নাটক রিভিউ-স্ট্রেঞ্জার|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। নাটক দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাই তো সময় পেলে নাটক দেখার চেষ্টা করি। বিশেষ করে অপূর্ব আমার খুবই পছন্দের অভিনয়শিল্পী। তাইতো দারুন একটি নাটক রিভিউ আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
| নাম | স্ট্রেঞ্জার |
|---|---|
| প্রযোজক | ফকরুল রিয়া |
| পরিচালনা | রুবেল হাসান |
| সম্পাদনা | মেজবাহ উদ্দিন সুমন |
| অভিনয়ে | জিয়াউল ফারুক অপূর্ব,সাবিলা নূর ও অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ৫২ মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ৩০ জুন ২০২৩ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- জিয়াউল ফারুক অপূর্ব- ইফতি
- সাবিলা নূর-রিশা
নাটকের শুরুতেই দেখতে পাই নাটকের নায়িকা রিশা অস্ট্রেলিয়াতে তার ভাইয়ার বাসায় প্রথমবার এসেছে। রিশা আসার পর হঠাৎ করেই তার ভাবির বাসা থেকে ফোন আসে। তারা জানতে পারে তার ভাবির বাবা অসুস্থ এবং প্রতিবেশীরা উনাকে হসপিটালে নিয়ে গেছে। এই কথা শোনা মাত্রই রিশার ভাই ভাবি সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে। রিশা তাদেরকে আশ্বাস দেয় যে সে এখানে থাকতে পারবে। এরপর রিশার ভাই রিশাকে জানায় তপু নামের একজন আসবে এবং সে তার সাথে সময় কাটাবে। কোন প্রয়োজনে অবশ্যই যেন তপুকে সে জানায়। এবার রিশার ভাই ভাবি সেখান থেকে চলে যায়। রিশা ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল হতে না হতেই কলিংবেলের শব্দে তার ঘুম ভাঙ্গে। হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ রিশা বুঝতে পারে হয়তো সেই তপু ভাই এসেছে।
রিশা যখন দরজা খুলে তখন গিয়ে দেখে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটিকে দেখে রিশা তাকে ভেতরে আসতে বলে এবং তাকে বলে সে ফ্রেশ হয়ে তারপর আসছে। ছেলেটি রিশাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুটা সময় দাঁড়ানোর পর হঠাৎ করে ছেলেটির ফোন আসে এবং তারা জানায় তারা তাদের ভুল এড্রেস দিয়েছে। এবার ছেলেটি অর্থাৎ ইফতি বুঝতে পারে সে ভুল এড্রেসে চলে এসেছে। এমন সময় রিশা নিচে নেমে আসে। রিশাকে দেখে ইফতি অবাক হয়ে যায়। তাইতো ইফতি তাকে কিছুই জানায় না। এরপর দুজনে বেশ কিছুটা সময় কাটায় এবং রিশা তাকে চা খেতে বলে। এবার রিশা চা বানাতে গিয়ে নিজের হাত পুড়িয়ে ফেলে এবং ইফতি সবটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর তার সাথে রিশার ভালো বন্ধুত্ব হয়। দুজনে মিলে বেশ ভালো সময় কাটায়। কিন্তু ইফতি তখনও নিজের পরিচয় রিশাকে দেয়নি।
এরপর যখন ইফতি সেখান থেকে চলে আসে তখন বারবার রিশার কথা মনে করতে থাকে। সে বুঝতে পারছিল রিশা হয়তো অন্য কাউকে ভেবে তার সাথে এতটা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করছে। এরপর বিভিন্ন প্রয়োজনে রিশা ইফতিকে ফোন করে ডাকে। আর রিশা তখনো জানতো না ইফতি তার ভাইয়ের পরিচিত কেউ নয়। এবার বিভিন্ন প্রয়োজনে তারা দুইজন একসাথে ঘুরতে থাকে। ইফতি মনে মনে রিশাকে ভালোবেসে ফেলে। অন্যদিকে রিশাও ইফতির প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। ইশারা ইঙ্গিতে দুজনের মাঝে বেশ কথা হয়। এরপর ধীরে ধীরে দুজনের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। দুজনেই বুঝতে পারে তারা দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলেছে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাদের সুন্দর দিনগুলো। এরপর একদিন হঠাৎ ইফতি তাকে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের জন্য ডাকে। সেদিন ইফতি ঠিক করে নিয়েছিল তাকে প্রপোজ করবে। রিশা সুন্দর একটি শাড়ি পড়ে রেডি হচ্ছিল। এমন সময় রিশার ভাই ভাবি চলে আসে। এসে দিশাকে দেখে অবাক হয়। এরপর সে বলে সে তপু ভাইয়ের সাথে ডিনারে যাচ্ছে। এটা শুনে রিশার ভাই ভাবি ভীষণ খুশি হয়ে যায়।
রিশার ভাই ভাবি বুঝতে পারে তাদের মাঝে একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এরপর ইফতি আর সাথে যোগাযোগ রাখে না। কারণ সে মনে করেছিল হয়তো তার ভাই ভাবি তাকে সবকিছু বলে দিয়েছে। অন্যদিকে রিশা তখনো কিছুই জানে না। এরপর যখন রিশা তার ভাই ভাবির সাথে একটি প্রোগ্রামে যায় সেখানে গিয়ে তপুর সাথে দেখা হয়। এরপর রিশা জানায় সে এই লোকটিকে সে চিনেই না। এতদিন ধরে রিশা যাকে তপু ভেবেছিল সে আসলে অন্য কেউ ছিল। এবার রিশা অনেক ভেঙ্গে পড়ে। সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না তার সাথে কি হয়েছে। এবার রিশার ভাই ভাবি বিভিন্নভাবে সেই ছেলেটিকে খোঁজার চেষ্টা করে। এরপর অবশেষে দুইজন লোক ইফতিকে তাদের বাড়ির সামনে নিয়ে আসে এবং রিশা অবাক হয়ে যায়। রিশা সবার সামনে বলে সে তাকে চেনে না। কিন্তু রিশা বুঝতে পেরেছিল হয়তো কোন কারনে ইফতি তার নিজের পরিচয় লুকাচ্ছে। এবার সবাই যখন চলে যায় তখন রিশা সত্যিটা জানতে চায়। তখন ইফতি সবটা বলে এবং দুজনের সম্পর্ক আবারো ঠিক আগের মত হয়ে যায়।
এই নাটকটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল। হয়তো ভুল পরিচয়ে দুজন মানুষের মাঝে বন্ধুত্ব হয়েছিল। আর বন্ধুত্ব থেকেই ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের ভালোবাসার মাঝে কোন ভুল ছিল না। তাইতো অনেক প্রতীক্ষার পর দুজন মানুষের মিলন ঘটেছে। তারা আবারও এক হতে পেরেছে। হয়তো ইফতির উচিত ছিল নিজের পরিচয় বলা। কিন্তু ইফতি ভেবেছিল যদি পরিচয় দেয় তাহলে হয়তো রিশা তার সাথে যোগাযোগ রাখবেনা। সব মিলিয়ে নাটকটি বেশ ভালো লেগেছিল।
এই নাটকটি আমি কিছুটা দেখেছিলাম।সবটা আর দেখা হয়ে উঠেনি।আপনার করা নাটকের রিভিউ পড়ে বেশ ভালো লাগলো। সময় করে দেখে নেবো আশাকরি। সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ পোস্ট শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
এই নাটকটি আপনি কিছুদিন আগে দেখেছিলেন যেনে ভালো লাগলো আপু। নাটকটি আমার কাছেও বেশ ভালো লেগেছে। তাই তো রিভিউ শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ আপু।
এই স্ট্রেঞ্জার নাটকটি আমি কয়েকদিন আগেই দেখেছি আপু। বেশ ভালো লেগেছিল আমার নাটকটি । তারপরও আপনার রিভিউটি পড়ে ভালো লাগলো কারণ পুনরায় নাটকের স্টোরিটা সামনে চলে এলো। ভুল পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব তারপর কেমন করে ভালোবাসা হয় তার উপর ভিত্তি করেই এই নাটকের স্টোরি।
এই নাটকটি আপনি কয়েকদিন আগেই দেখেছিলাম জেনে ভালো লাগলো। নাটকটি আমার খুবই ভালো লেগেছিলো। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।
এই নাটকটি আমিও দেখেছি। খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে। যদিও অপূর্বর নাটক আমার কাছে সবই ভালো লাগে। আমি অপূর্বর নাটক খুঁজে খুঁজে দেখি। এই নাটকটিতেও যখন রিশার ভাই ভাবি চলে আসলো তখন আমিও ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এখন না জানি কি হয়। যাই হোক শেষে আবার দুজনের মিল হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগলো। খুব সুন্দর করে রিভিউ উপস্থাপন করেছেন আপু।
অপূর্ব আমারও খুবই পছন্দের একজন অভিনয় শিল্পী। আমিও সবসময় অপূর্বর নাটক গুলো দেখার চেষ্টা করি। সত্যি আপু শেষে যখন দুজনের মিল হয়েছে তখন অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
স্ট্রেঞ্জার নাটকটার রিভিউ পড়ে দারুন লেগেছে তো। অপূর্বের নাটকগুলো এমনিতেই আমার খুবই পছন্দের। আর তার অভিনয় আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। সেই সাথে সাবিলা নুরের অভিনয় এবং তার নাটক গুলো ও অনেক সুন্দর হয়। এ নাটকটিতে সাবিলা নূর এবং অপূর্ব খুব ভালো অভিনয় করেছে। আসলে ভুল করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হলেও ভালোবাসাটা হয়েছিল সঠিকভাবে। যদিও একটি যদি তার পরিচয় টা দিত তাহলে ভালো হতো। কিন্তু বেশিরভাগ ভালোবাসাতে এটা দেখা যায় পরিচয় দেওয়ার পরে যদি সে মানুষটা তাকে চলে যায় সেই জন্য ভয় হয়। অনেক প্রতীক্ষার পর তাদের দুজনের মিলন হয়েছে এটা দেখে ভালো লেগেছে।
সাবিলা নূর এবং অপূর্ব দুজনেই বেশ ভালো অভিনয় করেছে। এই নাটকটি আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। আনেক প্রতীক্ষার পর যখন দুজনের মিলন হয়েছে তখন সত্যিই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
অপূর্বের নাটকগুলো আমার বেশিরভাগ সময় দেখা হয়, আর তেমনি এই নাটকটাও আমি দেখেছিলাম। এই নাটকটা আমি দেখেছি কালকে। আসলে মাঝে মাঝে বিনোদনের জন্য নাটক দেখার চেষ্টা করি। ভুল পরিচয়ে দুজন মানুষের বন্ধুত্ব হলেও ভালোবাসাটা ঠিকভাবে হয়েছিল। তাদের মিলন টা আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। যাইহোক আবারো আপনার রিভিউ পোস্টের মাধ্যমে নাটকটি দেখে ভালো লাগলো।
অপূর্ব আমার খুবই পছন্দের একজন অভিনয় শিল্পী। অপূর্ব অভিনীত নাটকগুলো দেখতে আমার কাছে ভালো লাগে। ভাইয়া আপনি এই নাটকটি দেখেছিলেন জেনে ভালো লাগলো।