অচেনার উদ্দেশ্যে যাত্রা- পর্ব ১
হ্যালো বন্ধুরা।
আসসালামুআলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। বহুদিন পর আজকে "অচেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা"র একটি পর্ব শেয়ার করব আপনাদের সাথে। ইচ্ছে হলেই সব সময় যে কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয় না। যখন সবাই একসাথে থাকি তখন ইচ্ছে হয় আগের মতন একটু ঘোরাফেরা করি।
গত চারদিন আগে অর্থাৎ ২৬ শে অক্টোবর ইচ্ছা ছিল কোথাও একটা যাওয়ার। সেদিন তেমন কাজ ছিল না হাতে একেবারেই ফ্রি ছিলাম। আর সেদিন প্রায় সবাই আমরা বাড়িতেই ছিলাম। বিকেল চারটার দিকে সবাই বাজারে গেলাম। একটা পরিচিত জায়গায় ফার্স্টে যাব এরকম একটা প্ল্যান নিয়ে সবাই একসাথে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের এখান থেকে অনেক দূরের একটি জায়গা সেখানে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান আছে। স্পেশাল কিছু নেই কিন্তু ওই এলাকায় গেলে ওইখান থেকেই আমরা চা খেতাম আগে।
ভেবেছিলাম সেখানে গিয়ে আমরা সবাই চা খাব। প্রথমে কোথাও দাঁড়াইনি একেবারে সোজা সেখানে চলে গিয়েছি। আমাদের এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার হবে। দুঃখের বিষয় সেখানে গিয়ে দেখলাম সেখানে চা বিক্রি করছেনা। চা না পেয়ে আমরা আবার সামনের দিকে এগোতে থাকলাম। এবার শুরু হলো আমাদের অচেনার উদ্দেশ্যে যাত্রা। জীবনে কখনো এ পথে যাইনি। মাঝেমধ্যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এই পথটা দেখে আমার ভাবতাম কেমন একটা জঙ্গল টাইপের অদ্ভুত একটা এলাকার শুরু এইখান থেকে। এবার কোন কিছু না ভেবেই ওই রাস্তাটা দিয়েই ঢুকলাম।
শুরু থেকেই কেমন একটা গভীর জঙ্গলের মতন। দুপাশে ঘন জঙ্গল মাঝখান দিয়ে সুন্দর একটি রাস্তা। দিনের বেলা মানুষ চলাচল করে কিন্তু রাত্রে এই পাশ দিয়ে একা চলাচল করে সম্ভবত কেউ সাহস পাবে না। একটু এগোতে আমরা দেখলাম কয়েকটা বাড়ি। বাড়িগুলো একসাথে নয় একটু দূরে দূরে। ঘনবসতির কোন ছিটেফোঁটা নাই এদিকে। একটু দূরে গিয়ে আমি একটি বাড়ি দেখে কল্পনা করলাম এখানে যদি কারো নতুন বিয়ে হয়, তখন নতুন কাপোল রাত্রে যদি একটু আকাশের চাঁদ দেখতে এই বাড়িটার সাদে গিয়ে বসে তাহলে তো চাঁদ দেখবে না, চারদিকে শুধু জঙ্গল তার ভূত দেখতে পাবে। হিহিহি।
আমরা কিন্তু খুব মজা পাচ্ছিলাম। সবাই খুব আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম আর এপাশ ওপাশ দেখতে দেখতে যাচ্ছিলাম। আসলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটা বসবাস করার জন্য কঠিন একটা জায়গা কিন্তু এখানে যারা বাস করে তাদের কাছে কিন্তু তাদের মাতৃভূমিটা সবচেয়ে প্রিয় অন্যান্য জায়গা থেকে।
আশেপাশের পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা অনেক দূরে চলে গিয়েছি। এরপর দেখলাম সামনে একটা প্রাইমারি স্কুল আর তার পাশেই কয়েকটি দোকান নিয়ে একটি বাজার বসেছে। বাজার বলা ঠিক হবে না। সেখানে ১০-১৫ টা দোকান ছিল শুধু। তাদের এই জিনিসটা আমার কাছে বেশ ভালই লাগছে। এমন একটা এলাকা যেখানে বাজার ঘাট দূরে সেখানে তারা নিজেদের উদ্যোগে একটি পরিবেশ তৈরি করে নিয়েছে যেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুব সহজেই পাওয়া যায়। যেমন দুটো চায়ের দোকান, কয়েকটি মুদিখানার দোকান, একটি সেলুন আর দুটি ছোট ছোট ওষুধের দোকান দেখলাম।
কিছু কমন ঔষধপত্র, প্রেসার মাপা ইত্যাদি সুবিধা এখানে আছে। আমরা প্রথমে চায়ের দোকানটা দেখেই চা খাওয়ার জন্য নেমেছিলাম সবাই। একটা অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমাদের চার পাঁচটা বাইক নিয়ে ঢোকা দেখে সবাই আমাদের দেখে তাকিয়ে ছিল। এটা দেখে বুঝলাম যে এই এলাকায় সচরাচর বাইরের মানুষ কম ঢোকে। যাইহোক আমরা একটা ছোট চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সেখানে একটি চাচা ছিল যে চা বানিয়ে দিচ্ছিল। তার কাছে আমরা আটটা চায়ের অর্ডার দিলাম। চা যখন হাতে পেলাম তখন দেখলাম চা বানিয়েছে দুর্দান্ত। প্রশংসা করা যায় এরকম চা বানিয়ে দিয়েছে।
তখন অনেকটাই অন্ধকার নেমে আসছে। হয়তো ৮-১০ মিনিট পরেই মাগরিবের আজান দিবে। চারপাশটা জঙ্গল প্রকৃতির হওয়ায় অন্ধকারটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। আমরা বসে চা খাচ্ছিলাম আর আশেপাশের পরিবেশটা অবলোকন করছিলাম। অচেনার উদ্দেশ্যে যাত্রা গুলো আসলে সবসময়ই সুন্দর হয়। আমাদের সেদিনের এই অচেনের উদ্দেশ্যে যাত্রায় আরও সুন্দর কিছু ঘটনা ঘটেছিল। সেগুলো আমি পরবর্তী পর্বে শেয়ার করব ইনশা আল্লাহ । চা খেতে খেতে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আমার তো বেশ ভয় হচ্ছে যে আগামী পর্বে কিনা কি হয়। আপনার কথা গুলো পড়ে তো ভয় ভয় লাগছে। এমন জঙ্গলের ভিতরে তো ভূত আর পেত্নীর বসবাস। যদি পেত্নী ধরে তাহলে কি হবে আমাদের আপুর। ভাইয়া যাই করেনে একটু সাবধানে করেন কিন্তু। আর অপেক্ষায় রইলাম আগামী পর্বের।
হাহাহা। ধন্যবাদ আপু।
মনে হচ্ছে কোন জঙ্গলে গিয়েছেন ভাইয়া। আমার অনেক স্বপ্ন। আপনার সাথে যদি কখনো দেখা হয়ে যায়।অনেক স্বপ্ন ভাইয়া। ধরেন আপনি একটা দোকানে বসে চা খাচ্ছেন এবং আপনাকে দেখলাম 😅😅আপনারা দেখছি বিকাল টাইমে অনেক ঘোরাঘুরি করছেন সবাই একসাথে বাহ।জি ভাইয়া অচেনার উদ্দেশ্যে যাত্রা গুলো আসলে অনেক সুন্দর হয়। সবকিছু নতুন মনে হয়। ইনশাল্লাহ পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম
ইনশা আল্লাহ দেখা হয়ে যাবে একদিন ।
আসলে এরকম অচেনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে কিন্তু বেশ ভালো লাগে। আর পরিবেশটা যদি একটু ভিন্ন রকম হয় তাহলে অনেক কিছুই দেখতে দেখতে উপভোগ করতে করতে যাওয়া যায়। নতুন বিয়ে হওয়া কোনো কাপল এর যদি একসাথে চাঁদ দেখতে ইচ্ছে হয় তাহলে চারিদিকে শুধু জঙ্গল দেখবে কথাটা বেশ হাস্যকর ছিল। যাই হোক আপনাদের সাথে পরবর্তীতে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটা জানার জন্য অপেক্ষায় রইলাম ধন্যবাদ।
পরবর্তী পর্ব শেয়ার করেছি ভাই। দেখে আসতে পারেন।
মাঝেমধ্যে অজানা অচেনা জায়গায় ঘুরতে যেতে আমারও খুব ভালো লাগে। রাস্তার দুপাশে যে পরিমাণে জঙ্গল, রাতের বেলা এই রাস্তা দিয়ে একা চলাচল করা সম্ভব নয়। তবে দিনের বেলা বাইক নিয়ে এমন রাস্তা দিয়ে যেতে খুব ভালো লাগে। সবাই মিলে ঘুরাঘুরি করে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন ভাই। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ঠিক বলেছেন,সবাই এক জায়গায় হলেই ইচ্ছেমতো ঘুরতে যাওয়া সম্ভব হয়।জঙ্গলের রাস্তায় রাতের বেলায় লোকজন চলাচল করলে তো ভুত মামা এসে ঘাড় মটকবে তাই চলাফেরা করেনা।আপনারা সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলেন আর সৌন্দর্য অবলোকন করছিলেন।অচেনা উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় আপনাদের সুন্দর কিছু ঘটনা ঘটেছিল,যেটা পরবর্তী পর্বে জানতে পারবো।অপেক্ষায় রইলাম।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করার জন্য।
অজানা উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াতে কার না ভালো লাগে।আর সবাই একসাথে হলে এই আনন্দ আরও বেশি অনুভূত হয়।সবাই মিলে অচেনার পথে ছুটে চললেন।গভীর বনের মাঝ দিয়ে পথ।দিন ছাড়া রাতে এই পথে কেউ যাওয়া আসা করে না বেশ বোঝা যাচ্ছে। খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। দেখা যাক এর পরে কি হয়।সুন্দর সুন্দর ঘটনা ঘটেছিল।আশাকরি জানতে পারবো পোস্টের মাধ্যমে। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করার জন্য।