বাংলাদেশ ভ্রমণ। পর্ব : ১৪
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার বাংলাদেশ অন্যতম একটা আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লাগবে।
তো আমরা কিছুদিন পর আমাদের এক দূর সম্পর্কের ভাই আমাদের একটা রেস্টুরেন্টে খাবার অফার করল। আসলে আমার কাছে বাংলাদেশী প্রায় সব ধরনের খাবার খুব পছন্দ হয়ে গেছিল। বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানি। আসলে কাচ্চি বিরিয়ানির স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে।
যাইহোক আমরা তাদের কথামতো ঐদিন সকালে খেয়ে দেয়ে এবং দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তাদের দেওয়া গন্তব্য স্থানে আমরা রওনা হোলাম। যাবার সময় প্রথমে আমাদের সাথে দেখা মিলল দুটো কুকুরছানা। কুকুর ছানা দুটোকে এত সুন্দর লাগছিল তাই আমি একটু ওদের আদর করে দিলাম দিলাম। আমার আদর খেয়ে কুকুরছানা দুটো বেশ আরাম লাগছিল। কিন্তু এদিকে আমার গিন্নি রেগে ফায়ার। রাগার কারণ হলো কেন আমি কুকুর ছানাকে ধরে আদর করলাম। কারণ ওদের গায়ে নোংরা থাকে। এখন আমি হাত ধোবো কোথা দিয়ে।
যাই হোক হাঁটতে হাঁটতে সামনে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক পানের বরজ থেকে পান ছিঁড়ে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখছে। আসলে এরকম ধরনের পান আমি আগে কখনো দেখিনি। অর্থাৎ সবেমাত্র গাছ থেকে তোলা পান এই প্রথম দেখলাম আমি। তারপর আমি ওনাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম যে, কোথায় গিয়ে উনারা এই পান বিক্রি করবেন।
এদিকে তো আমাদের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। তাই একটু জোরেই হাঁটতে লাগলাম। দূরে গিয়ে দেখি এটা বাচ্চা ছেলে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমাদের দেখতেই বাচ্চাটি ধরে চিৎকার করে বলল, কাকু কোথায় যাবেন। যাইহোক আমি তাকে বললাম আমরা একটা বাজারে যাব। আসলে এখন আমার ওই বাজারের নামটি মনে নেই। তখন সে আমাদের নিয়ে রওনা হলো।
কিছুদূর যেতেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বাবু তুমি কি স্কুলে যাও না? তখন সে আমাকে বলল, হ্যাঁ কাকু আমি স্কুলে যাই এবং আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। আমি তখন বললাম, তুমি এত কম বয়সে কেন ভ্যান চালাও। আসলে ছেলেটি তার বাবার ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছিল। তার বাবা কোথায় যেন কাজ করতে গিয়েছিলেন। এইজন্য এই ফাঁকে সে ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল।
তখন কথায় কথায় ছেলেটি বলল, ওরা নাকি চার ভাই বোন। অর্থাৎ বড় এক দিদির বিয়ে হয়ে গেছে এবং বাকি দুজন তার বয়সের নিচে। তখন আমি ছেলেটিকে বললাম বাবা তোমার ভ্যানে উঠে আমার একটু কষ্ট হচ্ছে। কারণ তুমি এত ছোট আর এই বয়সেই ভ্যান চালাচ্ছো।
কিছুক্ষণ পরে আমি বললাম তুমি নামো আমি তোমার ভ্যান চালাচ্ছি। ছেলেটা বলল, তুমি ভ্যান চালাতে পারবে না। আমি বললাম, একবার দেখোই না ভ্যান চালাতে পারি কিনা। তারপর আমি এই ভ্যান চালাতে আরম্ভ করলাম। তখন কিছুক্ষণ পর ছেলেটি বললো, কাকু তুমি তো ভালো ভ্যান চালাও।
ক্যামেরা পরিচিতি : HUAWEI
ক্যামেরা মডেল : BKK-AL 10
ক্যামেরা লেংথ : 3 mm
তারিখ : 05/01/2023
যাইহোক ভ্যান চালাতে চালাতে তখন কিছু ছবিও তুলে নিলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা ওই বাজার থেকে এসে পৌছলাম। এসে দেখি ওই দুই ভাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর আমরা আর দেরি না করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেলাম এবং গল্প করলাম। রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছিল। এরপর ওই দুই ভাই আমাদের বাইকে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল।
তো এই ছিল আজ আমার পোস্ট। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে। আর আজকের পোস্টি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
দাদা, বাংলাদেশের কাচ্চি বিরিয়ানি আসলেই ভীষণ মজার। বেশ ভালোভাবে উপভোগ করেছেন দেখছি ভ্রমণটা। গল্পের মাধ্যমে আপনি সবার সাথে যে ভাল মিশে যান সেটা আরেকবার প্রমাণ পেলাম ভ্যান চালানো ছোট ছেলেটার সাথে কথোপকথন দেখে। ভালো লাগছিল প্রতিটা মুহূর্তই।
আসলে এত কম বয়সে ভ্যান চালাচ্ছে তাই দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো