বাংলাদেশ ভ্রমণ। পর্ব : ১২

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার বাংলাদেশ ভ্রমণের দ্বাদশ পর্ব শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লাগবে।


IMG_20221227_123258.jpg



তো মাছ ধরার আগেই আমি বাড়িতে গিয়ে স্নান করে জামাপ্যান্ট পরে আবার চলে এলাম। এসে দেখি মাছ ধরা প্রায় কমপ্লিট হয়ে গেছে। তো তারপর ওই লোকগুলো মাছগুলো বস্তায় ভরে ভ্যানের উপরে বোঝাই করছে। ড্রামের সংখ্যা কম থাকায় শেষমেষ বস্তায় মাছ ভরতে হয়েছিল।

IMG_20221227_123246.jpg

সমস্যা হল আমি ভ্যানের উপরে বসবো কোথায়। তারপর আমি যে ভ্যানের উপর ড্রাম রয়েছে ওই ড্রামের উপরে একটা কাঠ পাতিয়ে তার উপরে বসে পড়লাম। আসলে গ্রামের রাস্তা খুবই খারাপ। তাই বারবার আমাদের ভ্যান থেকে নেমে ভ্যান ধাক্কা দিতে হচ্ছিল। কারণ ভ্যান ভর্তি বোঝাই মাছ ছিল। অবশ্য আরেকটুকু সুবিধা হল ভ্যানগুলো ছিল মোটর চালিত। যাই হোক আমাদের বাজার অব্দি যেতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগেছিল। যাবার সময় আমাদের অনেক কয়বার ভ্যান থেকে নামতে হয়েছিল।



IMG_20221227_123306.jpg



মাছের বাজারে যাবার অভিজ্ঞতা সকলেরই আছে। সারা বাজার জলে ভর্তি থাকে। আর মাছের গন্ধ তো রয়েছেই। তো বাড়িতে জ্যেঠু আগেই বলেছিল ভালো জামা প্যান্ট পড়ে বাজারে যাওয়ার দরকার নেই। মাছের জলে জামা প্যান্ট একদম নষ্ট হয়ে যাবে। এসে দেখি সত্যিই তাই।


IMG_20221227_123712.jpg

তো মামার চেনা পরিচিত একটা দোকানে এসে ভ্যানটি থামালো। মামা ভিতরে গিয়ে কথা বলে এসে দুজন লোক সঙ্গে করে নিয়ে আসলো। তারা এসে ভ্যান থেকে মাছ গুলো নিয়ে এক সাইডে রাখল। কারণ আমাদের আসার আগে অনেকেই মাছ নিয়ে এসেছে বিক্রয়ের জন্য। তাই তাদের পরে আমাদের লাইন দিতে হলো। আমি একটা সেফ সাইডে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। মাছের বাজার খুবই একটা ব্যস্ত বাজার। দোকানের বাইরের কয়েকজন মাছ বিক্রেতাদের থামিয়ে নিজেদের দোকানে আনার চেষ্টা করছেন। ভিতরে একজন বড় দাড়িপাল্লার পাশে বসে মাছ মাপছেন। তিনি এত দ্রুত মাছ মাপছেন, মনে হচ্ছিল উনার অনেক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিছুক্ষণ পর আমাদের পালা এলো।


IMG_20221227_124430.jpg


দোকানের লোকগুলো মাছগুলো বেছে আলাদা আলাদা ভাবে ভাগ করলো। তারপরে এক এক ভাগের মাছের নিলাম শুরু হল। নিলাম অর্থাৎ কেউ যদি ১০০ টাকা বলে অন্যজন ১০১ টাকা এবং বাকি জন ১০২ টাকা এইভাবে টাকা পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং সর্বশেষে সবথেকে দাম বেশি যে বলে সেই মাছটি পায়। নিলাম শেষে মাছগুলো দাঁড়িপাল্লায় উঠানো হলো। শেষে তারা একটা মাছের স্লিপ আমাদের ধরিয়ে দিলেন। আমরা বাইরে থেকে একটু খাবার খেয়ে নিলাম। কারণ সব মাছ কেনা হয়ে গেলে দোকানদার আমাদের টাকা দিয়ে দেবেন।



IMG_20221227_124434.jpg

ক্যামেরা পরিচিতি : HUAWEI
ক্যামেরা মডেল : BKK-AL 10
ক্যামেরা লেংথ : 3 mm
তারিখ : 29/12/2022



টাকা পেতে পেতে আমাদের প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। ততক্ষণ আমরা বাজার দিয়ে ঘোরাফেরা করলাম এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে লাগলাম। আমাদের বাড়ি যেতে যেতে প্রায় রাত আটটা বেজে গেল। গ্রামের দিকে রাত আটটা মানে অনেকটা গভীর রাতের সমান। বাড়িতে গিয়ে পুকুরের জ্যান্ত মাছ খেয়ে সেদিন রাতের মতো ঘুমিয়ে পড়লাম


তো এই ছিল আজ আমার পোস্ট। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে। আর আজকের পোস্টি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।



সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।


11-20-04-359_512.gif

ধন্যবাদ সবাইকে।

2XmsB3ZF6jJG7218A8ghgBmbB3W4Hm94fHM8vdisDLD4EuDS1mKCnUwr2WPdiRhWod2Rf2CCtBiK8N3pspzqnCWafFzVigrzmtsxCskMPdzGxv6X2qA4C6XCzVtoT7DrPdhaLQmVXDtTsoDBnDnkqY1H7mbiRmNAo6VRbcH65Ky8sUcB6iD2CGuEkfhUpCrHvemi76oe4F.gif


IMG_20210107_075142 (2).jpg

আমার নাম নিলয় মজুমদার। আমি একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। আমার মাতৃভাষা হলো বাংলা। কিন্তু আমার রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো হিন্দী। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি। আমি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। নতুন নতুন জিনিস তৈরী করতে আমি খুব ভালোবাসি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64382.26
ETH 1883.01
USDT 1.00
SBD 0.37