ভালোবাসা শেষ হয় না পর্ব দ্বিতীয়
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকল কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্টঃ
ভালোবাসা শেষ হয় না দ্বিতীয় পর্ব
আয়াত ও তন্নীর ভালোবাসার গল্প প্রথম পর্বের পর।আয়াত ও তন্নী যখন বিপদে পড়েছে, ঠিক সেই মূহুর্ত এক মহিলা এসেছে। মহিলাটি ছিল এক সন্ন্যাসী, আয়াতের কাছে মহিলাটি এসে বলল কি হয়েছে তোর আমাকে ডাকলি কেনো?মহিলার কণ্ঠ শুনে আয়াত অনেক ভয় পেল।তবে ভয়ের চেয়ে আয়াতের দরকার তন্নীর জীবন বাঁচানো।তখন ভয়ে ভয়ে আয়াত বলল, দেখুন আমরা পথ হারিয়ে জঙ্গলে এসে সন্ধ্যা নেমে গেল, এখন আর আমারা গন্তব্যে যেতে পারছি না। আর তন্নী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যদি আমাদের একটু সাহায্য করতেন ভালো হতো।
তখন মহিলাটি বলল কিভাবে সাহায্য করবো বল,আয়াত বলল আমাদের একটু গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে আসেন। তখন মহিলাটি বলল পৌঁছে দিতে পারি তবে আমার একটা শর্ত আছে, তন্নীকে সুস্থ করে পৌঁছে দেবে তার বিনিময়ে তোকে রেখে দেব। আয়াত বলল আমি আপনার সব শর্তে রাজি আগে তন্নীকে সুস্থ করুন। তারপর মহিলাটি বলল তুই তন্নীকে এতো ভালোবাসস । এই বলে তন্নীর জ্ঞান ফিরে এলো আর ওদের পথ আলোকিত হয়ে গেল, আয়াত ও তন্নী ভালো মতো হোটেলে পৌঁছে গেল।তবে আয়াত মহিলাটির সাথে কথা শেষ করতেই আর মহিলাটিকে দেখতে পেল না।
যাইহোক তারপর আয়াত ও তন্নীকে পেয়ে হোটেলের সবাই অনেক খুশি হলো।পরের দিন সবাই যার যার বাসায় ভালো মতো পৌঁছে গেল।তন্নী বাড়িতে গিয়ে জঙ্গলে আটকে পড়ার ঘটনা তার বাবা-মা সবাইকে খুলে বললো।আরো বলল মৃত্যুর হাত থেকে আমি ফিরে এসেছি । বললো আয়াত তার নিজের জীবন বাজি রেখে আমাকে বাঁচিয়েছি।তখন তন্নীর বাবা আয়াতকে ডেকে পাঠালো বললো তুমি কি চাও বলো।আয়াত বললো আমার কোন চাওয়া নেই, তন্নীকে ভালো মতো ফিরে আপনাদের দিতে পেরেছি এটাই অনেক। তন্নীর বাবা বারবার বলার সত্ত্বে, তখন আয়াত বললো আমরা সময় মতো আপনার কাছ থেকে যা যাওয়ার চেয়ে নেব, দেবেন কিন্তু। তখন তন্নীর বাবা বললো ঠিক আছে দেব।
তন্নী ও আয়াত দুজনে এস এসসি পাশ করে ভালো একটা কলেজে ভর্তি হয়ে গেল। আর আস্তে আস্তে দুজনের সম্পর্ক অনেক দূর এগুতে লাগল।আয়াত এইচ এসসি পাশ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলো আর তন্নী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হলো। এখন দুজনের সাথে দেখা খুব কম হয়। তন্নী তখন আয়াতকে বিয়ে করার জন্য বলে। তন্নী ভাবে আয়াত হয়তো ভার্সিটিতে গিয়ে তন্নীকে ভুলে যাবে। তখন আয়াত বলে তন্নীকে বলে আমার প্রতি তোমার কোন বিশ্বাস নেই, তোমাকে ছাড়া আমি আর কাউকে কখনো কোনদিন বিয়ে করব না। এই কথা গুলো তন্নী ফোন রেকর্ড করে রাখে।এভাবেই চলতে লাগল ওদের জীবন। একদিন তন্নী ভুলে ফোন রেখে কলেজে চলে গেছে। আর তন্মীর বড় ভাইয়ের মেয়ে ফোন টিপটে টিপটে রেকর্ডে চাপ লেগে গেল। তখন তন্নী আর আয়াতের সব কথা বাসার লোকজন শুনে ফেলল।(চলবে)
আজ এই পর্যন্তই। গল্পটি ভালো লাগলে আবার আসবো এর বাকি পর্ব নিয়ে। আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।