জেনারেল রাইটিং :বিপদ কখনোও বলে আসে না
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমরা আজকের পোস্ট।
বিপদ কখনোও বলে আসে না
বরাবরের মতো আজ ও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। সত্যি আমি সব সময় চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে নতুন নতুন পোস্ট নিয়ে আসার জন্য। আসলে আজ কয়েক দিন ধরে অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিন যাচ্ছে। সত্যি বলতে বিপদ কখন কিভাবে আসে বুঝা মুশকিল। গত শুক্রবারে মহা বিপদে পড়েছিলাম।গত শুক্রবার আপনাদের ভাই মানে আমার হাজবেন্ড গিয়েছিল দিন মজুর দিয়ে বাঁশ কাটতে । আসলে আমাদের কিছু পাট আছে , তাই পাট শুকনোর জন্য আপনাদের ভাই একজন দিনমজুর নিয়ে গেছিল বাঁশ কাটতে।তখন সকাল ১১ টা বাজে ।তারপর দিন মজুর এর নাম ছিল সিরাজ আর আমার হাজবেন্ড এক সাথে বাঁশঝাড়ে গেল। আমার হাজবেন্ড তাকে বাশ দেখিয়ে দিল কয়টা কাটতে হবে।সিরাজ ভাই প্রথমে একটা কাটতে লাগলো, আর আমার হাজব্যান্ড বাঁশঝাড়ের ওপরে দাঁড়িয়ে রইলো। লোকটা যেই বাশে কাটতে লাগলো, সেই বাশের মাথায় ছিল ভীমরুলের বাসা।বাশের গোড়া থেকে লোকটি কাটতে লাগলো আর বাশের মাথায় কাছে আমার হাজবেন্ড দাঁড়িয়েছি। সাথে সাথে অনেক গুলো ভীমরুল এসে কামড়ালো, তবে মাথা, ঘাড় ও হাতে অনেক গুলো কামড় দিয়েছে।
আমি শুনেছি ভীমরুলের কামড় নাকি অনেক বিষাক্ত। আবার কামড়ে নাকি অনেক মানুষ মারা গেছে। তারপর সাথে সাথে সিরাজ ভাইকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলো। এসে যখন আমাকে বলেছে ভীমরুলে কামড়িয়েছে।এ কথা শোনে আমার অনেক রাগ হচ্ছিল। আসলে তাকে আমি বারবার যেতে নিষেধ করেছিলাম। কারণ সিরাজ ভাই আমাদের বাঁশঝাড় চেনে। তারপরে ও সে সাথে যাবে।তখন সিরাজ ভাই বললো।আসলে ভাবি আমরাতো ওখানে অনেক কাজ করি। আপনি অযাথা ভাইকে রাগ করছেন।আপনি তো আমার থেকে অনেক ভালো জানে যে বিপদ কখনো বলে আসে না। তখন আমার শাশুড়ি এসে বললো এখন এই সব কথা রেখে তারাতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যাও।এদিকে মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেছে অনেক। আসলে আমার হাজবেন্ডের এক বন্ধু আছে হসপিটালে। তারাতাড়ি ভাইয়াকে ফোন দিলাম। তখন ভাইয়া বললো তোমরা তারাতাড়ি চলে আসো।এখানে সব ব্যবস্থা আমি করব। আসলে এতো ব্যথা করেছিল যে আপনাদের বলে বুঝা মুশকিল। তবে সে শক্ত মানুষ আমাকে বুঝতে দেয়নি। আসলে অসুস্থতার কাছে যতই শক্ত হোক, শক্ত থাকা যায় না ।
তারপর আমরা ঘন্টা খানেকের মধ্যে হসপিটালে চলে আসলাম। আসলে আমরা শুনেছিলাম ভিমরুলে কামড়ালে নাকি শ্বাসকষ্ট হয়। আমার হাজব্যান্ড তো অনেক অসুস্থ ছিল যে, তখন ছবি তোলার কথা চিন্তায় ছিল না।যাইহোক তারপর তারাতাড়ি করে আমরা হসপিটালে চলে গেলাম। যাবার সাথে সাথে হসপিটালে যে ভাইয়া থাকে, তাকে ফোন দিলাম।তখন ভাইয়া বললো তোমার একটা টিকিট কাট। আমি টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি আমার টিকিট পেতে দুদিন লাগবে, এতো ভীর। তারপর ভাইয়াকে বললাম টিকিট কাটতে পারছি না অনেক ভীর।তারপর ভাইয়া এসে আমাদের দশ মিনিটে টিকিট কেটে দিল।টিকিট কাটা শেষ হলে আমাদেরকে নিয়ে চলে গেলেন সোজা ভাইয়া স্যার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ বদরুজ্জামান খানের কাছে। তাকে গিয়ে বললো আমার ছোট ভাই। তারপর ডাঃকখন কামড়াছে জিজ্ঞেস করলো।সব কিছু শোনার পরে ডাক্তার কিন্তু ঔষধ লিখে দিল। আরো বললো শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হসপিটালে ভর্তি থাকতে।
আমার হাসবেন্ডের হালকা শ্বাস কষ্ট ছিল তারপরও ডাক্তার কে বলেনি। তারপর ডাক্তার ও ওষুধগুলো খাওয়াতে বলল। আমার হাজব্যান্ড কে বসিয়ে রেখে আমি ওষুধ কিনে নিয়ে আসলাম। এখন আগের থেকে অনেক ভালো।তবে কামড়ানোর জায়গায় গা হয়ে গেছে।ওষুধ চলছে আশা করি মাফ হয়ে যাব। আসলে সেই দিনের মতো এমন অবস্থা আমি এই প্রথম দেখলাম আমার হাজবেন্ডের। আসলে বিপদ কখন কিভাবে আসে বলা মুশকিল। যাক আল্লাহ হয়তো অনেক বড় বিপদ থেকে মাপ করেছেন।সত্যি আমাদের জীবনের বিপদ আসবে তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হব।আর বিপদে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। যাইহোক আপনারা সবাই দোয়া করবেন যাতে তাড়াতাড়ি আমার হাজব্যান্ড সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে ।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | LGK30 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
| বিষয় | 'বিপদ কখনো ও বলে কয়ে আসে না ' |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
আসলে বিপদ কখনোই বলে আসেনা এটা একেবারে সত্যি। ভীমরুলের কামড় আসলেই অনেক বিষাক্ত। এই ভিমরুলের কামড় নিয়ে আমি অনেক সময় অনেক কিছুই শুনেছি। এরকম জায়গা গুলোতে ভিমরুলের বাসা বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে। আর তেমনই বাঁশঝাট এর মধ্যেও ভিমরুলের বাসা হয়েছিল। আপনার হাজবেন্ডের এরকম একটা দুর্ঘটনার কথা শুনে খুব সত্যি খারাপ লেগেছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি যেন তিনি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে খুব তাড়াতাড়ি।
জি আপু দোয়া করবেন যেন তারাতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে, ধন্যবাদ আপু পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
পুরো পড়াটা পড়ে অনেক বেশি খারাপ লাগলো। ঠিক বলছেন আসলেই বিপদ কখনো বলে আসে না। কেউ কি জানতো এমন একটি কান্ড হবে না হলে তো যাওয়া যেত না। তবে ভীমরুলের কামড় কিন্তু খুব ভয়ঙ্কর আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। কিন্তু আমাদের এখানে ভীমরুলকে কি বলে সেটা আমি জানি না। সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন খুবই ভালো কাজ করলেন। তাৎক্ষণিকভাবে যদি চিকিৎসা না হতো তাহলে ভয়ংকর কিছু হয়ে যেত। সাবধানে থাকবেন আপু ভাইয়ার সুস্থতা কামনা করছি।
সত্যি আপু ভয়ংকর কিছু হতে পারতো,যাক আল্লাহ মাফ করেছে।দোয়া করবেন। ধন্যবাদ আপু।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে খুব সুন্দর একটি পোস্ট লিখে শেয়ার করেছেন। এটা একদম সত্যি কথা বিপদ কখনো কাউকে বলে আসে না। সত্যি বলতে আপু ভীমরুলের কামড় আসলে অনেক বিপদজনক। আসলে এই সমস্ত জায়গায় বেশিরভাগ ভীমরুলের বাসা করতে দেখা যায় আপু। আপনার হাজব্যান্ড এরকম একটা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন যেন সত্যি অনেক খারাপ লাগলো আপু। তবে ভাইকে ভালোভাবে যত্ন নিন আশা করি খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।
জি ভাইয়া দোয়া করবেন যেন তারাতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে, ধন্যবাদ আপনাকে।
সত্যি ই আপু বিপদ বলে কয়ে আসে না।আপনার পোস্ট টি পড়ে ভীষণ খারাপ লাগলো।আসলে ভীমরুলের কামড়খুব যন্ত্রনার।খুব ভালো করেছেন হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।আসলে ঐ পরিস্থিতিতে ফটোগ্রাফি করা যায় না।যাক আল্লাহ মাপ করেছেন, শুকরিয়া করেন।দোয়া করি ভাইয়া খুব শীঘ্রই সুস্থ হয়ে যাবেন,আমিন।
দোয়া করবেন যেন তারাতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে, ধন্যবাদ আপনাকে।