বিয়ের শেষ পর্বের গল্প।

in আমার বাংলা ব্লগ4 months ago
🌼 হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।সবাই কেমন আছেন? আশাকরছি সকলে ভালো আছেন,আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি ।

বিয়ের শেষ পর্বে

IMG_7997.jpeg

captured by @nusuranur

nowrin,.png

আজকে আবারো চলে আসলাম নতুন আরো একটি লেখা নিয়ে আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের সকলের ভালই লাগবে।


আজকে আমি ভাবলাম আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করা যাক। আসলে মাঝেমধ্যে নিজের চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে আমার ভালোই লাগে। সে কারণে আসলে ভাবলাম যে আপনাদের সকলের সাথে কিছু লেখা শেয়ার করা যাক। আসলে আজকে যে বিষয়ে লেখা শেয়ার করবো তা বিয়ে নিয়ে। অর্থাৎ গতকাল আমার খালামণির বিয়ে ছিলো। সবাই মিলে অনেক বেশি আনন্দ করলাম।তবে এখনই আপনাদের সকলের সাথে ছবি শেয়ার করতে পারছিনা। না কারণ এতো এতো ছবি তুলেছি যে কোন ছবিটা পোস্ট করবো তা ভাবাই আসলে অনেক মুশকিলের কাজ। আর এতো বেশি ছবি যে কি আর বলবো। সেই সাথে আমার তো চলছে পরীক্ষা তার মানে বুঝতেই পারছেন।


যেহেতু আমাদের ফ্যামিলির বিয়ে ছিলো। সেহেতু অনেক বেশি মজা হয়েছিলো নো ডাউট। তবে একটা বিষয় না বললেই নয়। যেটা হলো যতটা মজা হয়েছিলো ঠিক ততোটাই শেষ বিদায় এ খারাপ লেগেছিলো।


আসলে একটা মানুষের অবস্থা কতোটা খারাপ হলে যে এ ধরনের পরিস্থিতি হয় তা আমার জানা নেই। অর্থাৎ শেষ বিদায়ের সময় খালামনি যেতে চাচ্ছিলো না। সে সাথে দুই বার সেন্সলেন্স হয়ে গিয়েছিলো আর তারপরে নামার সময় লিফটে বমি ই করে দিয়েছিলো।


আসলে আমার আম্মুরা অর্থাৎ আম্মুর অন্যান্য বোনের চেয়ে এই খালামণিরই নানুর প্রতি একটু টান বেশি। কারণ উনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে নানুর সাথে থেকেছে এবং শেষ বয়সটা অর্থাৎ নানুর এই বয়সের সময় বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। সেটা খালামণি একাই হ্যান্ডেল করেছে। কারণ আম্মুরা তো সবাই বিবাহিত অর্থাৎ অন্য খালামণিরা সবাই বিবাহিত। তো সে ক্ষেত্রে নানুকে আসলে আম্মু বা বাকি খালামণিরা খুব একটা দেখতে পারেনি।


সে কারণেই হয়তো ওনার অন্যান্য মানুষের চেয়ে নানুর প্রতি এটাচমেন্ট টা বেশি। সে কারণেই হয়তো না অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছিলো। আরেকটা ব্যাপার হলো মানুষের কি পরিমাণ কষ্ট হলে একটু পরপর দুইবার সেন্সলেস হয় তা বুঝতেই পারছেন। আসলে হয়তো এই ব্যাপারগুলো আমি আপনি কখনোই ফিল করতে পারবো না। যার এই কষ্টটা হয় সেই ফিল করতে পারবে।


আমরা বিয়ে নিয়ে কতো কি পরিমান আয়োজন করি,আনন্দ করি। কিন্তু শেষ সময় আসলে এতটা খারাপ লাগে যে কি আর বলবো। কারণ সবকিছু ছেড়ে একটা মেয়ের বাবার বাড়ি,কম্ফোর্টজোন পর্যন্ত সবকিছু ছেড়ে অপরিচিত একটা পরিবেশে চলে যাওয়া! তা কি হবে বা কেমন হবে তা কারোরই জানা থাকে না।


এই বিষয়গুলো ভাবলে আসলে আমার একটু ভয়ই লাগে। কারণ ছোটবেলা থেকেই একটা মেয়ে যে পরিবেশে বড় হয়। যেই কম্ফোর্টজোন এ সে নিজেকে মানিয়ে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেটা হয়ে যায় পর এবং একটা অন্য ঠিকানা, একটা অপরিচিত ঠিকানা কে আপন করে নিতে হয়। কখনো ওই আপন ঠিকানা ভালো হয়। আবার কখনোই ওই ঠিকানা ভালো হয় না। কিন্তু তাও ওই ঠিকানা ছেড়ে আসার কোনো উপায় থাকে না।

The End📍
আশা করছি লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে।এই প্লাটফর্ম এর এই লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকাল সে সাথে থেকে যাবে আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্যগুলোও।তাই আশা করছি আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য দেখতে পাবো।


This is your beloved @nusuranur.


8FF7198D-D313-4FC3-ADE4-05C262C64B9E.png

Sort:  
 4 months ago 

মাঝে মাঝে মনে হয় মেয়েদের জীবন কেন যে এত কষ্টের। একটি মেয়ে নিজের বাড়িতে ছোট থেকে বড় হয়। এরপর যখন বিয়ে হয়ে যায় তখন আপন মানুষগুলোকে ছেড়ে যেতে হয়। তখন আপন মানুষ গুলোর কাছে আসতেও অন্য কারো পারমিশন লাগে। হায়রে জীবন। অপরিচিত জায়গা, অপরিচিত মানুষ গুলোর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবুও দিনশেষে তাদের কথার আঘাত হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। আসলে পর মানুষ কখনোই আপন হয় না। যাইহোক আপু আপনার খালামণির নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।

 4 months ago 

আসলে এসব কথা ভাবলে মনে হয় মেয়েদেরে জীবনটা অনেক কষ্টের। কোনটা যে তার নিজের ঘর সে নিজেও জানেনা। সেই শিশুকাল থেকে যে পরিবার আর পরিবেশে বড় হয় নিয়তির টানে তাকে এক সময় সে পরিবার কে ছেড়ে যেতে হয়। আপনার খালামনির অবস্থা শুনেতো আমার অনেক মনটা খারাপ হয়ে গেল।

Coin Marketplace

STEEM 0.17
TRX 0.08
JST 0.022
BTC 26578.07
ETH 1583.28
USDT 1.00
SBD 2.17