ছোটদের ঘুড়ি উড়ানো
"আমার বাংলা ব্লগে আপনাদের সকলকে জানাই আমার সালাম"
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি আমার আজকের এই ব্লগ।আশা করি আমি আমার দক্ষতার মাধ্যমে আপনাদের সকলের নিকট ভালো কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো,এবং আপনাদের ও ভালো লাগবে।
মাঝে মাঝে ভাবি বড়ো হয়ে মনে হয় খুব ভুল করে ফেললাম। ছোটবেলাটাই মনে হয় বেশি ভালো ছিল। কিন্তু বিধাতার নিয়ম বদলানোর সাধ্য তো আর আমার হাতে নেই, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই বড়ো হয়ে গেলাম। তবে বড়ো হয়েও মনটা মাঝে মাঝে ছোটদের মত হয়ে যায়। ছোটদের যখন খেলতে দেখি প্রায় ওদের সাথে গিয়ে একটু দুষ্টুমি করি কিংবা খেলায় ওদের সাথে মিশে যাই।
আমি ছোট থেকেই গ্রামেই বড়ো হয়েছি। গাঁও এর হাওয়া বাতাস গায়ে মেখে,রাস্তার ধুলোবালিতে বুক ফুলে শ্বাস নিয়ে কিংবা গাঙের জলে লাফ মেরে কেটেছে আমার পুরোটা শৈশব। আগে ছোটবেলায় খেলার অন্তম একটা আকর্ষণ ছিল সবাই মিলে একসাথে ঘুড়ি উড়ানো। আমাদের এখানে স্থানীয় ভাষায় ঘুড়ির একটা নাম আছে সেটা হচ্ছে "গুড্ডি"। যাইহোক খাওয়া নাই দাওয়া নাই সবাই মিলে লেগে যেতাম ঘুড়ি বানাতে। তারপর শুরু হতো ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা কার ঘুড়ি কতদূর উপরে উঠে। কিন্তু মুস্কিল হতো ঘুড়ি উড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সুত পাওয়া যেত না। আর ছোট ছিলাম বিধায় সুত কিনার টাকাও থাকতো না,তখন মায়ের সেলাই বক্স থেকে সুতোর টোটা চুরি করতাম। আর ঘুড়ি উড়তে গিয়ে এমনও দিন গেছে সারাদিন না খেয়ে সবার সাথে ঘুড়ি উড়িয়েছি আর এর জন্য মার হাতের মার ও খেয়েছি প্রচুর।
অনেকদিন হয় এরম করে আর ঘুড়ি উড়ানো হয় না আর এখনকার বাচ্চাদের ও তেমন ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায় না। বর্তমানে সবাই মোবাইল আর ভিডিও গেম নিয়েই ব্যাস্ত কেউ গেম খেলছে আর পিচ্ছি পাচ্ছা গুলো তাদের আশেপাশে বসে গেম খেলা দেখছে।
যাইহোক হটাৎ করে কালকে দুইজন ছোটভাই এসে দেখতেছি ঘুড়ি উড়ানোর চেষ্টা করতেছে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের ঘুড়ি উড়তেছে না। আসলে ঘুড়ি বানানো ঠিক হয় নি তো তাই। শেষমেশ আমি আবার ঠিক করে দিলাম ওদের। তারপর গেলাম সবুজের প্রান্তরে তারপর মৃদু বাতাসে উড়ে গেলো গুড্ডি আর ওদের মুখে সেকি হাসি। ওদের হাসি দেখে আমিও তৃপ্ত কিছুক্ষণের জন্যে মনে হলো আবারো যেনো সেই ছোটবেলায় ফিরে এসেছি।
ঘুড়ি উড়ানোর ভিডিও:
যাইহোক আজকের মত এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের মত বিদায়।
আপনার আজকের এই পোস্টটি পড়ে আমার শৈশব স্মৃতি কথা মনে পড়ে গেল। সত্যিই শৈশব কালটা খুবই একটা মধুর সময়। আমিও ছোটবেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য মায়ের কাছে অনেক মারও খেয়ে। আপনার আজকের এই পোস্টটি আমার খুব সুন্দর লেগেছে।
ধন্যবাদ দাদা সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
কেউ যখন এভাবে মন্তব্য করে অনুপ্রাণিত করে তখন বেশ ভালই লাগে।😊
সত্যিই আপনার পোস্টটি পড়ে শৈশবের সেই দিনগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে আমি শহরে মানুষ হয়েছি, এভাবে ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ পাইনি। গ্রামে বছরে দুএকবার গেলেই শুধুমাত্র সুযোগ পেতাম। সত্যিই দারুন অনাবিল আনন্দ খুঁজে পাওয়া যেতো এই কাজগুলোর মধ্যে। আমার মনেও এই প্রশ্ন আসে কেন বড় হলাম?
এহে ভাই,তাহলে তো আপনি মেলা কিছু মিস করছেন জীবনে। গ্রামীণ জীবন যে কতটা আনন্দের এটা কেবল আমরা ফীল করতে পারি,আর আপনরা শুধু মিস করেন😁।
আসলে আগেকার দিনে গ্রামের ছেলে পেলেরা সবাই মনে হয় ঘুরি ওড়াতে বেশ পারদর্শী ছিল ।এটি এক অন্যরকম আনন্দের সময় ছিল ।আসলে বড় হয়ে গেলে মনে হয় আবারও সেই শৈশবে ফিরে যাই । এখনকার গ্রামের ছেলে রাও আগের মত আর ঘুড়ি উড়ায় না। এরাও এখন শহরের ছেলে মেয়েদের মত মোবাইলে আসক্ত হয়ে গিয়েছে । আসলে এখনকার শৈশব আগের মত মনে হয় না । আপনারা শৈশবের সবাই মিলে একসঙ্গে ঘুড়ি উড়াতেন সেটা মনে হয় সত্যি অন্যরকম আনন্দের ছিল । যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে ।
কোনো সন্দেহ নাই আপু। কারণ আগে ত আর এখনকার মতো মোবাইল ছিল না তাই খেলাধুলার সঙ্গিয় ছিল ঘুড়ি উড়ানো, লাঠিম ঘুরানোর,মার্বেল খেলা আরো কত কি।😊
আপনার পোস্টটি দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছোট্টবেলায় দেখতাম এই ঘুড়ি নিয়ে ছেলেরা কত আনন্দ করতো আর এখনকার সময় শহরের বাচ্চারা সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত। সত্যি কথা বলতে
গ্রামে ও শহরে সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত তাই আনন্দগুলো চলে যাচ্ছে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
আসলে সব প্রযুক্তির কল্যাণে।
প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে,ঠিক ততটাই জীবনে থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে।
ঘুড়ি উড়ানোর দুটি পোস্ট একসাথে দেখতে পেলাম এতে করে ডাবল আনন্দ পেলাম।।
ফেলে আসা শৈশবটা সত্যি অনেক হৃদয়স্পর্শী ও মধুময়।।
ফটোগ্রাফি এবং উপস্থাপনা অনেক সুন্দর ছিল ভাইয়া মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ছোটবেলার কথা ধন্যবাদ।।
আরেহ ব্যাপারটা তো দেখি জোস হয়ে গেলো।
আর আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই সুন্দর সাবলীল মন্তব্য করার জন্য।🖤
আপনাদের এরকম সুন্দর সুন্দর পোস্ট গুলো দেখলে ভীষণ ভালো লাগে। ছোটবেলার স্মৃতি গুলো খুবই তাড়াতাড়ি মনে পড়ে যায়। ঘুড়ি উড়াতে আমার তো ভীষণ ভালো লাগতো। সলা সুতা আর পলিথিন দিয়ে কতই না ঘুড়ি তৈরি করেছিলাম। এখনো সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আবার ছোটবেলায় চলে যেতে ইচ্ছে করে। ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে কতই না পড়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। এখনো আমার পায়ের মধ্যে একটি ব্যথার দাগ রয়ে গিয়েছে। আপনার পোস্টটি দেখে সেই কথাগুলো ভীষণ মনে পড়তেছে। এভাবে পুরো পোস্টে আমাদের মাঝে তুলে ধরলেন।
ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে এরকম কত হাত পা ছিল গেছে তার কোনো হিসাব নেই।একবার তো ঘুড়ি গেছে আটকে গেছিলো আর সেটা পাড়তে গিয়ে আমিয় পড়ে গেছিলাম।তবে যাইহোক সেই দিন গুলাই বেশি ভালো ছিল।😊
আসলেই ভাইয়া ঘুড়ি ঠিক করে না বানালে জীবনেও উড়বেনা।যাক পরে আপনি ঠিক করে দেওয়ার পর সবুজ প্রান্তরে ঘুড়ি উড়িয়ে বাচ্চারা অনেক খুশি হয়েছে ভিডিও দেখে বুঝতে পারলাম ধন্যবাদ সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য ভাইয়া।
আসলে ঘুড়ি ব্যালান্স না হলে উড়ে না এই জন্য।
যাইহোক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ।
সত্যি ভাই ছোটদের ঘুড়ি ওড়ানো খুবই মজার একটি কাহিনী। আমিও ছোটবেলায় আমার জীবনে অনেক ঘড়ি উড়িয়েছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন সবাই মিলে একসাথে এক জায়গায় বসে ঘড়ি তৈরি করতাম। বিকেল বেলায় একসাথে মাঠে উড়াতে গিয়ে একে অপরের ঘড়ির সাথে বাঁধিয়ে দিয়ে ছেড়ে দিতাম ভাই সেই মজার কাহিনী গুলো আবারো আপনি আজকে মনে করিয়ে দিলেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
হ্যা ভাই সেই দিনগুলো সত্যিই দারুন ছিল এবং অনেক আনন্দের ও বটে।
আজকে আপনার পোস্ট পড়ে ছোটকালের কথা মনে পড়ে গেল। ছোটকালে আমরাও এভাবে ঘুড়ি উড়াতাম। তবে আপনি ঠিক বলেছেন এখনকার ছোট ছেলেগুলো মোবাইল এবং গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তবে ছোটকালে আমরা সবাই এক সাথ হয়ে কি আনন্দ করে ঘুড়ি উড়িয়েছি। যাহোক শুনে ভালো লাগলো তাদের কুড়িটি ঠিক করে উড়িয়ে দিয়েছেন। সত্যি পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
আসলে এইরকম পোস্ট দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পড়াই স্বাভাবিক কারণ আমাদের ছোটবেলাটা এগুলা করেই কেটেছে।😅