বনভোজন 🤤
হ্যালো বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি গত পোস্টে লিখেছিলাম যে আমরা পিকনিক করবো চরে গিয়ে। তো সে পিকনিক কালকে করেছি। খুবই মজা করেছি কালকে। আজ আমি আপনাদের সাথে গতকালকের ঘটনা শেয়ার করব। আশা করি ভালো লাগবে।
আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা দুপুর তিনটার দিকে চরে চলে যাব। আমরা মানুষ ছিলাম মোট ১০ জন। চরের একদম মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পিকনিক করার ইচ্ছা ছিল। এতদূর সবকিছু নিয়ে তো আর হেঁটে যাওয়া যায় না। তাই পাঁচটি বাইক ছিল আমাদের সাথে, মানুষ ছিলাম ১০ জন। চরের মাঝামাঝি স্থানে একটা টিউবয়েল আছে এই জন্য ওই জায়গাটায় নির্ধারণ করেছিলাম। ওখানে একটা গাছও আছে, বেশ ভালই পরিবেশ। আমরা ওখানে গিয়ে সব কিছু সেটআপ করে ফেললাম। আসলে আমাদের পিকনিকের আইটেম ছিল শুধু খিচুড়ি, আলু ভর্তা, আর ডিম ভুনা। মাংস দিয়ে তো সবসময় পিকনিক করা হয়ই। ছোটবেলায় ডিম দিয়ে এরকম পিকনিক করতাম তাই এরকম ব্যতিক্রম চিন্তাভাবনা ছিল ।
আমরা তিনটের পরে রওনা দিয়েছিলাম আর আমাদের রান্না-বান্না শেষ হয়েছিল প্রায় সাতটার দিকে। কাজ হয়েছে কম কম কিন্তু আমরা মজা করেছি অনেক। পিকনিকে আসলে এমনটাই হওয়া উচিত। যাইহোক আমরা চরে গিয়ে প্রথমেই অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দু-একজন রান্না করেছে আর আমরা বাইক নিয়ে চরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি।
বিকেল টাইমে চরে গেলে প্রচুর গরু চরানো দেখতে পারবেন। এমনও পাল আছে যেখানে দু'শ আড়াইশো গরু থাকে। অন এভারেজ প্রত্যেকটা গরুর দাম ৫০-৬০ হাজার করে পড়বে মিনিমাম। গরুর পালের সাথে ভেড়াও আছে অনেক দেখলাম। আমার খুব প্রিয় একটি ক্ষেত হলো পটলের ক্ষেত। কাল ওটাও দেখলাম অনেকদিন পর, বেশ ভালই লাগলো দেখে।
পিকনিকের রান্না শেষ করতে করতে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসলো। শেষ মুহূর্তে যেয়ে আমরা হিসাব করে দেখলাম ডিম একটা কম পড়েছে। আনার সময় ভেঙে গিয়েছিল একটা। তখনই আমি আর একজন সাথে করে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম চরের মাঝখানের একটি দোকানে। সেখান থেকে ডিম নিয়ে এসে তারপর ডিম রান্না করা হয়। এরপর রান্নাবান্না শেষ করে আসলো খাবার পালা। কয়েকটা কলার পাতা কেটে এক জায়গায় রেখে চার পাশে বসে পরলাম সবাই। বহুদিন এরকম একসাথে খাওয়া হয় না।
খিচুড়ি রান্নাটা খুব সুন্দর হয়েছিল। সাথে ঝাল ঝাল আলু ভর্তা আর ডিম ভুনা। সবাই একদম চেটে পুটে খেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে বলা চলে পারফেক্ট একটা পিকনিক হলো। মাঝেমধ্যে যখন আমরা পিকনিক করি ভালো কিছু আইটেম রাখা হয় কিন্তু তেমন একটা মজা হয় না। কিন্তু গতকালকের পিকনিকে দারুন মজা করেছি সবাই। একজন অন্য দিকে তাকালে ডিম পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। হাহাহা।। যাই হোক এরপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই রওনা দিলাম বাজারের উদ্দেশ্যে। চলতি পথে দুই ধারে ভুট্টার জমি বাধে একটা জায়গায়, মাঝখান দিয়ে রাস্তা। এ পাশ দিয়ে বাইক চালাতে ভালই লাগতেছিল।
এরপর সবাই চলে আসলাম বাজারে। বাজারে এসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। এরপর যে যার মত বাড়ি চলে আসলাম। এটাই ছিল আমার গত কালকের ঘটনা। কালকের দিনটার কথা মনে থাকবে। আগামী পরশুদিন আবার ঢাকা চলে যাওয়া লাগতে পারে। এমন দিন আসলে বারবার পাওয়া যায় না। আজ আমি এখানে বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্টে ইনশা আল্লাহ্। আল্লাহ্ হাফেজ৷
VOTE @bangla.witness as witness
লোকেশন:- পদ্মার চর
ডিভাইস :- Xiaomi Redmi note 9 pro max.
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ওরে আল্লাহ খিচুড়ি রান্না তো বেশ লোভনীয় লাগছে। তবে একসময় কলা পাতার ওপরে এরকম খিচুড়ি খাওয়ার একটা প্রচলন ছিল কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সে বিষয়টা এখন আর তেমন দেখা যায় না। রাতের বেলায় এমন জায়গায় অন্যরকম মজা লাগে।
পিকনিকের ভুনা খিচুড়ি, ডিম ভুনা, আর ঝাল ঝাল আলু ভর্তা দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে ভাইয়া। সত্যি আলু ভর্তার কালার টা দারুন হয়েছে। আর শুকনো মরিচগুলো এত সুন্দরভাবে তেলে ভেজে নিয়েছেন দেখেই মন চাচ্ছে আলু ভর্তাটা একটু খেয়ে দেখি। সত্যি ভাইয়া মাংস হয়তো সব পিকনিকে খাওয়া হয়। আর এভাবে যদি ডিম দিয়ে পিকনিক করা হয় তাহলে ছোটবেলার একটা আমেজ থেকে যায়। কলা পাতায় সবাই মিলে খেয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। ভাগ্য ভালো চরের দোকানে ডিম পাওয়া গিয়েছে। না হলে তো বিপদ হয়ে যেত। আর এতগুলো গরু কখনো একসাথে চড়াতে দেখিনি। ভালো লাগলো দেখে। যাই হোক এবার যেহেতু ঢাকায় ফেরার পালা তাই নিশ্চয়ই অনেক খারাপ লাগছে আপনার। কি আর করার যেতে তো হবেই।
কিছুক্ষণের জন্য কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম! চর এতো সুন্দর! সেখানে যে কেউ গেলে তার মন ভালো হয়ে যাবে! পাশে ভূট্রা ক্ষেত তার মাঝে আবার রান্না। সবাই একসাথে খিচুরি খাওয়াও হয়ে গেল! আসলে আপনি ঠিক বলেছেন, পিকনিকে কাজের থেকে ঘুরাঘুরিটা বেশি হলে জমে যায়! 🌼🌼
ধন্যবাদ ভাই 🥰
বাহ্ কলার পাতায় খিচুড়ি বনভোজনে দারুন আনন্দ করেছেন আপনারা সবাই।খিচুড়ির সাথে ,ঝাল ঝাল আলু ভর্তা,ডিম ভুনা সাথে চরে কাটানো মুহূর্ত।সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ করেছেন বোঝাই যাচ্ছে ফটোগ্রাফি তে।বনভোজন শেষে সবাই মিলে বাজারে আড্ডা দিলেন কিছুক্ষণ এবং বাড়ি ফিরে গেলেন।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া, কি বনভোজন দেখালেন, আমার তো মনে হচ্ছে এক্ষুনি বন্ধুদের নিয়ে আপনার মত চড়ে গিয়ে, কলাপাতা বিছিয়ে, খিচুড়ি, ডিম ভুনা, সেই সাথে ঝাল ঝাল আলুর ভর্তা খেয়ে আনন্দ উপভোগ করি। সত্যি ভাই আপনার বনভোজনটি একেবারেই ভিন্ন রকমের হয়েছে। বিশেষ করে বনভোজনে কোন মাংসের ব্যবস্থা না করে, খিচুড়ি ডিম ভুনা ও আলুর ভর্তা দিয়ে বনভোজন চালিয়ে নেয়া। আপনাদের এই বনভোজনের আয়োজন দেখে বেশ বোঝাই যাচ্ছে আপনারা বন্ধুরা মিলে কতটা আনন্দ উপভোগ করেছেন। আর বনভোজনের কাটানো সুন্দর মুহূর্তটুকু আমাদের মাঝে সুন্দর বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সময় সুযোগ বের করে একদিন করে ফেলুন। ভালো লাগবে।
চরের মাঝামাঝি স্থানে ১০ জনের পিকনিক সে এক দারুন ব্যাপার। এই পিকনিক করে আপনারা অনেক মজা করেছেন জেনে ভালো লাগলো দাদা। খিচুড়ির সাথে ঝাল ঝাল আলু ভর্তা এবং ডিম ভুনা সত্যিই অসাধারণ লাগে। এই বছরে আমরা তো পিকনিক করার কোন সুযোগই পাইনি আর তোমরা সবাই মিলে এরকম একটা পারফেক্ট পিকনিক করতে পেরেছ তা সুন্দর একটা ব্যাপার। মাঝে মাঝে এই ধরনের পিকনিক করার অভিজ্ঞতা সত্যি মনে রাখার মত।
ঠিক বলেছেন ভাই। এগুলো কিন্তু স্মৃতিতে থেকে যায় সব সময়।