এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি পর্ব -২৩
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবারও আমার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের এই পৃথিবীতে দরিদ্র লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা পথ চলতে গিয়ে বিভিন্ন হতদরিদ্র লোককে দেখতে পাই। কেউ তো এই দরিদ্রতার বোঝা কাজে নিয়ে পরিশ্রম করে। আবার বয়সটা বেড়ে গেলে কেউ কেউ আবার ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেয়। আসলে এই পৃথিবীতে মানুষকে যদি অন্ন গ্রহণ করতে না হতো তাহলে হয়তো বা কেউ এই ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে না। আসলে এই শেষ বয়সে দুবেলা দুমুঠো খাবার জন্য পথে পথে ভিক্ষা করছেন এই ব্যক্তিটি। সত্যিই আজব এক পৃথিবী।
আসলে হাতে ক্যামেরা থাকলে যেকোনো বিষয়বস্তুকে নিজের মতো করে ছবি তুলতে পারলে একটু আলাদা ধরনেরই মনে। একটা দৃশ্যকে দশজন দশভাবে তার ক্যামেরায় ছবি তুলতে পারে। তো আজ হঠাৎ কোথাও ঘুরতে গিয়ে হাতে ক্যামেরাটি নিয়ে গিয়েছিলাম। পথ চলতি এই মানুষটার ছবি আমি তুললাম। আসলে লোকটি একজন ভ্যান চালক। পরিবারের বোঝা সামলাতে গিয়ে তাকে এই বয়সেই ভ্যান চালাতে হচ্ছে। পরিবারের জন্য তার বয়স সে কখনোই বাড়তে দিচ্ছে না। কারণ পরিবারের অর্থ উপার্জনের মূল ব্যক্তি তিনি নিজেই। হয়তোবা এই বয়সে তার সন্তান তাকে আলাদা করে দিয়েছে। অর্থের যোগানের কাছে বয়স কোন কিছুই না।
লোকটি কিন্তু একটু অন্য প্রকৃতি। আমি অনেকক্ষণ লোকটিকে দেখছিলাম সে নিজে নিজেই কথা বলছিল নিজের সাথে। চোখে চশমা মাথায় টুপি আর ঘাড়ে ঝোলানো একটা ব্যাগ। আসলে ভদ্র প্রকৃতির পাগল। পৃথিবীর সবাই বিভিন্ন ধরনের পাগল। কেউ ভবের পাগল কেউ বা অর্থের পাগল কেউবা আবার সমাজের টিকে থাকার জন্য পাগল। আসলে লোকটি বিড়ি খেতে খেতে এদিকে ওদিকে ঘোরাঘুরি করছিল। তাই আমি লোকটির ছবি ক্যামেরায় বন্দি করলাম।
কথায় আছে মায়ের মত আদর আর কোথাও মেলে না ভাই। তাইতো সময় থাকতে মাকে অবশ্যই ভালোবাসবে। এই দুপুরের রোদে মা নিজের সন্তানকে রোদের প্রখরতা থেকে একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য নিজের আঁচল তার সন্তানের মাথার উপর দিয়েছেন। আসলে মা কখনোই স্বার্থপর হতে পারে না। এই মা সকল ঝড় বিপদ হতে আমাদের সবসময় আগলে রাখেন। আর মায়ের আঁচলের পরশ সকল সন্তানই পেয়ে থাকেন। এই আঁচল দিয়েই মা তার সন্তানকে ঘিরে রাখে।
আসলে বাচ্চা ছেলেটি কি দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলায় আমরা কতই দুরন্ত ছিলাম। মায়ের হাত থেকে কখনো ছুট পেলে আমরা দৌড়ে বেড়াতাম। মা আমাদের পিছন পিছন দৌড়ে আমাদের আগলে রাখতে। যাতে আমরা দৌড়াতে গিয়ে পড়ে না যাই। আসলে মায়ের ভালোবাসা কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না। এই পৃথিবীতে মা হলে এমন এক ব্যক্তি যে তার সন্তানকে সব সময় নিজের বুকে আগলে রাখে।
আসলে দিনমজুর শ্রেণীর লোকেরা দুটো অর্থ উপার্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করে তার পরিবারকে সুন্দরভাবে চালানোর জন্য। আসলে তাদের কাছে সব কঠিন কাজই তারা সহজ করেন নেয়। আমার মনে হয় পৃথিবীতে সংসারের বোঝার মত ভারী বোঝা আর এই পৃথিবীতে নেই। তাইতো লোকটি দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একের অধিক বোঝা নিয়ে ছুটে চলেছেন।
ক্যামেরা পরিচিতি : NIKON
ক্যামেরা মডেল : Nikon D5200
ক্যামেরা লেংথ : 300 mm
আসলে এই রেল লাইনের মাধ্যমে আমাদের জীবনের লাইনটিকেও সোজা করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের জীবনের লক্ষ্য যদি সোজা এবং সঠিক হয় তাহলে আমরা গন্তব্যস্থানে অবশ্যই পৌঁছাব। আর আমাদের এগিয়ে চলতে হবে রেল লাইনের মতো সোজা হয়ে। জীবনে অনেক বাঁধা আসবে। আসলে জীবনে বাঁধা না আসলে সেই জীবনের সঠিক মধু পাওয়া যায় না। কোন কাজ শত বাঁধার পর যখন সমাধান হয় তখন তার মত শান্তি আর কোথাও পাওয়া যায় না। আর এই সকল বাঁধাকে উপেক্ষা করে সামনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আশাকরি আজকের এই ফটোগ্রাফিক পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
বেঁচে থাকার জন্য যদি খাবারের প্রয়োজন না হতো তাহলে ভিক্ষাবৃত্তি একেবারেই থাকত না। আসলে জীবন জীবনের মতই। যে যার মত বেঁচে আছে। কত রকমের মানুষ দেখতে পাওয়া যায় চারপাশে। যাই হোক দাদা আপনার ফটোগ্রাফির কথা নতুন করে বলার মত কিছুই নেই দাদা। কারণ আপনি সবসময় দারুন ফটোগ্রাফি করেন।
ভাইয়া ছবিগুলোর পাশাপাশি বাস্তবতার আলোকে দারুণ কিছু বর্ণনা দিয়েছেন। একটি কথা সত্যি বলেছেন পৃথিবীতে সংসারের বোঝার মত ভারী বোঝা আর নেই। সেটা একবার শুরু হলে মৃত্যু পর্যন্ত থাকে। যায়হোক রেল লাইনের ছবিটা অসাধারন হয়েছে। ধন্যবাদ ।
বাহ খুব সুন্দর ফটোগ্রাফট করেছেন আপনি প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি খুবই অসাধারণ হয়েছে। আসলে ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে রেল লাইনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ফটোগ্রাফি খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। এতো সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে অন্তর ধন্যবাদ জানাই।
ভাই, আজ আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। কেননা আপনার ফটোগ্রাফি গুলো একদম ভিন্নমাত্রার। আজ আপনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একদম বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে একজন মমতাময়ী মা, তার সন্তানকে প্রখর রোদের উত্তাপ থেকে একটু স্বস্তি দেয়ার জন্য শাড়ির আচল দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এছাড়া প্রতিটি ফটোগ্রাফি একদম প্রাণবন্ত। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের, চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
প্রিয় দাদা, আপনার তোলা এলোমেলো ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আপনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে খুবই ভিন্ন ধরনের কিছু দৃশ্যের ফটোগ্রাফি করেছেন। একজন দিনমজুরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফটোগ্রাফিটি নিশ্চয়ই আমাদেরকে পরিশ্রমী হতে উৎসাহ দিবে। খুবই সুন্দর একটি ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।