নাটক রিভিউ-মিঃ প্রফেসর|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। সময় পেলে নাটক দেখার চেষ্টা করি। নাটক দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাই তো আজকে আমি আমার খুবই ভালো লাগার একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে সবার মাঝে উপস্থাপন করতে চলে এসেছি। আশা করছি এই নাটক রিভিউ সবার ভালো লাগবে।
| নাম | মিঃ প্রফেসর |
|---|---|
| প্রযোজক | শামসুল ইসলাম ও এস কে আজাদ |
| পরিচালনা | আতিকুর রহমান |
| সম্পাদনা | জাহাঙ্গীর আলম |
| অভিনয়ে | আব্দুন নূর সজল, অলংকার চৌধুরী, মাসুম বাসার, টুটুল চৌধুরী ও আরো অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ৪২ মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ৮ জুন ২০২৩ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- আব্দুন নূর সজল- শাদ
- অলংকার চৌধুরী- ফাইজা
নাটকের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই একটি ইউনিভার্সিটির সব প্রফেসররা একজন নতুন প্রফেসরের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাকে স্বাগত জানার জন্য অপেক্ষা করছে। এরপর হঠাৎ করে তিনি চলে আসেন। যখন তিনি চলে আসেন উনাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে যান। কারণ তিনি এই ইউনিভার্সিটির সাথে আগে থেকেই পরিচিত এবং সবাই ওনাকে চেনেন। এরপর ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এবার তিনি নিজের জীবনের কথাগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। আসলে তিনি এই ইউনিভার্সিটির সাধারণ এক পিয়ন ছিলেন থেকে প্রফেসর হওয়ার গল্প সবার মাঝে উপস্থাপন করেন। তিনি যখন এই ইউনিভার্সিটিতে পিয়নের কাজ করতেন তখন ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরের কথায় তিনি আবারও পড়াশোনা শুরু করতে চান। তার অভাবের সংসারে হয়তো তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু সবাই যখন উনার রেজাল্ট দেখেন তারপর সেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেন।
একজন পিয়নের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি আবারো নিজের পড়াশোনা শুরু করেন। সবার সব আবদার পূরণ করার পর বাকি সময় ক্লাস করার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি রাত জেগে পড়াশোনা করা শুরু করেন। আসলে তিনি খুবই মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। নামকরা একটি পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই সুযোগটা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। আর কোথাও পড়াশোনা করেননি। এবার যেহেতু সেই সুযোগ পেয়েছেন তাই তো নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করেন। ক্লাসের সবার মাঝে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপর তার কিছু দুষ্ট বন্ধু তাকে হিংসে করে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। অন্যদিকে ফাইজা নামের এক মেয়ের সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়। সে কখনোই তাকে ছোট চোখে দেখেনা। আর তার অন্যান্য কিছু বন্ধু আছে যারা সব সময় তাকে অপমান করার চেষ্টা করে।
এরপর যখন রেজাল্ট পাবলিস্ট হয় তখন তার বন্ধুরা সবার কাছে বলে বেড়ায় সে নাকি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত এবং সে নিজেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষা দিয়েছে। তাইতো তার এত ভালো রেজাল্ট হয়েছে। এই কথা শুনে সে ভীষণ মন খারাপ করে এবং সেখান থেকে চলে যায়। এরপর তার কিছু বন্ধু বান্ধব অর্থাৎ যারা তাকে পছন্দ করত না তারা তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়ে। তাকে বহিষ্কারের দাবি জানায়। এই কথা প্রিন্সিপালের কান অব্দি চলে যায়। এরপর সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর সে আবারো ভেঙে পড়ে এবং অনেক বেশি কষ্ট পায়। এবার তার সেই প্রিয় শিক্ষক তার পাশে দাঁড়ায় এবং তিনি তার দায়িত্ব নিয়ে বিদেশে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন এবং পড়াশোনা ব্যবস্থা করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান।
তার সেই প্রিয় শিক্ষকের সহায়তায় তিনি উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং আবারও সেই ইউনিভার্সিটিতে ফিরে আসেন। কিন্তু এবার তিনি স্টুডেন্ট কিংবা পিয়ন হিসেবে নয় এবার তিনি ফিরে আসেন সেই ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হিসেবে। এত উচ্চতর ডিগ্রি থাকা শর্তেও তিনি সেই ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপর যখন তিনি সেই ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করতে আসে উনাকে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যায়। বিশেষ করে পুরনো যেই মানুষগুলো ছিলেন যারা ওনাকে চেনেন তারা সবাই অবাক হয়ে যায়। এরপর দেখা যায় তার সেই বান্ধবী ফাইজা সেই ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছে। এরপর যখন শাদ নিজের জীবনের সব কথাগুলো সবাইকে বলে তখন ফাইজা সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পিছে পিছে শাদ যায় এবং ফাইজার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। শাদ বলে আমি জানি আপনি সেদিনের ঘটনার জন্য দায়ী নন। আপনি যদি চান আমাকে এই পুরো ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে পারেন। পুরনো সেই ক্যাম্পাসে অনেকদিন থেকে আসা হয় না। এভাবেই নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
নাটকটি আমার কাছে খুবই শিক্ষনীয় মনে হয়েছে। একজন মানুষ সাধারণ এক পিয়ন থেকে কিভাবে সেই ইউনিভার্সিটি প্রফেসর হলেন সেই গল্প এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসলে পিয়ন থেকে প্রফেসর হওয়ার গল্প মোটেও সহজ ছিল না। এজন্য তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। মনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে সফলতা এনে দিয়েছে। আসলে মানুষ সফল হতে পারে তখনই যখন নিজেদের ভেতর প্রচেষ্টা থাকে। সবমিলিয়ে নাটকটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
প্রফেসর নাটকটির খুব সুন্দর একটি রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া।পিয়ন থেকে কিভাবে শিক্ষক হতে হয় তা এই নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।ধন্যবাদ জানাচ্ছি এত সুন্দর ভাবে নাটকের রিভিউটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার কাছে এই নাটকটি ভালো লেগেছিলো তাইতো নাটকের রিভিউটি উপস্থাপন করেছি। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
নাটকটি যদিও এর আগে দেখা হয়নি তবে নাটকটি আসলে অনেক দারুন। যেটি আপনার রিভিউ পড়ে বুঝতে পারলাম আপু। সময় স্বল্পতার কারণে নাটক দেখা তেমন একটা হয়ই না। যাই হোক এই নাটকটি দেখার ইচ্ছে পোষণ করছি ধন্যবাদ।
ভাইয়া আপনি যেহেতু নাটকটি দেখেননি তাই সময় পেলে দেখতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
অনেক সুন্দর ছিল তো এই নাটকটার রিভিউ পোস্ট। আর এই নাটকটার কাহিনী আমার কাছে তো অনেক ভালো লেগেছে রিভিউর মাধ্যমে পড়ে। আব্দুন নূর সজল এবং অলংকার চৌধুরী অনেক সুন্দর অভিনয় করেছে এই নাটকে। আসলে আমি নাটক দেখে থাকি। তবে এই নাটকটা আমার দেখা হয়নি। সময় পেলে অবশ্যই চেষ্টা করব নাটকটা দেখে নেওয়ার।
আমার শেয়ার করা নাটক রিভিউ আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। আব্দুন নূর সজল এবং অলংকার চৌধুরী অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।
আপু মিস্টার প্রফেসর নাটক রিভিউটি সুন্দর হয়েছে। পিয়ন থেকে প্রফেসর হওয়ার নাটকীয়তা আমাদের শিক্ষা দিয়ে যায়। আমি নাটক তেমন দেখি না তবে আপনার নাটকটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে ধন্যবাদ আপু।
পিয়ন থেকে প্রফেসর হওয়া সত্যি অনেক কঠিন ছিল। নাটকটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।
আপনার নাটকের রিভিউ পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো আপু।নাটকটির কাহিনী আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন।সময় করে নাটকটি দেখার চেষ্টা করবো।বাংলা নাটক দেখতে ভালোই লাগে।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আমার শেয়ার করা নাটক রিভিউ আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। নাটকটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিলো। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
মিঃ প্রফেসর নাটকটি আমি দেখি নি। তবে আপনার পোস্টের মাধ্যমে দেখে বেশ ভালো লাগলো। পিয়ন থেকে কিভাবে সেই ইউনিভার্সিটি প্রফেসর হলো। বেশ সুন্দর নাটক রিভিউ করেছন আপু। এতো দুর্দান্ত নাটক আমাদের মাঝে রিভিউ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ।
ভাইয়া আপনি যেহেতু নাটকটি দেখেননি তাই সময় পেলে নাটকটি দেখতে পারেন। একজন সাধারণ পিয়ন থেকে প্রফেসর হওয়ার গল্পটি বেশ ভালো ছিল।
এই ধরনের শিক্ষণীয় নাটকগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। যদিও অনেক দিন হলো সজলের নাটক দেখা হয় না। আসলে সফলতার পিছনে অনেক গল্প থাকে। জীবনে সফলতা পাওয়া আসলেই খুব কঠিন। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে সফল হতে হয়। যাইহোক এতো সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া এই নাটকটি অনেক শিক্ষণীয় ছিল। একজন মানুষের সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।
বাহ! অনেক সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দিলেন আপু। প্রফেসর নাটকটি দেখতে খুবই ভালো লেগেছে। তাছাড়া এই ধরনের বাংলা নাটক গুলো আমার খুবই ভালো লাগে দেখতে। অনেক ধন্যবাদ আপু পুরো বিষয়টি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে।
আপু আমি চেষ্টা করেছি সুন্দর একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য। বাংলা নাটক আপনার ভালো লাগে জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু।
অনেক সুন্দর একটি নাটক আজকে আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখিয়েছেন আপু। আপনার এ চমৎকার নাটক রিভিউটা আমাকে মুগ্ধ করলো। নাটকটা অনেক সুন্দর ছিল। সময়ের সাপেক্ষে হয়তো দেখা হয়নি তবে আপনার রিভিউ দেখে নাটকটা দেখার প্রতি প্রবল ইচ্ছা আগ্রহ জাগলো। যে কোন মুহূর্তে নাটক টা দেখার চেষ্টা করব।
এই নাটকটি অনেক ভালো ছিল। তাইতো দারুন একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার চেষ্টা করেছি ভাইয়া। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
নাটকটির মধ্যে শিক্ষানীয় ব্যাপার আছে। এই ধরনের নাটক গুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। যদিও এ নাটকটি দেখা হয়নি। আপনার রিভিউ এর মাধ্যমে কিছুটা জানতে পারলাম। এই চমৎকার নাটকটি আমাদের মাঝে রিভিউ আকারে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।