অবশেষে........
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির বন্ধুগণ। এই শীতে কেমন যাচ্ছে আপনাদের দিনকাল? গত দুদিন ধরে মনে হচ্ছে শীতটা একটু বেশি পড়তেছে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা ডাউন হয়ে গেছে। শীতের সময়ে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যদি প্রচুর কুয়াশা থাকে। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল গুলো আমার সবসময়ই ফেভারিট। গত দুই দিন প্রচুর শীত পরতেছে কিন্তু কুয়াশার দেখা নেই তেমন। শীতের এই প্রকোপে সন্ধ্যার পর বাইরে বেরোনো হচ্ছে না। কিন্তু আজ একটু আগে অর্থাৎ সন্ধ্যার সময় গিয়েছিলাম শহরের দিকে। কেন গিয়েছিলাম সে বিষয়টা নিয়েই আপনাদের সাথে আজকে গল্প করবো। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
গত চার পাঁচ দিন আগে বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম ঘুরতে। আর সেখানে গিয়ে কেক কেটে ছিলাম। ইতিমধ্যেই ঐদিনের মুহূর্ত গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। ঐদিন ১.৫ পাউন্ডের একটা কেক নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু লোক সংখ্যা বেশি থাকার কারণে অল্প একটু খেতে পেরেছিলাম। প্রচন্ড কেক খাওয়ার ইচ্ছা থেকেই মূলত সেদিন কেক কেনা হয়েছিল। আর সেদিন যেহেতু তৃপ্তি সহকারে খেতে পারিনি তাই ইচ্ছাটা আমার মধ্যে থেকেই গিয়েছিল। আর এদিকে গত দু-তিন দিন যাবৎ বাইরে তেমন কোথাও যাওয়া হয়নি। আজ দুপুরে গোসল খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমার বিছানায় শুয়েছিলাম। এর পর জানতে পারলাম আজ আমাদের কমিউনিটির মডারেটর @alsarzilsiam ভাইয়ের জন্মদিন। জন্মদিনের বিষয়টা মাথায় আসার সাথে সাথেই কেক খাওয়ার ইচ্ছাটা আরো প্রবল হয়ে গেল। এরপর আর দেরি না করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আজ যেভাবেই হোক কেক খেতেই হবে। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা হবে এমন সময় আরো তিনজনকে সাথে নিয়ে চলে গেলাম শহরের দিকে। শহরে পৌঁছানোর পর একটা কেকের দোকানে গেলাম। ওই দোকানের কেক কোয়ালিটি বেশ ভালো।
দোকানটাতে অনেক রকমের কেক ছিল। যদিও দোকানটা বেশী একটা বড় না। ওখানে পাউন্ড আকারে যেই কেক গুলো বিক্রি করে সেগুলো না নিয়ে , পিস আকারে বিক্রি হওয়া চারটি কেক নিয়ে নিলাম। অবশেষে তৃপ্তি সহকারে খেয়ে নিলাম।
কেক এর স্বাদ বেশ ভালই ছিল। আগেই বলেছিলাম ঐ দোকানটাতে ভালো জিনিস বিক্রি করে। কোয়ালিটি ছিল। এরই মধ্যে একটি ছোট ভাই বলল, ও নাকি নুডুলস খাবে। ওর আবার নুডুলস খুব প্রিয়। ওই দোকানটাতে নুডুলস ও বিক্রি করে। ওখান থেকেই চারজনের জন্য চার প্লেট নুডুলস নিয়ে নিলাম। নুডুলস আমারও ভালোলাগে কিন্তু তেমন একটা আগ্রহ ছিল না নুডুলস খাওয়ার প্রতি। প্রতি প্লেট নুডুলস এর দাম ও তেমন একটা বেশি ছিল না। মাত্র ৩০ টাকা। তারপর আবার চিকেন নুডুলস।
বাইরে নুডুলস খাওয়ার প্রতি আমার তেমন একটা ফিলিংস আসে না। বাড়িতে বানানো গুলোই খেতে বেশি ভালো লাগে। কিন্তু এইখান থেকে নুডুলস খেয়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। স্বাদের দিক থেকে অসাধারণ ছিল। আমি তো চিন্তা করে ফেলেছি মাঝেমধ্যেই এখানে এসে এখন থেকে নুডুলস খেয়ে যাব। স্বাদের দিক থেকে এতটাই ভাল ছিল যে এক ছোট ভাই রাহুল ও নিজেরটা শেষ করে আমার কাছে চাচ্ছিল যে ভাই আমার একটু দিবেন না। হাহাহাহা,,,,
যাইহোক, এরপর ওখান থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আর একটু দূরে একটি জায়গা আছে যেখান থেকে আমরা মাঝেমধ্যেই চা খাই, ওইখানে গিয়ে আমরা সবাই এক কাপ করে রং চা খেলাম।
ঐখানেতে প্রায় আধা ঘন্টার মত বসেছিলাম। বসে থাকতে বেশ ভালই লাগছিল জায়গাটাতে। আর শীতের এই সময়টাতে সন্ধ্যাবেলায় রং চা খেতেও বেশ দারুন লাগছিল। রং চা খাওয়া শেষ করে সোজা চলে গেলাম শহরের দিকে একটি মিষ্টির দোকানে। বাড়ির জন্য কয়েকটা মিষ্টি কিনব চিন্তা করেছিলাম।
হাফ কেজি রসগোল্লা কিনেছিলাম। অল্প করেই নিলাম যেহেতু বাড়ির জন্য নিচ্ছি এজন্য বেশি একটা নেইনি । হাফ কেজিতে আট পিস মিষ্টি হয়েছিল। মিষ্টি কেনা শেষ করে সোজা বাড়ির দিকে চলে আসলাম। আর কোথাও দাঁড়াইনি। বাড়িতে এসে মিষ্টি রেখে প্রথমেই লেপের মধ্যে ঢুকেছি। আর লেপের মধ্যে বসেই এ পোস্ট লিখতেছি। যাইহোক এটাই ছিল আমার আজকের কেক খাওয়ার গল্প। যদিও গিয়েছিলাম শুধু কেক খাওয়ার উদ্দেশ্যে কিন্তু অনেক কিছু খেয়ে ফিরেছি। :) আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ্ আপনাদের সাথে নতুন কোন কাহিনী নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাইয়া সব সময় আপনি আপনার কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেন এগুলো আমার খুবই ভালো লাগে। সত্যি কথা বলতে কেক এর ছবিগুলো দেখে লোভ লেগে গেলো। অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। আর নুডুলস দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে এখনই। আপনি আপনার ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো সবসময় পূর্ণ করেন এই জিনিসটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের ছোট ছোট ইচ্ছেগুলোকে পূর্ণ করা। কিন্তু আমরা আসলে নিজেদের ইচ্ছেগুলোকে অপূর্ণই রেখে দেই। যাইহোক ভাইয়া আপনি হয়তো আমাদের থেকে অনেকটা আলাদা। সব সময় নিজের ইচ্ছা গুলোকে পূরণ করেন ও তারপর বাকি সব কিছু করেন। এটা খুবই ভালো একটি কাজ। আপনি সবার থেকে আলাদা বলেই হয়তো আপনি এত ভালো একজন মানুষ। এভাবেই একজন ভালো মানুষ হয়ে সবসময় আমাদের মাঝে থাকুন এই কামনাই করি ভাইয়া।
নিজের ছোট ছোট ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে আর অন্যদের ইচ্ছে গুলো পূরণ হতে দেখতে দুটোই আমার কাছে ভালো লাগে।
আমি অনেকটা আপনার মতই ভাই, মাঝে মাঝে নিজের ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো এভাবেই পূরণ করি। প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাকে এত সুন্দর ভাবে একটি জন্মদিনের উইশ করার জন্য। তাছাড়া আপনি আজকে অনেক খাওয়া-দাওয়া করেছেন ইনশাল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি আমার মত পেট বের হয়ে আসবে, হাহাহা। আপনার ছবি তোলার ধরনগুলো ভাই একদম অস্থির সত্যি বলতে আপনার ছবি তোলার যে ধরনগুলো রয়েছে সেগুলোর আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছি। সর্বোপরি ভাই আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
শুধু ধন্যবাদ দিলে হবেনা। ট্রিট টা কিন্তু পাওনা থাকল। পরে দেখা হলে নিয়ে নিবো।
অবস্বই ভাই, দেখা হলে দিবো।
ইচ্ছে বড় হোক আর ছোট হোক যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি পূরণ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মনের মধ্যে কেমন জানি একটা অস্থিরতা কাজ করে। জেনে ভালো লাগলো আজকে আপনি আপনার এই ইচ্ছাটুকু পূরণ করতে পেরেছেন। কেক খাওয়ার পাশাপাশি নুডুলস নিয়ে যে টানাটানি শুরু হয়েছিল তার গল্প ও ভালো লাগলো। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা মুহূর্ত ছিল আপনার জন্য। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাতে ইচ্ছে করছে বারবার। কারণ সিয়াম ভাই আপনার পাশে না থাকলেও আপনি সিয়াম ভাইয়ের জন্মদিনের কথা মনে করে নিজে নিজে গিয়ে কে খেয়েছেন। এবং কি আপনার আত্মতৃপ্তি মিটিয়েছেন এবং আপনার বন্ধু' এবং ছোট ভাইকে নিয়ে নুডুলস খেয়েছেন। এবং কি বাসায় যাওয়ার আগে কিছু মিষ্টি নিয়ে এলেন। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আপনার ইচ্ছাশক্তি এত বেশি যা কল্পনা বাহিরে ছিল। আসলে এটা হচ্ছে গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যেটা আপনি করেছেন। যাই হোক আমাদের সাথে এত সুন্দর একটি পোস্ট গুছিয়ে উপহার স্বরূপ উপস্থাপন করার জন্য, আপনার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।
সিয়াম ভাইয়ের বাসা আমার বাসার আশেপাশে হইলে সিয়াম ভাইয়ের কাছে চলে যেতাম ট্রিট নিতে। যেহেতু যাওয়া হল না, কি আর করার। তাই নিজেই কিনে খেয়ে ফেললাম ।
বাহ আশ্চর্যজনক, আপনার বিষয়বস্তু খুব ভাল এবং ফটোগুলি সুন্দর দেখাচ্ছে
মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকে স্বাগতম
যাক ভাইয়া আপনার তৃপ্তি করে কেক🍰🍰🍰 খাওয়াটা হলো তাহলে। কেক আমারও বেশ পছন্দের কিন্তু তেমন একটা খাওয়া হয় না। জিম করি তো এই জন্য কিছুটা ফ্যাটি খাবার এড়িয়ে চলতে হয়।
জিম করার প্রথম দিকে আমিও এরকম মেনে চলতাম। কিন্তু এখন আর মেনে চলা হয় না 😁
কেকগুলো অনেক সুন্দর করে তৈরি করানো হয়েছে। একেকটি কেক এর মডেল বিভিন্ন রকমভাবে তৈরি করে রাখা হয়েছে।
আর অন্য দিকে মিষ্টিগুলোও অনেক সুন্দর।
তবে ভাইয়া অনেক ব্যস্ততার সাথে দিনটি পার করেছেন এবং সেটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া ❤️❤️
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
আমার কাছে মিষ্টি গুলো দারুন লেগেছে। আমাদের এখানে বাঘাট মিষ্টান্ন ভান্ডার এই ধরনের মিষ্টি গুলো পাওয়া যায় একেবারে ঠিক এই মিষ্টিগুলো।ধন্যবাদ
পোস্টটি পড়ে সত্যি ভালো লাগলো ভাইয়া। ইচ্ছে ছোট হোক বা বড় হোক সেটা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেমনজানি মনের মধ্যে একটা অস্থিরতা কাজ করে। আর আপনার কেক খাওয়ার পাশাপাশি লুডুস নিয়ে গল্পটাও আমার বেশ ভালো লাগলো। যাই হোক অনেক সুন্দর একটা মুহূর্ত কাটিয়েছেন
একদম ঠিক বলেছেন। ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো পূরণ হতে দেখতেও বেশ দারুন লাগে।
কেক গুলো দেখে লোভনীয় লাগছে। কেক খেতে আমি অনেক পছন্দ করি। যাই হোক অবশেষে যে আপনি আপনার ইচ্ছে পূরণ করেছেন এবং তৃপ্তি সহকারে কেক খেয়েছেন এটা জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া। মনের মধ্যে ইচ্ছা গুলো জমা রাখতে নেই। যখন ইচ্ছে হবে সেগুলো পূর্ণ করার চেষ্টা করি সব সময়। তবে আপনি সবসময় আপনার ইচ্ছা গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সুন্দর মুহূর্ত কাটানো এটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
চেষ্টা করি একটু বেশি ঘোরাঘুরি করতে। কারণ এই সময় ঘোরাঘুরি না করলে আর কখন করব। এক সময় তো ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। ইচ্ছামত ঘুরাঘুরি করি আর পছন্দের খাবারগুলোর টেস্ট নিতে খুব পছন্দ করি।