ভুল সিদ্ধান্ত, পর্ব -২।
আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগন কেমন আছেন ?আমি ভালো আছি । আশা করি আপনারা ও ভালো আছেন ।
ছেলের নাম হচ্ছে মাসুম। আচার ব্যবহার তার খুব ভালো ,শুধু দেখতে একটু শ্যামলা বিদায় তার অনেক দিনের ইচ্ছে একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করার। তাই সে আর কোন দিকে তাকাই নি। আসলে তার চিন্তা ছিল ,আমার তো সবই আছে সুন্দরী মেয়ে হলে আমি অনায়সে বিয়ে করতে রাজি। এই রকম চিন্তা করতে করতে আংটি পরানোর দিন চলে আসলো।
মাসুম আর তার দুলাভাই গেলো মেয়েকে আংটি পরাতে। এই দিকে রিম্পা চটপটে আবার অহংকারী দেখে তার গার্জিয়ান বার বার জিজ্ঞাসা করেছিলো সে বিয়েতে রাজি কিনা ,সে তখন কোন অমত করেনি। তাই ছেলে ও আংটি পরিয়ে বিয়ে এর দিন ঠিক করে আসলো। আসতে আসতে বিয়ে এর দিন ও প্রায় চলে আসলো।
যেহেতু ছেলে প্রবাসী ছিলো ,তাই সে বিয়ে করবে বলে অনেক স্বর্ণ নিয়ে এসেছিলো। তবে সমস্যা হচ্ছে এক জায়গায় ছেলে বিদেশ থেকে উঠেছে বোনের বাসায়। ঢাকা শহরে জায়গা আছে ,কিন্তু এখনো বাড়ি করেনি। তাই বোনের বাসায় উঠেছে ,নতুন বউ কে উঠিয়ে বোনের কাছে রাখবে। পরে বাড়ি করে নিজের বাড়িতে উঠবে। এই কথা মেয়ে পক্ষকে ছেলে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে। দেখতে দেখতে বিয়ে এর দিন চলে আসলো। মেয়ে পক্ষের সবার জন্য শপিং করে নিয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে অল্প সংখ্যক বর যাত্রী নিয়ে রওনা হলো বিয়ে করার উদ্যেশে।
মেয়ের বাবা রকিব সাহেব ও নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছিলো বড় পক্ষকে আপ্যায়ন করার জন্য। তারপর বিয়ে সকল প্রোগ্রাম শেষ করে রিম্পাকে নিয়ে মাসুম তার বোনের বাসায় উঠলো। মাসুম ও খুশি সে মনের মত একটা সুন্দরী বউ পেয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাকই ছিলো ,কিন্তু সমস্যা হলো রিম্পার ,সে কোন মতোই মাসুম কে সহ্য করতে পারছিলো না।
প্রথম দিন থেকেই শুরু করলো সে তার বোনের বাসায় থাকতে পারবে না ,অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে রাখতে হবে ,তাতেও মাসুম রাজি হলো। রিম্পার সকল আবদার সে কষ্ট হলেও পূরণ করে যাচ্ছে ,কিন্তু তাতেও রিম্পার মন গলছে না। সে মাসুম কে কোনো ভাবেই তার স্বামী হিসাবে মানতে পারছে না। মাসুম মনে মনে ভাবছে হয়তো রিম্পার সময় লাগবে তাকে মানতে ,তারপর হয়তো আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
এই দিকে রিম্পা কে নিয়ে মাসুম শপিং এ যায় ,ঘুরতে যায় কোনো কিছু তেই কাজ হচ্ছে না ,ওই দিখে মাসুম এর বিদেশে যাওয়ার দিন ও প্রায় ঘনিয়ে আসছে। একদিন রিম্পা মাসুম কে না জানিয়ে তাদের বাসায় চলে আসে ,তারপর মাসুম ও রিম্পার বাসায় যেয়ে আর সহ্য করতে না পেরে তার শশুর শাশুড়িকে বলে ,তার সব কিছু শুনে রিম্পার বাবা মা সহ আরো আত্মীয় স্বজন মিলে সবাই রিম্পাকে বুঝায় কিন্তু তাতে ও সে বুঝ মানে না বরং সে দিন দিন মাসুম এর উপর অত্যাচার করে যাচ্ছে।
বিয়ে এর তিন মাস হয়ে যাচ্ছে ,কোন কিছুই ঠিক হচ্ছে না ,বিদেশে যাওয়ার আর মাত্র দুই মাস বাকি কিন্তু রিম্পা কারো কোন কথায় শুনছে না। এই দিকে মাসুম এর আত্মীয় স্বজন মাসুম নিয়ে অনেক টেনশন করছিলো। মাসুম মনে মনে ভাবছে ,কোন খোঁজখবর না নিয়ে সুন্দরী মেয়ে দেখে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক ভুল ছিল। শহরের এই রকম আল্টা মর্ডান মেয়ে নিয়ে সংসার ঠিকঠাক করতে পারবে কিনা ,এই কথাটা তার ফ্যামিলি বার বার বলেছিলো ,কিন্তু সে কোনো কথা তার কানে নেয়নি।
ধন্যবাদ সবাইকে
ডিসকর্ড লিংক:
https://discord.gg/VtARrTn6ht
JOIN WITH US ON DISCORD SERVER
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আপু আপনার ভুল সিদ্ধান্ত পর্ব- ২ ভালোই লেগেছে।শহরেই আল্ট্রা মর্ডান মেয়েকে বিয়ে করে বেচারি মাসুম বিপদে পড়ে গিয়েছেন।পরিবারের কথা না শুনে ভুল করেছে বেচারি।আর রিম্পার যেহেতু এত প্রবলেম ছিল আংটি পড়ার সময় বললে প্রবলেম টা হতনা।আংটি চুপচাপ করেই পরে নিয়েছিল, এখানে রিম্পার পরিবারের কোনো দোষ নেই। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আসলে এই জন্যই বলে ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না।পরবর্তী পর্ব শীঘ্রই পাবেন।ধন্যবাদ
আমি তো গত পর্ব পড়ে ভেবেছিলাম যে হয়তো ছেলের সমস্যা। এখন তো দেখছি মেয়েরই সমস্যা । মেয়ে ছেলেকে পছন্দ করেনি তাহলে আগে থেকে কেন জানায়নি। শুধু শুধু একটা ছেলের জীবন নষ্ট করার কি মানে আছে । যাই হোক সমাজে এরকম মেয়েরও অভাব নেই। যাক এখন দেখার বিষয় যে পরবর্তী পর্বতে এদের মিল হয় কিনা। ধন্যবাদ আপু। খুব সুন্দর লিখেছেন।
কখন যে কার সমস্যা হয়, সেটাই বলা মুশকিল🤣🤣।ধন্যবাদ আপু
এরকম একটা ঘটনা আমাদের এখানেও একজনের সাথে ঘটেছিল। আমাদের এদিকে একটা ভাইয়া বিদেশ থেকে এসেছিল অনেক বেশি স্বর্ণ গহনা নিয়ে। তারপর শহরের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিল অনেক ধুমধাম করে। কিন্তু পরবর্তীতে মেয়েটা তাদের বাড়ির কাউকে এমন কি ছেলেটা কেউ সহ্য করতে পারত না। ছেলেটা যখন আবারো বিদেশ চলে গেল সেদিন মেয়েটাও তাদের বাড়িতে ফিরে গেল আর আসলো না। আসলে এরকম কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায়। যে যার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না তাহলে তাকে বিয়ে করার কি দরকার।রিম্পা যখন মাসুম কে মেনে নিতে পারবে না তাহলে তাকে বিয়ে কেন করল। মাসুম তো তার কথা মতো সবকিছুই করল। দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়?
এই ভুলগুলো এখন প্রায় হয়,এই সমাজে।বেশির ভাগই বিদেশি ছেলেদের চিন্তা করে আর কিছু না হোক সুন্দরী একটা মেয়ে বিয়ে করবে।
জানেন তো আপু, এটা গল্প হলেও এমন টাই বাস্তবে ঘটে। এরকম কিছু ছেলে আছে যারা শুধু রূপ খোঁজে, গুণের দরকার নেই। আমি বুঝি না রূপ কি মানুষের সারা জীবন থাকে নাকি রে ভাই!!! আর কিছু মেয়েও আছে এমন। ইচ্ছে না থাকলেও টাকা পয়সার লোভে পড়ে আরেকজনের জীবন নষ্ট করতে যায়। এদের দাড়িয়ে থেকে ৪২০ ভোল্টের সক দিতে পারলেও মনের রাগ মিটবে না। যাই হোক দেখি পরের পর্বে কি অপেক্ষা করছে। আপনি যেন আবার আমার জন্য এমন ধাঁচের কোন মেয়ে খুজে বের করেন না 😉, এমনিতেই টাকা পয়সা নেই, এমন পাল্লায় পরলে সোজা পাগলা গারদ 😅।
আপু একবার একটু উকি দেবেন কেমন 🤪🙏🙏
৪২০ ভোল্টের শক🤔,কি সাংঘাতিক। আপনার জন্য মেয়ে খুঁজে আমি বিপদে পরি,তাই না যে হারে ভুল খুঁজেন। তারপর মেয়ের ভুল খুঁজে মেয়ের মাথা খারাপ করে দেওয়ার জন্য।🤣
আপনার গল্পে বাস্তব চিএ তুলে ধরেছেন।আমি এমন ঘটনা নিজের সামনে ঘটতে দেখেছি।আমার প্রতিবেশি ছিলেন তার জীবনে ঘটেছিল। তার বাসায় প্রায় সবাই শ্যামলা বর্ণের তাই সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করেছিলো। পরে অনেক অশান্তি। একসময় তাদের সংসার টা টিকে নাই।
আসলে বেশির ভাগ কারনেই সুন্দর অসুন্দর এর কারনে সংসার ভাঙ্গছে।আমরা মুখে বলি ঠিক সৌন্দর্য কিছুই না,কিন্তু দিন শেষে সৌন্দর্যই খুঁজি। ধন্যবাদ
এটা তো গল্প না, মনে হচ্ছে সমাজের বাস্তব দিক। এই জন্যই আমার গ্রামের মেয়ে পছন্দ।🤣আমার বউ যদি প্রথম দিন এমন কথা বলে যে আলাদা বাড়ি দেখার জন্য, তাহলে আদর করে বাড়ির ছাদে নিয়ে ঠেলা মেরে ছাদ থেকে ফেলে দেবো।🤣 দরকার নেই এমন বউ এর আমার। আমি ভাই শান্তিপ্রিয় মানুষ।😁
ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে এমন হয় আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন।পুলিশ রা মনে আপনাকে খুব যত্ন করে তাদের কাছে রাখবে।🤣
এটা আসলেই ঠিক কিছু কিছু ছেলে আছে শুধু রূপের সৌন্দর্য দেখে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু তার ব্যবহার এবং চরিত্রের কোন খোঁজ খবর নেয় না। যেমন এখন মাসুম এগুলো ভোগ করছে। এটি আসলে একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, জানি না তার এই ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি কি হয় পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আসলে মানুষ বিচার করতে হয় সৌন্দর্যে না,ব্যক্তিত্ব নিয়ে।ভুল তো অব্যশই ছিলো।পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই পাবেন। ধন্যবাদ
আজকের পর্ব পড়ে অনেক ভালো লাগলো।যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে মাথা ঠান্ডা করে অনেক ভেবে চিন্তে নিতে হয় কারণ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
আসলেই যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে ভেবে চিন্তে মাথা ঠান্ডা করে নিতে হয়।একটি ভুল সারাজীবনের কান্না হয়ে যায়।😊