নভেম্বর মাসের অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠান
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। দেখতে দেখতে আরো একটা মাস শেষ হয়ে গেল। আর এরই মধ্য দিয়ে চলে আসলো আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষিত অভিভাবক সম্মেলন। প্রত্যেক মাসে আমরা চেষ্টা করি ৩০ তারিখে অভিভাবক সম্মেলন করতে কিন্তু এ মাসে এক তারিখে বৃহস্পতিবার হবার কারণে আমরা অভিভাবক সম্মেলনটি ১ তারিখে করেছি। প্রতিমাসের নাই এ মাসেও টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ফলাফল এই অভিভাবক সম্মেলনেই প্রদান করা হয়েছে।
নভেম্বর মাসের অভিভাবক সম্মেলনটি শুরু করার জন্য প্রথমেই কোরআন তেলোয়াত করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল্লাহ আল গালিব কে।
এরপরেই অনুষ্ঠান পরিচালনার নিয়ম অনুসারে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এই জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ রাফিয়া খাতুন কে, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর জারিন তাসনিন জুইকে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র-আফিক আবরার নয়ন কে। এরপরে শিক্ষক অভিভাবক আমন্ত্রিত অতিথি সকলে একত্রিত ভাবে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
জাতীয় সংগীত শেষ হয়ে যাবার পরেই আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ শামসুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
স্বাগত বক্তব্য শেষ হয়ে যাবার পরেই আমরা অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে অভিভাবকদের মতামত গ্রহণ করতে শুরু করি। প্রত্যেকটি অভিভাবককে পাঁচ মিনিট করে সময় দেয়া হয় তার মতামত প্রকাশ করার জন্য। এ মাসের অভিভাবক সম্মেলনে আমরা বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর মতামত পেয়েছি অভিভাবকদের কাছ থেকে। অভিভাবকের মতামত প্রদান-পর্ব শেষ হয়ে যাবার পরে প্রত্যেক শ্রেণীর শ্রেণী শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। শ্রেণী শিক্ষকদের মতামত গুলো সবগুলোই প্রায়ই পজিটিভ ছিল শুধুমাত্র একটা জিনিসই নেগেটিভ ছিল সেটি হচ্ছে অভিভাবকদের উপস্থিতির পরিমাণ অনেক কম। আশা করি পরবর্তী সময়ে আমরা এই সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য সকল কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবার পরে আমন্ত্রণ জানানো হয় আজকের প্রধান অতিথিকে তার মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এ মাসের প্রধানই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুর রশিদ। তিনি শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তার মূল্যবান মতামত প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির মতামত প্রদান করার পরেই শুরু হয়ে গেল আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের সব থেকে আকর্ষণীয় পর্বটি। সেই আকর্ষণীয় পর্বটি হচ্ছে এ মাসের টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং যারা প্রথম স্থান অধিকার করেছে তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। এ পর্বটি প্রতিনিয়ত আমি পরিচালনা করে থাকি তাই আমি রেজাল্ট সিট হাতে করে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপরে শ্রেণীভিত্তিক পর্যায়ক্রমে আমি টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করলাম এবং প্রধান অতিথি প্রত্যেকটি শ্রেণীর প্রথম স্থান অধিকারীদের হাতে এ মাসের পুরস্কার তুলে দিলেন। পুরস্কার বিতরণের পর্বটি শেষ হয়ে যাবার মাধ্যমেই শেষ হয়ে গেল এ মাসের অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠানটি।
আপনার হয়তোবা অনেকেই জেনেছেন যে আমাদের স্কুলটি একটু ব্যতিক্রমধর্মী স্কুল। তাই আমরা প্রত্যেক মাসে চেষ্টা করি অভিভাবক সম্মেলনের আয়োজন করতে। এই অভিভাবক সম্মেলনের কারণে আমরা ছাত্র শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী বিষয়টি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকের মত এ পর্যন্তই পরবর্তী সময়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব নতুন কোন একটা পোস্ট এর মাধ্যমে।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমরা যখন হাইস্কুলে পড়তাম তখনো এরকম অভিভাবক সম্মেলন হতো আর ঠিক একইভাবে প্রথমে কুরআন তিলাওয়াত এবং গীতা পাঠ করে অনুষ্ঠান শুরু করা হতো। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি তার মূল্যবান কথাগুলো শেয়ার করত। তবে অভিভাবক সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার মান অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়।
এইজন্যই মূলত আমরা এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করি প্রত্যেক মাসে।
পূর্বের ধারাবাহিকতায় আপনারাও সেই অভিভাবক সম্মেলন করে যাচ্ছেন, আর এই সম্মেলনটি প্রত্যেকটি ছাত্রদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো-মন্দ সব তথ্য তাদের অভিভাবকরা জানতে পারে। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
বিষয়গুলো অভিভাবকের কাছ থেকে খুবই খুশি হয়।
আমি মনে করি এই রকম অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠান প্রত্যেকটি স্কুল কলেজ মাদরাসা রাখা উচিত।এতে করে তাদের মন্তব্য জানা যায়,তাছাড়া শ্রেণি শিক্ষক দের ও মতামত জানা যায়।এতে স্কুলের
নেগেটিভ সাইড দূর করে পজিটিভ দিক ধরে রাখা যায়।ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
আপনার কথার সাথে আমিও একমত, আমাদের দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করা উচিত।
আমার মনে আছে যখন আমি হাই স্কুলে পড়তাম তখন একবার অভিভাবক সম্মেলন হয়েছিল। এ ধরনের সম্মেলন স্কুলে প্রতি বছরের শেষে যদি হয়ে থাকে তাহলে স্কুলের জন্য খুবই উপকার।এ ধরনের অনুষ্ঠান হলে অভিভাবকের মতামত গুলো জানা যায় এবং তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে আরো ভালো কিছু পদক্ষেপ গুলো নেওয়া যায়। আর ওই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষার মান উন্নতি হয়।
শুধুমাত্র স্কুলের উন্নতি নয় ছাত্র-ছাত্রীদেরও উন্নতি হয় এটার ফলে।