মোরগ পোলাও রেসিপি।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন । আমিও আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।
প্রতিদিনের মতো আজও নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আমি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব রেসিপি পোস্ট। আমার আজকের রেসিপির নাম হলো মোরগ পোলাও রেসিপি। মোরগ পোলাও খেতে আমি খুব পছন্দ করি। আমি মনে করি এ ধরনের আইটেম খেতে যে কেউ পছন্দ করে৷রেস্টুরেন্ট কিংবা হোটেলের মোরগ পোলাওয়ে অনেক কিছু ব্যবহার করে।কিন্তু আমি অত বেশি কিছু ব্যবহার করি নাই। আমার হাতের নাগালে যে সকল জিনিসপত্র ছিল আমি সেগুলোই ব্যবহার করেছি।আগে আমি কখনো মোরগ পোলাও রান্না করি নাই, এটাই আমার প্রথম মোরগ পোলাও রান্না করার রেসিপি। আশা করি আমার আজকের রেসিপিটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। তাহলে চলুন, বেশি কথা না বাড়িয়ে রেসিপি টা দেখে নেয়া যাক।
• মুরগি
• পোলাওয়ের চাল
• টক দই
• কাঠবাদাম বাটা
• দুধ
• পেঁয়াজ কুচি
• পেঁয়াজ বাটা
• রসুন বাটা
• আদা বাটা
• শুকনো মরিচ গুড়া
• জিরা গুড়া
• রোস্ট মসলা
• হলুদ
• লবণ
• টমেটো সস
• এলাচ
• দারুচিনি
• তেজপাতা
• তেল
• কিসমিস
প্রথমে একটি মুরগি রোস্ট পিস সাইজ অনুযায়ী কেটে নিয়েছি। কাটার পরে খুব ভালোভাবে ধুয়ে টক দই এবং সামান্য লবণ দিয়ে ম্যারিনেট করে রেখে দিব এক ঘন্টার জন্য।
এখন একটি পাত্রে দুই চামচ মত রোস্ট মসলা, জিরা গুড়া, লাল মরিচের গুঁড়া, একটু লবণ, হলুদ, টমেটো সস, গুড়া দুধ সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে মিক্সড করে নিব। (আমি এখানে রোস্ট মসলা ব্যবহার করেছি কারণ এই মসলাতে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভারযুক্ত মসলার মিক্সড রয়েছে। যার ফলে, আলাদাভাবে মসলা করার কোন ঝামেলা থাকে না। আর আপনারা গুড়া দুধের পরিবর্তে লিকুইড দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে আর পানির প্রয়োজন হবে না।)
এখন একটি প্যানে তেল গরম করে অনেক গুলো পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিয়েছি। পেঁয়াজগুলো আমি গোল্ডেন কালার হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিব।আমার পছন্দের কালার চলে আসলে অর্ধেক পরিমাণ পেঁয়াজ একটি বাটিতে তুলে রাখবো।
বাকি পেঁয়াজগুলোর মধ্যে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, আদা বাটা এবং কাঠবাদাম বাটা দিয়ে খুব ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে।
মসলাগুলো তেলের মধ্যে কিছুক্ষণ ভাজার পর দিয়ে দেবো আগে থেকে মিক্সড করে রাখা বিভিন্ন ধরনের গুড়া মসলা গুলো।
এখন উপরে তেল ভেসে আসা পর্যন্ত মসলাগুলো খুব ভালোভাবে কষাতে হবে। মসলাগুলো কষানোর শেষ হলে দিয়ে দিব আগে থেকে ম্যারিনেট করা মুরগির মাংসের পিসগুলো। টক দই এবং লবণ দিয়ে মাখিয়ে রাখার ফলে মুরগি থেকে কিছুটা পানি বের হবে সেই পানিটা মাংসের মধ্যে দিয়ে দিব।
কিছু কাচা মরিচ দিয়ে দিবো।এখন ঢাকনা দিয়ে ডেকে একদম লো আঁচে মুরগিগুলো রান্না করে নিব এতে কোন প্রকার পানি ব্যবহার করব না। বারবার ঢাকনা তুলে নেড়ে দেবো যাতে নিচে লেগে না যায়। এভাবে আমি মাংস রান্না কমপ্লিট করবো।
এখন রান্না করবো ভাত।এজন্য আমি নিয়েছি পোলাওয়ের চাল বা চিনি গুড়া চাল যে যেটা বলেন আরকি।একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে দিয়ে দিব তেজপাতা, এলাচ এবং দারুচিনি। তারপর দিয়ে দেবো ধুয়ে রাখা চাল গুলো। এখন তেলের মধ্যে চাল গুলো খুব ভালোভাবে ভেজে নিব।
অন্য একটা পাত্রে পানি গরম করতে বসিয়েছিলাম চালের দ্বিগুণ পরিমাণে। চাল ভাজা হয়ে আসলে পানি চালের মধ্যে দিয়ে দিব। এখন ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ভাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভাত রান্না হয়ে গেলে অর্ধেক পরিমাণ ভাত একটি পাত্রে উঠিয়ে রাখবো। আর যে কড়াইতে ভাত রান্না করেছি সে কড়াইয়ের ভাতের মধ্যে রান্না করা মাংসগুলো মসলা সহকারে দিয়ে দিব।
উপরে ভাতের আরও একটি লেয়ার দিব। এখন ভাতের উপর দিয়ে দেব কতগুলো কিসমিস এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা। আপনারা এ পর্যায়ে ঘি ব্যবহার করতে পারেন। আমার কাছে ঘি ছিল না তাই আমি দেই নাই। এখন ভালোভাবে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে লো ফ্লেমে আধাঘন্টা দমে রাখব।
আধাঘন্টা পর মোরগ পোলাও একদম রেডি। এখন একটি পাত্রে সার্ভ করে নিয়েছি।
প্রথমবার রান্না করা অনুযায়ী রেসিপিটি খেতে সত্যিই অনেক মজা লেগেছিল সবার কাছে। আশা করি রেসিপিটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। রেসিপি সম্পর্কে আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য অবশ্যই জানাবেন। আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আবার কোন নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হব।
আসসালামু আলাইকুম। আমি নীলিমা আক্তার ঐশী। জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি অনার্স ৪র্থ বর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রী। আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতে এবং তাদের প্রশংসা শুনতে আমার খুবই ভালো লাগে। নতুন নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের জুন মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি।আমি বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে জয়েন হয়েছি সবার সাথে বিভিন্ন রেসিপি এবং আর্ট শেয়ার করার জন্য এবং সেই সাথে অন্য সবার থেকে দারুন দারুন সব ক্রিয়েটিভিটি শিখতে। বাংলা ব্লগ কমিউনিটি একটি পরিবারের মত আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
রেস্টুরেন্টের মোরগ পোলাও থেকে আপনার তৈরি মোরগ পোলাও দেখতে বেশি সুন্দর লাগছে খেতে অনেক সুস্বাদু হবে। যেটা উপভোগ করেছেন আমরা যদি খেতাম তাহলে প্রকৃত স্বাদের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারতাম। অনেক ভালো লাগলো নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করে খাওয়ার পাশাপাশি আমাদের সাথে শেয়ার করেন যেটা দেখে শুধু তাকিয়ে থাকি আর কিছুই করার থাকে না।😋
আমার রেসিপি গুলো আপনাদের খাওয়াতে পারলে খুব ভালো লাগতো। কি আর করার আপাতত দেখতেই থাকেন 😅
আপু আপনার মোরগ পোলাও রেসিপি দেখে মনেই হচ্ছে না আপনি প্রথমবার রান্না করেছেন। আমার খুব পছন্দের রেসিপি। তবে কখনো বাসায় তৈরি করা হয়নি। সবসময় রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া হয়েছে। আপনার কাছ থেকে এই রেসিপি শিখে নিলাম। অল্প উপকরণে খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন। ধন্যবাদ এমন লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
রেস্টুরেন্টের এইসব রান্নাই এত স্ট্রং ফ্লেভার থাকে যা এক দুই বার মুখে নিলে আর খেতে ইচ্ছা করে না।অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য।
আপনি আজকে মোরগ পোলাও রান্নার বেশ দারুন একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। যা দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে। আর আপনি খুব সুন্দর ভাবে ধাপগুলো উপস্থাপন করেছেন আশা করি এই ধাপগুলো দেখে যে কেউ খুব সহজেই রেসিপিটা তৈরি করতে পারবে। যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে মোরগ পোলাও রান্না করার সুস্বাদু রেসিপি টা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।মূল্যবান মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
এটা আপনার প্রথম মুরুগ পোলাও রান্নার রেসিপি হলেও দেখে কিন্তু খুবই লোভনীয় মনে হচ্ছে আপু । মসলা সহ আপনি মনে হয় একদম পারফেক্ট সবকিছু দিয়েছেন ।খেতেও দারুন হয়েছে নিশ্চয়ই । ধন্যবাদ আপনাকে আপু এবং মজাদার একটি আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ।
প্রথমবার রান্না করা অনুযায়ী মোরগ পোলাও খেতে অনেক মজা হয়েছিলো ভাইয়া।মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
একদিকে শীত অন্যদিকে বৃষ্টি এর মাঝে মোরগ অনেক সুস্বাদু হবে খেতে। আপনার রেসিপি দেখে লোভ জেগে গেল। আমরাও রাতে ডিম ভুনা এবং খিচুড়ি খেয়েছি। দেখে তো মনে হচ্ছে না আপনি প্রথমবার মোরগ পোলাও রান্না করলেন। আপনি প্রফেশনাল একজন রাধুনী যা আপনারা রান্নার ধরন দেখলে বোঝা যায়। বৃষ্টির দিনে খুবই সুস্বাদু একটা রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
এখনো প্রফেশনাল রাধুনী হইতে পারি নাই। মাঝে মাঝে রান্না গুলো এত খারাপ হয় যা খাওয়াই যায় না 😂
আপনার রান্না খেয়েছি তো।সেই স্বাদ😋😋
দেখেই তো অনেক লোভ লেগে যাচ্ছে আপু।খুবই চমৎকার একটি রেসিপি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।এবং প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে আপনি উপস্থাপন করেছেন।শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।
মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু আপনি অনেক সুন্দর একটা রেসিপি শেয়ার করেছেন। আপনার মোরগ পোলাও রেসিপি দেখে লোভ লেগে গেলো। তবে আপনি যেগুলো পরিমান দিয়ে রান্না করছেন খুবই সুন্দর রান্না করছেন আপু।আপার রান্নার কালার এবং পরিবেশন দেখে বুঝা যাচ্ছে রেসিপি টি অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
রেসিপিটা সত্যিই অনেক সুস্বাদু হয়েছিলো ভাইয়া।
কোন রান্নায় বেশি মসলা কিংবা বেশি উপকরণ ব্যবহার না করে হাতের কাছে যা কিছু আছে তাই দিয়ে যদি রান্না করা হয় তাহলে খেতে আরো বেশি ভালো লাগে। মোরগ পোলাও রেসিপি দারুন হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক মজার হয়েছিল।
ঠিক বলেছেন আপু। আমার ও মনে হয় রান্নায় বেশী মসলা ব্যবহার করলে খাবারের টেস্ট আরও নষ্ট হয়ে যায়।
মজাদার মোরগ পোলা রেসিপি দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। আপনি খুবই সুন্দর ভাবে ধাপে ধাপে শেয়ার করলেন এই রেসিপি শেয়ার করেছেন।সত্যি আমার অনেক ভালো লেগেছে।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
মোরগ পোলাও খেতে আমার কাছেও খুব ভালো লাগে । তবে রেস্টুরেন্টেরটা বেশি ভালো লাগে আমার কাছে । আপনার রেসিপিটা দেখে কিন্তু অনেক লোভনীয় লাগছে দেখে মনে হচ্ছে অনেক মজাদার হবে । খুব সুন্দর করে রান্না করেছেন ।রোস্টের মসলা দেওয়ার কারণে একটু ভিন্ন টেস্ট হবে খেতে ভালো লাগবে মনে হচ্ছে ।
মূল্যবান মতামত দেওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু আপনাকে।