আমের গল্প!!
হ্যালো বন্ধুরা।
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। যারা গ্রামে আছেন তারা তো এখন একটু বেশি ভালো আছেন। একদম অর্গানিক ফ্রুটস খেতে পারছেন যখন তখন। এই সময়টায় গ্রাম অঞ্চলে যারা থাকে তারা প্রচুর আম লিচু এগুলো খুব সহজেই খেতে পারে কারণ সবকিছু হাতের নাগালেই থাকে। গ্রাম অঞ্চলের ম্যাক্সিমাম বাড়িতেই আম গাছ, দু-একটা লিচু গাছ থাকেই।
ছোটবেলায় যখন গ্রীষ্মের ছুটি পেতাম চলে যেতাম নানু বাড়িতে। সেখানে অনেক আম গাছ ছিল। ছোটবেলায় আমরা সবাই বইতে পড়েছি "ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ" সত্যিই আমার মামা বাড়ি ছিল আমাদের খালাতো ভাই বোনদের কাছে ভীষণ আনন্দের জায়গা। ছুটি পেলেই চলে যেতাম মামা বাড়ি। বাড়ি থেকে বেশি একটা দূরে ছিল না। আমার একটা সাইকেল ছিল সে সাইকেল চালিয়েই চলে যেতাম। যাইহোক সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতাম এই আমের সময়। গাছে উঠে আম পেড়ে খেতাম, কখনো লাঠি দিয়ে পারতাম কখনো আবার মাঠের মধ্যকার গাছের আম ঢিল মেরে পারতাম।
অনেকদিন আগে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম আমাদের আম আর লিচু বাগান নিয়ে। আপনাদের মধ্যে কারোর হয়তো মনে আছে। অনেক কষ্টে আমাদের ঐ বাগানটা প্রস্তুত করা হয়েছিল। দু তিন বছর লিচু ও পেয়েছি। আম গাছগুলো পরে লাগানো ছিল বিধায় আম পাচ্ছিলাম গত দুই বছর। কিন্তু আমাদের সেই বাগান এখন আর নেই। আমাদের ওই জমিটি যথেষ্ট উঁচু না হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে থাকতো। আর গাছগুলো তো বেশ একটা বড় ছিল না। গাছের গোড়ায় অনেকদিন যাবত পানি জমে থাকার কারণে ছোট ছোট লিচু গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যেতে থাকে। বছরখানেক আগে শেষ তিন থেকে চারটা লিচু গাছ ভালো ছিল মাত্র। তাও তেমন একটা ভালো অবস্থা ছিল না। তখন আব্বু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লিচুবাগান আর রাখবে না।
আমাদের ওই বাগানে প্রায় ২০ টি আম গাছ ছিল। আম গাছগুলো বেশ ভালই আম দিচ্ছিল। ওই বাগানে যা আম আসতো তা আমরা খেয়ে শেষ করতে পারতাম না। কিন্তু আব্বু গত ৬ মাস মত আগে সিদ্ধান্ত নেয় সে আর কোন বাগানই রাখবে না। ওই জমিতে অন্যান্য ফসল চাষ করার ইচ্ছা ছিল আব্বুর। এজন্য সব আম গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। এখন আমাদের বাগান আর বাগান নেই শুধু একটা ফসলি জমি। ওই জমিতে অবশ্য ফসল অনেক ভালো হয়। অনেক গম পেয়েছি এবার আমরা। গল্পের প্রসঙ্গে ভিন্ন দিকে চলে এসেছি। যাইহোক বলছিলাম আমের গল্প।
এবার আমাদের অল্প কয়েকটা গাছ আছে। নিজেদের খাওয়ার চাহিদা অবশ্য পূরণ হয়ে যাবে। তবে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুব বেশি পাঠানো সম্ভব হবে না। এবার ভেবেছিলাম হয়তো আম খাওয়াই হবে না। কারণ একবারে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার প্ল্যান রয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে গত তিন চার দিন ভালোই আম খাওয়া হচ্ছে। শ্বশুর বাড়ি, আপুর বাড়ি গেছিলাম সেখানে খেয়েছি। এক বন্ধু বাড়ি থেকে প্রচুর আম আর লিচু এনেছিল সেগুলো খাচ্ছি। আজ আবার বাড়ি থেকে ঢাকাতে আমার কাছে কিছু আম পাঠাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই সিজনেও ভালোই আম খাওয়া হচ্ছে। আমার সবচেয়ে ফেভারিট ফলগুলোর তালিকায় রয়েছে আম, লিচু, কলা, আঙ্গুর, তরমুজ আর কমলা। এর বাইরে অন্য কোন ফল তেমন একটা খাই না। এজন্য আম সামনে আসলে না করতে করতেও দু তিন পিস খেয়ে ফেলা হয়। ভালই লাগে। বেশি আম খেলে নাকি আবার ঘুম হয় ভালো। এটা কিন্তু সত্য।
আমার পাকা আম কাঁচা আম দুটোই খুব ফেভারিট। কাঁচা আম মাখা আমি অনেক খেতে পারি। অনেক টক হলে সবাই যখন খাওয়া বাদ দেয় আমি তখন বাকিটুকু একাই মেরে দেই। দাঁত টক হয়ে যায় তারপরও কাঁচা আম খাওয়া বন্ধ হয় না। আসলে সিজনাল সব ফলই আমাদের একটু-আধটুক খাওয়া উচিত। আল্লাহ্ তায়ালা ওই ভাবেই সৃষ্টি করে দিয়েছেন যখন যেটা প্রয়োজন। তাই পসিবল হলে সিজনাল ফল অল্প হলেও খাওয়ার চেষ্টা করবেন। ইগনোর না করাই ভালো। কোন জিনিসের মধ্যে কোন সেফা রয়েছে সেটা বলা মুশকিল। আজ এখানেই বিদায়। আল্লাহ্ হাফেজ।
image source & credit: copyright & royalty free PIXABAY
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
প্রাকৃতিক জিনিসের সুবিধা গ্রামে সবসময়ই পাওয়া যায়।মামা বাড়ি আম কুড়াতে অনেক সুখ শুনেছি তবে আমার কখনো সেটা করা হয়ে ওঠেনি।কারন আমাদের বাড়িতেই আম বাগান ছিল 15 রকমের,আর আমরাই উল্টে মামা বাড়ি ব্যাগ ভরে আম পাঠাতাম।দাদা আপনাদের লিচু ও আম বাগান দুটোর কোনোটাই নেই জেনে খারাপ লাগলো।আমি যতদূর জানি আপনি গতবছর আরিফ ভাইয়াকেও আম পাঠিয়েছিলেন।যাইহোক তবে গম যে ভালো হয়েছে জেনে ভালো লাগলো।আপনি তো দেখছি কাঁচা আম প্রেমী,আর বন্ধুর বাড়ির লিচু ও আম খেতে অনেক মজার।ধন্যবাদ দাদা।
ভাই আপনি তো দেখছি আমার মত কাঁচা আম প্রেমি। তবে দুঃখের বিষয় হলো আপনি যে মামার বাড়ির আম কুড়াতে সুখের কথা বলেছেন সেই সুখ আমি কখনো পাইনি। কারণ ছেলেবেলা হতে ঢাকায় মানুষ। তাই গ্রামের এ ধরনের সুন্দর পরিবেশ কখনো দেখা হয়নি।