বাসন্তী পূজায় কাটানো কিছু সময়।
প্রথমে সবাইকে জানাই বাসন্তী পূজার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে বাসন্তী পূজার একটি পোস্ট শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লাগবে।
মায়ের মন্দির বাইরে থেকে।
তো বিকালবেলা গিন্নির অনুরোধে তাকে নিয়ে একটু শপিংয়ে বের হলাম। শপিংয়ে গিয়ে কিছু জিনিসপত্র কেনাকাটা করে আবার বাড়ির দিকে রওনা হলাম।
দুইজন মিলে একটা সেলফি।
আপনারা হয়তোবা অনেকেই জানেন না ছট পূজা কি? আসলে ছট পূজা হল ইন্ডিয়ান বিহারী যারা তাদের একটি পূজা। তো একই দিনে বাসন্তী পূজা আর ছট পূজা একইসঙ্গে হয়েছিল।
প্যান্ডেলে ঢোকার সময়।
ছট পূজায় বিহারীরা বিকালের দিকে গঙ্গায় গিয়ে গঙ্গা মাকে পূজা করে। আর আমাদের এই বাসন্তী পূজা হল দুর্গাপূজা। অর্থাৎ আমাদের দুর্গাপূজা যেমন হয় তেমন আরেকটা দিন থাকে যখন এই দুর্গাপূজা পুনরায় ছোট করে আরেকবার হয়। তো আমরা বাঙালিরা এই দুর্গাপূজাকে বাসন্তী পূজা বলে থাকি।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই দুর্গাপূজা বাঙ্গালীদের আদি বাসন্তী পূজা বলে। যদিও এখন আশ্বিন শুক্লপক্ষে আমাদের এই দুর্গাপূজা খুব বড় করে পালিত হয়। কিন্তু আমাদের এই বাসন্তী পূজাই অরিজিনাল দুর্গাপূজা।
মায়ের মূর্তি।
পুরান অনুযায়ী সমাধি নামের এক বৈশ্যের এর সঙ্গে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যেটা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়।
বংশ পরম্পরায় এখন পর্যন্ত অনেক রাজকীয় বংশধরদের বাড়িতে এবং এমন অনেক বনেদি বাড়িতে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই তিথিতে বাসন্তী পূজা করা হয়। যেটা সেই বনেদি বাড়ির ঐতিহ্য। আর বাসন্তী পূজাকে এখন পর্যন্ত উদযাপন করার এই রীতি মানুষকে অনেকখানি আকর্ষণ করেছে। এই সমস্ত রীতিনীতি, নিয়ম-কানুন সবকিছুই দুর্গাপূজার মতোই পালন করা হয় কেননা এটাই হল বাঙ্গালীদের আদি দুর্গাপূজা।
প্যান্ডেলের ভিতরের বিভিন্ন কারুকার্য।
তবে যাই হোক না কেন, দেবীর আরাধনাতে সাধারণ মানুষ আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। এই উপলক্ষে অনেক জায়গায় অনুষ্ঠান, মেলা বিভিন্ন রকমের নিয়ম কানুন পালন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ছোট থেকে বড় সকলেই খুব আনন্দ উপভোগ করে। সব জায়গায় এই বাসন্তী পূজা না হলেও বেশ কিছু বনেদি বাড়ি, মন্দির, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই পূজা করা হয়। যেটা তাদেরকে সমস্ত রকম বিপদ থেকে রক্ষা করার শক্তি যোগায়।
মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে একটা সেলফি।
বাড়ি ফেরার সময় একটা মাঠে বিশাল বড় প্যান্ডেল করে এই বাসন্তী পূজা হচ্ছিল। তো আমরাও আমাদের বাইকটি একটা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পূজা দেখতে গেলাম। আমার কাছে প্যান্ডেলটি অসাধারণ লেগেছিল। প্যান্ডেলটির চারিপাশ থেকে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের দোকান বসেছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের খেলনার দোকান, মেয়েদের চুড়ির দোকান এবং বিভিন্ন খাবারের দোকান।
প্যান্ডেলের বাইরে মায়ের পূজার যোজ্ঞ হচ্ছে।
তো প্রথমে আমরা প্যান্ডেলের ভিতরে প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে মায়ের সামনে দুহাত জড়ো করে মায়ের কাছে প্রণাম জানালাম। তারপর ভিতরের প্যান্ডেলটি চারিদিক ঘুরে দেখতে লাগলাম।
প্যান্ডেলের বাইরে এক সাইডে মায়ের পূজার যোজ্ঞ করা হচ্ছিল। তো আমরা যজ্ঞের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম এবং পুনরায় প্রার্থনা করলাম মায়ের উদ্দেশ্যে। তারপর চারিদিকে দোকানপাট একটু ঘুরে দেখতে লাগলাম।
বাদাম কেনার মুহূর্তে।
শেষে খাবারের দোকানে এসে বাদাম কিনলাম। একই সাথে দুই প্যাকেট গ্রীন মটর কিনলাম। ওখানে অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য বড় একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের জন্য স্টেজ সাজানো হচ্ছে।
আমরা কিছুক্ষণ ওই মাঠে ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম এবং একই সাথে বাদাম খেতে লাগলাম। বিভিন্ন ধরনের দোকানে ঘোরাঘুরি করলাম কিন্তু কিছুই কিনলাম না।
বিভিন্ন খাবারের দোকান।
তখন গিন্নিকে বললাম, চলো অনেক হয়েছে এবার বাড়ি যাওয়া যাক। কিন্তু সে আমাকে বলল, আমরা আর কিছুক্ষণ এখানে সময় কাটিয়ে যাই। তার কথা অনুযায়ী আমরা আরো কিছুটা সময় ওই মন্দিরের সামনে রইলাম। তারপর আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম।
মেলার মাঠে বিভিন্ন জিনিসের দোকান।
এই দিনটাতে আমি খুব ভালো একটা সময় কাটিয়েছি। কারণ পুজোর সময় সবারই মন খুব ভালো থাকে। আশা করি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন।
দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
একদম নতুন কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেলাম আপনার আজকের এই পোস্ট এর মধ্য থেকে। নতুন কিছু সম্পর্কে অবগত হতে আমার খুব ভালো লাগে। হয়তো ঠিক তেমন একটা বিষয় ওদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন তাই আমারও ভালো লাগলো। খুবই খুশি হলাম এত সুন্দর বর্ণনা পড়ে।