মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে ঝরে গেল একটি প্রাণ, স্মৃতির পাতা থেকে গল্প//পর্ব-২

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


আসলে একটা ছেলের স্বপ্ন থাকে তার মনের মত একটা বাইক হবে। সে এই বাইক নিয়ে সারাদেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবে। তবে বাইক পাওয়ার পরে যদি আমরা সচেতনার সাথে ভ্রমণ না করে যদি বেপরোয়া ভাবে এই বাইক চালায়। তাহলে আমাদের জীবনে অনেক দুর্ঘটনা গঠে।প্রতিনিয়ত আমাদের এই সমাজ ও দেশের মধ্যে নানা রকমের এক্সিডেন্টের খবর আমরা শুনতে পাই। তার মধ্যে বাইক এক্সিডেন্ট অন্যতম। তবে বাইক এক্সিডেন্ট হবার কিছু কারণ রয়েছে, বেপরোয়া ভাবে বাইক চালানো এবং একজনের আগে আর একজন পাল্লা দেওয়ার কারণে বাইক এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে। আর পর্যাপ্ত পরিমানে সেফটি না থাকার কারণে। তো আমাদের স্কুল জীবনের বাইক এক্সিডেন্ট এর একটি গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেছিলাম। এই গল্পের আজকে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হলাম।


bogarhatu-2038488_1280.jpg

source

আমরা চার বন্ধু মিলে দুটি বাইক নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছিলাম তো ভ্রমণ শেষে আমরা যখন বাসার দিকে রওনা দিলাম তখন আমি আর হাসান একটি বাই গেছিলাম আর সাজুয়ার রফিক ছিল অন্য বাইকে এবং সাজুয়া রফিক মাঝেমধ্যেই বাইকের সাথে পাল্লা দিতে লাগলো আমি বারবার হাসানকে না করলাম। যার কারণে সাবধানে সাথে বাইক চালাচ্ছিল।তারপরে সাজুয আর রফিক আরো জোরে চালাতে লাগলো, ওরা যেন পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বারবার না করলাম। তারপরেও সাজু আর রফিক শুনলো না, আশেপাশে যারা বাইক চালা ছিল। তাদের আগে যাচ্ছিল,, আর আনন্দের সাথে ওরা গান গাইতে ছিল। ওরা আসলে নতুন বাইক পেয়েছিলো, যার কারণে ওদের মনে অন্যরকম আনন্দ ছিল।


তারপরে সন্ধ্যা নেমে আসবে। এই সময় আমাদের বাইকে তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে আমরা একটি তেলের পাম্পে আসলাম। সেখান থেকে তেল তুলে নিয়ে আবারো আমরা রওনা দিলাম শহরের দিকে। তখন সাজু বলল যে আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে হবে। যার কারণে জোরে চালাতে হবে। তখন আমি না করলাম, যে দরকার নেই আমরা রাত করেই বাড়ি যাব। কোন জোরে চালানো যাবে না, কিন্তু সাজু রফিক শুনলো না ও যেন অনেক স্পিডে চালাতে লাগলো।


সাজু তখন অনেক স্পিডে বাইক চালাচ্ছিল, হাসানোর জোরে চালাচ্ছিল। তখন আমি হাসানকে না করলাম, যার কারণে হাসান ধীরে ধীরে যাচ্ছিল। আর সাজু আমাদের অনেক আগেই চলে এসেছে এবং যার কারণে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে সামনে দেখতে পেলাম একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। অনেক মানুষ জমা হয়েছে, তখন মাগরিবের আজান দেবে এরকম অবস্থা। যার কারণে আমরা সেখানে এসে থামলাম। এসে দেখতে পেলাম সাজু আর রফিকের বাইকটি এক্সিডেন্ট করেছে।তখন তাড়াতাড়ি করে হাসান বাইক থামিয়ে ওদের কাছে আসলো। আমিও আসলাম, বললাম কিভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে। এসে দেখতে পেলাম সাজুর হাত-পা অনেক ছিলে গেছে, প্যান্টও ছিলে গেছে। আর রফিক যেন রাস্তার নিচে পড়ে গেছে, ওকে সবাই টেনে টেনে তুলছে এবং রফিকে উপরে উঠিয়েই দেখতে পেলাম ওর হাত ভেঙে গেছে। মানে হাত একদম ভেঙে কেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন আশেপাশের মানুষদের আমরা ডাক দিলাম।


আশেপাশের মানুষ তখন আসলো, তারা এসে আমাদের বন্ধুদের একটা ভ্যানে উঠিয়ে দিল। আসলে সাজুর যা হয়েছে ওটা মোটামুটি ঠিক আছে, কিন্তু রফিকের অবস্থা বেশি ভালো। যার কারণে সেখানকার একটি সদর হসপিটালে আমাদের নিয়ে গেল এবং আশেপাশের মানুষ অনেক ভাল ছিল। তারা সাহায্য করলো এবং বলল যে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যান। এবং তার আগে একজন বৃদ্ধ আসলো, তার কাঁধে গামছা ছিল সেই গামছা দিয়ে রফিকের হাত খুবই শক্ত করে বেঁধে দিল। যাতে রক্ত না বের হয়। এই অবস্থায় আমরা সেখানকার সদর হাসপাতালে দিকে এগিয়ে গেলাম। আসলে তখন ওইভাবে আমাদের মোবাইল ছিল না। তাই আশেপাশের একজনের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে সাজুর ভাইকে জানালাম। বলল যে ঠিক আছে তোমরা হসপিটালে নিয়ে যাও আমরা এখনই বের হচ্ছি।



আসলে সেখানকার মানুষ অনেক বেশি ভালো ছিল।তারা বলল যে আপনাদের মোটরসাইকেল আমাদের হেফাজতে আছে। কোন চিন্তা নেই। তাই তারা মোটরসাইকেল গুলো রেখে দিল। আর আমরা হসপিটালে দিকে নিয়ে গেলাম। তারপরে সাজুর ভাই এবং সাজুর ভাইয়ের বন্ধু আরো কয়েকজন আসতে লাগল, আমরা হসপিটালে নিয়ে সাজু এবং রফিককে ভর্তি করিয়ে দিলাম। তো বন্ধুরা পরবর্তীতে কি হয়েছিল, সেই অংশটুকু আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করবে ইনশাআল্লাহ।🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 2 years ago 

অনেকে রয়েছে বাইক ভ্রমণে যাই বাইরে ঘোরাঘুরি করতে যাই আবার একে অন্যের সাথে পাল্লা দেয়। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না মোটরসাইকেল এমন একটা খারাপ জিনিস দ্রুত টানলে যে কোন মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ নিজের বাইরে চলে যায়। আর রাস্তায় যদি ভুল করে গাড়ি উল্টে যাই তাহলে কি অবস্থা হবে তার। তাই এই থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন এবং আপনজনদেরকে সাবধান করা প্রয়োজন।

 2 years ago 

বর্তমান সময়ে বাইক এক্সিডেন্ট খুব বেশি হচ্ছে। দ্রুত রাস্তায় চলাচল করলে একটু বেকায়দা সৃষ্টি হলেই জীবন নাস হওয়ার সম্ভাবনা। আর সেই জায়গায় অনেকেই বোকার মত ইয়ার্কি আড্ডা দিয়ে গাড়ি চালাতে থাকে। এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাই জানে বাস্তবতা কত কঠিন। তাই আমাদের সকলের এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে এবং ঠিকভাবে বুঝে শুনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা প্রয়োজন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 59969.65
ETH 1578.41
USDT 1.00
SBD 0.42