলাইনে বেড়েছে সকলের বিচরণ। অনলাইন ভিত্তিক অপরাধের সংখাও এখন বিশাল। ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ এগুলো আসার পর থেকে বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা, সমাজের চেনা পরিচিত লোকদের সাথে দেখা হলে গল্প করা, একসাথে বসে চা খাওয়া, বিকেলে গ্রামের সব ছেলেমেয়ে মাঠে গিয়ে খেলা করা, এগুলো এখন আর তেমন দেখা যায় না।ছোটবেলায় মায়েরা আমাদের কান ধরেও মাঠ থেকে উঠাতে পারতো না। পরে লাঠি নিয়ে আসতো। আর এখনকার ছেলেপেলে ফোনের প্রতি এতোটাই অ্যাডিক্টেড হয়ে গেছে যে মেরেও ফোন থেকে দূরে সরানো যায় না। এদের ফিউচার যে কোন দিকে যাবে কে জানে । সামাজিক বন্ধন টা এদের মধ্যে কতটা ভঙ্গুর হবে চিন্তা করে দেখেন। এদের মধ্যে ওই ব্যাপারটি নেই যেটি আমাদের মধ্যে ছিল এই সময়।
যাইহোক, আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। এখন একটু বাহিরে যাব চিন্তা করতেছি। কারণ বিকালবেলা রুমে থাকলে আমার মাথায় কেমন ঝিম ধরে থাকে। বাইরে গিয়ে একটু ঘোরাঘুরি করব। বন্ধু নতুন বাইক কিনেছে ট্রিট নিতে হবে। রাত ৮ টার মধ্যে আবার বাড়ি চলে আসবো। পরবর্তী কোন পোস্টে দেখা হবে ইনশা আল্লাহ্। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
আধুনিক যুগের ছেলে মেয়েরা পশ্চিমা বিশ্বের কালচার অনুসরণ করার কারণে আমাদের সমাজে অপরাধের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সত্যি বলতে আমাদের বর্তমান সমাজের সকল পরিবারের মধ্যে সমঝোতা নেই বললেই চলে। এই জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা পরবর্তীতে কি হয়ে দাঁড়াবে তা ভাবাই যায় না। সকল পরিবারের উচিত ছেলেমেয়েদেরকে স্মার্টফোন ব্যবহার করা থেকে যথা সম্ভব দূরে রাখা।
বর্তমান সমাজের সকল দিক আপনি পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভাইয়া। সকলের উচিত পোস্টটি পড়ার পর একটু ভালোভাবে চিন্তা করা।
এইযে সকলের দূরত্বের বিষয়টা আজকাল আমরা দেখিনা বললেই চলে।কারণ দেখতে গেলে নিজেদের ই লজ্জায় পরতে হবে।কারণ দিনশেষ এ দেখতে গেলে দোষ আমাদের সবার।সেটা হোক দূরত্বের কিংবা কোনো অপরাধ এর।
সত্যি ভাই, আধুনিকতার ছোঁয়ার নাম করে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম সামাজিকতার বন্ধন থেকে বেরিয়ে নোংরা এক সমাজে পরিণত হবে। তারই প্রতিফলন দেখতে পারছি আমরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে। যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
ভাইয়া আপনার প্রতিটি কথার সাথে সহমত পোষণ করছি। আসলে আমাদের সমাজের মানুষগুলো যত আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে তাদের অপরাধের ধরন অনেকটা পাল্টে যাচ্ছে আসলে সামাজিক বন্ধন গুলো দিনে দিনে একেবারে নড়ভরে হয়ে যাচ্ছে। আগেকার সময় মানুষের মাঝে যে মনুষত্ব দেখা যেত এখন আর তা দেখতে পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। সবাই নিজের সামাজিকতা ভুলে নিজের মতো করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। যাইহোক ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। বিকেল বেলায় একটু বাইরে গেলে সবারই ভালো লাগে। আর যেহেতু বন্ধুর বাইক কেনার ট্রিট পাওনা আছে তাহলে তো যেতেই হবে।
হ্যা ভাইয়া সঠিক কিছু কথা লিখেছে ৷ সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হচ্ছে ৷ আমাদের মাঝে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে অনেকটা যা আমাদের অনেক দিক পরিবর্তন করেছে ৷ আর এই আধুনিকতা আমাদের মঙ্গলের চেয়ে অমঙ্গল করে যাচ্ছে অনেক বেশি ৷ দিনে দিনে এই আধুনিকতা অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে ৷ ভেঙ্গে ফেলছে সামাজিক বন্ধন মানুষের মনুষ্যত্ব ৷
সত্যি বলতে সুমন ভাই এই সমাজের মানুষগুলোর বেশিরভাগের নীতির অবক্ষয় হতে হতে একদম শেষ পর্যায়ে চলে গেছে। পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ধারণ করতে গিয়ে নিজের সভ্যতা হারিয়ে ফেলছি আমরা। সব থেকে বড় কথা নিজের ঘৃণ্য কাজের জন্য আমাদের ভেতর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বোধ কাজ করে না এবং লজ্জাবোধ পর্যন্ত নেই। আমার কেন যেন মনে হয় এভাবেই পৃথিবীটা ধ্বংসের পথে চলে যাবে দিনদিন। তারপরেও চাইবো মানুষের মাঝে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।