দৃশ্যপট পুনরাবৃত্তি।
তালের রস খাওয়ার গল্প
- The 10th April , 2022
- Sunday
image source & credit: copyright & royalty free PIXABAY
আসসালামু আলাইকুম শুভ সকাল। কেমন আছেন সবাই? অনেকদিন হলো আমাদের অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের দেখা নেই। সকালের পরিবেশটা একটু ঠান্ডা থাকে। মেজাজটাও ঠান্ডা । মেজাজ ঠান্ডা তো দুনিয়া ঠান্ডা। তাই চলে এলাম আপনাদের সাথে একটা গল্প শেয়ার করতে। গল্পটা গত পরশু দিনের তালের রস খাওয়ার গল্প। এই সিজনে প্রথম তালের রস খাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব আপনাদের সাথে। শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকুন।
গত বছর রমজান মাসে ঢাকা থেকে বাসায় এসেছিলাম৷ বাসায় এসেই ঘোরাঘুরি শুরু হয়ে গিয়েছিল আমাদের। রমজানের কোন একদিন গিয়েছিলাম তালের রস আনতে৷ রোজা থাকার কারণে দিনের বেলায় তো রস খাওয়া সম্ভব না, এজন্য নিয়ে আসতে হয়েছিল রাতে খাওয়ার জন্য। মনে আছে সে দিনটির কথা স্পষ্ট। হঠাৎ সে দিনটির কথা মনে পড়ল তাই চিন্তা করলাম এবছরও রমজান মাসে রস আনতে যাব। গত বছর যারা গিয়েছিল তাদেরকেই দিলাম ফোন। আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম দুপুরের দিকে রস আনতে যাব। সেই সময় গাছ থেকে রস পড়া হয়। টাটকা রস পাওয়ার সুযোগ থাকে। সাধারণত গাছ থেকে রস পেরে তারা পানি মিশিয়ে সেগুলো বিক্রি করে। এতে অনেক বেশি মুনাফা অর্জন হয়। কিন্তু আমাদের চাহিদা ছিল শুধুমাত্র ভেজাল মুক্ত টাটকা রস খাওয়ার।
বেরিয়ে পড়লাম দুপুর তিনটা নাগাদ। ওখানে পৌঁছে দেখলাম রাস্তার ধারে কলসিতে রস বিক্রি করছে। জিজ্ঞেস করলাম রস আবার কখন নামানো হবে?? উনারা জানালো রস পেতে হলে আবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আরেকটু আগে আসলে টাটকা রস নিতে পারতাম। তখন আমাদের করার কিছুই ছিল না। অপেক্ষা করতে হবে নতুবা পরের দিন আবার আসতে হবে। কিন্তু সেটা হবে রমজান মাসের রোজা থেকে আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ফিরে যাব না। ততক্ষণ একটু ঘোরাঘুরি করব এরপর বিকেলে এসে রস নিয়ে যাব। সিদ্ধান্ত নিয়েই বেরিয়ে পরলাম ঘুরাঘুরির উদ্দেশ্যে। অজানার উদ্দেশ্যে ঘোরাঘুরি করা আমাদের একপ্রকার নেশা সেটা আমার ব্লগ যারা নিয়মিত পড়ে তারা মোটামুটি ভালোই জানে৷ গাড়িতে তেল ভরে আমরা অচেনা কিছু রাস্তায় ঢুকে পড়লাম যে রাস্তা গুলোয় কখনো যাওয়া হয়নি।
অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম, প্রচুর অচেনা রাস্তা পাড়ি দিলাম। অনেক অচেনা গ্রামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো এই রস না পাওয়ার বদৌলতে। এমনই নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে একটি রাস্তার পাশের বাগানের মধ্যে 'মঠ' লক্ষ্য করলাম। জানিনা এটার ইতিহাস কি, এটির সাথে কি হয়েছিল বা এটি কারা বানিয়েছে। মঠ টি দেখেই রাস্তায় গাড়ি রেখে চলে গেলাম ওটির নিকটে।
বহু পুরনো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আশেপাশে কাউকে পেলে হয়তো ইতিহাসটা জেনে নেয়া যেত কিন্তু কারো দেখাই পাইনি আশেপাশে। অনেকগুলো ছবি তুললাম, ছবি তুলে মঠের ভেতরটাও একটু উঁকি দিয়ে দেখলাম। ভিতরে দেখলাম অনেকগুলো বিড়ির প্যাকেট পড়ে আছে। হয়তো গ্রামের ছেলেপেলে বিড়ি, সিগারেট, গাজা খায় এখানে।
যাইহোক মঠ দর্শন শেষে আমরা ওখান থেকে চলে গেলাম। এরপর আর একটু ঘুরাঘুরি করলাম। মাঠের পাশ দিয়ে রাস্তা, মাঠ থেকে আসা প্রচন্ড বাতাস, আর পুরো মাঠ জুড়ে সবুজ ধান। এমন সুন্দর শুকনো রাস্তা দিয়ে ড্রাইভ করা সত্যিই দারুণ সুখের মুহূর্ত ছিল। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা বেজে গেল। আমরা চলে গেলাম সেই রস বিক্রির ওইখানে। ওখানে গিয়ে জানতে পারলাম রস মাত্র গাছ থেকে নামানো হচ্ছে। এটা শুনে আমরা সোজা চলে গেলাম সেই তাল গাছের গোড়ায়।
তাল গাছের গোড়ায় গিয়ে দেখলাম একজন কলসি নিয়ে উপরে উঠেছে রস পারতে। অনেকক্ষণ আমরা নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রস নামানো দেখছিলাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। গাছ থেকে রস নামানো দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। ওখানে দুইটি গাছ ছিল, একটি গাছ থেকে রস নামিয়ে আবার অন্য গাছে উঠছিল। দুটি গাছের রস এক জায়গায় করে মোটামুটি কলসি পূর্ণ হল।
এবার সময় এলো আমাদের রস নিয়ে বাড়ি ফেরার। অনেক সময় অপেক্ষা করার পর সেই মুহূর্তটি। প্রায় ইফতারের সময় হয়ে এলো। রস নিয়ে আমাদের দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে। এজন্য আমরা একটি বোতলে আমাদের প্রয়োজন মতো ২ লিটার রস নিয়ে নিলাম।এতক্ষণ অপেক্ষা করার পর দু'লিটার একদম ফ্রেশ রস পেয়ে খুবই ভালো লাগছিল।
রস নিয়ে এবার আমরা সোজা বাড়ির দিকে চলে এলাম। রোজা থাকার কারণে রস তখন খেতে পারলাম না। রেখে দিলাম আমাদের বাড়ির ফ্রিজে। আমাদের কথা ছিল যে নামাজ পড়ে এসে সবাই একসাথে মাঠের মধ্যে গিয়ে এ রস খাবো। নামাজ শেষে কথা মত সেই রস নিয়ে মাঠের মধ্যে চলে গেলাম। সবাই একসাথে বসে খেয়ে নিলাম টাটকা ফ্রেশ তালের রস। খুবই দারুণ ছিল 'র' তালের রস খেতে। আমার আজকের পোস্টের টাইটেলে লিখেছি দৃশ্যপট পুনরাবৃত্তি, কারণ গত বছরেও এরকম রস এনে আমরা সবাই খুব মজা করে খেয়েছিলাম। যাইহোক এটাই ছিল তালের রস খাওয়ার গল্প। আজ তাহলে বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে আবার আগামী কোন পোস্টে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আপনার তালের রসের পোস্ট পড়ে একদম অবাক হয়ে গেলাম। আমি এইরকম তালের রস কখনোই হয়নি। আপনিতো দেখছি অবাক করা কান্ড করলেন। আপনারা একদম গাছ থেকে পাড়ার সময় গিয়ে পৌঁছেছেন দেখে ভালো লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে গেলেন খুব সুন্দর তালের রস। আমার কিন্তু খেতে ইচ্ছে করছিল। আপনার তালের রসের পুরো গল্পটা পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
ওখানে না গেলে টোটকা রড পাওয়া কঠিন। ওরা বিক্রির আগে পানি মিশিয়ে খেলে।
আশা করি ভাইয়া, ভাল আছেন? আমি জীবনে একবার তালের রস খেয়েছি। খেতে খুবই সুস্বাদু ও মজাদার। এর পরবর্তীতে অনেক খুঁজেছি কিন্তু আর কোথায় তালের রস পেলাম না। আপনার পোস্ট দেখে খেতে খুব ইচ্ছে করতেছে। সত্যিই আপনার পোস্টটি দেখে খুবই ভালো লাগলো। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুবই দুর্দান্ত। এত অসাধারণ পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ভালো থাকবেন ভাইয়া।
বিভিন্ন জায়গায় তালের রস বিক্রি করতে দেখা যায় কিন্তু সেগুলো সবই ভেজালে ভরা।
তালের এমন টাটকা রস কখনো খাওয়া হয়নি,😶।এমন কি কখনো দেখিনি।তবে ভাইয়া এ সব জিনিস বেশ পছন্দ করেন,এর আগে পোস্ট দেখেছি খেজুরের রসের। যাই হোক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
বাহ আপনি এখনো মনে রেখেছেন দেখছি। ধন্যবাদ আপু।।
ভাইয়া অনেক মেহনতের পর টাটকা তালের রস পেয়েছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো, অপেক্ষার ফল সত্যি অনেক মজাদার হয়, তবে ভাইয়া আমি কখনো টাটকা তালের রস খাইনি আমাদের এই দিকে তালের রস পাওয়াই যায়না, আপনার পোস্টি দেখে তালের রস খাওয়ার ইচ্ছে জেগে উঠলো, দেখি চারিদিকে খোঁজ লাগাবো কোথায় টাটকা তালের রস পাওয়া যায়, আপনার তালের রস খাওয়ার মূহুর্ত অনেক সুন্দর ছিলো ভাইয়া, তালের রস খাওয়ার বিষয়টি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
সন্ধানে বেরিয়ে পড়ুন একদিন।
তাল গাছ থেকে খেজুর গাছের মত রস পাওয়া যায় এটা আমার মাথায় আসেনি। আমাদের বড় একটি তালগাছের রয়েছে এই তাল গাছ থেকে আমি এই সুস্বাদু তালের রস বের করতে পারবো, সত্যিই আপনার পোষ্টটি পড়ে আমার অনেক ভালো লাগলো। আর আপনার বন্ধুদের সাথে গত বছরের ন্যায় এ বছরেও তালের রস আনতে গিয়েছিলেন এবং নামাজ শেষে মাঠের মধ্যে বন্ধুদের সাথে মজা করে তালের রস খাওয়ার মুহূর্তটা সত্যিই অনেক আনন্দের ছিল। আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম। আপনি এবং আপনার বন্ধুদের জন্য রইল শুভকামনা।
সব গাছ থেকে রস বের করা যায় না। কিছু কিছু তাল গাছ থেকে রস বের হয় । আর অভিজ্ঞতা ছাড়া রস বের করা খুবই কঠিন।
অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই তালের রস। আপনি যেখানে তালের রস নিতে গেছিলেন জায়গাটা আমি চিনি। আমি গতকাল বিকেলে ঐদিকে গিয়েছিলাম ঘুরতে। এবং তালের রস না পেয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করেছেন। একটা ছবি দেখে চিনে ফেললাম আপনি তো প্রায় আমার বাড়ির কাছে চলে এসেছিলেন হি হি। যাইহোক রোজা রেখে এতো পরিশ্রমের পর অবশেষে সেই তালের রস হাতে।
তোমাদের বাড়ি কোন ছবিটার নিকটে??
এটা আমার পাশের গ্রাম। এখান থেকে আমার বাড়ি বেশি দূরে না। এই রাস্তার একটু পেছনে যে প্রাইমারি স্কুলটা আছে আমি ওখানে লেখাপড়া করেছি।
বাহ,, আচ্ছা আকদিন ওখানে গিয়ে কল দিব।
তালের রস ব্যাপার টা ভাবতে মন ভরে যায়। আর যদি টাটকা হয় তাহলেতো কথাই নাই। এবার ঈদে গ্রামে গিয়ে ভাইয়া আপনার মতো খুজে বের করে তালের রস খাবো ইনশাআল্লাহ। আপনার সুন্দর একটা মূহুর্তে র কথা শুনে অনেক ভালো লাগলো।
একদিন খেয়ে দেখুন ভালো লাগবে। 💞
ভাই আমি কখনো তালের রস খাইনি। এটা খেতে কেমন সেটাও জানিনা। আমার কাছে খেজুরের রস খেতে খুব একটা ভালো লাগে না। তাহলে দশটা দেখে মনে হচ্ছে এটি খেতে খুবই সুস্বাদু। একদিন খেয়ে দেখতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া এই
সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আমার কাছে খেজুরের রস টাই বেস্ট লাগে। এটা ভালো কিন্তু অতটা ভালো না।
এই গরমে সন্ধ্যাকালীন মুহূর্তে এরকম তালের রস খাওয়ার অনুভূতি আমারও অনেকবার হয়েছে। যেটা খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে ভাইয়া। আপনার তালের রস খাওয়ার অনুভূতির গল্প পড়ে অনেক ভালো লাগলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
গল্প পড়েই ভালো লাগলো?? খেতে মন চাচ্ছে না?? হাহাহা
ভাই রোজা আছিতো সেই জন্য খাওয়ার ইচ্ছাটা পোষণ করলাম না। শুধু পড়ার মাধ্যমে শেষ করে দিলাম। হাহাহা🤩🤩
ভাই আপনার তালের রস খাবার গল্প শুনতে ভালই লাগলো। আপনার মত আমারও ভালোলাগে নতুন নতুন অজানা রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে। এ ধরনের ভ্রমণে এক অদ্ভুত আনন্দ আছে। গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি মনটাও ভালো হয়ে যায়। তাই বলতেই হচ্ছে আপনি এক সাথে দুই কাজ করে ফেলেছেন। তালের রস খাওয়াও হলো আবার ঘোরাঘুরিও হলো ধন্যবাদ।
ঠিকই বলেছেন একসাথে দুইটা মজা নিতে পারছি। 🤩