দৃশ্যম-২ কি মনে ছাপ ফেলতে পারলো?[স্পয়েলার বিহীন রিভিউ](১০% @shy-fox কে)
তারিখ-২৯.১১.২০২২
নমস্কার বন্ধুরা
আশা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদের সকলে ভালো আছেন।আমিও ভাল আছি।কারণ সেটা ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় আমার কাছে নেই।ভালো আমাকে থাকতেই হবে। নিজের জন্য না হলেও পরিবারের জন্য। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাদের ভালো থাকতে হয়। ভালো থাকার অভিনয়টা ভালো করে করে যেতে হয়। তাতে যেন কোনো ঘাটতি না পরে।
অভিনয় থেকে মনে পড়ল কিছুদিন আগেই ঘরে বসে Drishyam-2 সিনেমাটি দেখেছিলাম। আসলে হলে গিয়ে দেখতে মন চাইলেও সব সময় তো সঙ্গী পাওয়া যায় না।
তাই অগত্যা এদিক ওদিক থেকে জোগাড় জান্তি করেই সিনেমা দেখতে হয়। কারণ আমি চরম সিনমার পোকা। দৃশ্যম্ এর প্রথম পার্ট রিলিজ করে ২০১৫ সালে। সেটা দেখে আমি আরেকবার অজয় দেবগনের অনুরাগী হয়ে গেছিলাম।আসলে অজয় দেবগন একসময় বেশ ভালো কিছু পারফরম্যান্স দেওয়ার পর, মাঝে তার কেরিয়ারের বেশ টানাপোড়েন দেখা দেয়।প্রায় বলিউড স্ক্রিন থেকে তিনি সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছিলেন। তারপর যখন কাম ব্যাক করেন, তখন পুরো ব্লকবাস্টার নিয়ে ফিরে আসেন। এই দৃশ্যমটাও তার মধ্যে একটা।দৃশ্যম যখন প্রথম অংশ বার হয় তখন দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলাম,তেমনই কোন ধারণা কিন্তু ছিল না যে এটার দ্বিতীয় অংশ বার করতে পারে। অবশেষে প্রায় সাত বছর পরে এই সিনেমার দ্বিতীয় অংশটি আবার দেখানো হয়েছে। প্রথমবারের মতনই দ্বিতীয় বারও সকলের মন জিতে নিতে সক্ষম হয়েছে দৃশ্যম-২ ।
আসুন প্রথমে আমি আপনাদের সিনেমার সমস্ত চরিত্রগুলো সম্পর্কে একটু ওয়াকিবহাল করে দি। যাতে করে, গল্প যখন বলবো আপনাদের একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়।
| অভিনেতা | চরিত্র |
|---|---|
| অজয় দেবগন | বিজয় সালগাওকর |
| শ্রীয়া সরণ | নন্দিনী |
| ইশিতা দত্ত | অঞ্জু |
| মৃণাল যাদব | অনু |
| অক্ষয় খান্না | তরুণ আহলাওয়াত |
| টাবু | মীরা দেশমুখ |
| রজত কাপুর | মহেশ দেশমুখ |
| সৌরভ শুকলা | মুরাদ আলি |
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনাটা শুরু হচ্ছে এভাবে যে একজন স্মাগলার কোন প্রডাক্ট ডেলিভারি করতে এসে, টাকা না পেয়ে,সামনের লোকটাকে গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছিল।কারণ পুলিশ তার পেছনে পড়েছালো।আর ঠিক সে যখন পালিয়ে গেল, হঠাৎই দেখল একটা কনস্ট্রাকশন চলছে এমন জায়গায় কেউ একটা মাটি খুড়ে কিছু করছে। কিন্তু অন্ধকার থাকায় সে কিছু দেখতে পেল না। পরবর্তী সময়ে সে স্মাগলার কে পুলিশ অ্যারেস্ট করে। সে প্রায় ৭ বছরের জন্য জেলে চলে যায়। ওইদিকে দেখা যায় বিজয়(অজয় দেবগন) নিজের কেবল্ এর বিজনেসের সাথে সাথে, একজন সিনেমার প্রডিউসার হিসাবে কাজ শুরু করেন। আর এই কাজ করার জন্য সে তার জমির একটা বিশাল অংশ বিক্রি করে দেয়।
এই ভাবেই তাদের সংসার চলতে থাকে। হঠাৎ করেই মিরা দেশমুখ(টাবু) অর্থাৎ দৃশ্যম সিনেমার প্রথম পর্বে যিনি পুলিশ অফিসার ছিলেন এবং যার ছেলে স্যাম বিজয়ের মেয়ের সাথে অসভ্যতা করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তার মা, মনে মনে ঠিক করেন যে যেহেতু সাত বছর হয়ে গেছে তার সন্তানের মৃত্যুর কারণ এবং মৃতদেহ কোনটাই তিনি জানতে পারেননি, তাই তিনি যেভাবেই হোক এই রহস্যের উদঘাটন করে নিজের ছেলেকে বিচার দেবেন।
আর এর ফলে বিজয়ের পেছনে যথেষ্ট পরিমাণে তিনি পুলিশের স্পাই লাগান। স্পেশাল অফিসার হিসেবে তরুণ আহলাওয়াত(অক্ষয় খান্না) কে নিযুক্ত করানো হয়।এবার সমস্ত ঘটনাটা দেখাশোনা করছিল অফিসার তরুণ। আর তিনি ছিলেন ভীষণ পরিমাণে চৌখস একজন পুলিশ অফিসার। এরপরই বিভিন্নভাবে বিজয়ের পরিবারে তার স্ত্রী নন্দিনী(শ্রীয়া) তার বড় মেয়ে অঞ্জু(ইশিতা) এবং ছোট মেয়ে অনু(মৃণাল)কে ভয় দেখিয়ে মারধর করে সমস্ত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তারা কোনো সত্যি ব্যাপারে জানতো না যে মৃতদেহ কোথায় রাখা হয়েছে এবং কিভাবে স্যাম কে মারা হয়েছিল।
তাই হাজার চেষ্টার পরেও তাদের মুখ থেকে কোন কথাই পুলিশ অফিসার বার করতে পারেননি। অবশেষে জোর করে বিজয়কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিজয় যে ঘটনাগুলো বলে এবং স্বীকার করেও নেয় যে সে নিজেই মৃতদেহকে সরিয়েছে তারপরই ঘটে আসল ক্লাইম্যাক্স। এরপরে পুরো ঘটনার মধ্যে এন্ট্রি নেন মুরাদ আলি(সৌরভ শুক্লা) নামে একজন সিনেমা প্রডিউসার। তিনি এমন সব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশের সামনে যে পুলিশের কোন রাস্তা থাকে না কিভাবে এই কেস সলভ করবে। এর থেকে বেশি আপনাদের আর কোন কিছুই বলবো না। কারণ এর থেকে বেশি বললে পুরো সিনেমাটাই আপনাদের কাছে জল মনে হবে। আর আমি কোন ভাবে সিনেমাতে স্পয়লার দিয়ে আপনাদের সিনেমা দেখার মন মানসিকতা নষ্ট করতে চাই না। অবশেষে বিজয় এই পুলিশের চক্রব্যূহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলো কিনা সেটা জানতে গেলে অবশ্যই সিনেমাটা আপনাদের দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের বলতে পারি আপনারা আশা হতে হবে না।
ব্যক্তিগত অভিমত
আশা করি সিনেমার শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত যতদূর বললাম, তাতে করে আমার লেখা দেখে আপনারা এটুকু বুঝতে পেরেছেন আশাকরি যে সিনেমাটা দেখে আমি বেশ খুশি হয়েছি। সব থেকে ভালো লাগার জায়গা গুলো হল, যখন আমরা কোন সিনেমার প্রথম পর্ব দেখে, দ্বিতীয় পর্ব দেখি, সেখানে গিয়ে অনেক চরিত্র অনেক জায়গা এমনকি চরিত্রের অভিনেতা পাল্টে যায়। কিন্তু এই একটা সিনেমা আমি দেখলাম যে ৭ বছর পরেও যে যেই চরিত্রগুলো পালন করেছিল দৃশ্যম-১ এ ঠিক সেই মানুষগুলোই একই চরিত্র পালন করেছে দৃশ্যম-২ তে।ফলে পুরো সিনেমাটা এতটাই বাস্তব হয়ে উঠেছে, যে আপনার মনে হবে ঘটনাটা আপনার পাশের বাড়ির বা আপনার এলাকার ঘটনা। তারপরেও শুরু থেকে শেষের মধ্যে বেশি উত্তেজনা ছিল। আপনার চোখের পলক ফেলারও সুযোগ পাবেন না। পুরো সিনেমাটাই রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর। অনেকদিন পর বলিউড থেকে বেশ ভালো একটা সিনেমা পেলাম। যার গুনমান কোথায় অসাধারণ।
| সিনেমা | দৃশ্যম-২ |
|---|---|
| ডিরেক্টর | অভিষেক পাঠক |
| মিউজিক ডিরেক্টর | দেবী শ্রী পাঠক |
| প্রোডিউসার | ভূষণ কুমার প্রমুখ |
| IMBD রেটিং | ৮.৮/১০ |
| রিলিজ তারিখ | ১৮.১১.২০২২ |
| আমার ব্যক্তিগত রেটিং | ৯.৫/১০ |
আমি তো আমার মত করে সিনেমার গল্পটা অল্প হলেও আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।আর পুরোটা লিখলাম না কারণ, তাহলে আর আপনাদের দেখার ইচ্ছাটা থাকবে না। আশা করি যেটুকু আমি বললাম তাতে করে আপনাদের মনে সিনেমাটা দেখার ইচ্ছাটা তৈরি হবে। আপনারা যদি দেখে থাকেন, অবশ্যই জানাবেন কেমন লেগেছে।আজ এখানে শেষ করছি। আবার আসবো অন্য কোন পোস্ট নিয়ে। সকলে ভালো থাকবেন।
🌸🌸🌸ধন্যবাদ🌸🌸🌸
পরিচিতি
আমি পায়েল।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছাকাছি ডাক্তার বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর কল্যাণীর বাসিন্দা।একসময় যদিও চাকরী করেছি কিন্তু বর্তমানে ফুলটাইম ব্লগার এবং ভ্লগার।যদিও নিজেকে এখনও শিক্ষানবিশ মনে করি। আর তা ই থাকতে চাই।সফল হয়েছি কিনা বা কতদিনে হব তা জানি না, কিন্তু নিজের প্যাশনকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছি।বাকিটা আপনাদের হাতে।আশাকরি আমার সাথে যুক্ত থাকলে আশাহত হবেন না।
এই পোস্টটা পরবর্তীতে সময় পেলে পড়বো। কারণ আজকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সন্ধ্যার দিকে যে এই মুভিটা দেখব, কিন্তু সময় পাইনি। কাল অথবা পরশু মুভিটা দেখব। তাই আপনার রিভিউটা আর পড়লাম না। তবে আপনার উপস্থাপনা দেখে মনে হচ্ছে খুব সুন্দর সাজিয়ে লিখেছেন।
হ্যাঁ অবশ্যই দেখুন।আশা করি ভালো লাগবে।