দুখিনী নাজমার গল্প -তৃতীয় পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকল কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্টঃ
দুখিনী নাজমার গল্প -তৃতীয় পর্ব
আসলে নামজার স্বামী লোভে পড়ে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে গেল।নাজমা ও তার পরিবারের লোকজন মিলে চলে গেল হাসপাতালে। নাজমা তার স্বামীকে দেখে হতাশ হয়ে গেল,তার চোখ মুখ কেমন যেন হয়ে আছে। এদিকে নাজমা আবার গর্ববর্তী।তখন নাজমা শুধু তার স্বামীকে সুস্থ ভাবে ফিরে পেতে আল্লাহ দরবারে প্রার্থনা করতে লাগল। যে করেই হোক আল্লাহ যেন তার স্বামীকে ফিরে দেয়।আসলে নাজমা তার জীবনের চেয়ে স্বামীকে বেশি ভালো বাসে।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নাজমার স্বামীর ঔষধ চলছে। এদিকে ডাক্তার বলছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে তাকে তার বাঁচানো সম্ভব নয়। আসলে নাজমা বিয়ের পরে যে একটু সুখ দেখতে পেয়েছিল সেটুকু নিভে গেল।সত্যি দুঃখের জীবন দুঃখে ভরে থাকে। তবে নাজমার দুঃখ যেন কোন দিন শেষ হবে না।নাজমা তার স্বামীর পাশে বসে বসে ভাবতে লাগল এখন কি হবে তার।সে যে এখন নিরুপয়,তার বাবা মারা গেলে সংসারের হাল ধরেছে কিন্তু এখন সে নিজেই অচল।যাইহোক ২০ঘন্টার মধ্যে নাজমার স্বামীর জ্ঞান ফিরে এলো। তখন নাজমা বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে নিঃশ্বাস ফেলল। কয়েক দিন হাসপাতালে থাকার পরে নাজমা তার স্বামীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসল।এদিকে নাজমার ভাই বোন সবাই ভালোই আছে, তাদের সংসারে কোন অভাব নেই।
নাজমার স্বামীকে বাড়িতে আনার পরে হঠাৎ আবার জ্বর এলো।এদিকে নাজমা আবার কন্যা সন্তানের জন্মদিল।গ্রামের ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ আনলো কিন্তু কিছুতেই জ্বর পড়ছে না। আসলে নাজমার স্বামী যে ভয় পেয়েছে সেই ভয়ের কারণে এই জ্বর কিছুতেই পড়া সম্ভব নয়।নাজমার এদিকে ছোট বাচ্চা অন্য দিকে স্বামী অসুস্থ, নাজমা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।নাজমার স্বামী আস্তে আস্তে একেবারে ঘরে পড়ে গেল।নাজমার ভাই বোনেরা নাজমাকে দেখতে লাগলো কিন্তু কিছু টাকা পয়সা দিত কখনো দেখতে আসেনি।নাজমা আবারো বুকে পাথর বেধে তার বাচ্চা ও স্বামীকে সেবা করতে লাগল।
তখন নাজমার স্বামী নাজমাকে বলল আসলে আমি আর বাঁচব না। তুমি আমার বাচ্চাকে মানুষ করবে। নাজমা বলতে লাগল না তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না। এভাবে দুজন অনেক কথা বলতে লাগল।আসলে নাজমা তার স্বামীকে নিয়ে অনেক সুখী ছিল। নাজমা তার স্বামীকে গ্রামের এক বড় ফকিরের কাছে নিয়ে গেল।ফকির দেখেই বলল এত দেরি করছিস কেনো।তোর স্বামীর অনেক ভয় পেয়েছে , এখন ডরাণোর ঔষধ দিয়ে কোন লাভ নেই । এখন যেকোনো সময় মারা যাবে। সত্যি বলতে দুই দিনের মধ্যে নাজমার স্বামী মারা গেল। নাজমা যেন শোকে পাথর হয়ে গেল। নাজমা নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিল কিন্তু তার বাচ্চার জন্য সম্ভব হলো না।এখন আবার বাচ্চাকে নিয়ে যুদ্ধ চলবে নাজমার।(চলবে)
আজ এই পর্যন্তই। গল্পটি ভালো লাগলে আবার আসবো নতুন কোন গল্প নিয়ে। আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।