বাংলাদেশ ভ্রমণ। পর্ব : ২০

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার বাংলাদেশ অন্যতম একটা আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লাগবে।



তো আমরা আমাদের ড্রেস চেঞ্জ করে সবাই পার্কটি ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। আর এদিকে তো আমার গিন্নির ব্যাগ বইতে বইতে আমার কাঁধের এক পাশ ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। এক হাতে ব্যাগ আর এক হাতে মোবাইল ফোন। দেখতে অনেকটা কুলির মত মনে হচ্ছিল। আসলে বিয়ে করলে একরকম কুলি হয়ে যেতে হয়।

20221022_170547.jpg



প্রথমে আমরা পার্কটির প্রধান গেট দিয়ে অর্থাৎ ভিতরে আরেকটি গেট ছিল। তো গেট দিয়ে ঢোকার আগে সবাই আমাকে রিকোয়েস্ট করলো গেটের সামনে একটা ছবি তুলে দেওয়ার। এক হাতে ব্যাগ আর এক হাতে ফোন নিয়ে কষ্টে তাদের ছবিটি তুলে দিলাম। অবশ্য তাদের ছবি তুলতে তুলতে আমার একটি ছবিও আর তোলা হলো না।



20221022_170648.jpg

তারপরে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র অর্থাৎ হাতের তৈরি ভাস্কর্য দেখতে লাগলাম। একদিকে কয়েকটি কঙ্কালের মূর্তি বসেছিল। তো আমার গিন্নি বললো যে, এই কঙ্কাল গুলোর সাথে আমার একটা ছবি তুলে দাও। তখন আমি একটু মজা করে বললাম আমি তো বিয়ে করে একদম কঙ্কাল হয়ে গেছি। আগে আমার সাথে একটা ছবি তোল।



20221022_170902.jpg

আসলে পার্কটির ভিতরের দৃশ্যগুলো অসাধারণ ছিল। একটা গাছ ছিল এবং গাছের নিচে হাতটা দিয়ে এমন ভাবে একটা ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে যেটি দেখে মনে হচ্ছে হাতের উপরে গাছটি দাঁড়িয়ে আছে।

20221022_170942.jpg

তারপরে পাশের আরেকটি ভাস্কর্য দেখতে পেলাম। ভাবলাম আমি নিজে একটা সেলফি নেব ওখানে। সবাই মিলে এসে আমাকে বলতে শুরু করল আমাকে এখানে বসিয়ে একটা ছবি তুলে দাও। যাইহোক সবার ছবি তোলা শেষ হতে না হতেই আমার গিন্নি এসে বলল আমাকেও একটা ছবি তুলে দাও। যাইহোক তাদের ছবি তুলতে তুলতে আমার আর ছবি তোলা হলো না।



20221022_171458(0).jpg

আসলে পার্কটির ভিতরে এত সব দারুণ ভাস্কর্য ছিল যে, যা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম। এরপরে সেই পুরনো দিনের ঢেঁকির কথা মনে পড়ে গেল একটা ভাস্কর্য দেখে। আসলে তাদের ক্রিয়েটিভিটি গুলো অনেক ভাল ছিল। যাই হোক সেখানেও গিন্নির একটা ছবি তুলে দিলাম।

20221022_172849.jpg



পরবর্তীতে আরো একটি ভাস্কর্যের কাছে গেলাম আমরা। আসলে একটা মাঠের ভিতরে এক কোনে এই ভাস্কর্যটি ছিল। আসলেই ভাস্কর্যটির মাঝে বসার জন্য জায়গা ছিল। আসলে নিজে তো একটা সেলফি নিব তারও কোন উপায় ছিল না। কারণ আমার হাতে ছিল আমার গিন্নির ব্যাগ আর ফোন।



20221022_173226.jpg



পরবর্তীতে দূরে একটা সুপারি গাছের একজন পূর্বপুরুষকে দেখতে পেলাম। আসলে এটা কিন্তু আমার একার পূর্বপুরুষ নয়। এটা সকল মানব জাতির পূর্বপুরুষ। হ্যাঁ আমি বানরের কথাই বলছি। বানরটি এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিল। তাই সময় নষ্ট না করে বানরটির একটা ছবি তুলে নিলাম।

20221022_173258.jpg



এরপরে একটা রাস্তা দিয়ে অন্য একটা সাইডে আমরা যেতেই একটা কাগজ ফুলের বাগান দেখতে পেলাম। আসলে ফুল গাছটি দেয়ালের অপর পাশে অবহেলিতভাবে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু তার সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে।

20221022_173450.jpg

আবার একটা পুকুর পাড়ে একটা বসার জায়গা ছিল। সেখানে বসে একজন চিন্তিত লোকের মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। তো আসলে ওই জায়গাটিতে আমার বসে একটা ছবি তোলার কথা ছিল। কারণ তাদের ছবি তুলতে তুলতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। যাইহোক আবারো গিন্নির একটা পোজ দেওয়া ছবি তুলে দিলাম।



20221022_174013.jpg



ছোট্ট একটা খালের মতো রয়েছে এই পার্কটির ভিতর। তার ওপর দিয়ে সুন্দর একটা ভ্রাম্যমান ব্রিজে তৈরি করা রয়েছে। প্রথমে তাদের ছবি তুলে দিলাম। এবার আর আমি নিজের ছবি তোলার আর কোন প্রচেষ্টাই করলাম না।



20221022_174049.jpg



তো তখন কাকিমা আমাকে বলল তোদের তো একটা ছবিও তোলা হয়নি। এবার ব্যাগটা আর ফোনটা আমাকে দে আমি তোদের ছবি তুলে দিচ্ছি। তখন আমি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললাম ঠিক আছে। তাহলে একটা ছবি তুলে দাও।

20221022_174146.jpg



এত পরবর্তীতে আবারো দেখতে পেলাম আরো কিছু অদ্ভুত ধরনের মূর্তি। মূর্তিটি মনে হচ্ছে পিছন দিকে হেলে পড়ে যাচ্ছে। তখন আমার গিন্নি নিয়ে একটু বুদ্ধি করে আমাকে বলল, আমাকে একটু পোজ দেখিয়ে দাও না যে আমি ওই মূর্তিটার সাথে একটা ছবি তুলবো। যাইহোক তাকে একটা পোজ দেখিয়ে দিলাম। ছবিতে তো আপনারা দেখতেই পারছেন।


20221022_174648.jpg

ক্যামেরা পরিচিতি : Samsung
ক্যামেরা মডেল : SM-S9080
ক্যামেরা লেংথ : 6 mm
তারিখ : 17/10/2022



এদিকে পার্কটিতে ঘুরতে ঘুরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। তো আমরা সবাইকে বললাম যে, বাড়ি যাবার জন্য। তখন সবাই মিলে আবার পুনরায় বাইরে বেরোনোর জন্য প্রস্তুত হলাম। এদিকে তো আমার গিন্নির ছবি তোলা শেষই হওয়ার নয়। যাইহোক গেট থেকে বের হওয়ার আগে এই ছবিটি আমি আবার তুলে দিলাম।

তো এই ছিল আজ আমার পোস্ট। আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে। আর আজকের পোস্টটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।


সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।

11-20-04-359_512.gif

ধন্যবাদ সবাইকে।

2XmsB3ZF6jJG7218A8ghgBmbB3W4Hm94fHM8vdisDLD4EuDS1mKCnUwr2WPdiRhWod2Rf2CCtBiK8N3pspzqnCWafFzVigrzmtsxCskMPdzGxv6X2qA4C6XCzVtoT7DrPdhaLQmVXDtTsoDBnDnkqY1H7mbiRmNAo6VRbcH65Ky8sUcB6iD2CGuEkfhUpCrHvemi76oe4F.gif

IMG_20210107_075142 (2).jpg

আমার নাম নিলয় মজুমদার। আমি একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। আমার মাতৃভাষা হলো বাংলা। কিন্তু আমার রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো হিন্দী। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি। আমি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। নতুন নতুন জিনিস তৈরী করতে আমি খুব ভালোবাসি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে।

Sort:  
 3 years ago 

কঙ্কাল গুলোর সাথে আপনার গিন্নি কি বেশ ভালো মানিয়েছে। 😁😆

যাইহোক বেশ হাসি আনন্দ করেছেন। পৃথিবীতে কোন নারিশ নেই ছবি তোলা কখনো শেষ হয় না। কোথাও বেড়াতে গেলে ছবি তোলার জন্য আর বাঁচা যায় না।

 3 years ago 

তা ঠিক বলেছেন দিদি। বাস্তব জীবনে আমিও কঙ্কাল হয়ে গেছি।

 3 years ago 

সবাই মিলে খুবই ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন দেখেই বুঝতে পারছি। আপনার গিন্নি তো দেখছি সব রকমের ভাস্কার্যের সাথে ফটোগ্রাফি করেছে। দেখেই বুঝতে পারতেছি তিনি এইসব কিছুর সাথে নিজের ছবি তুলতে অনেক পছন্দ করেছে। আর আপনি ওনাদের সবার ছবি তুলতে তুলতে নিজের একটাও ছবি তুলেন নি। অবশেষে আপনার কাকীমা বলেছে, সবার ছবি তুলতে তুলতে তুমিই তো ছবি তুলোনি। তাই তিনি আপনাকে আপনার গিন্নির সাথে একটা ছবি তুলে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে আপনাদের কাটানো এত সুন্দর এই মুহূর্তটা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন দেখে খুব সুন্দর লাগলো।

 3 years ago 

হ্যাঁ দিদি আমরা খুব মজা করেছিলাম ওই দিনটাতে। আসলে বাংলাদেশের ওই পার্কটি খুব সুন্দর একটা পার্ক।

 3 years ago 

আপনি বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে এসে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায় উপস্থিত হয়েছেন এবং সে সমস্ত জায়গার ফটোগ্রাফি করে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করছেন। যতগুলো পোস্ট আপনি বাংলাদেশ বিষয়ে আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন সকল পোস্ট আমি দেখেছি। সে সমস্ত পোস্টগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে ঠিক তেমনি আজকেরটা অনেক ভালো লাগলো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64457.61
ETH 1884.80
USDT 1.00
SBD 0.37