ভূতের বাঁশঝাড়ে মাছ ধরা//পর্ব-১

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


বন্ধুদের সাথে রাতের বেলায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়ানক ভুতের সম্মুখ হয়েছিলাম। আর এই ভয়ানক ভূতের সেই রাত্রি ছিল অনেক আতঙ্কে। আসলে আমরা বন্ধুরা মিলে সত্যি ভূত ভেবে অনেক বেশি ভয় পেয়েছিলাম। যার কারণে সেই দিনের কথা আজও ভুলতে পারিনি। এখনো মনে হলে যেন অবাক লাগে। তাই তো সেই গল্পটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেছিলাম। আজকে সেই গল্পের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি আজকের পর্বটি পড়ে ভালো লাগবে।


lamp-2903830_1280.jpg

source

তারপর আমরা কেউ একটুও দেরি করিনি।বললাম ভাই দৌড়,, রাসেল চিৎকার দিলো।মাছ ফেলে, টিপড়ি ফেলে, ব্যাগ ছুড়ে, আমরা দিগ্বিদিক দৌড়াতে শুরু করলাম। রাসেলের শাল পায়ে প্যাঁচিয়ে পড়ে গেল, কিন্তু তবু গড়িয়ে উঠল আর দৌড়াতে লাগল। আমি শুধু পেছন থেকে শুনতে পেলাম একটা চাপা হাসির শব্দ, যেন বাতাসের ফাঁকে কে যেন খিলখিল করে হেসে উঠল।


বাড়ি ফিরে দেখি, মিলনের মুখ একেবারে মৃত মুখের মতো ফ্যাকাশে, আর শাওনের হাতের আঙুলে শিং মাছের কাঁটা বিঁধে আছে। আমরা কারো সাথেই সেই রাত আর কারো কথা বলিনি। সবাই চুপচাপ।পরদিন সকালে সাহস করে আবার গেলাম বাঁশঝাড়ের কাছে। হাতে লাঠি, সাথে রোদ্দুর। দেখি, একেবারে বাঁশগাছের মাথায় একটা পুরনো সাদা পাঞ্জাবি ঝুলছে, যেন বাতাসে ওড়ার জন্য প্রস্তুত।


ঠিক তখনই পেছনে হাসির শব্দ পেলাম।ঘুরে দেখি,গ্রামের পাগল রাজু, দাঁড়িয়ে হাসছে।বলল, ওই পাঞ্জাবি আমি ঝুলাইছিলাম, কইলো তোরা বিল চুরি করে মাছ ধরিস!ভূতের ভয় পাইলি?আমরা সবাই প্রথমে থ হয়ে গেলাম, তারপর হেসে কুটি কুটি। তবে রাসেল বলল একটাই কথা।পাগল রাজু না থাক, আমি শপথ করছি, কাল রাতে কিছু একটা সত্যিই আমাদের পেছনে হাঁটছিল।


তখন সেই পাগল বলল আমি তোদের পিছু পিছুয়ে ধাওয়া করেছিলাম।আসলে তোরা যখন ভয় পাচ্ছিলি তখন আমার অনেক বেশি ভালো লাগতেছিল, কারণ তোরা ভয়ে একদম জড়ো গিয়েছিলি। তোরা গ্রামের মধ্যে বলোস তোদের অনেক সাহস তোরা ভূত দেখে ভয় পাস না। তাই তোরা যখন ভয় পাচ্ছিলি তখন আরো ভয় দেখানোর জন্য আমি তোদের পিছু পিছু ছুটছিলাম। এই কথা শুনে কিছুই বলতে পারলাম না, শুধু পাগলকে বললাম তুই যা করেছিস এটা অন্যায় করেছি। যদি ভয় আমাদের কিছু হয়ে যেত। তবে এই ঘটনা গ্রামের কাউকেই আর বলিস না।


আসলে আমরা বন্ধুরা সবাই ভূত ভেবে অনেক বেশি ভয় পেয়েছিলাম। যখন জানতে পারলাম সেটা ভূল ছিল না সেটা গ্রামের পাগল ছেলেটা ছিল। তখন অনেকটাই অবাক হয়ে গেলাম তবে ওকে আমরা বললাম এই ঘটনা গ্রামের অন্য কাউকে না বলতে। তাহলে গ্রামের মানুষের কাছ৷ মুখ দেখাতে লজ্জা পাবো। ছেলে যারা ছিল তারা আমাদের অনেক ক্ষ্যাপায়। তো যার কারণে ওকে আমরা বললাম তোকে আমরা শহরে নিয়ে গিয়ে বিরিয়ানি খাওয়াবো কিন্তু তুই কাউরে কিছু বলিস না। তখন ও বলল গ্রামের যে হোটেল রয়েছে সেখানে গুরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে রাজি হয়েছিলাম। যাতে অন্য কাউকে না বলে। তবে সেই ভয়ানক রাতের মুহূর্তটা সত্যি আমাদের অনেক বেশি আতঙ্কে রেখেছিল। 🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 last year 

আপনার গল্প পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে ভাইয়া ভৃতের গল্প শোনলে অনেকেই ভয় পায়। আপনার গল্প পড়ে আমার কাছে ও ভয় লেগেছিল। তবে ভূত ছিল না জেনে অনেক ভালো লাগলো। তবে অবশেষে মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াতে হলো।ধন্যবাদ ভাইয়া গল্পটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.086
BTC 58434.85
ETH 1571.19
USDT 1.00
SBD 0.38