বাংলাদেশ ভ্রমণ। পর্ব : ১৩
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার বাংলাদেশ অন্যতম একটা আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লাগবে।
তো কিছুদিন পর জ্যেঠু বলল, পাশের একটা গ্রামে নাকি নৌকা বাইচ হবে। নৌকা বাইচের কথা শুনে আমি খুব খুশি হলাম। কারণ খুব ছোটবেলায় একবারই নৌকা বাইচ দেখার ভাগ্য হলেও পরবর্তীতে আমি নৌকা বাইচ দেখার ভাগ্য হয়নি। কারণ কালের বিবর্তনে এই নৌকো বাইচ প্রতিযোগিতাটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
আমি আমার গিন্নিকে বললাম চলো আমরাও যাব নৌকা বাইচ দেখতে। আমার গিন্নি এর আগে কখনো নৌকা বাইচ দেখেনি। আসলে ও জানেই না যে নৌকা বাইচ কিভাবে হয়। যাই হোক নিজেরও নৌকা বাইচ দেখা হবে আর গিন্নিরও নৌকা বাইচ দেখা হবে।
তোর নৌকা বাইচের দিনে জ্যেঠু বলল, তোরা একটু তাড়াতাড়ি যাবি নৌকা বাইচ দেখতে।। কারণ ঐদিন নাকি খুব ভিড় হয়। তো ঐদিন সকালে হাতমুখ ধুয়ে খাবার দাবার খেয়ে একটা দিদি বাড়িতে গিয়েছিলাম। দিদি বাড়ি থেকে এসে নৌকো বাইচ দেখতে একটু দেরি হয়ে গেছিল।
তো পাশের বাড়ির এক কাকার ভ্যানে আমরা নৌকা বাইচ দেখতে রওনা দিলাম। নৌকা বাইচ যেখানে হচ্ছিল তার অনেকদূর অব্দি ভিড় ছিল। তখন কাকা বলল, দেখলি আজ দেরি করে ফেললি। তো তখন আমরা ভ্যান থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলাম। আসলে এখানে একটা মেলার মত বড় অনুষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছিল ওই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে।
নৌকা বাইচের ওই স্থানটিতে যেতে আমাদের প্রায় ত্রিশ মিনিট সময় লেগেছিল। কারণ দূর দুরান্ত থেকে লোকজন এই নৌকা বাইচ দেখার জন্য সমাগম হয়েছিল। নদীর দু'পাশে লোকের যেন মেলা বসেছিল। আমরা কোনরকমে ভিড় ঠেলে একটু নদীর পাশে এসে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। তখনো নৌকাবাইস শুরু হয়নি।
এত লোকের মাঝে গরমে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। এদিকে তো আমি ভিজে একদম একাকার। তো কিছুক্ষণ পর নৌকাগুলো আস্তে আস্তে আসতে লাগলো। প্রথম অবস্থায় তারা তাদের নৌকা প্রদর্শন করল। নৌকার উপরে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তারা নৌকা সামনের দিকে এগোচ্ছিল।
একদম আমার সেই ছেলেবেলার অনুভূতি জেগে উঠলো। বাবার সাথে হাত ধরে সেই নৌকা বাইচ দেখার অনুভূতি। আমার গিন্নি আমাকে জিজ্ঞাসা করল, নৌকাগুলো এত লম্বা হয় কেন? তখন আমি তাকে বললাম, আসলে নৌকা বাইচের নৌকাগুলো এরকম লম্বা হয়।
আসলে গ্রামের কোন অনুষ্ঠানে লোকের ভিড় একদম দেখার মত। আমি তখন পাশের দোকান থেকে এক প্যাকেট বাদাম এবং আমড়া মাখা কিনলাম। কিছুক্ষণ পর মাইকে এনাউন্স হল আর কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকা বাইচ শুরু হবে। তখন সবাই দোকান থেকে কেনাকাটা বন্ধ করে নদীর পাশে এসে ভিড় জমালো। কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকাগুলো তাদের প্রতিযোগিতার শুরু করার জন্য রেডি হল।
আসলে যেখান থেকে নৌকার প্রতিযোগিতা শুরু হবে তার থেকে অনেক দূরে আমরা ছিলাম। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা যেখানে শেষ হবে সেখানেই আমরা উপস্থিত ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকা বাইচ শুরু হল। দূর থেকে আমরা শুনতে পেলাম নৌকার সেই বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ। তালে তালে নৌকোগুলো প্রাণপণে প্রতিযোগিতা জেতার চেষ্টায় জোরে জোরে আসতে লাগলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথম অবস্থানকারী নৌকাটি চলে এলো এবং সেই বিজয়ী হল। আর এই নৌকাটি ছিল সবার মধ্যে সবথেকে বড় নৌকা। সবাই জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো। আমিও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। তাদের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে আমিও বিজয়ের উল্লাসে চিৎকার করতে লাগলাম। আসলে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েও তাদের থেকে আমার আনন্দের অনুভূতিটা অনেক বেশি ছিল। আসলে তারপরও আবারো ছোট ছোট প্রতিযোগিতা শুরু হলো। এভাবে অনেকক্ষণ চলার পর প্রতিযোগিতা শেষ হলো।
সেদিনের মতো আমরা কিছু খাবার দাবার কিনে পুনরায় বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। আসলে আমার এত ভালো লাগছিল যে বাংলাদেশে এসে এই নৌকা বাইচ টা দেখতে পেরে আমি নিজেকে খুব ধন্য মনে করছিলাম। আসলে শুধু বাংলাদেশের নয় প্রতি দেশেরই তাদের এই ঐতিহ্যগুলো ধরে রাখা অবশ্যই দায়িত্ব এবং কর্তব্য। জানিনা পরবর্তীতে এইসব ঐতিহ্যগুলো আর থাকবে কিনা। তারপর আমাদের সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে এই ঐতিহ্য গুলোকে ধরে রাখতে হবে।
ক্যামেরা পরিচিতি : Xiaomi
ক্যামেরা মডেল : M2007J20CI
ক্যামেরা লেংথ : 2 mm
তারিখ : 08/10/2022
তো এই ছিল আজ আমার পোস্ট। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে। আর আজকের পোস্টি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
ভাইয়া, বাংলাদেশ ভ্রমণের ১৩তম পর্বটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আসলে ভাইয়া আমিও কখনো নৌকা বাইচ সরাসরি দেখার সুযোগ পাইনি। তবে আপনার পোস্টটি পড়ে মনে হচ্ছে, নৌকা বাইচ দেখে আপনি খুবই আনন্দ উপভোগ করেছেন। বাংলাদেশ ভ্রমণ করে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আজ অবধি আমি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সামনা সামনি দেখিনি। তবে বাবার মুখে গল্প শুনেছি অনেক। এটার জাকজমকতা সামনে থেকে না দেখলে হয়তো কখনো অনুভব করা সম্ভব নয়। খুব ভালো লাগলো দাদা এত সুন্দর করে গুছিয়ে কথাগুলো লিখে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। লেখাগুলো পড়ার সময় খুব মিস করছিলাম পুরো আয়োজনটা কে।
আপনি বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে নৌকা বাইচার বেশ অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আমি আজ এই প্রথম দেখলাম অনেক মানুষ জমা হয়েছে এই কাজে। খুব ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে এবং অনেক সুন্দর সুন্দর চিত্র দেখে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।