সন্ধ্যা রাতের দক্ষিণেশ্বর
নমস্কার বন্ধুরা,
বেশিরভাগ আমরা যারা দক্ষিণেশ্বর ঘুরতে যাই বা পূজো দিতে যাই সেটা খুবই সকালবেলা। অনেক সময় দেখা যায় বেলা হয়ে গেলে কেউ দুপুরের দিকেও যায় তবে গরমকালে দুপুরের দিকে পুজো দিতে যাওয়া আসলে অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কিছু লোক রয়েছে যারা বিকেল বেলা দক্ষিণেশ্বর ঘুরতে যায় এবং গঙ্গার পাড়ে বসে আড্ডা দেয়। কিন্তু আপনাদের ভিতরে কেউ কি কখনো রাতের বেলা দক্ষিণেশ্বর ঘুরতে গেছেন....? আপনার কি কেউ জানেন যে রাতের বেলা দক্ষিণেশ্বর মন্দির টা দেখতে কেমন সুন্দর লাগে...? যদি সেটা না জেনে থাকেন তাহলে আজকের পোস্টটা শুধুমাত্র আপনার জন্য। আসলে আমি নিজেও কখনো সন্ধ্যার পরে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ঘুরতে যাইনি, তবে প্রথমবার গিয়ে বেশ ভালো রকমের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। সেটাই আসলে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।
প্রথমত সন্ধ্যার পরে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের বা তার আশেপাশের জায়গাগুলোর যে ব্যাপারটা সবথেকে বেশি ইন্টারেস্টিং লাগে সেটা হল লাইটিং অর্থাৎ মন্দিরের আশেপাশের জায়গা গুলো এত সুন্দর রংবেরঙের লাইট দিয়ে সাজিয়ে রেখে দেয় যেটা দেখতে অত্যাধিক আকর্ষণীয় লাগে। এটা তো গেলো মন্দিরের বাইরের দিকটা। তবে যদি মন্দিরের ভেতরে ঢোকা হয় এবং মন্দিরের প্রত্যেকটা ফটক খুব ভালো করে খেয়াল করে দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে যে ভিতরকার লাইটিং গুলো অসাধারণ সুন্দর এবং সেটা কিছু সময় পর পর পরিবর্তন হয়। যদিওবা ওই সময়টাতে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় মন্দির পুজো দেওয়ার জন্য। তারপরও বাইরে থেকে দেখতে যথেষ্ট ভালো লাগে। যাই হোক আমি বৌদি আর আমার মা গিয়েছিলাম দক্ষিণেশ্বর টুকটাক মূর্তি এবং ঠাকুর ঘরের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য। তবে আর একটা বিষয় ছিল ওখানে নাকি খুব সুন্দর আচার পাওয়া যায় যেটা কলকাতার অন্যান্য জায়গা গুলোতে এত সুন্দর টেস্টের আচার পাওয়া যায় না। তাই ওটাও আমাদের একটা প্রধান লক্ষ্য ছিল।
প্রথমে আমরা ঠাকুর ঘরের জন্য বেশ কিছু ঠাকুরের মূর্তি কিনে দিলাম এবং বেশ বড় সাইজের একটা শিবলিঙ্গ কিনে নিলাম। আসলে এখানকার জিনিসগুলো এতটাই সস্তা এবং সুন্দর ছিল যে দেখে মনে হচ্ছিল আরো অনেক কিছু কিনে ফেলি। যাইহোক সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা একটা পাঁচমিশালী আমের আচার কিনে দিলাম যেটা আমার বৌদির খুব পছন্দ ছিল। আসলে এই সময়টাতে দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গার ঘাটে প্রচুর লোকজন আসে রাতে গঙ্গার ঘাটের ভিউ দেখার জন্য। তাই আমার বৌদি বলছিল যে গঙ্গার পাড়ে গিয়ে একটু ঘুরে আসার জন্য। তবে এদিকে আবার রাত হয়ে যাচ্ছিল তাই মা যেতে বারণ করে দিল। তবে সেখান থেকে যে আমরা বাড়ি চলে এসেছিলাম তা কিন্তু নয়। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের গেট থেকে বেরিয়ে বাম সাইডে কিছু দূর হেঁটে খুব সুন্দর একটা খাবারের দোকান রয়েছে সেখান থেকে আমরা নিরামিষ কিছু খাবার দাবার খেয়ে নিলাম। কেন জানি না মনে হচ্ছিল অন্যান্য হোটেল গুলোর তুলনায় এখানকার খাবার একটু বেশি টেস্টি হয়, আর দামেও যথেষ্ট কম।
তারপর আবার সেখান থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে নিচ দিয়ে একটু হাটাহাটি করতে লাগলাম। সেখানেও ছিল ছোট বড় অসংখ্য দোকানপাট যেগুলো দিনের বেলাতেও খোলা থাকে আবার রাতের বেলাও অনেক রাত অবধি খোলা থাকে। আমার খুব ইচ্ছা করছিল নিজের জন্য কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। যদিও সেটা আমাকে বলার প্রয়োজন হয়নি কাউকে। আমার বৌদি দেখলাম কিছু কানের দুল এবং আমার সাজার জন্য কিছু টুকটাক জিনিস কিনে নিল। আমি অবশ্য বারণ করিনি কারন আমার মনে মনে এরকমই একটা ইচ্ছা ছিল। হা হা হা... এরপর সেখান থেকে কেনাকাটা শেষ করে মোটামুটি সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা স্টেশনের উপর চলে আসলাম। কিন্তু সেখানে এসে শুনলাম যে দুই মিনিট আগে ট্রেন বেরিয়ে চলে গেছে সুতরাং আমাদের আরো ঘন্টাখানেক এখানে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এই লাইনের ট্রেন অনেক সময় পরপর আসে। যাইহোক এত সময় এখানে দাঁড়িয়ে কি করব তাই টুকটাক কিছু ফটো তুলে নিয়েছিলাম। তারপর গান শুনতে শুনতে কখন যে এক ঘন্টা কেটে গেছিল বুঝতে পারিনি। হঠাৎ করেই ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট দিল আর স্টেশনের ট্রেন আসতেই আমরা ঝটপট করে উঠে রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।
| ডিভাইস | realme 8i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @pujaghosh |
| লোকেশন | দক্ষিণেশ্বর। |
| পোস্ট টাইপ | ভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট। |
আজ আর নয়। আজ এই পর্যন্তই শেষ করছি ।ভালো থাকবেন সকলে আর সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তীতে আবারও নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
গোধূলি সন্ধ্যায় দক্ষিণেশ্বর খুব চমৎকার মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। ফটোগ্রাফি গুলো সত্যি বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। ছোট ছোট বিভিন্ন প্রকার মূর্তি দেখে খুবই ভালো লাগলো। আপনার প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। কেনাকাটার মাঝে সন্ধ্যায় সুন্দর মুহূর্ত চমৎকারভাবে অতিবাহিত করেছেন । এত চমৎকার পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
হ্যাঁ ভাই গোধূলি সন্ধ্যায় দক্ষিণেশ্বরে দারুন একটি মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম ।ছোট ছোট মূর্তি গুলোর ফটোগ্রাফি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে অনেক খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি প্রথমবার সন্ধ্যা বেলায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এবং সেই মুহূর্তটা আমাদের মাঝে খুব সুন্দর ভাবে শেয়ার করেছেন, যা দেখে এবং পড়ে বেশ ভালোই উপভোগ করলাম। সন্ধ্যা বেলার দৃশ্যটা একেবারে অন্যরকম ছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের, যা দেখেই বুঝতে পারছি। খুব ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন সেখানে গিয়ে দেখে বোঝা যাচ্ছে। আর আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখেও অনেক বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে। এত সুন্দর একটা মুহূর্ত কাটানো সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাই, প্রথমবার দক্ষিণেশ্বর মন্দির গিয়ে সন্ধ্যাবেলায় দারুন একটি মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম ।আমার পোস্টটি পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক খুশি হলাম ।ধন্যবাদ আপনাকে।
দক্ষিণেশ্বর নামটা শুনলেই বুকটা কেমন যেন কেপে ওঠে। অনেক বাধা ঠেলে গতবছর মায়ের দর্শন করতে পেরেছিলাম। আহা সে কি অপরূপ দৃশ্য 🙏🙏🙏। এই মন্দিরের সৌন্দর্যের কথা পুরো পৃথিবী বিখ্যাত। তবে আমি দুপুরে আর বিকালে ঘুরেছি এদিকে। রাতে কখনো যাওয়া হয় নি। কিন্তু রাতের অনেক চমৎকার সব ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি। মন ভরে যায় যেন দেখলেই। আজ অনেকদিন পর লেখা গুলো পড়তে পড়তে পুরোনো সব কথা মনে পড়ে গেল। আর এই ওভার ব্রিজ টার উপর অনেক সময় অপেক্ষা করেছি আমি আমার ফ্রেন্ড এর জন্য। দারুন সুন্দর করে চারপাশ টা সাজানো। তবে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছিল মেট্রো স্টেশন টা। এত সুন্দর রেল স্টেশন আমি আজ পর্যন্ত কোনদিন দেখি নি। যাই হোক, মা সবার মঙ্গল করুক এটাই প্রার্থনা করি সব সময় 🙏😊।
একদমই ঠিক বলেছেন ,দক্ষিনেশ্বরের মায়ের মন্দিরটা এতটাই সুন্দর যে, সেটা সমস্ত জায়গার লোকের কাছেই বিখ্যাত। আমিও প্রথমবারের মতো সন্ধ্যা বেলায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গিয়েছি। এর আগে বিকেলে আর দুপুরের দিকে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম ,তবে সন্ধ্যেবেলায় গিয়ে বেশি ভালো লেগেছিল ।কারণ রৌদ্রের প্রচন্ড তাপটা সহ্য করতে হয়নি। মেট্রো স্টেশনটা সত্যি অনেক সুন্দর আমারও খুব ভালো লাগে। সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
রাতের বেলাতে আমিও দক্ষিনেশ্বর গেছি। আমার কাছে তো দিনের বেলা থেকে রাতের বেলা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ভিউ আরো অনেক বেশি সুন্দর লাগে। গত বছরের কালী পুজোতে গিয়েছিলাম, বেশ মজা হয় ওই সময়টাতে। আর ওখানকার বিভিন্ন রকমের আচার আসলেই অনেক টেস্টি, আমি এর আগের বার আচার কিনে নিয়ে এসেছিলাম ওখান থেকে।
আমারও তাই মনে হয়েছে, দিনের বেলায় গরমের প্রচন্ড তাপ থাকলেও ,রাতের বেলায় সেটা না থাকায় আরো বেশি সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। সত্যি ওখানকার আচার অনেক বেশি টেস্টি।
জয় মাতা ভবতারিণী রং জয় 🙏🏾
জয় শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের জয়🙏🏾
জয় মা সারদামনী রং জয়🙏🏾
🙏🙏🙏🙏