বন্ধুদের সাথে আড্ডা
"আমার বাংলা ব্লগে আপনাদের সকলকে জানাই আমার সালাম"
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি আমার আজকের এই ব্লগ।আশা করি আমি আমার দক্ষতার মাধ্যমে আপনাদের সকলের নিকট ভালো কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো,এবং আপনাদের ও ভালো লাগবে।
হয়তো আর কিছুদিনের ব্যাবধান,হয়তো আর কিছুদিনের পথ চলা।তারপর যে যার গন্তব্যে। সত্তি বলতে মেস লাইফটা আসলেই জোস,যেখানে ধরবাধা কোনো নিয়ম নেই,নেই কোনো কিছুর অভাব।খাও দাও আর ঘুমাও আর যখন যা মণ চায় তাই করো।কোনো কিছুর কমতি নেই পুরা একটা পরিবারের মত।পরিবারে যেমন ঝগড়া, মন কষাকষি, মান অভিমান থাকে এখানেও আছে আবার দিনশেষে সবাই এক থালয় খাবার খাই।তবে একটা জিনিসের কমতি আছে সেটা হচ্ছে টাকা,যদিও এতজনের ভালোবাসায় টাকার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই ম্লান।এই মেস লাইফের সবচেয়ে মজার জিনিস কি জানেন?এখানে কেউ পরিপাটি নয়,কেউ পরিশ্রমী ও নয়। এদের কাজ একটাই খাও দাও,ক্লাস করো,মোবাইল চাপ আর একটা ঘুম আর বাকি সব গোল্লায় যাক দেখার বিষয় নয়।
যাইহোক এই মানুষ গুলোর সাথে পরিচয় প্রায় চার বছর ধরে।তাদের সাথে পথচলাটা একটু ভিন্ন রকম,কারণ আমাদের মাঝে ভালোবাসার চেয়ে ঝগড়াই বেশি হয় কিন্তু তবুও দিনশেষে ওদের সাথেই পথচলা।তো সেদিন রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম সবাই একসাথে প্রসঙ্গ ছিল দিনাজপুর নিয়ে।তো আলোচনার এক পর্যায়ে সবাই বললো আগে দিনাজপুর থাকতে রাতে যখন মণ চাইছে তখন নিচে নেমে চা খাইতাম কিন্তু নারায়নগঞ্জ এসে রাতে চা খাওয়া তো দূরের কথা নয়টার পর বাজারই বন্ধ হয়ে যায়।
আমি আবার বললাম যেহেতু,মিস করতেছি তাইলে। চল আজকেই বাজারে যাই।দূরে অবশ্য একটা বাজার আছে 2-3 কিলো রাস্তা হাঁটলে সেখানে যাওয়া যায়।আর যখন বলেছি তখন রাত বাজে ১ টা।আর সবাই মিলে যখন যেতে রাজি তখন আর ভয় কিসের।
সেই রাত ১ টার সময় বাসার মালিককে না জানিয়ে বের হয়ে গেলাম চা খাওয়ার মিশনে।পথে যেতে যেতে কত কথা কত গল্প মনে হচ্ছিল "এই পথ যেনো আর শেষ না হয়"।কথা শেষ না হতেই গিয়ে পৌঁছলাম সেই বাজারে।এরপর যে যার মতো চা,কফি খেলো তারপর ছবি তুলে আবার রওনা বাসার উদ্দেশ্যে। আসতে আসতে আবারও সেই পুরনো দিনের কথা।কথা বলতে বলতে কখন যে বাসার কাছে এসে গেছি আর রাত ৩ টা বেজে গেছে কেউ বুঝতেই পারে নি।আর বাসার কাছে এসেও শেষ হয় না আমাদের গল্প।
সময়ের সাথে আমাদের তৈরি হওয়া গল্প গুলও কাউকে বলার সুযোগ খুব বোধয় আর একটা পাবো না।তবে শেষ সময়ে এসে বুঝেছি আসলে এরাই আমার বন্ধু।বন্ধু তো এমনি হয় হাজারো ঝগড়া,হাজারো মান অভিমান কে দূরে ঠেলে এই বন্ধুর পথ যে এক সাথে পাড়ি দেয় তারাই বন্ধু।তারা আমার প্রকৃত বন্ধু বলেই এত ঝগড়া বিপত্তির পর আমার সব কিছু মেনে নিয়েই আমার সাথে তাদের বন্ধুত্ব।আর এটাও বন্ধুত্ব।তাদের সাথে বন্ধুত্ব না থাকলে হয়তো এই সম্পর্ক গুলোও এতদূর পর্যন্ত আসতো না।যাইহোক এই মুহূর্ত গুলা না হয় আমার এই পোস্টে স্মৃতি হিসেবে থাকুক।কোনো একদিন না হয় আবার রি-ওপেন করবো।
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| অবস্থান | নারায়ণগঞ্জ |
সত্যি ভাইয়া দিনশেষে এরাই পরিবার। আসলো পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ বিচ্ছেদ কতো কিছু না লেগে থাকে,তারপরে ও আমরা পরিবারের সাথে চলি। মেস লাইফ ও এমন। তবে ভাইয়া এখানে, খাওয়া, ঘুম, ক্লাস করা ও ফোন চাপা ঠিক আছে আর কোন চিন্তা নেই। রাতে এটার পরে চা খাওয়া সব ঠিক আছে তবে আশাকরি পড়াশোনা টা ভালো ভাবে করবেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।
পড়াশুনার জন্যেই বাইরে থাকা সেটা ত ঠিক রাখতেই হবে।আর কোন বলতে বোঝাতে চেয়েছি শারীরিক শ্রম বা বাধ্য হয়ে কোনো কিছু করাকে।
সত্যি বলতে ভাইয়া বন্ধু-বান্ধব যার আছে সেই তার মর্ম বুঝে। দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনারা বন্ধুবান্ধব মিলে অনেক মজা করেন। আর রাত ১টায় বাড়ির মালিককে ফাঁকি দিয়ে চা খেতে যাওয়া এটা ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগলো আমার কাছে। যাই হোক অনেক অনেক শুভকামনা আপনাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের জন্য।
মজা করি সাথে ঝগড়াও করি আবার অভিমান ও করি।কিন্তু দিনশেষে আবার একসাথে গলা মিলিয়ে হাসিও এই হলো আমাদের বন্ধুত্ব।
আসলে ভাই মেস লাইফটা অনেক মজার। আপনারা তো দেখছি রাতে বেশ ভালোই আড্ডা দিয়েছেন। আসলে একসাথে সবাই মিলে থাকতে গেলে এরকম ঝগড়া ভালোলাগা খারাপ লাগা হবেই। কিন্তু সবাইকে যখন ছেড়ে চলে যেতে হয় তখন বোঝা যায় যে আসলে তাদের ছেরে চলে যাওয়াটা কতটা কষ্টের। ধন্যবাদ।
একদম।
একটা কথায় আছে না "যখন থাকে তখন তার মর্ম বোঝা যায় না,আর যখন থাকে না তখন বোঝা যায়"।ব্যাপারটা ঠিক এমনি।
আসলে ভাইয়া ব্যাচেলার লাইফটাই এরকম এনজয় কর। তবে আপনাদের এত খুনসুটি তার আনন্দ থেকে সত্যি ভীষণ ভালো লাগলো। সত্যি এটাই যেন একটা পরিবার। তবে একেবারে বাড়ির মালিক কে ফাঁকি দিয়ে রাত একটায় সবাই মিলে চা খেতে যাওয়ার ব্যাপারটা ভীষণ মজা লাগলো। যেতে যেতে কত গল্প কত আড্ডা। ফিরলেন আবার রাত তিনটায়। আসলে মেসে আছেন বলেই এসব কিছু সম্ভব হচ্ছে। নিজের বাড়িতে থাকলে মনে হয় না এত কিছু সম্ভব হতো।
নিজের বাড়িতে আর সেই সুবিধা কই।হয়তো রাত একটায় যেতে পারবো কিন্তু যাওয়ার জন্য এই সঙ্গী গুলোকে পাবো না।ওই সময়টায় ওদের ভীষণ মিস করবো।
বন্ধুরা আছে বলেই তো এই মুস্কিল বিপদেও বুক চিতিয়ে পথ চলার সাহস পাই কারো চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস পাই।
মান, অভিমান,ঝগড়া, খুনসুটি আবার ভালবাসায় আগলে নেয়া এটাই তো পরিবার।আপনাদের বন্ধুত্ব দেখে খুব ভাল লাগলো। জীবনে চলার পথে বন্ধু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আপনারা অনেক মজা করেন, দেখে ভাল লাগলো। আপনি এত রাতে চা খেতে গেলেন?? 😇আপনাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকুক এই কামনা করি। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
আসলে রাতে চা খাওয়াটা আমাদের এক প্রকার অভ্যাস।কিন্তু এই জায়গায় আসার পর থেকে সেটা হচ্ছিল না এই জন্য চা খেতে যাওয়া।আর হ্যা দোয়া করবেন যেনো আমাদের এই বন্ধুত্ব অটুট থাকে।