জেনারেল রাইটিং: এ যেন ঘুঘু পাখির রাজ্য
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে বৃহস্পতিবার, জুন ৮/২০২৩
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পুনরায় আরো একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। এইতো কয়েকদিন আগের কথা এ গিয়েছিলাম আমাদের জেলা শহর মেহেরপুরে। উদ্দেশ্য ছিল বিআরটিএ অফিস থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড নিয়ে আসার। যদিও স্মার্ট কার্ড না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। কাজ যখন হলো না তখন আমি চিন্তা করলাম একটু শহরটা ঘুরে যাই। প্রথমেই আমি গেলাম একটা একুরিয়ামের দোকানে একটা বেটা ফিস কেনার জন্য। সেখানে যাবার পরেও যেন ব্যর্থতা আমার পিছু ছাড়লো না। প্রথমবার যে একুরিয়ামের দোকানে গিয়েছিলাম সেখানে আমি শুধুমাত্র একটা বেটা ফিস দেখতে পেলাম। পরে আমি সেখান থেকে বের হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম উদ্দেশ্য ছিল অন্য একটি একুরিয়ামের দোকানে যাওয়ার। যেহেতু দোকানটা কাছেই ছিল তাই আমি হাঁটতে হাঁটতেই সেখানে চলে গেলাম। আর সেখানে যাবার পরে আমি যা কিছু দেখলাম তা দেখে তোর রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
মাছের পাশাপাশি সেখানে অনেক ধরনের পাখি ও ছিল। যে পাখিটা আমাকে সব থেকে বেশি আকর্ষিত করেছিল সেটার নাম ছিল ঘুঘু পাখি। আমি সেই দোকানটাতে বিভিন্ন ধরনের ঘুঘু পাখি দেখতে পেয়েছিলাম। বেশিরভাগই ছিল বিদেশি প্রজাতির ঘুঘু। যদিও দেশি ঘুঘু বিক্রয় এবং সংরক্ষণ করা নিষেধ তারপরও আমি সেই দোকানটাতে কয়েকটা দেশি ঘুঘু পাখিও দেখতে পেয়েছিলাম।
দোকানে থাকা ঘুঘু পাখি গুলোর মধ্য থেকে আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছিল অস্ট্রেলিয়ান সাদা ঘুঘু পাখিগুলো। এই ঘুঘু গুলো অন্যান্য ঘুঘুর থেকে আকৃতিতে কিছুটা বড় হয়। দোকানটাতে দুই প্রজাতির অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু ছিল। একটা ছিল ধূসর রংয়ের অন্য ছিল পুরোটাই সাদা রঙের।
এ পর্যায়ে আপনারা উপরে ছবি দুটোতে যে ঘুঘু পাখি দেখতে পাচ্ছেন সেটা হচ্ছে আমাদের দেশীয় ঘুঘু পাখি। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারের আইন অনুসারে এই ধরনের দেশীয় পাখি সংরক্ষণ এবং বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একটা জেলা শহরে এই ধরনের দেশীয় পাখি বিক্রয় হচ্ছে আর প্রশাসন কোন ধরনের শাস্তি স্বরূপ ব্যবস্থা নিচ্ছে না এটা দেখে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম। যদি প্রশাসন কঠোর ভাবে এই ধরনের বিষয়গুলোতে কাজ করে তাহলে আমাদের দেশীয় পাখিগুলোকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। আর যদি প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীনতা প্রকাশ করে তাহলে একদিন এভাবেই হারিয়ে যাবে আমাদের দেশীয় ঘুঘু পাখি।
এ পর্যায়ে আপনারা যে ঘুঘু পাখি দেখতে পাচ্ছেন এটা হচ্ছে ডায়মন্ড ঘুঘু। যদিও এই ঘুঘুর আকৃতি অন্যান্য ঘুঘু পাখির থেকে অনেকটা ছোট কিন্তু সৌন্দর্যের দিক থেকে এটা অন্যান্য ঘুঘুর থেকে বেশি। এই ধরনের ঘুঘু গুলোর দাম যখন আমি দোকানদারের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করলাম সে আমাকে বলল এই ঘুঘুগুলো বারোশো টাকা থেকে পনেরশো টাকার মধ্যে বিক্রয় করে থাকে। দোকানটাতে যে যেন আমার মনে হচ্ছিল আমি ঘুঘু পাখির রাজ্যে প্রবেশ করে গিয়েছি।
আমার শেয়ার করা এই পোস্টটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো নতুন কোন একটা পোষ্টের মধ্যে দিয়ে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
অনেকগুলো ঘুঘু পাখির ফটোগ্রাফি দেখে বেশ ভালো লেগেছে আমার। ডায়মন্ডল ঘুঘু গুলো আকারের ছোট হলেও দেখতে অসাধারণ সুন্দর। মোটরসাইকেলের স্মার্ট কার্ড না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে চলে আসার মুহূর্তে মেহেরপুর শহরের ঘুঘু পাখির রাজ্যে কাটানো মুহূর্তটুকু আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
কি আর করব কাজে ব্যর্থ হয়ে তো আর বসে থাকা যায় না তাই এমনটা করেছিলাম
বাহ অনেক সুন্দর তো! খুবই ভালো লাগলো এত সুন্দর একটি ঘুঘুর রাজ্য দেখে। একদম মন ছুয়ে গেল প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি। সুন্দর এই উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছে দেখে খুবই ভালো লাগলো আমার। বাইরে কোথাও গেলে এমন সুন্দর দৃশ্য দেখলে আমিও থেমে থাকতে পারিনা তাই সাথে সাথে আমিও ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করে থাকি। খুবই ভালো লাগলো আজকের এই পোস্ট দেখতে পারি।
এটা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ আমিও যেখানে যাই এমনটাই করতে থাকি।