নাটক রিভিউ-আমি কেন?|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। নাটক দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে নাটক রিভিউ শেয়ার করতে অনেক ভালো লাগে। তাই তো আজকে আমি একটি নাটক রিভিউ সবার মাঝে উপস্থাপন করতে চলে এসেছি। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
| নাম | আমি কেন? |
|---|---|
| পরিচালনা | মেহেদি হাসান জনি |
| সম্পাদনা | এইচ.এম. নীড় |
| অভিনয়ে | জিয়াউল ফারুক অপূর্ব,তাসনিয়া ফারিন ও আরো অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ৪৪ মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ৯ মে ২০২২ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- জিয়াউল ফারুক অপূর্ব- জারিফ
- তাসনিয়া ফারিন- নিধি
নাটকের শুরুতেই আমরা দেখতে পাইনি নিধি আগের কিছু স্মৃতি সম্পর্কে বলে। নিধি বলে জারিফ অল্প কিছুতেই ভীষণ ভয় পায়। কিন্তু ঝগড়ার বেলায় একধাপ এগিয়ে। নিধি আর জারিফের মাঝে ঝগড়া হয়েছিল এবং প্রায় দশ মাস থেকে তাদের কথা হয়না। এরপর হঠাৎ একদিন নিধি জারিফকে ফোন করে জানালো সে তার সাথে দেখা করতে চায়। জারিফ প্রথমে ভীষণ ভাব দেখালো। এরপর জানালো সে দেখা করতে রাজি আছে। এবার নিধির সাথে দেখা করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। সেখানে গিয়ে দেখল নিধি দাড়িয়ে আছে। আর সে প্রেগন্যান্ট। এই অবস্থা দেখে জারিফের আরো বেশি রাগ উঠে গেল। এরপর জারিফ নিধির কাছে জানতে চাইলো সে বিয়ে কবে করেছে। এবার নিধি জানালো তার সাথে ব্রেকআপ হওয়ার ৭ দিনের মধ্যেই সে বিয়ে করেছে। ব্রেকআপ হওয়ার পরের দিন সে তার বাবাকে বলেছিল সে বিয়ে করতে চায়। আর সাত দিনের মধ্যেই তার বিয়ে হয়ে যায়।
এবার জারিফ নিধিকে বলল তার হাতে সময় কম। সে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। এই কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই নিধি বলল সে তার সাথে ঘুরতে চায়। অবশেষে জারিফ রাজি হয়ে গেল। দুজনে রিক্সায় উঠে বসলো। রিক্সা চলছিল এমন সময় নিধি বলল তার পেইন হচ্ছে। এখন জারিফ কি করবে বুঝতে পারছে না। জারিফ বললো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। এবার নিধি বললো সে বাসায় যেতে চায় না। সে হসপিটালে যেতে চায়। এরপর নিধি একটি হসপিটালের নাম বললো এবং সেখানের ঠিকানা দিল। অনেয়কটা বাধ্য হয়ে জারিফ নিধিকে নিয়ে হসপিটালে গেল। সেখানে গিয়ে নিধিকে এমার্জেন্সিতে নিয়ে গেল। এবার ডাক্তার নার্স সবাই মিলে নিধিকে নিয়ে গেলো। যখনি জারিফ সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই পেছন থেকে একজন এসে বলল আপনি যেহেতু রোগীকে নিয়ে এসেছেন তাই আপনি এখান থেকে যেতে পারবেন না। এবার একজন ডাক্তার এসে বলল তাকে সই দিতে হবে। এরপর জারিফ বললো সে কেন সই দিবে। সে তো তার কেউ না। এবার ডাক্তার বলল তাড়াতাড়ি করেন রোগীর অবস্থা ভালো নয়। এই কথা শুনে যার জারিফ অনেকটা বাধ্য হয়ে সই করে দিলো। এরপর শুরু হয়ে গেল নতুন খেলা।
জারিফ অপেক্ষা করতে লাগলো কি হয় এটা দেখার। কিন্তু কোন খবর পাচ্ছিল না। এরপর ডাক্তার এসে জানালো রোগীর ঔষধ প্রয়োজন। এবার জারিফ ওষুধ আনার জন্য বাহিরে চলে গেল এবং ওষুধ এনে দিল। এবার আরও একটি নতুন সমস্যা যুক্ত হলো। ডাক্তার এসে বলল রক্ত লাগবে। জারিফ কিছুতেই রক্ত দিতে রাজি হচ্ছিল না। কারণ সে ইনজেকশনে ভীষণ ভয় পায়। অনেকটা জোর করে রক্ত দিতে বাধ্য করা হলো। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জারিফ ছটফট করতে লাগল। সে বারবার বলতে লাগলো সে ভেসে গেছে। জারিফ এরপর ডাক্তার ও নার্সের কাছে খবর নেওয়ার চেষ্টা করছিল যে সে সেখান থেকে কখন যেতে পারবে। এবার হাতে বিল ধরিয়ে দিল। সব চার্জ মিলিয়ে ৪৫ হাজার টাকা হয়েছে। এবার জারিফ বলল সে কোন টাকা দিতে পারবে না। তখন মেয়েটি জানালে টাকা দিতেই হবে। আপনি রোগীকে নিয়ে এসেছেন। এরপর জারিফ কার্ড বের করে দিল। কিন্তু মেয়েটি নগদ টাকা চাইলো। এরপর জারিফ বাহির থেকে টাকা তুলে এনে মেয়েটিকে দেয় এবং সব বিল পরিশোধ করে।
এরপর অপেক্ষা করতে লাগলো জারিফ। অন্যদিকে তার শরীরটা খুব একটা ভালো লাগছিল না। এরপর হঠাৎ করে সে চোখ খুলে দেখে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে সে। এরপর যখন সবাইকে ডাকতে লাগলো তখন সেখানে কেউ ছিল না। এরপর জারিফ সেখান থেকে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে তার দরজার সামনে একটি গিফট বক্স। গিফট বক্স খোলার পর দেখতে পায় এর ভিতর একটি বল রয়েছে। এই বলটি দেখে জারিফের পুরনো অনেক কথা মনে পড়ে যায়। কারণ এই বল জারিফ নিধিদের বাসায় মেরেছিল। আর ব্রেকআপ হওয়ার সময় নিধি এরকম একটি গিফট বক্স তার দরজার কাছে রেখে গিয়েছিল এবং সেখানে ৩০১ বার ব্রেকাপ লেখা ছিল। এটা বুঝতে আর জরিপের বাকি রইল না সবকিছু ছিল নিধির প্ল্যান। এবার জারিফ বুঝতে পারলো নিধি সবকিছু প্ল্যান করে করেছে। আসলে হাসপাতালে যাওয়া থেকে শুরু করে বাকি কর্মকাণ্ড সবকিছু ছিল নিধির সাজানো। ডাক্তার ও অন্যান্য সবকিছুই ছিল ভুয়া। এবার জারিফের বদলা নেওয়ার পালা। জারিফ নিজেকে কন্ট্রোল করে এবং মধুর সুরে কথা বলে নিধির সাথে দেখা করতে চায়। এরপর তারা দেখা করে। জারিফ নিধির কথা মনে করে একইভাবে অভিনয়টা চালিয়ে যায়। আর নিধিকে বোঝানোর চেষ্টা করে সে সবকিছু মেনে নিয়েছে। আবারো দুজনের সম্পর্ক ঠিক হতে চলেছে। জারিফ এবং নিধি দুজনে আবারও এক হয়ে যায়। কিন্তু জারিফ মনে মনে প্লান করে রেখেছে আবারও নিধিকে কোন একভাবে ফাঁসাবে। এভাবেই নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
নাটকের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। আর মাঝের গল্পটা অনেক ভালো ছিল। তবে শেষের দিকে এসে কেন জানি এলোমেলো লেগেছে। শেষের অংশটা কেন জানি আমার কাছে পারফেক্ট মনে হয়নি। নাটকের শেষ অংশটা যদি সুন্দর হয় তাহলে দেখতে ভালো লাগে। আর নাটকের গল্প ভালো লাগে। তাইতো আমার কাছে মনে হয় নাটকের শেষের অংশে কিছুটা কমতি রয়েছে। আর একটু ভালো হলে নাটকটি আরও বেশি ভালো লাগতো।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
আপনি আজকে অপূর্ব এবং তাসনিয়া ফারিন এর অনেক সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন, যেটা পড়তে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আপনার নাটকের রিভিউ গুলো আমার অনেক ভালো লাগে। এখানে তারা দুজন অনেক ভালো অভিনয় করেছে। এই নাটকটা এখনো পর্যন্ত আমার যদিও দেখা হয়নি, তবে সময় পেলে অবশ্যই চেষ্টা করব নাটকটা দেখে নেওয়ার।
অপূর্ব এবং তাসনিয়া ফারিনের দারুন একটি নাটক রিভিউ সবার মাঝে উপস্থাপন করেছি ভাইয়া। আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। সময় পেলে নাটকটি দেখবেন ভাইয়া।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে নাটক রিভিউ শেয়ার করেছেন। আসলে নাটক দেখতে আমি বেশ পছন্দ করি। আমিও প্রায় কমবেশি প্রতি সপ্তাহে নাটক রিভিউ করে থাকি। তবে অপূর্ব নাটক গুলো দেখতে সত্যি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে আপু।আমি কেন এই নাটকটি এখনো দেখা হয়নি। আশা করি খুব দ্রুত নাটকটি দেখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ভাই আমি চেষ্টা করেছি ভালো লাগার একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার। মাঝে মাঝে নাটক দেখলে নাটক শেয়ার করার চেষ্টা করি ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি কেন নাটকটার রিভিউ পোস্ট পড়ে খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। অপূর্ব আমার অনেক পছন্দের একজন অভিনেতা। তাসনিয়া ফারিন এর অভিনয়ও অনেক ভালো লাগে আমার কাছে। আমি সময় পেলে নাটক দেখে থাকি তবে এই নাটকটা দেখা হয়নি। আমি তো ভাবছি আজকের মধ্যেই এই নাটকটা দেখে নেব। আশা করছি নাটকটা দেখার পর আমার কাছে ভালো লাগবে।
অপূর্ব এবং তাসনিয়া ফারিন দুজনে যেহেতু আপনার পছন্দের অভিনয়শিল্পী তাইতো সময় পেলে নাটকটি দেখবেন আপু। আশা করছি আপনার কাছে ভালো লাগবে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মতামতের জন্য।
তাসনিয়া ফারিন এর অভিনয় দেখতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি তাসনিয়া ফারিন এর প্রতিটি নাটক দেখার। তবে আমি কেন এই নাটকটি আমি দেখিনি। অবশ্যই সময় পেলে চেষ্টা করব নাটকটি দেখার। ধন্যবাদ আপু নাটকটি শেয়ার করার জন্য।
তাসনিয়া ফারিনের অভিনয় আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। নাটকটি দেখবেন আপনি। আশা করছি আপনার কাছেও ভালো লাগবে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু দারুন একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করেছেন। এক সময় তাসনিয়া ফারিনের বেশ কয়েকটা নাটক আমি দেখিছি। আর অপূর্ব তো পুরাতন অভিনেতা। হাসপাতালে অপূর্বের অভিনয় গুলো দারুন ছিল। আমিও রক্ত নেওয়া ও দেওয়াকে খুব ভয় পায়,হে হে হে। ধন্যবাদ।
ভাই আপনি একসময় তাসনিয়া ফারিন এর নাটক দেখতেন জেনে ভালো লাগলো। আর অপূর্ব অনেক পুরনো অভিনেতা। তাইতো দুজনের নাটক আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
ফারিয়া ও অপূর্বর দারুন একটি নাটক আজকে আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন আপু। বেশ ভালো লাগলো আপনার সুন্দর এই নাটকটা। আসলে এই জাতীয় নাটকগুলো আমার খুবই প্রিয় আমিও চেষ্টা করে থাকি দেখার জন্য। খুবই খুশি হলাম সুন্দর এই নাটকটা আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখিয়েছেন দেখে।
ফারিয়া এবং অপূর্ব আমার খুবই পছন্দের অভিনয়শিল্পী। তাই তো সময় পেলে নাটক দেখি ভাইয়া। মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
নাটকটি মেবি দেখেছি। নাটকের গল্পটাও ভালো মোটামোটি। তবে শেষের দিকে ফিনিশিংটা আরেকটু ভালো হলে ভাললই লাগতো। সবমিলিয়ে ভালো ছিল
সত্যি ভাইয়া শেষের ফিনিশিং টা আমার কাছে একদমই ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছিল কিছুটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। যাই হোক আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু আপনি তো দেখছি নাটক বেশ ভালই দেখেন। আসলে বাংলা নাটক গুলো দেখতে খুবই বড় ভালো লাগে। অনেক কিছু শিক্ষনীয় থাকে আমাদের বাংলাদেশের নাটকগুলোর। তো আপনি অসাধারণ একটি নাটকের রিভিউ দিলেন। আমি কেন? নাটকটি দেখতে অসাধারণ ভালো লেগেছে। তবে সরাসরি একদিন দেখব আজকে আপনার রিভিও দেখলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
আপু আমি সময় পেলে নাটক দেখি। আর বাংলা নাটক গুলো দেখতে আমার ভালো লাগে। এই নাটকটি ভালোই ছিল। তবে শেষের দিকে একটু কেমন যেন লেগেছে।
আমি কেন? এই নাটকটির গল্প মোটামুটি ভালো ছিলো। আমি বেশ কিছু দিন আগে দেখেছিলাম। নাটকটি শুরু থেকে দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে শেষের দিকে গিয়ে এলোমেলো লাগে। চমৎকার ভাবে রিভিউ করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
ভাই আপনি নাটকটি দেখেছিলেন জেনে ভালো লাগলো। শেষের দিকে সত্যি অনেকটা এলোমেলো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।
আপনার করা রিভিউ পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু।অপূর্বের নাটক গুলো এমনিতেই খুব ভালো লাগে।আপনি খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন নাটকটির কাহিনী।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।