গল্প-অপরাজিতার কথা||

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন গল্প লিখতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। তাই আজকে আমি একটি গল্প লিখে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো। আশা করছি আমার লেখা গল্প সবার ভালো লাগবে।


অপরাজিতার কথা:

people-2565169_1280 (1).jpg

Source


অপরাজিতার গল্পটা ছিল একদমই আলাদা। সময়টা ছিল প্রায় ২০ বছর আগে। অপরাজিতা তখন সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। দেখতে শুনতে বেশ ভালো ছিল অপরাজিতা। ভদ্র পরিবারের বড় মেয়ে অপরাজিতা। অপরাজিতা পড়াশোনাতেও বেশ ভালো। দিনগুলো তার ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে অপরাজিতার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলো। তার বাবা হঠাৎ করেই মারা গেলেন। অপরাজিতা যেহেতু পরিবারের বড় মেয়ে তাই তার দায়িত্ব যেন অনেক বেড়ে গেল। মায়ের হাতে হাতে সব কাজ করতে লাগলো অপরাজিতা। কিন্তু তা দিয়ে তো আর সংসার চলে না। ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয় তাকে। অপরাজিতা শুরু করলো টিউশনি করা।


নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে ছোট ভাই বোনের খরচ চালাতো সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যদি মারা যায় তাহলে তার পুরো পরিবার শেষ হয়ে যায়। তাদের কোন কিছুই করার থাকেনা। অপরাজিতার পরিবার ঠিক তেমনই বিপদের মধ্যে পড়েছিল। অপরাজিতা কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করলো। মেয়েটা ভীষণ পরিশ্রমী। কোন কিছু না ভেবে রাত দিন পরিশ্রম করতে লাগলো। একদিন সন্ধ্যায় টিউশনি করে ফেরার পথে অপরাজিতাকে কিছু বখাটে মিলে উত্ত্যক্ত করল। কেড়ে নিলো তার সম্মান। সেই আলো-আঁধারের রাতে অপরাজিতার চিৎকার কেউ শুনলো না। রাস্তার পাশে পড়ে রইল অপরাজিতার ক্ষতবিক্ষত দেহটা।


হঠাৎ যখন অপরাজিতার জ্ঞান ফিরলো তখন সে ভয়ে শিউরে উঠলো। অপরাজিতা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। গাড়ির নিচে পড়ে নিজের জীবন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবারের মানুষগুলোর মুখগুলো মনে পড়ে গেল তার। অপরাজিতা নিজেকে শক্ত করলো। নিজের মনোবলকে স্থির করলো। গায়ে চাদর জড়িয়ে রওনা দিলো বাড়ির দিকে। বাড়ির উঠোনে মাকে বসে থাকতে দেখলো সে। সবাই ঘুমিয়ে গেছে কিন্তু মা তখনো জেগে আছে। কারণ তার মেয়ে ঘরে ফেরেনি। অপরাজিতা নিজের মাকে শক্ত করে ধরিয়ে ধরেছিল। তার মা তার কষ্টগুলো বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। মা মেয়ে দুজনে অনেক কেঁদেছিল।


ধীরে ধীরে অপরাজিতা সব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তার জীবনে আবারো ঝড় শুরু হয়ে গেল। সেই নরপিচাশ বখাটে গুলো তাকে আবারো উত্যক্ত করছিল। শুরু হয়ে গেল ব্ল্যাকমেলিং। অপরাজিতা আরো বিপদে পড়ে গেল। এবার বাধ্য হয়ে অপরাজিতা নতুন পদক্ষেপে এগিয়ে গেল। অপরাজিতা তার বান্ধবীর সহায়তায় একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সাথে যোগাযোগ করলো। উনার মাধ্যমে থানায় খবরটি জানানো হলো। শুরু হয়ে গেল সেই অপরাধীদের ধরার মিশন। অপরাধীরা ধরা পড়েছিল। কিন্তু সমাজ অপরাজিতাকেও অপরাধী বানিয়ে দিল।


সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল অপরাজিতা। নিজের সম্মান ফিরিয়ে আনার লড়াই করেছিল। তার সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। অপরাজিতা নিজের সম্মান ফিরে পেয়েছিল। নিজের যোগ্যতায় অপরাধিতা একজন স্কুল শিক্ষিকা হয়েছে। সে তার ছাত্র-ছাত্রীদের সবকিছুই খুলে বলছিল। তার সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ সে কিভাবে করেছিল সেটা তার ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিয়েছিল। আজ ২০ বছর পর এসেও অপরাজিতার মুখে সেই আনন্দের হাসি ছিল। কারণ সে তার জীবনে জয়ী হয়েছে। তার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। হয়তো এরকম পরিস্থিতিতে হাজারো অপরাজিতা হারিয়ে যায় কিংবা নিজের জীবন দিয়ে দেয়। আর খুব কম সংখ্যক অপরাজিতা নিজেকে প্রমাণ করার লড়াইয়ে নামে।



আমার পরিচয়

photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 65005.43
ETH 1865.74
USDT 1.00
SBD 0.39