জেনারেল রাইটিং||আমার রান্না শেখার গল্প
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলা ব্লগের ভাই এবং বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন।আমিও মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আমার নতুন আরো একটি পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আমার আজকের পোস্ট জেনারেল রাইটিং কে কেন্দ্র করে। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমার রান্না শেখার গল্প। রান্না করতে ভালোবাসে না এমন মেয়ে অনেক দেখেছি। কিন্তু আমার রান্না করতে খুব ভালো লাগে। নতুন নতুন কোন রান্না শিখলে সেটা আমার পরিবারের সবাইকে রান্না করে খাওয়াতে খুবই ভালোবাসি । আর সবার প্রশংসা শুনতে তো আরো ভালোবাসি। আজ হঠাৎ করে মনে হলো আপনাদের সাথে আমার রান্না শেখার গল্পটা শেয়ার করতে। তাই চলে আসলাম আজকের পোস্ট নিয়ে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
ছোটবেলা থেকে রান্নার প্রতি বেশি একটা আগ্রহ ছিল না। যখন কলেজে উঠলাম এবং হাতে ফোন আসলো তখন ফোন ঘাটতে ঘাটতে অনেক ইউনিক ইউনিক রেসিপি এবং মজাদার কিছু রান্নার রেসিপি চোখের সামনে আসতো। সেগুলা দেখে টুকটাক বাড়িতে রান্না করতাম। মাঝে মাঝে রান্না গুলো এতো বিশ্রি হতো যা মুখেও নেওয়া যেতো না। আবার কখনো কখনো খেতে অনেক সুস্বাদুও হতো। আমার সেই রান্না গুলো খেয়ে আমার আব্বু আম্মু আমার বোন সবাই প্রশংসা করত। এভাবে আস্তে আস্তে রান্না কে ভালোবেসে ফেললাম।
আমার আম্মু অনেক মজা করে রান্না করতে পারে।আমার আম্মুর হাতের সকল রান্না অনেক মজা হয় খেতে। আমি আমার আম্মুর থেকেও অনেক ধরনের রান্না শিখেছি। মাঝে মাঝে রান্না করতে যেয়ে অনেক ভুলও করে ফেলতাম। যেটার জন্য আম্মু বকাও দিত। কিন্তু সেই বকা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতাম আর পরবর্তীতে ভুল করতাম না।
রান্না করার অনেক মজার অভিজ্ঞতা ও আছে। তার মধ্য থেকে দুইটা মজার কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করি। একদিন চাল ধুয়ে ভাত বসিয়েছিলাম চুলায় কিন্তু চালের মধ্যে পানি দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর যে কাহিনী হয়েছিল সেটা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন। আরো একদিন ডিম সিদ্ধ করতে রান্না ঘরে চুলায় বসিয়েছিলাম। ডিম সিদ্ধ হতে দিয়ে আমি রুমে এসে বসে ফোন চাপছিলাম।অনেকক্ষণ পর পোড়া গন্ধ নাকে গেলে রান্নাঘরে যেয়ে দেখি ডিম সিদ্ধ করার পানি শুকিয়ে ডিম ফেটে পুড়ে কালো হয়ে গেছে৷ আরপর আর কি আম্মু আমার ফোনের দোষ দিয়ে দিলো। যে ফোন চাপার জন্যই ডিম পুড়ে গেছে। 😒😒
বিয়ের পরে শাশুড়ী আম্মার থেকেও অনেক নতুন নতুন রান্না শিখেছি। আমার শাশুড়ী আম্মার হাতের রান্নাও অনেক টেস্টি হয়। আমার আম্মু এবং আমার শাশুড়ী আম্মা দুজনের রান্নাই অনেক ভালো লাগে আমার কাছে। দুজনের থেকে এবং ইউটিউব থেকে মুটামুটি অনেক ধরনের রান্না শিখেছি আমি। রান্না শেখার সময় যেমন রান্না করতে ভালো লাগতো কিন্তু রান্না শেখার পর অনেকটা অলস হয়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন রান্না করতে ইচ্ছা করে না। 😔😔
আশা করি আমার আজকে পোস্টটি পড়ে আপনাদের সবার ভালো লেগেছে। যারা সময় নিয়ে আমার আজকে পোস্টটি পড়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজ এখানেই শেষ করছি। দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে ইনশাআল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম। আমি নীলিমা আক্তার ঐশী। জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি অনার্স ৪র্থ বর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রী। আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতে এবং তাদের প্রশংসা শুনতে আমার খুবই ভালো লাগে। নতুন নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের জুন মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি।আমি বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে জয়েন হয়েছি সবার সাথে বিভিন্ন রেসিপি এবং আর্ট শেয়ার করার জন্য এবং সেই সাথে অন্য সবার থেকে দারুন দারুন সব ক্রিয়েটিভিটি শিখতে। বাংলা ব্লগ কমিউনিটি একটি পরিবারের মত আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
মেয়েদের জীবনে রান্না শেখা জরুরী। অনেকে বিয়ের আগে মায়ের বাসা থেকে রান্নার কার্যক্রমে এক্সপার্ট হয়ে যায়। আবার অনেক মেয়েরা রয়েছে লেখাপড়ার কারণ অথবা অন্যান্য কারণে মায়ের বাসা থেকে রান্নার কার্যক্রম না শিখলেও শাশুড়ি বাড়িতে বেশী শিখে ফেলে। যাইহোক আপনার পোস্ট পড়ে যথেষ্ট কিছু জানতে পারলাম।
আপনার কমেন্টটি পেয়ে অনেক ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া আপনাকে।
বেশিরভাগ মেয়েরাই তাদের মা আর শাশুড়ির কাছ থেকে রান্না শিখে থাকে তবে এখন অনেকেই ইউটিউব থেকে নতুন নতুন সব রেসিপি সম্পর্কে ধারণা নেয়। আচ্ছা ভাবী নতুন নতুন যখন রান্না শিখেছিলেন তখন ইউটিউব দেখে কোন রেসিপি তৈরি করার পরে যখন খেতে বিশ্রী হতো তখন সেই রেসিপি টা কি করতেন??
লুকিয়ে লুকিয়ে দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসতাম যাতে আম্মু দেখতে না পারে৷ আর আম্মুকে বলতাম খেয়ে নিয়েছি। 😅
ওরে চালাক 😆
খুবই ভালো লাগলো আপনার এই জেনারেল রাইটিংটি পড়ে৷ আপনি যে গল্প দুটি শেয়ার করেছেন সেটিও খুবই মজার ছিল৷ ভাত রান্না করার সময় অতি প্রয়োজনীয় উপাদান পানি দেননি ব তাই ভাত আর ভাত হয়ে উঠল না৷ আর অন্যদিকে ডিম সিদ্ধ করতে দিয়েও ডিম খেতে পারলেন না৷
অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটি জেনারেল রাইটিং তুলে ধরার জন্য৷
আমার পোস্টটি পড়ে যথাযথ মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। আর কিছু কিছু ভুল রয়েছে যেগুলো আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়, যেন পরবর্তীতে আমরা ঠিক মত কাজটা করতে পারি। আসলে আমিও রান্না করতে অনেক বেশি পছন্দ করি, বিশেষ করে নতুন রেসিপি তৈরি করে সবাইকে খাওয়াই আপনার মত। আর সবার প্রশংসা শুনতে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে অনেক ভালো লাগে।
আপনার সাথে আমার মিল আছে আপু। আর প্রশংসা শুনলে সেই কাজের প্রতি আরো মনোযোগ বাড়ে।
আসলে বেশিরভাগ মেয়ে রান্না করতে পছন্দ করে, আবার কিছু কিছু মেয়ে রয়েছে যারা রান্না করতে পছন্দ করে না। আপনার রান্না শেখার গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। আসলে আমরা যদি শুরু থেকে ভুল করে আসি তাহলে অনেক শিক্ষা অর্জন করতে পারি। ভুল না করলে আবার আমরা শিক্ষা নিতে পারি না। আপনার হাতের মজার খাবার কিন্তু আমরাও খেতে চাই, মাঝে মাঝে আমাদেরকেও দাওয়াত দিবেন, শুধু সুমন ভাইয়াকে খাওয়ালে হবে না।
আচ্ছা ভাইয়া, দাওয়াত দিব একদিন ইনশাআল্লাহ। সুন্দর একটি কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
অনেক ভালো লাগলো আপু আজকের পোস্টটি পড়ে। আপনি ইউটিউব দেখে রান্নার রেসিপি শিখেছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো আপু । তবে আমি আমার মায়ের কাছ থেকে রান্না করা শিখেছি। প্রথম যখন রান্নাটা করেছি তখন খেতে ততটা ভালো হয়নি তারপরও আমার মা এবং বাবা খেয়ে বলেছে অনেক ভালো হয়েছে। সত্যি কথা বলতে প্রথম রান্না করার অভিজ্ঞতা আলাদা। ধন্যবাদ আপনাকে
চমৎকার মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
আপু আপনার রান্না শেখার গল্প পড়ে ভীষণ মজা পেলাম।এটা ঠিক বলেছেন,কিছু হলেই ফোনের দোষ।তবে আপনি ফোন ঘেটে ঘেটে রান্না করেছেন এটা বেশ ভালো দিক।আপনার আম্মা আর শাশুড়ী খুব ভালো রান্না করেন।তবে আপনিও পারবেন,চিন্তা নেই।ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
আপু আপনার কমেন্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে প্রথমে অনেক কিছুই ভুল হতে পারে যেমনটা আপনি চালের মধ্যে পানি দিতে ভুলে গিয়েছিলেন।🤩 যেটা পড়ে হাসি পেল তাছাড়া আপনি youtube থেকে অনেক রান্না শিখেছেন যেনে ভালো লাগলো। এখন তো রান্না করা খুব সহজ একটা ব্যাপার চাইলে ইউটিউব থেকে দেখে যেকোন রেসিপি তৈরি করতে পারা যায়।
ঠিক বলেছেন। ডিজিটাল যুগ এখন, সবকিছু তো সহজ হবেই।