কমিশন বন্ধু
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে নতুন ব্লগ শুরু করলাম।
মাঝে মাঝে কিছু বন্ধুকে নিয়ে গর্ব হলেও কিছু বন্ধুকে নিয়ে অনেক খারাপ লাগে। কিছু ধরনের বন্ধু থেকে দূরে থাকাটা খুবই শ্রেয়। আজ আমি ভিন্ন ধরনের কিছু বাস্তব কথা তুলে ধরব। এক শ্রেণীর বন্ধু থেকে দূরে থাকা ভালো। আপনারা যদি পুরো পোস্ট পড়েন তাহলে বিষয়টা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
আমি কমিশন বন্ধু বলতে বুঝাতে চেয়েছি, যে বন্ধুগুলো যেকোনো কাজ থেকেই কমিশন খায়। অর্থাৎ আপনার বন্ধুকে বললেন একটি কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য। আপনার বন্ধু কি করলো, সেখান থেকে কমিশন খেয়ে বসলো। যেমন একটি বাস্তব ঘটনা আপনাদের মাঝে শেয়ার করি।
চার থেকে পাঁচ মাস আগে আমার এক বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়। হঠাৎ করে রাত বারোটার দিকে আমাকে কল করে। রাতে আমি তাদের বাসায় যাই। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম কোন বিপদ হয়তোবা। কিন্তু যাওয়ার পর দেখলাম হঠাৎ করেই বড় ভাইয়ের বিয়ে। পরের দিন গায়ে হলুদ, এরপরের দিনে বিয়ের অনুষ্ঠান। অনেক বড় করে অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছিল বড় ভাই।
আমার জানামতে তার সাথে অনেকগুলো বন্ধু থাকে। আমি হলাম তার ছোট ভাই। আমাকে তিনি বললেন পরের দিনের সকল অনুষ্ঠানের লাইটিং থেকে শুরু করে সব আমাকে ধরিয়ে দিতে হবে। এক কথায় বিয়ের সকল অনুষ্ঠানের দায়িত্ব আমার। এক পাশে নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কয়েকজন বন্ধু রয়েছে এই কাজ করে, তাদের মাধ্যমে যদি কাজগুলো করাতে পারেন তাহলে খুবই সাশ্রয় হবে।
তার কাছে কথাগুলো যখন বললাম, তিনি আমাকে কথার মধ্যে চুপ করিয়ে দিলেন। তখন তিনি কিছু কথা বলতে লাগলেন। তার একজন বন্ধু ছিল জুম্মন। এর কিছুদিন আগে জুম্মন তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিল। পরে বড় ভাই জানতে পারলো সেখান থেকে ৩০ হাজার টাকা তার বন্ধু খেয়েছে। শুধু তাই নয়, এর কয়েকদিন আগে তার মাকে ডাক্তারের কাছে দেখিয়েছিল ওই বন্ধু। সেখান থেকেও ২০০০ টাকা মেরে দিয়েছিল জুম্মন। এছাড়াও ঘরের ফার্নিচার কিনতে তার সাহায্য নিয়েছিল, সেখান থেকে ৭ হাজার টাকা কমিশন খেয়েছে। শুধু তাই নয় তাদের বাসায় একজন হুজুর এর মাধ্যমে সালাত ও সালাম মাহফিল করিয়াছিল, সে হুজুরের থেকেও কমিশন খেয়েছিল জুম্মন।
শুধু তাই নয় তাকে এয়ারপোর্ট থেকে যখন নিয়ে এসেছিল, যে গাড়ি করে, সে গাড়ির ড্রাইভার থেকেও কমিশন খেয়েছিল। একে একে এভাবে অনেকগুলো কথা আমাকে বলেছে। আমি শুনে অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি খুবই অবাক হয়ে গেলাম। শুধু তাই নয়, বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেল সব সময় জুম্মন ব্যবহার করে, অর্থাৎ যে কোন সময় গাড়ির তেল ঢোকাতে তাকেই বলতো, কিন্তু এক হাজার টাকার তেল ঢুকিয়েছে বলে ৫০০ টাকা পকেটে ঢুকিয়ে ফেলতো। তার কথাগুলো শুনে হতবাক হয়ে গেলাম।
বিষয়গুলো বড় ভাই তাকে বুঝতে দেয় নাই। ধীরে ধীরে তার থেকে দূরে সরে আসতেছিল। এজন্য আমাকে কল করে সবকিছুর দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি তাকে বললাম এই ধরনের বন্ধু থেকে 100 হাত দূরে থাকা শ্রেয়। অনেক বিপদে তাকে পাওয়া যায় এজন্য তিনিও কিছু বলতে পারতেছে না।
ছোট এই গল্প থেকে অনেক কিছুই শেখার রয়েছে। আমাদের আশেপাশেও এ ধরনের বন্ধু অনেক বেশি রয়েছে। যারা বিপদ আপদ ও বুঝেনা, সব ক্ষেত্রে থেকেই টাকা কমিশন খেয়ে থাকে। আমি এই ধরনের বন্ধু থেকে ১০০ হাত দূরে থাকি। সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান করছি। এ ধরনের বন্ধু চিহ্নিত করা খুবই প্রয়োজন। যেকোনো সময় টাকার জন্য আপনাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। আমি কি বুঝাতে চেয়েছি আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন। আপনার উপলব্ধি অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আমার নাম নুরুল আলম রকি। আমার steemit I'd narocky71। আমি বাংলাদেশী নাগরিক । বাংলাদেশে বসবাস করি। তার সাথে সাথে আমি বিশ্বনাগরিক। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি। আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। আমি ফটোগ্রাফি করতে ও ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে জল রং দিয়ে পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যখনই আমার সময় এবং হাতে টাকা থাকে তখন ভ্রমণ করতে বেরিয়ে পড়ি। বিশেষ করে আমি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি অনেক বছর আগ থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি বেশি করা হয়। বর্তমানে তার সাথে আর্ট করতে অনেক ভালোবাসি। বর্তমানে আমি বেশি সময় কাটাই আর্ট শিখতে। বর্তমানে আমার স্বপ্ন, আমি একজন ভালো ফটোগ্রাফার, ও একজন ভালো আর্টিস্ট হব। ( ফি আমানিল্লাহ)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy
https://twitter.com/NARocky4/status/1593062172078510080?t=Y0flIrA5Za0kNbhoKQaFVg&s=19
ভাই জুম্মান যে হারে কমিশন খায় তাতে তাকে বলাই যায় সেই রকম কমিশন খোর। মোটরসাইকেল, চিকিৎসার জন্য টাকা, আসবাবপত্র জন্য, এমনকি হুজুরের টাকার কমিশন খেয়েছে।ভাই মোটর সাইকেলের তেলেরও কমিশন খায়। আসলে এধরনের কমিশন খোর মারা যাবার পরে তার কাপনেরও তো কমিশন খাবে। যাক নতুন এক কমিশন খরের সাথে পরিচয় করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হাহা হা ভাই। যথাযথ বলেছেন। আগে যদি জানতাম তাহলে নামটা সেই রকম কমিশন খোর দিতাম।
আসলেই এমন বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। বন্ধুর কাজে যদি টাকা কম পড়ে যায় তাহলে নিজের পকেট থেকে দিয়ে দেয় কিছু বন্ধু। আবার কিছু বন্ধু কাজের সময় যদি ১০০০ টাকায় শট পড়ে বলে যে ২ হাজার টাকা শট পড়েছে। আপনার সাথে সহমত এরম বন্ধু থেকে ১০০ হাত দূরে থাকাই শ্রেয়। যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এই স্টোরিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ভাই আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ রয়েছে এমন। তাদের থেকে সচেতন থাকা খুবই প্রয়োজন।
এখনকার দিনে সত্যি কারের বন্ধু পাওয়া খুবই মুশকিল। সবাই শুধু নিজের স্বার্থ নিয়েই থাকে। কে কার কাছ থেকে কিভাবে কমিশন খেতে পারবে সেই ধান্দায় থাকে কিছু লোকজন। এই লোকের স্বভাবই মনে হয় সবার কাছ থেকে কমিশন খাওয়া। তা না হলে একজন কেউকেউ ছাড় দেয়নি সে। যাই হোক আপনার বড় ভাই খুব ভালো কাজ করেছে ধীরে ধীরে এই লোকের কাছ থেকে দূরে সরে আসছে। আর তার বিয়ের সকল দায়িত্ব আপনাকে দিয়েছে। শুভকামনা রইল আপনাদের জন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন আপু, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোকই আছে যারা সারাক্ষণ ধান্দায় থাকে। আমি এ ধরনের লোকগুলো থেকে অনেক দূরে থাকি
ভাই যথাসম্ভব আপনার মনের ভুলে হয়তোবা ক্যাপশনে আর থাম্বনেইলে বন্ধুর জায়গায় বন্ধ লিখে ফেলেছেন।
আমার একটা ফ্রেন্ডের সাথে আপনার বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ডের মিল পেলাম।আর সত্যি বলতে বিষয়টা উপলব্ধি করার পর থেকেই আমি ওর সাথে মেশা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছি।
এই ঘটনাগুলো থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিৎ। শুভ কামনা রইলো।
বানানটা আমি গুলিয়ে ফেলেছিলাম ভাই। বন্ধু আর বন্ধু দুটি গুলিয়ে ফেলেছি। এজন্য বানানটি ভুল হয়ে গিয়েছিল। সচেতন করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মানুষ যে কি করে অন্যের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সেটাই বুঝিনা। আসলে তার দ্বারা যদি অন্যের উপকার হত তাহলে হয়তো সৃষ্টিকর্তা খুশি হতেন। কিন্তু সে উপকারের নাম করে নিজেই সেখানে ক্ষতি করে বসে। বিশেষ করে ডাক্তারের কাছে গেলে এই কমিশনের ব্যাপারটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। আসলে এই ধরনের মানুষের সঙ্গ না দেওয়াই ভালো।
আপনি তা অবশ্যই ঠিক বলেছেন, তার দ্বারা যদি কোন উপকার হতো সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই অবশ্যই খুশি হত। ডাক্তারের যেকোনো ক্ষেত্রেই কমিশন ছাড়া এক পাও সামনে যাওয়া যায় না। বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই কমিশন
আজকাল দেখছি বন্ধুর ও কোন বিশ্বাস নেই। বন্ধু হয়ে কিভাবে প্রতিটা কথায় কমিশন নিতে পারে। এ তো দেখছি কমিশন বন্ধু হয়ে গেল। হুজুরের টাকা থেকেও কমিশন নেওয়া ছাড়লো না। এরকম লোক দেখছি শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। এরকম বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।,
যা পড়লাম তাতে করে তো মনে হচ্ছে জুম্মন এই বিজনেস করেই কোটিপতি হয়ে যাবে এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলবে। এই ধরণের মানুষগুলোকে প্রথমে আইডেন্টিফাই করে তারপর এদের থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব মেনটেন করতে হবে। এরা এই ভাবে নিজেদের জায়গা নষ্ট করে ফেলে।