পুরনো দিনের কথা
"আমার বাংলা ব্লগে আপনাদের সকলকে জানাই আমার সালাম"
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি আমার আজকের এই ব্লগ।আশা করি আমি আমার দক্ষতার মাধ্যমে আপনাদের সকলের নিকট ভালো কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো,এবং আপনাদের ও ভালো লাগবে।
পরীক্ষা শেষ হয়েছে মোটামুটি দিন দুই হলো।পড়াশুনার ও তেমন একটা চাপ নেই।অনেকটাই অলস সময় পার করছি।আজকে দুপুরে ঘুম থেকে উঠার পর রুমটা একটু পরিষ্কার করছি।পরীক্ষার চাপে কোনো কিছু গোছানোর সময় পাই সবকিছুই মোটামুটি এলোমেলো হয়ে আছে।তো টেবিলটা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি বইগুলোর উপর ধুলোয় ভর্তি হয়ে আছে।কোন বই কোথায় আছে তার ও ঠিক নাই।তো টেবিলটা পরিষ্কার করতে গিয়ে সামনে আসল সেই বইটা যার সাথে সম্পৃক্ততা আমার চার বছরের।সেই বইটা পাওয়ার আজ থেকে পাঁচ বছর হয়ে গেল কিন্তু এখনো বইটা সযত্নে রেখে দিয়েছি আমার কাছে।আর রাখবোই না বা কেন। বইটা যে আমার স্মৃতির ভান্ডার। যেখানে আবদ্ধ আছে স্কুলের জীবনের অনেক গল্প।সেই বইটা হচ্ছে আমার স্কুলের ম্যাগাজিন বই।আমি মাধ্যমিকে উঠার পর প্রত্যেক বছর একটি করে ম্যাগাজিন বই পেয়েছি।যেগুলো প্রকাশ করা হতো স্কুল থেকেই আর বইয়ে থাকতো স্কুলের যত স্মৃতিময় ঘটনা এবং ছাত্র ছাত্রীদের সৃজনশীল গল্প।এর আগেও চারটি বই পেয়েছি কিন্তু সেগুলোর তেমন গুরুত্ব ছিল না আমার কাছে,তখন ভেবেছিলাম বছর শেষ হলে তো আবার একটা বই চলেই আসবে হাতে।কিন্তু এই বইটা যখন পেয়েছিলাম তখন মনে হয়েছে এটা সংরক্ষণ করে রাখা দরকার।কারণ এটাই শেষ এরপর আর কোনো বই আমি পাবো না।তো সেই বইটা আজকে খুলতে গিয়ে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল।তাই ভাবলাম স্মৃতি গুলোকে না হয় এবার ব্লকচেইনে জমা রাখি আর সেই উদ্দেশ্যেই আজকের এই পোস্ট।
ম্যাগাজিন এর নাম ছিল "প্রদীপ্ত" সুন্দর কভারে সাজানো।প্রথমেই সিরিয়াল অনুযায়ী যেটা থাকি স্কুলের বিগত বছর গুলোর সাফল্যের ধারাবাহিকতা।
এরপর ছিল বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তালিকা।আর যেহেতু সেনানিবাস স্কুল ছিল তাই আমাদের স্কুলের সভাপতি ছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
এরপর ছিল স্কুলের প্রিও স্যার গুলার তালিকা।যাদের কাছে আমরা ছিলাম অনেকটা সন্তানের মত।আজকের সময়ের ব্যাবধানে অনেকেই বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে আবার অনেকেই পরলোক গমন করেছেন।দোয়া করি প্রিয় মানুষগুলো যেখানেই থাকুক আল্লাহ তাদের সহায় হোক।
এরা হলো আমাদের স্কুলের সেইসব কৃতি সন্তান যারা আজ নিজের কর্ম ও যোগ্যতায় সাফল্যের চূড়ায়।প্রত্যেক বছর এইসব স্টুডেন্টদের খুঁজে তাদেরকে ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠায় ঠাই দেয়।
প্রত্যেক বছর ক্লাস পরিবর্তন এর পর সব ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে শ্রেণী শিক্ষকরা এভাবে ফ্রেমে বন্দী হই।যেগুলো পরবর্তীতে ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়।এছাড়াও ল্যাবে অধ্যয়নরত কিছু ছাত্রছাত্রীরা তাদের ল্যাব টিচার এর সাথে ক্লাস করছে।
এখানে স্কুলের বিভিন্ন প্রোগ্রামের স্থির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।আমাদের স্কুলে সারা বছর কোনো না কোনো প্রোগ্রাম থাকতই।তবে তার মধ্যে অন্যতম ছিল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,অন্ত হাউজ টুনারমেন্ট সহ আরো অনেক ধরনের ইভেন্ট।
এটা হচ্ছে আমাদের স্কুলের সেন্ট্রাল ফিল্ড।এবং সমাবেশ কালীন সময় স্কুলের ছাদ থেকে এই ছবিটি তোলা।আর এই ছবিটি ম্যাগাজিনের শেষ পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে,দারুন লাগে দেখতে।
মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে ইচ্ছা করে। কারণ সেই স্মৃতিগুলোর মাঝে অনেক অতীত মিশে আছে। স্কুল জীবনের সেই মুহূর্তগুলো সারা জীবন আমাদের স্মৃতির পাতায় থাকবে। স্কুলের ম্যাগাজিনের প্রত্যেকটি স্মৃতি আমাদের হৃদয়ের সাথে মিশে আছে। তাই তো এই ম্যাগাজিন বইটি আজও আপনার কাছে আছে সযত্নে।
স্মৃতিগুলোকে আকড়ে ধরেই তো জীবনে বেচে থাকতে হয়।আর পুরনো দিনের স্মৃতিগুল সত্যিই অনেক সুখকর হয়।সবসময় একটা ভালো অনুভূতি তৈরি করে মনে।
হঠাৎ করে যখন স্মৃতিপাতা বই, ম্যাগাজিনগুলো হাতে কাছে পাওয়া যায়। মনে পড়ে যায় সেই মধুর স্মৃতিরগুলো কথা। সেই মুহুর্তে হারিয়ে যায় সেই জীবনে ফিরে পেতে চাই সেই জীবন। আপনি অনেক যত্ন সহকারে আপনার ম্যাগাজিন বই টি সংগ্রহ করে রাখছেন। দেখে ভালো লাগল। জীবন প্রতি ক্ষনে পাল্টে যায়, স্মৃতি রেখে দেয়া ভালো । আপনার ম্যাগজিন বই এর স্মৃতি ছবি আর অনুভূতির আমাদের সাথে শেয়ার করাব জন্য ধন্যবাদ।
এবং এটি যত্ন করে সারাজীবন রেখে দিতে চাই আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।আর এটা ঠিক জীবন বদলে যায় আর এই জন্যেই সৃতী গুলোকে সংরক্ষণ করে রাখা।
আহা ভাই লেখাটা পড়তেই আমারও স্কুল লাইফের ম্যাগাজিনের কথা মনে পড়ে গেল। দুঃখের বিষয় আমি হারিয়ে ফেলেছি, আপনার মত যত্নে রাখতে পারিনি। সারা জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতিগুলোর একাংশ তুলে ধরেছেন আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে। এই অনুভূতিগুলো আসলে লিখে কখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই ভালোবাসা এবং এই ভালো লাগা গুলো সর্বদা সত্য এবং সর্বদা সুন্দর।
পুরনো দিনের কথাগুলো মনে পড়ে গেলো। স্যারদের অনেক মিস করি রে। জানি না, সব স্যারদের আর কোনোদিন দেখা পাবো কিনা। তবে স্যারদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কোনো দিন ও কমে যাবে না।
আমি আমাকে এই ছবিগুলোতে খুঁজে পেয়েছি। 🤗
আহা কত্ত ছোট ছিলাম তখন। 🙂
চমৎকার লাগলো আজকের আপনার স্কুল জীবনের ম্যাগাজিন বইটি দেখে। সত্যিই এটা খুবই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের স্কুল জীবনের সেই সব স্মৃতি এই বইটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ম্যাগাজিন বইটি দেখেই মনে হল আপনার ইস্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, কমিটি সবাই খুবই দায়িত্বশীল। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।