ডেঙ্গু।
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আসলে আজ ডেঙ্গু সম্পর্কে আমার কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
সোর্স
মানুষ এই পরিবেশকে এতটাই দূষিত করে ফেলছে যে মানুষ কিন্তু এখন এসব দূষিত পরিবেশের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণুর সৃষ্টি করছে। আসলে এইসব রোগ জীবাণু আমাদের শরীরের পক্ষে কতটা খারাপ তা আমরা প্রথম প্রথম মোটেও বুঝতে পারি না। আসলে এই বর্ষাকালে আমরা চারিদিকে বিভিন্ন ধরনের আবদ্ধ জায়গা দেখতে পাই। যেখানে বর্ষাকালে প্রচুর পরিমাণে জল জমে থাকে এবং মানুষ সেই জলের ভিতর বিভিন্ন ধরনের নোংরা আবর্জনা ফেলে দেয়। আসলে এইসব বদ্ধ জায়গায় যদি নোংরা আবর্জনা ফেলা হয় এবং জল জমে রাখা হয় তাহলে কিন্তু সেই জলে মশার ডিম পাড়ে এবং সেই ডিম হতে প্রচুর পরিমাণ মশার উদ্ভব হয়। এছাড়াও প্রায় প্রতিবছর আমরা এই বর্ষাকালে ডেঙ্গুর আবির্ভাব দেখতে পাই। আসলে হাসপাতালগুলোয় গেলে আমরা সবাই বুঝতে পারি।
কেননা প্রতিবছর এই সময় হাসপাতালে যে পরিমাণে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় তা দেখলে আমাদের সত্যিই ভয় পাবার কথা। কেননা একদম বাচ্চা থেকে শুরু করে একদম বয়স্ক লোক অব্দি সবাই কিন্তু এই ডেঙ্গু রোগে ভুগে থাকে সবথেকে বেশি। কেননা এই দুই শ্রেণীর মানুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি কম থাকে একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ অপেক্ষা। আসলে এভাবে ডেঙ্গুর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রতিবছর প্রায় প্রচুর বাচ্চা এবং বয়স্ক লোক মারা যায়। এছাড়াও সরকারের একার পক্ষে কিন্তু এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা মোটেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। কেননা গ্রাম অঞ্চলের দিকে যখন ডেঙ্গু হয় তখন তারা প্রথম অবস্থাতে বুঝতে পারে না যে তাদের সন্তানদের ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। তারা সাধারণত নরমাল জ্বর বলে চালিয়ে দেয়। কিন্তু একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে যদি মশা কামড়ায় তাহলে কিন্তু ওই মশাই এই সংক্রমক রোগ ছড়িয়ে বেড়ায়।
এছাড়াও এই রোগ এই মশার মাধ্যমে কিন্তু আরেকজনের শরীরে বাহিত হয়ে এভাবে রোগের পরিমাণ বাড়াতে থাকে। আসলে এখন যদি সরকার এইসব গ্রামে গ্রামে গিয়ে সবাইকে ধরে ধরে ডেঙ্গু পরীক্ষার টেস্ট করায় তাহলে কিন্তু এত সংখ্যক লোক আমাদের এই দেশে রয়েছে তার জন্য কিন্তু সরকারকে হিমশিম খেয়ে যেতে হবে। আসলে এখন সরকার যত চেষ্টা করুক না কেন তারা কিন্তু কখনো ডেঙ্গু সম্পূর্ণরূপে নিধন করতে পারেনা। কেননা মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে এই রোগকে সম্পূর্ণরূপে কন্ট্রোল করা মোটেও সম্ভব হবে। একমাত্র মানুষই পারে এই রোগটা সম্পূর্ণরূপে কন্ট্রোল করে ফেলতে। আসলে এভাবে যদি ডেঙ্গুর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পায় তাহলে মানুষ সব থেকে বেশি কষ্ট পাবে এবং এর ফলে প্রচুর পরিমাণ মানুষ প্রতি বছর মারা যাবেন।
তাইতো যেখানে সেখানে আমরা নোংরা আবর্তন না ফেলে যদি নির্দিষ্ট স্থানে নোংরা আবর্জনা ফেলি এবং এই বর্ষাকালে যেখানে জল আবদ্ধ হয় সেসব আবদ্ধ জায়গা যদি মাটি দিয়ে ভরাট করে দিতে পারি তাহলে কিন্তু এই রোগের পরিমাণ আরো অনেক বেশি কমে যাবে এবং এর ফলে কিন্তু মানুষ আর এত এই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবে না। আসলে এজন্য আমাদের সব সময় এসব গ্রামে যেখানে প্রচুর পরিমাণে অশিক্ষিত লোক বসবাস করে তাদেরকে এই ডেঙ্গুর সম্পর্কে বোঝাতে হবে এবং যেভাবে ডেঙ্গু হয় সেই সব কাজগুলো যাতে তারা না করে এজন্য তাদেরকে অবশ্যই সচেতন করতে হবে। আর এর ফলে এইসব ডেঙ্গুর পরিমাণ একদিক থেকে কমে যাবে তেমনি অন্যান্য সবাই এই ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হয়ে আর এই ডেঙ্গু দ্বারা কখনো ভয় পাবে না এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে।
আশাকরি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
আপনি ঠিক বলেছেন ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে আগে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কারণ মানুষজন যত সচেতন হবে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে আর মশা থেকে মুক্তিতে থাকবে। আমরাই পারি আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে গড়তে এবং ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগবালা থেকে পরিবারের সদস্যদের টিকিয়ে রাখতে।
আপনার পোস্ট টা জনসচেতন মূলক একটা পোস্ট। ইস এটা যদি আমি বাংলাদেশের মানুষ কে ধরে ধরে পড়াতে পাড়তাম। এইতো আর কিছুদিন পরেই শুরু হবে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বিশেষ করে ঢাকা শহরে। কিন্তু এগুলোর জন্য যে আমরাই দায়ী এটা মানুষ কে বোঝাবে কে??