পিঁপড়ে মসাইর ভোটার আইডি কার্ড।//১০% লাজুক-খ্যাকের জন্য।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago (edited)
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।

নিজের সেরাটা শেয়ার করার জন্য এবং শিশুসুলভ পোষ্ট ও কমিউনিটির সৃজনশীলতা রক্ষার্থে আমি চেষ্টা করব একেক দিন একেক বিষয় নিয়ে হাজির হতে।

হাজির হলাম আপনাদের সামনে নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে।

SquareBlend_2022130211922436.jpg

লোকাশন:
https://maps.app.goo.gl/apJDqrSedZJ42xQR6

বন্ধুরা আমি আজকে আপনাদের সাথে একটি মজার গল্প নিয়ে হাজির হলাম, সাথে কিছু ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি নিয়ে আসালাম।



আর ফটোগ্রাফিকে কেন্দ্র করেই আজকে এটা আমার বানানো গল্প।আমি আশা করি পুরো গল্পটা পড়লে আপনাদের ভালো লাগবে ।



আজকের গল্পটা একদমই আমার কল্পনা থেকে তৈরি করা। এখানে কোন প্রকার কপিরাইট অথবা কারো গল্পের সাথে কোনভাবেই মিলবে না।



কারণ এটা আমি আমার মনগড়া একটা গল্প বানিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই যেটা ফটোগ্রাফি সম্বন্ধীয়।চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

গল্পের নাম : পিঁপড়ে মসাইর ভোটার আইডি কার্ড।

IMG_20220130_210504.jpg

একদা গিয়েছিলাম পিঁপড়ে মসাইর
বাসায় নিমন্ত্রণ ছাড়া। সেখানে তাদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটো তোলার জন্য।যদিও তাদেরকে কোন ভাবে ইনফরমেশন দেওয়া ছাড়াই আমি চলে গিয়েছিলাম তাদের বাসায়।


আর সেই সময়টা ছিল শীতের সকাল। শীতের সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে পিঁপড়েরা তাদের বাসার সামনে এসে রোদ পোহাচ্ছে,আর মিটিমিটি কিছু কুয়াশার ফোটা পড়ে রয়েছে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে।রোদের আলোতে চিক চিক করছিলো।


এই অবস্থায় আমি গিয়ে পৌছালাম পিঁপড়ের বাসায়। তখন পিঁপড়ে মসাইরা তো সবাই রাগ।আমাকে আর আমার ক্যামেরাকে দেখেই তারা চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিলো।তারা বলতে লাগলো যে এই আবার কে ক্যামেরা নিয়ে হাজির আমাদের বাসায়।



আমিও তখন তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করি, যে তোমাদের ভোটার আইডি কার্ড বানানোর জন্যই, আমি তোমাদের ফটো তুলতে এসেছি।


কিন্তু নাছোড়বান্দা পিঁপড়েরা, তারা তো বুঝতেই রাজি না কোনো ভাবে। তারা কৃপণতা না করে শুরু করে দিলো হাঙ্গামা। তাদের কেউ মারামারি শুরু করল, কেউ আবার আমার ক্যামেরার গ্লাস ভাঙ্গার চেষ্টা শুরু করলো।



কেউবা কামড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে চেষ্টা করেছিল আমার ক্যামেরাকে। কিন্তু আমার ক্যামেরা বুলেটপ্রুফ এবং শক্তিশালী থাকাতে তারা আমার ক্যামেরার উপর হামলা করেও কিছু করতে পারেনি।

আমি একজন ভদ্র সমাজের নাগরিক তাই বলে তাদেরকে আমি কিছুই করলাম না। শুধু নীরবে অত্যাচার সহ্য করে কিছু ফটো তুলে নিলাম তাদের।আর আমি সময় মত সেখান থেকে কেটে যাওয়ার প্ল্যান করি।



সেখানে কিছুক্ষণ তাদের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে, আমার ক্যামেরা তাদের কিছু ফটো কালেকশন করল। তারপর সেখান থেকে চলে আসতে লাগলাম, কিন্তু ঘটে গেল আরেকটি আচমকা কারবার।

আর সেটা হলো একটা পিঁপড়ে হাঙ্গামা করতে গিয়ে আমার ক্যামেরার ম্যাক্রো লেন্স এর ভিতরে তার পা আটকে দিয়ে সে বসে আছে। আর চিল্লাচিল্লি করতেছিল বাচাও বাচাও।

20220130_213122.jpg

আমিও সুযোগ পেয়েছি যেহেতু ভদ্র সমাজের লোক কি করে তাদের গায়ে হাত তুলি, আমি আর কিছুই করলাম না। আমি তাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলাম হাইকোর্টে।

20220130_213500.jpg

সেখানে গিয়ে একজন উকিল এর মাধ্যমে সে পিঁপড়েটা যিনি আটকে গিয়েছিল আমার ক্যামেরার লেন্সের পাশের চিপায়, তখন আমি তার ফটো তুলে নিলাম।

20220130_213044.jpg

কারণ আমার চিন্তা হলো তার নামে মামলা করব, আর যথাযথ এভিডেন্স না থাকলে মামলাটা শক্ত হবে না। যার কারণে তাকে নিয়ে আমি কোর্টে চলে গেলাম, এবং সেখানে ফটো উঠিয়ে তাদের জন্য মামলা করতে সক্ষম হলাম।


মামলা করা শেষে ফটোগ্রাফি শেষে, সবশেষে পিঁপড়েটাকে আমি যেখানে ছিলাম ওই অবস্থাতে ওইখানে ছেড়ে দিলাম, তবুও তার উপরে হাত তুললাম না।



কেননা আগেই বলেছি ভদ্র সমাজের লোক বলে কথা যাইহোক এভাবেই আজকে এই পিঁপড়ার ফটোগ্রাফি গুলা করলাম।

আর ফটোগ্রাফি করা শেষে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে, বা কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন।


নোট : শীতের ফটোগ্রাফী কনটেস্ট এর জন্য বের হয়েছিলাম ফটোগ্রাফি করতে, সেখানে ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে খুঁটিনাটি কিছু ফটোগ্রাফি করি।তারপর পিঁপড়ার বাসায় গিয়ে ফটোগ্রাফি করি, যার কারণে মজাদার একটি গল্প আমি তৈরি করেছি।এটি আমার নিজ থেকে আমার মন গড়া গল্প। এটি কারো সাথে মিলবে না, যদিও কোন ভাবে দু-একটা লাইন মিলে থাকে সেটা কাকতালীয়। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম

আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনের সাথে নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক

images (2).png

𝒩ℰ𝒱ℒ𝒰123

images (2).png

20211126_191305.jpg

আমি বাংলাদেশ থেকে এমদাদ হোসেন নিভলু। আমার স্টিমিট আইডি হল @ nevlu123। আমি ফেনী জেলায় থাকি। আমার কাজ কম্পিউটার শেখানো, আমার একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। যেখানে আমি স্টিমিট কাজের পাশাপাশি আমার সময় কাটাই। @nevlu123 নামে আমার একটি ডিসকর্ড অ্যাকাউন্ট আছে। আমার বয়স এখন 30 বছর। আমি জাতিগতভাবে মুসলিম বা আমি মুসলিম কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি কারণ আমি বাংলা বলি তাই ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি।
images (2).png

পোষ ও ফোনের বিবরণ

ক্যামেরাস্যামসাং গ্যালাক্সি
ধরণগল্প
ক্যামেরা.মডেলএম ৩১
ক্যাপচার@নিভলু১২৩
সম্পাদনাশুধু সেসুরেশন
অবস্থানবাংলাদেশ

সবার প্রতি শুভেচ্ছা এবং এই পোস্টটি সমর্থনকারী সকল বন্ধুদের বিশেষ ধন্যবাদ।

Sort:  
 4 years ago 
  • ভাইয়া পিঁপড়ের ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। আপনি খুবই দক্ষতার সাথে ফটোগ্রাফি গুলো করেছেন এবং গল্পটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। অনেক মজার ছিল। আপনার জন্য রইল শুভকামনা।
 4 years ago 

মজা করেই গল্পটা বানানো,ধন্যবাদ আপনাকে ভাই সব সময় পাশে থাকার জন্য।ভালো থাকুন এই কামনা করি সবসময়

 4 years ago 

পিঁপড়ের ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে ভাই। সেই সঙ্গে পিপড়ের ফটোগ্রাফিগুলোর নিচের লেখা গল্প অনেক সুন্দর লেগেছে।ধন্যবাদ আপনাকে।

 4 years ago 

গল্প সহ পিঁপড়ার পোস্ট সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জন্য ধন্যবাদ,

অনেক ভালো মাইক্রো ফটোগ্রাফি করেছেন পিঁপড়ার। গল্পটাও বেশ মজাদার লিখেছেন আপনি।ভদ্র সমাজের লোক বলে আইন নিজের হাতে তুলে নেন নি বরং প্রমাণসহ কোর্টে চলে গিয়েছেন😂😂। কোর্টে হাজির এর তারিখ জানিয়ে দিয়েন তাদেরকে😅 । শুভকামনা আমার পক্ষ থেকে।

 4 years ago 

হাহাহা,,,ঠিক আছে ভাই জানিয়ে দিবো।ধন্যবাদ গল্পটা পড়ার জন্য।

 4 years ago 

অসম্ভব সুন্দর হয়েছে আপনার ফটোগ্রাফি গুলো। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি দেখার মত ছিল। সেই সাথে আপনার গল্পটা বেশ জমে গেছে দারুণ মাখোমাখো একটি ব্যাপার হয়ে গেছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

 4 years ago 

ধন্যবাদ ভাই পাশে থাকার জন্য।।।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.103
BTC 64107.99
ETH 1859.67
USDT 1.00
SBD 0.39