প্রিয় মানুষদের সঙ্গে জয়নুল আবেদিন পার্কে কিছু সময়। (প্রথম পর্ব)
শুভ রাএি 🌃
আজ ২৪ শে আগষ্ট ,
শনিবার ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ।
আসসালামু আলাইকুম,
আমি @nazmul01 ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ থেকে।
হ্যালো "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবার। কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম প্রিয় মানুষদের সঙ্গে জয়নুল আবেদিন পার্কে কিছু সময় (প্রথম পর্ব) পোস্ট নিয়ে। আশাকরি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করি
দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর, আমি এবং আমার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলাম জয়নুল আবেদিন পার্কে। গত দুই সপ্তাহ আগে দেশের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় ঘর থেকে বাহিরে যেতে পারছিলাম না। দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ছিলো না ওয়াইফাই সহ ফোনের ইন্টারনেটের সুবিধা। তাই সময় সুযোগ করে আমার প্রিয় বন্ধু বিপ্লব এবং আমার কলিগ সোহাগ ভাইকে সঙ্গে করে কিছু সময় অতিবাহিত করেছিলাম প্রকৃতির মাঝে। দেশের পরিস্থিতি ভালো হওয়ার পর অনেকেই গিয়েছিল জয়নুল আবেদিন পার্কে। আমরা সকলে মিলে সময়টুকু অনেক এনজয় করেছি। সোহাগ ভাই ঘুরতে অনেক পছন্দ করেন। আমি নিজেও একজন ভ্রমণ পিপাসু।
দিনটি ছিল শুক্রবার, আমরা সবাই পরিকল্পনা করে বিকেলের দিকে বের হয়েছিলাম। অটো দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছিল। এই বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই ভালো লেগে ছিলো। আমরা অটো থেকে নেমে পার্কের ভেতরে ঢোকার সময় দেখতে পেলাম বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের আর্ট করছিলো। প্রতিটি আর্ট দেখে আমি সত্যিই খুব অবাক হয়েছিলাম। প্রতিটি দেয়ালিকা ও আর্টের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা ফুটে উঠেছিল। ধর্মের কোন ভেদাভেদ নাই, আমরা সকলেই মানুষ। স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো এই ধরনের লেখা প্রতিটি দেয়ালে ফুটে উঠেছিল। চারিদিকের পরিবেশ অনেক সুন্দর ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি নতুন কোনো শহরে এসেছি।
কিছুক্ষণ সামনে যাওয়ার পর শহীদ মীর মুগ্ধ ও আবু সাঈদ এর ছবি অংকন করা দেখতে পেলাম। দেখে খুবই ভালো লাগলো। তাদের জন্য মন থেকে শ্রদ্ধা ও দোয়া রইলো। তাদের এই আত্ম ত্যাগ আমরা কখনো বলবো না। তারপর আমি কিছু ফটোগ্রাফি করে পার্কের ভিতর প্রবেশ করি।
জয়নুল আবেদিন পার্কে ভেতর ঢুকে মন জুড়িয়ে গেল। অনেক মানুষ সেদিন পার্কে এসেছিলো। দীর্ঘ সময় ঘরে বন্দি থাকার পর শুক্রবার ছুটি পেয়ে আমাদের মতো অনেকেই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের মাঝে ঘুরতে এসেছিল। অনেকেই সপরিবার নিয়ে এসেছিল। অনেক দিন যাবৎ পার্ক বন্ধ ছিলো তাই কেউ আসতে পারেনি। দীর্ঘ সময় হাঁটার পর আমরা তখন একটি গাছের নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
দীর্ঘ সময় বসে আড্ডা দেওয়ার পর সোহাগ ভাই বলে উঠলো চলেন আমরা চা খাই। এখানকার চা অনেক ভালো। তখন আমি ও আমার বন্ধু বিপ্লব এবং সোহাগ ভাই চলে গেলাম নদীর পাড়ে। নদীর পাড়ে অনেক মানুষ ছিল, সবাই বসে বিভিন্ন ধরনের চা খাচ্ছিল। চলে গেলাম আমাদের সকলের পরিচিত মামার দোকানে। সোহাগ ভাই চা অর্ডার করলো। মামার দোকানে লেবু চা, পিনিক চা, বুলেট চা, সহ আরোও অনেক ধরনের চাওয়া পাওয়া যায়। আমরা স্পেশাল আঁদা লেবু চা অর্ডার করলাম। মামার দোকানের চা মুখে লেগে থাকে, একবার খেলে আবারো খেতে ইচ্ছে করে।
এই পার্কের চা গুলো খুবই ভালো লাগে, অনেকে আসে সন্ধ্যা বেলা চা খাওয়ার জন্য। তখন হঠাৎ করে আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়। সেও আমাদের আড্ডায় যোগদান করেন। তখন আমি সবার সঙ্গে একটি সেলফি নিয়েছিলাম। ছবি দেখেই বুঝতে পারবেন আমরা সকলেই অনেক হাসিখুশি ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই চা এসে হাজির। প্রতি কাপ চায়ের মূল্য দশ টাকা ছিল। তখন আমরা সবাই চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। যাইহোক এ ছিলো আমার আজকের আয়োজন, আশাকরি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে জয়নুল আবেদিন পার্কে কাটানো কিছু সময়ের প্রথম পর্ব আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। কেমন লেগেছে তা অবশ্যই জানাবেন? আপনাদের সবার মতামত আশা করছি। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিলাম। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ💞।
| বিভাগ | ভ্রমণ। |
|---|---|
| ডিভাইস | শাওমি রেডমি ৯। |
| বিষয় | প্রিয় মানুষদের সঙ্গে জয়নুল আবেদিন পার্কে কিছু সময়।(প্রথম পর্ব) |
| লোকেশন | ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ। |
| ফটোগ্রাফার | @nazmul01। |
আমি মোঃ নাজমুল হাসান, আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় থাকি। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি বাঙালি। বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব বোধ করি। আমি একজন শিক্ষার্থী এবং অনার্সে অধ্যয়নরত। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া কবিতা,আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না করা আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এবং বাহিরে খাবার খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটি একটি পরিবারের মতো। আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
| ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য | এখানে ক্লিক করেন |
|---|
https://x.com/nazmulhasanbd01/status/1827059952625844452?t=YtRpYtat_uH3oFnt2z3GhQ&s=19