অনু-কবিতা :- ০৭
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই। আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আপনারা সবাই সুস্থ আছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা এবং আপনাদের আশীর্বাদে আমিও সুস্থ আছি। আজ আমি আমার লেখা সপ্তম অনু-কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
সোর্স
আমাদের এই অন্ন যোগাতে গিয়ে কত কৃষকই তাদের প্রাণ দিয়েছে তা কি কখনো ভেবেছেন। আর এই আমাদের দেশের কৃষকরা কিভাবে দিনযাপন করছে তা কি কখনো ভাবার কারো সময় হয়েছে। আসলেই গরিব কৃষকরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের জীবনের উন্নতি করতে পারে না।
একজন কৃষক যত্ন করে তার জমিতে সারা বছর ভালো ধান ফলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের এই দেশে সারা বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তাদের ধান প্রায় প্রতিবছরই নষ্ট হয়ে যায়। এখনকার সময়টা ভাবুন না। চারিদিকে এখন বিভিন্ন জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার বৃষ্টির সাথে শিলও পড়ছে। আর এর ফলে এই কৃষকদের জমির পাকা ধান সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আসলে একজন কৃষক তার অল্প পুঁজি দিয়ে সর্বস্ব করার চেষ্টা করে। আর এই ফসল খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে তাকে সারা বছর অনাহারে কাটাতে হয়। আসলে কৃষকদের পরিশ্রমের কোন ঘাটতি থাকে না। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারা বছরই পরিশ্রম করে। আরে কৃষকরা যখন ফসল বিক্রি করতে যায়, তখন কিছু দুষ্টু মহাজনরা তাদের ঠকিয়ে অল্প দামে ফসল কিনে নেয়। দুঃখ নিয়ে কৃষকরা বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে তাদের বাচ্চাকাচ্চারা অপেক্ষা করে বাবা বাজার থেকে কিছু নিয়ে আসবে। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও তাদের মুখে সুখের হাসি থাকে না।
তাই দরিদ্র কৃষকদের সাহায্যে এগিয়ে আসা আমাদের সকলের উচিত। আমাদের সরকারকে এই কৃষকদের প্রতি একটু সহৃদয় দৃষ্টিতে তাকাতে হবে। তাদের জন্য সঠিক দামে ফসল কেনার জন্য সরকারকে তৎপর হতে হবে। কারণ যে ফসল তারা ১০ টাকায় বিক্রি করে সেই একই ফসলি আমরা ১০০ টাকায় কিনে খাই। টাকার পার্থক্য কতটা আপনার বুঝতেই পারছেন। কৃষকরা যদি কখনো ধান না ফলায় আপনারা কি কখনো ভেবেছেন কি খাবেন? তাই সর্বস্তরের লোকদের আমার অনুরোধ আপনারা অল্প হোক বেশি হোক কৃষকদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
শহরের খেটে খাওয়া দিনমজুররা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারাদিন পরিশ্রম করে দুমুঠো অন্নের সন্ধানে। তাদের নিজস্ব না থেকে কোন জায়গা না থাকে কোন বাড়ি। ভবঘুরে হয়ে তারা রাস্তার পাশে দিন কাটায়। ঘরে থাকে না তাদের অন্ন। একদিন কাজ না করলে তারা পরের দিন কি খাবে সেটা ভেবে কুল পায় না। কারণ তারা দিন আনে দিন খায়।
আর এই সব শ্রমিক লোকেরা যেসব মহাজনদের অধীনে কাজ করে তারাও কিন্তু তাদের সঠিক পারিশ্রমিক দেয় না। তাদের পাওনা অংশ থেকে তারাও টাকা কেটে নেয়। আর কোনো ভুল হলে তো তাদের আর রক্ষা নেই।
আসলে এসব শ্রমিকদের সরকারের সুদৃষ্টিতে আনতে হবে। আমাদের দেশে সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টায় তারা এইসব শ্রমিকদের জন্য সারা বছর বিভিন্ন ধরনের কাজের সন্ধান দিয়ে থাকেন। এর ফলে এই শ্রমজীবী মানুষেরা এখন একটু ভালোভাবে দিন যাপন করছেন। তাই শ্রমিকদের ঘৃণার নজরে নয়, ভালোবাসার নজরে দেখুন এবং ভালোবাসুন।
০১
সোনার ফসল ফলায় যারা,
রোদে পুড়ে মাঠে।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
অন্ন যোগায় মোদের।
সারা বছর কষ্ট করে,
দুবেলা আহার খেয়ে।
দিনরাত পরিশ্রম করে,
সোনার ফসল পেতে।
ফসল কাটার সময়,
হয় মুষলধারে বৃষ্টি।
হাসির বদলে দুঃখ আসে,
বিধাতার হবে কবে সুদৃষ্টি।
০২
আমাদের দেশের দিনমজুর,
সব সময় করে কঠোর পরিশ্রম।
ভুল হলে তাদের লাথি মারে,
সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিজন।
দুটো অন্নের খোঁজে তারা,
করে কঠোর পরিশ্রম।
সংসারে তাদের বাচ্চাগুলো,
অপেক্ষায় তাদের বাবা আসবে কখন।
কখনো কি ভেবেছেন,
এরাও রক্তে মাংসে মানুষ।
করবেন না তাদের অবহেলা,
তাদেরও আছে জীবন।
আসুন আমরা সবাই মিলে,
করি তাদের সমাদর।
বেশি কিছু না পারলেও,
করবেন না কখনো অপমান।
আশাকরি আপনাদের সবার খুব ভালো লেগেছে আজকের পোস্টটি । ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না।
আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
আসলেই বাংলার এই কৃষকরা কতইনা পরিশ্রম করে আমাদের জন্য অন্ন তৈরি করে। আমরা তাদের নিয়ে একটুও ভাবি না। আর তারাও নিজেদের উন্নতি করতে পারে না। অথচ তারাই পরিশ্রম করে আমাদের জন্য খাবার তৈরি করে। উন্নত প্রযুক্তি গুলো যদি আমাদের দেশে একদম পুরোপুরি কাজে লাগানো যেত তাহলে তাদের পরিশ্রম কিছুটা কমত। সুন্দর কিছু কবিতা রচনা করেছেন বেশ ভালো লাগলো ।
আসলে আমরা যদি সবাই এগিয়ে আসি তাহলে এই কৃষকদের আর কোনো কষ্ট হবে না।
জি ভাইয়া আমাদের দেশের কৃষকরা অনেক পরিশ্রম করে । তা আমার কখনো ভেবে দেখিনি। আর এই গরিব কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের জীবনে উন্নতি আনতে পারেনা। আজকের অনু কবিতাটি অনেক সুন্দর ছিল ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে
এই কৃষকদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। নিজেদের উন্নতির জন্য এরা সব সময় কঠোর পরিশ্রম করে।
বাহ দাদা বেশ চমৎকার কিছু অনু কবিতা শেয়ার করেছেন। আসলে অনু কবিতা আমার অনেক ভালো লাগে। আর এটি অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমাদের rme দাদার থেকে। ধন্যবাদ চমৎকার কিছু অনু কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য।
এটা ঠিক যে দাদার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।
জি এটা একদম ঠিক দাদা।
প্রথমে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আজ আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর ভাবে বেশ কিছু অনু কবিতা লিখে উপস্থাপন করেছেন। যে সমস্ত কবিতাগুলো আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। আপনার এত সুন্দর কবিতা লেখার ধরন দেখে আমি সত্যি অনেক আনন্দিত।