ট্রেন দেখতে গিয়ে ঘোরাঘুরি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমরা আজকের পোস্ট।
ট্রেন দেখতে গিয়ে ঘোরাঘুরি
বরাবরের মতো আজ ও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। সত্যি আমার মনে হয় ঘোরাঘুরি করতে সবাই অনেক পছন্দ করে।তাই গতকাল বিকেলে গিয়েছিলাম ট্রেন দেখতে । আমাদের বাড়ি থেকে হেঁঁটে যেতে বিশ মিনিটের মতো লাগে। তবে আমি অনেক বার গিয়েছি, তবে ট্রেন দেখার মতো সুভাগ্য আমার কখনো হয় নি। আসলে আমার বাচ্চারা মাঝে মাঝে তার বাবার চাচার সাথে গিয়ে ট্রেন দেখে। সত্যি।অনেক দিন হলো ওদিকে যাওয়া হয়নি। আবার ওখানে বিকেলে বেশ ভালোই খাবার পাওয়া যায়। তাই কয়েক দিন ধরে ভাবতেছি বিকেল বেলা কুলফি মালাই ও কিছু ভাজা পুড়া খেতে যাব।গতকাল ছিল বৃহস্পতিবার আমার মেয়ের ছিল ধর্ম পরিক্ষা, তাই পরিক্ষা দিয়ে সাড়ে তিনটার দিকে চলে এসেছে। এসে বললো আম্মু চলো আমরা ট্রেন দেখে আসি আর কুলফি মালাই খেয়ে আসি। তারপর আমি ও রাজি হয়ে গেলাম। আসলে অনেক দিন যায়নি তাই যাওয়ার আগ্রহ ভালোই ছিল। তারপর আবার ছোট মেয়ের জন্য দাঁতের ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ আনতে হবে। ট্রেন আসে সন্ধ্যা ছয়টার সময়। তাই আমরা পাঁচটার দিকে রওনা দিলাম। আমাদের যেতে বিশ মিনিট লাগলো।তাই ভাবলাম আগে ডাক্তার দেখিয়ে আসি তার পর ট্রেন দেখতে যাব।কিন্তু গিয়ে দেখি ডাক্তারের দোকান বন্ধ। তবে বাচ্চারা খাওয়ার জন্য অস্হির হয়ে পড়ল। যাইহোক খাওয়া দাওয়া নিয়ে আর একদিন পোস্ট লিখব।তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট
যেহেতু ট্রেন আসতে বিশ মিনিট এর মতো দেরি আছে। তাই আমরা পাশ দিয়ে ঘুরতে লাগলাম। আমার মেয়ে দুটির তো সব চেনা। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাক্তারকে ফোন দিতে লাগলাম। এদিকে ওরা শুধু দোকানের দিকে চলে যাচ্ছে। আবার ট্রেন দেখতে চলে যাচ্ছে। ফোন করতে করতে ডাক্তার এসে হাজির। তখন ছয়টা বাজতে পাঁচ মিনিট আছে। তাই আমি আগে ভাবলাম ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ নিয়ে আসি কিন্তু বাচ্চারা আগে ট্রেন দেখবে।পরে পাশ দিয়ে একটু ঘুরেই চলে আসলাম ট্রেন দেখতে।
আমরা গিয়ে দেখি অনেক ছেলেমেয়েরা ট্রেন দেখতে এসেছে।আসলে বিকেলে এখানে প্রতি দিন অনেক ভীর থাকে। বিশেষ করে ছেলে মেয়েরা এখানে এসে সময় কাটায়। আমার মেয়ে দুটি রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে লাগলো। আর আমি বললাম এখনি ট্রেন আসবে রাস্তা থেকে নাম।কিন্তু অন্য লোক আছে তাই ওরা ও থাকবে।ওদের বলে বুঝাতে পারলাম না যে অন্যরা বড়। তবে সোয়া ছয়টা বেজে গেছে এখনো ট্রেন আসার খবর নেই। এদিকে ঔষধ ও কিনা হয়নি, তারপর আবার বাচ্চারা খাওয়া দাওয়া করবে।ট্রেন আসতে দেরি দেখে ভাবলাম কাছেই ডাক্তারের দোকান বাচ্চাকে দেখিয়ে নিয়ে আসি।আবার একজন বললো যান ট্রেন আসলে বলবো।তাপর আমরা ডাক্তারের দোকানে এসে মেয়েকে দেখিয়ে ঔষধ নেব।উনি চার প্রকার ঔষধ দিবেন। উনি ঔষধ গুলো বের করতে করতে ট্রেন এর শব্দ। আমি ছোট মেয়েকে নিয়ে ভিতরে ছিলাম আর বড় মেয়ে বাইরে ছিল। সে কিছুতেই ভিতরে যাবে না, যদি ট্রেন না দেখতে পারে। ইতিমধ্যে ট্রেন এলো, সে ট্রেনের শব্দ পেয়ে তারাতাড়ি চলে গেল। আসলে ভিতর থেকে আসতে ট্রেন প্রায় যাওয়া শেষ। তখন ছোট মেয়ে সামনে দিয়ে দৌঁড় দিতে লাগলো। আসলে মেয়েকে আটকাতে গিয়ে আর ট্রেন দেখা হলো না। অনেক আশ থাকা সত্ত্বেও কাছ থেকে ট্রেন দেখা হলো না। যাইহোক বড় মেয়েতো দেখেছে।হয়তো আবার একদিন গিয়ে দেখব।
যেহেতু ট্রেন দেখতে পারলাম না। তাই ছোট মেয়ে অনেক রাগ করেছে। আর মেয়ে বলতেছে ছোট মেয়েকে তুই তো দেখতে পারলি না তখন ছোট মেয়ে আরো রেগে গেল। যাইহোক তারপর দুবোন মিলে আরো অনেক সময় রাস্তার ওপর দিয়ে ঘুরাঘুরি করলো। আসলে যাবার সময় আমার চাচি শাশুড়ী বলেছিল আমার জন্য কিছু পান নিয়ে আসবে।আমরা যখন ঘোরাঘুরি করে চলে আসব,তখন চাচির পানের কথা মনে পড়ে গেল। তারপর আবার চলে গেলাম পানের দোকানে। আসলে পান আগে কখনো কিনিনি, তাই দাম জানি না। চাচি বলেছিল ত্রিশ টাকার পান আনতে। তাই আমি ও ত্রিশ টাকার পান আনলাম। অনেক দিন পরে এভাবে ঘুরাঘুরি করলাম অনেক ভালো লেগেছে। আসলে মাঝে মাঝে এভাবে ঘুরলে সবারই অনেক ভালো লাগে। বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি,তবে ট্রেন দেখতে পারলে আর অনেক ভালো হতো ।আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | LGK30 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
ঠিক বলছেন আপু মাঝে মাঝে বাচ্চাদেরকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে ইচ্ছা করে। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন সময় যেতে ইচ্ছে করে না। যেহেতু মেয়ের ধর্ম পরীক্ষা ছিল তাই পরীক্ষা শেষ করে সোজা চলে গেলেন। আপনার মাধ্যমে রেললাইন রাস্তা দেখলাম অনেক ভালো লেগেছে। ভালোই হলো মেয়েদের সাথে ঘোরাফেরা করলেন। তাছাড়া মজার মজার খাবার খেলেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
সত্যি আপু পরিক্ষা থাকলে বাচ্চাদের চেয়ে মায়ের বেশি চিন্তা থাকে। জি আপু বাইরে গেলে একটু খাওয়া দাওয়া হয় আরকি। ধন্যবাদ আপু।
আপু যাতায়াতের জন্য ট্রেন জার্নি আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। কিন্তুু আমার বাড়ি থেকে ট্রেনের পথ অনেক দূরে যেখানে যেতে আমাদের দেড় ঘন্টা সময় লাগে। মেয়েদেরকে নিয়ে ট্রেন দেখতে গিয়ে বেশ এদিক-ওদিকে ঘোরাঘুরি করেছেন এমন সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য এই মুহূর্তগুলো।
আসলে ভাইয়া আমি ট্রেন জার্নি কখনো করিনি তাই তেমন জানা নেই। ধন্যবাদ আপনাকে গঠন মূলক মন্তব্য করার জন্য।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ট্রেন দেখতে গিয়ে ঘোরাঘুরির দারুন একটি পোস্ট। আসলে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে একটু ঘোরাঘুরি করলে বেশ ভালোই লাগে। আমি মনে করি অনেক দূর জার্নির জন্য ট্রেন জার্নি করা এসব থেকে বেশি ভালো। মেয়েদের নিয়ে ট্রেন দেখতে গিয়ে বেশ দারুন সময় কাটিয়েছেন সেখানে দেখে বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
প্রশংসনীয় মতামতের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
ট্রেন ভ্রমণ আমার কাছে খুবই ভালো লাগে আমি খুব ছোটকাল থেকেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিন্তু মাঝে মাঝে তখন ট্রেন দেরিতে আসে তখন খুবই বিরক্ত লাগে। আমি সুযোগ পেলে আমার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ট্রেন স্টেশনে ঘুরতে যাই।
আসলে ভাইয়া আমি কখনো ট্রেন ভ্রমণ করিনি, তাই আমার ট্রেন সম্পর্কে ধারণা নেই। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার জন্য ছোট বাতিজি ট্রেন দেখতে পারলো না। ঔষুধ তো পরেও নিতে পারতেন। এখন আবার কবে ট্রেন দেখা হবে আল্লাহই জানে। আমরাও ছোট সময় ট্রেন আসলে দৌড়ে যেতাম ট্রেন দেখার জন্য। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। ধন্যবাদ।
জি ভাইয়া বাচ্চারাও দৌঁড়ে যায় ট্রেন দেখার জন্য, সত্যি অন্য রকম এক অনুভূতি। ধন্যবাদ আপনাকে।