এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি পর্ব -৪৫

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবারও আমার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


DSC_0459.jpg


আসলে ফটোগ্রাফি করার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গার প্রয়োজন হয় না। আপনি যে কোন জায়গায় যে কোন মুহূর্তে ফটোগ্রাফি করতে পারেন। যদি আপনার ফটো ফ্লেমিং এর সেন্স থাকে তাহলে আপনি যে কোন ছবিকেই একটা সুন্দর ছবিতে রূপান্তরিত করতে পারবেন। আসলে হঠাৎ করে বেরিয়েছিলাম একটু দক্ষিণেশ্বর মা কালীর মন্দিরের উদ্দেশ্যে। যদিও আমরা এমনিতে একটু ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। তাই সাথে ক্যামেরাটাও নিয়ে গিয়েছিলাম। আসলে আমাদের ইচ্ছা ছিল যে আমরা নদীর এপারে নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে যাব। তাই আমরা ব্রিজ পার হয়ে নদীর পাড়ে চলে এলাম।


DSC_0435.jpg


আসলে দক্ষিণেশ্বর এই মন্দিরের পাশের ব্রিজটি কিন্তু অনেক পুরনো একটি ব্রিজ। আসলে এই ব্রিজের উপরে উঠে গঙ্গার মাঝে দিকে তাকিয়ে থাকতে আমাদের সবারই খুব ভালো লাগে। যদিও এই ব্রিজে লোকজন পার হওয়ার জন্য পাশে একটি রাস্তাও রয়েছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে বহু লোকজন এই ব্রিজের উপরে এসে গল্প করে। এরপর আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হতেই সবাই নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন চানাচুর এবং বাদাম ব্যবসায়ীরা বিকালবেলাতে এই ব্রিজের পাশে বসে তারা তাদের বাদাম এবং চানাচুর বিক্রি করে।



DSC_0446_edited.jpg


এরপরে আমরা ব্রিজ থেকে নেমে পাশের একটি গাছপালা ঘেরা ছোট বাগানের ভিতর প্রবেশ করলাম। আসলে এখানে একটি ছোট আমের বাগান ছিল। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি এই গাছে বসে বিভিন্ন আওয়াজ করছিল। বিশেষ করে পাখির সংখ্যা তুলনামূলক আরও অনেক বেশি ছিল এই ছোট বাগানটিতে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পরগাছা এই আম গাছের উপরে দেখতে পেয়েছিলাম। আসলে আমাদের এই চারিপাশের প্রকৃতিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের পরগাছা দেখতে পাই।


DSC_0455_edited.jpg

কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ করে আমি একটি গাছের ডাল নড়তে দেখলাম। আসলে প্রথম অবস্থাতে আমি কিছুই খুঁজে পেলাম না। এরপর কিছুক্ষণ পরে দেখলাম যে আরেকটি গাছে একটি কাঠবিড়ালি লাফ দিয়ে গাছের এক ডাল হতে অন্য ডালে চলে যাচ্ছিল। আসলে এরকম চলন্ত কোন কাঠ বিড়ালির ছবি তোলা কিন্তু খুবই কষ্টের বিষয়। কারণ তারা কখনোই এক জায়গাতেই স্থির থাকে না। এছাড়াও গাছের ডালের ভিতরে অন্ধকার থাকায় সেখানে কাঠবিড়ালিটির ছবিও ভালোভাবে তোলা যাচ্ছিল না। তাই অনেক চেষ্টায় পড়ে আমি একটি ছবি তুলতে সফল হলাম।

DSC_0521_edited.jpg


এরপর আর একটু দূরে যেতেই আবার চোখে পরল সেই ইটের ভাটা। আসলে গঙ্গার পারে আমরা সচরাচর প্রচুর পরিমাণে ইটের ভাটা দেখতে পাই। বিশেষ করে যাতায়াত এবং এই গঙ্গার হতে মাটি তুলে ইট তৈরি করা সহজলভ্য বলে প্রায় ইটের ভাটাই এই গঙ্গার পাড়ে গড়ে ওঠে। তাইতো আমাদের চোখে অনেকগুলো ইটের ভাটা পরল এই গঙ্গার পাড়ে। ইটের ভাটায় একটি ছোট মাঠে আমরা কতগুলো বালক দলকে খেলা করতে দেখতে পেলাম।


DSC_0530_edited.jpg


আসলে এই ছেলেগুলো যখন খেলা করছিল এদের ভিতর বড় থেকে শুরু করে ছোট সবাই খেলা অংশগ্রহণ করেছিল। আসলে ইটের ভাটায় বছরে এক থেকে দুইবার ইট তৈরি করা হয়। যখন কাজের চাপ কম থাকে তখন এই শ্রমিকদের তেমন কোন কাজ থাকে না। তাই তারা বসে বসে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে। এছাড়াও তারা ফিরে যায় তাদের আবার পুনরায় সেই শৈশবকালে।


DSC_0531_edited.jpg


আসলে রোদের এই সোনালী আলো এবং তাদের শরীরের এই কালো রং দুই সংমিশ্রণে মনে হচ্ছে যে হীরার মতো জ্বলজ্বল করছে। আসলে তারা তাদের সন্তানদের সাথে ফুটবল খেলায় মত্ত রয়েছে। আসলে তারা এই প্রখর রোদের ভিতর খেলাধুলা করছে এবং খুব আনন্দ করছিল। তাদের খেলাধুলা করা দেখে আমারও তাদের সাথে খেলাধুলা করতে ইচ্ছে করছিল। যদিও আমি যখন তাদের ছবি তুলছিলাম তখন আমাকে দেখে তারা বিভিন্ন ধরনের লাফালাফি শুরু করে দিল।


DSC_0532_edited.jpg


আমার ছবি তোলা দেখে তারা খুব আগ্রহী হলো এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার কারুকার্য আমার ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতে শুরু করল। আসলে তাদের জীবন দেখলে মনে হয় যে তাদের জীবনে কোন ধরনের কোন চিন্তা ভাবনা নেই। কারণ তারা বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের এই চিন্তাভাবনার সাথে আমাদের চিন্তাভাবনার কোন মিল নেই।


ক্যামেরা পরিচিতি : CANON
ক্যামেরা মডেল : Canon EOS 7D
ক্যামেরা লেংথ : 600 mm
লোকেশন : দক্ষিনেশ্বর।



আশাকরি আজকের এই ফটোগ্রাফিক পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।

11-20-04-359_512.gif

ধন্যবাদ সবাইকে।

2XmsB3ZF6jJG7218A8ghgBmbB3W4Hm94fHM8vdisDLD4EuDS1mKCnUwr2WPdiRhWod2Rf2CCtBiK8N3pspzqnCWafFzVigrzmtsxCskMPdzGxv6X2qA4C6XCzVtoT7DrPdhaLQmVXDtTsoDBnDnkqY1H7mbiRmNAo6VRbcH65Ky8sUcB6iD2CGuEkfhUpCrHvemi76oe4F.gif

IMG_20210107_075142 (2).jpg

আমার নাম নিলয় মজুমদার। আমি একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। আমার মাতৃভাষা হলো বাংলা। কিন্তু আমার রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো হিন্দী। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি। আমি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। নতুন নতুন জিনিস তৈরী করতে আমি খুব ভালোবাসি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে।

Sort:  
 3 years ago 

নতুন নতুন ফটোগ্রাফিগুলো দেখার মাধ্যমে নতুন নতুন অনেকগুলো বিষয় শিখছি এবং নতুন নতুন বিষয়গুলো দেখছি৷ আর আজকে আপনি কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন যা আমি আগে কখনো দেখিনি৷ আপনার কাছ থেকে এই ফটোগ্রাফি গুলো দেখে অনেক কিছু জানলাম৷ অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য৷

 3 years ago 

অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি তুলে ধরেছেন দাদা। সত্যি বলতে এবারের শীতকালীন ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় আপনার ফটোগ্রাফি খুব মিস করেছি। আশা করেছিলাম আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় দেখতে পাবো। যাইহোক আজকের ফটোগ্রাফি গুলো খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ।

 3 years ago 

ভাই আপনি খুবই চমৎকার ফটোগ্রাফি করে থাকেন। আপনার ফটোগ্রাফি গুলা আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আজকেও খুবই চমৎকার অনেকগুলো ফটোগ্রাফি করেছেন। এত সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আপনার একটা কথা আমার বেশ দারুণ লেগেছে দাদা ফটো ফ্লেমিং সেন্স থাকলে যেকোনো ছবিকেই ভালো ছবিতে রুপান্তিত করা যায়। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো বেশ চমৎকার ছিল দাদা। দক্ষিণেশ্বরের ব্রীজ, এবং ফুটবল খেলার দৃশ্য টা বেশ চমৎকার ছিল। বেশ সুন্দর করেছেন ফটোগ্রাফি গুলো দাদা।।

Posted using SteemPro Mobile

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 63135.76
ETH 1788.05
USDT 1.00
SBD 0.38