কলকাতায় শেষ দিন-৪ [রাস্তায় রাস্তায়]
হ্যালো বন্ধুরা।
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন আপনারা? যে পরিমাণ গরম পড়তে শুরু করেছে আবার তাতে ভালো থাকাই দায়। এই গরমে প্রচুর পানি পান করবেন সবাই। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাহিরে না যাওয়াই ভালো। যাইহোক আজকে কলকাতা ভ্রমণের শেষ দিনের আরো একটি পর্ব নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের সামনে। শেষ পর্বে উল্লেখ করেছিলাম চিত্ত বাবুর দোকান সম্পর্কে।
চিত্তবাবুর দোকান থেকে আমরা একটা মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। প্রথমে প্ল্যান ছিল হাফিজ ভাইয়ের জন্য একটা ফোন কেনার এবং কিছু ল্যাপটপ দেখার। কিংপ্রোস ভাই আমাদের একটা মার্কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যার পথে দেখলাম একটা মুরুব্বী আখের রস বিক্রি করছেন। ইচ্ছে জাগলো এক গ্লাস খাওয়ার। ১০, ২০ টাকা করে গ্লাস। আমরা দশ টাকা গ্লাস তিনটা নিলাম।
রস খেয়ে আমরা ইম্প্রেসড। বাংলাদেশের রাস্তায় দেখবেন যে রস বিক্রি করে সেগুলোতে বরফ পানি মেশানো থাকে। পানি মিশিয়ে গ্লাস ধরে। এখানে পুরোটাই রস এক বিন্দুও পানি ছিল না। একদম 'র' পিওর খাঁটি রস। এরকম রস বাংলাদেশে কোথাও বিক্রি করে না। বেশি লাভের আশায় পানি মিশিয়ে বিক্রি করে তাও দাম রাখে অতিরিক্ত। আমরা যেটা খেলাম এটা বাংলাদেশ হলে মিনিমাম ৪০ টাকা দাম রাখতো। আচ্ছা যাই হোক এবার রস খাওয়া শেষ করে আমরা মার্কেটে ঢুকলাম।
মার্কেটে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ল্যাপটপ দেখলাম, ফোন দেখলাম। এরপর কি কিংপ্রোস ভাই বলল অন্য একটা মার্কেট আছে যেখানে ফোন অনেক রিজেনেবল প্রাইসে পাওয়া যায়। এরপর ওই মার্কেট থেকে আমরা অন্য একটি মার্কেটে গেলাম। সেখানে গিয়ে ফোন দেখলাম, কিন্তু পরে আর নেওয়া হলো না। সেলসম্যানের উপর আমাদের একটু রাগ হয়ে গেছিল। তারপরে হিসাব-নিকাশ করে দেখলাম ফোনে পরে সমস্যা হলে ওয়ারেন্টি কাজ করবে না বাংলাদেশে। এজন্য ফোন কেনার বিষয়টি স্থগিত করে দেয়া হলো।
আমাদের হাতে কিন্তু এখনো প্রচুর প্রচুর কাজ। কেউ শপিং করিনি। শপিং করা পরেই রয়েছে পুরোটাই। কিন্তু আমাদের আরও এক জায়গা যাওয়া কিন্তু বাকি ছিল। দাদা বারবার করে বলেছিলাম আমরা যেন ইকো পার্কে যাই। আমরা একটা উবার নিয়ে ইকো পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা ও দিয়েছিলাম, কিন্তু মাঝ পথে যে আমাদের খেয়াল হলো সোমবারে ইকো পার্ক বন্ধ থাকে। এখন আর কি করার। সেই মাঝপথ থেকেই আবার গাড়ি ব্যাক করে আমরা ফিরে আসলাম। খুবই হতাশ হয়েছিলাম। ইকো পার্কে দেখার মতন অনেক জিনিস আছে। দাদা এই জন্যই আমাদের ওখানে যেতে বলেছিলেন। আসলে এতো অল্প সময় নিয়ে এসেছি যে সময়ের সিডিউল ঠিকমতো সেটআপ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে আবার তিনজনেরই শপিং বাদ রয়ে গেছে।
উবার থেকে নেমে আমরা এদিকে ওদিকে একটু ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম। কিংপ্রোস ভাই আমাদের একটি কফি হাউজের সামনে নিয়ে গেলেন। এটাই সেই বিখ্যাত কফি হাউজ। গানটি তো শুনেছেন "কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই", সেই কফি হাউস দেখা হল। কফি হাউজের পাশেই ছিল একটি মিষ্টির দোকান। দোকানটির নাম 'পঁটিরাম', সেখানে গিয়ে আরিফ ভাই হাফিজ ভাইয়ার আর কিংপ্রোস ভাই মিষ্টি খেলেন। আমার তখন মিষ্টি খেতে একদমই ইচ্ছে করছিলনা।
মিষ্টি খাওয়া শেষ, এবার আমাদের পুরোপুরি মিশন শুরু হবে শপিং করার। প্রথমেই প্ল্যান কসমেটিক সামগ্রী কেনার। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি ভালো মানের রেপুটেড দোকান। পরবর্তী পর্বে শেয়ার করব কেমন স্ট্রাগল করে আমাদের শপিং গুলো করতে হয়েছে। তবে বেশ মজার ছিল পুরো সময়টি। দেখা হবে ইনশা আল্লাহ্ পরবর্তী পর্বে। আল্লাহ্ হাফেজ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভাইয়া আপনাদের কলকাতা ভ্রমনের পর্বগুলো পড়তে বেশ ভালোই লাগছে। আজ বের হয়ে আখের রস দেখলেন।আখের রস খাওয়া ভালো। আমাদের দেশে পানি মিশিয়ে দেয় তাও আবার অস্বাস্থ্যকর। যাক এই রস ১০, ২০ টাকা নিলেও ভালো। এরপর আপনারা মার্কেটে ঘোরাঘুরি করলেন, দেখলেন।এরপর দাদা বলেছিল ইকো পার্কে যেতে। উবার করে যেতে যেতে মাঝপথে মনে হলো সোমবার বন্ধ। আবার ফেরত এসে কফি হাউজ দেখলেন।এরপর বাকিরা মিষ্টির দোকানে গিয়ে মিষ্টি খেয়ে নিলো।কলকাতায় অনেকের পোস্টে ইকো পার্কটি দেখেছি। খুব ভালো লেগেছিল।যদিও আমারও যাওয়া হয়নি।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া।অসংখ্য ধন্যবাদ অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য। অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।
পিওর আখের রস খাওয়া। ল্যাপটপ আর মোবাইল কেনার জন্য শপিং মলে ঢুকেও না কিনে ফিরে আসা, ইকো পার্কে ঘুরতে যেয়ে মাঝ পথ হতে ফিরে আসা আর বিখ্যাত সেই কফি হাউজ দেখার এক অসাধারন গল্প আজ আপনার কাছে শুনতে পেলাম। আমার কাছে কিন্তু আপনাদের মিশন বেশ ভালোই লাগছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে অল্প সময়ে এতো কিছু ভ্রমন সত্যি চাপের বিষয় ৷ যা হোক অরিজিনাল আখের রস খেয়েছেন ৷ ভালো লাগলো আমাদের দেশে তো পানি বরফ দেয় ৷ এরপর মোবাইল ল্যাপটপ মার্কেট ৷ এরপর ইকো পার্কের উদ্যেশ্যে কিন্তু বন্ধ থাকাতে ঘুড়ে আসা ৷ সবমিলে অনেক কিছুই করেছেন ৷ ভালো লাগলো ব্লগটি পড়ে ৷
দাদা,সত্যিই গরমে অকারণে ঘোরাঘুরি করা উচিত নয়।আপনার পোস্টে চিত্ত বাবুর দোকান সম্পর্কে পড়েছিলাম।আখের রস খেলে যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়।আর লোকটি খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে বিক্রি করছেন মনে হচ্ছে।বাংলাদেশের সব জিনিসই ভেজাল মনে হচ্ছে আপনার কথা শুনে।অনেক ঘোরাঘুরি করেছেন পড়ে বুঝতে পারছি।তবে ওইদিনটা আপনাদের কাছে ধাঁধার মতো কেটেছে কারন ইকো পার্ক বা ফোন কেনার কোনো কাজই সফল হয়নি।যাইহোক ধন্যবাদ দাদা।