আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সামারা ভিলেজ পার্ক ভ্রমণ
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি।গত শুক্রবার আমি, আমার ওয়াইফ, আমার শাশুড়ি এবং আমার নানী শাশুড়ি আমরা সবাই একটি দাওয়াতে গিয়েছিলাম,আমার মামা শশুরের শশুরবাড়িতে। আমার মামা শশুরের শশুরবাড়ি হচ্ছে নয়াপুরে। নয়াপুর হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানায় অবস্থিত। তো আমরা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে রওনা দিলাম নয়াপুরের উদ্দেশ্যে। মদনপুর থেকে একটি সিএনজি ভাড়া করলাম নয়াপুর যাওয়ার জন্য। অল্প একটু যেতেই দেখলাম রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম।
এমনিতে মদনপুর থেকে নয়াপুর যেতে তেমন একটা সময় লাগে না, কিন্তু এই রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই প্রচন্ড জ্যাম লেগে থাকে। প্রায় ১০/১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর, ঠিক করলাম এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না তাই অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। কেওঢালা দিয়ে পঞ্চমীঘাট হয়ে নয়াপুর যাওয়া যায়, তারপর আমরা সেই রাস্তা দিয়েই যেতে লাগলাম। যদিও এই রাস্তা দিয়ে নয়াপুর যেতে সময় বেশি লাগে,কারণ অনেক ঘুরে যেতে হয়। যাইহোক সিএনজি তার আপন গতিতে যেতে লাগলো, দেখলাম যে রাস্তা ভালোই ফাঁকা। কিন্তু অনেকখানি সামনে যেতেই দেখলাম রাস্তায় আবারও সেই জ্যাম।
কারণ সেখানে দুইটি ব্রিজের পুনঃনির্মাণের কাজ চলছে, তাই গাড়ি আসা যাওয়া করতে অনেক সময় লাগছে। দুটি ব্রিজ পার হতে আমাদের অনেক সময় লেগে গেল। দুপুর ১টার দিকে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছালাম। প্রথমে আমরা বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করলাম সবার সাথে এবং তারপর চলে গেলাম মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে। জুম্মার নামাজ আদায় করে আমি আশেপাশের কিছু ফটোগ্রাফি করলাম এবং তারপর তাদের বাসায় গেলাম। তারপর সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। বেশ ভালোই আদর আপ্যায়ন করল আমাদেরকে।
তারপর সবাই গল্প গুজব করলাম কিছুক্ষণ এবং তারপর সবাই বলল যে সামারা ভিলেজ পার্কে ঢুকে একটু ঘোরাঘুরি করবে। সামারা ভিলেজ পার্ক তাদের বাসার পাশেই, আর পার্কটির মালিক হচ্ছে আমার মামা শশুরের দাদা শশুর। তারপর মামী শাশুড়ির বড় ভাইয়া আমাদের সামারা ভিলেজ পার্কে প্রবেশ করিয়ে দিল, তাই আমাদের কোন প্রবেশ টিকেট লাগেনি। তারপর আমরা কয়েকজন পার্কে ঢুকে ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম। যেহেতু দুপুর বেলা তাই লোকজনের আনাগোনা পার্কের ভেতরে একটু কমই ছিল।
পার্কের এরিয়াটা ভীষণ বড় কিন্তু রাইড খুব কম। ৩/৪ বছর আগে এই পার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে সামারা ভিলেজ এর নাম অনেক শুনেছি, কিন্তু কখনো আসা হয়নি। যাইহোক পার্কের ভেতরের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলাম, আর ফাঁকে ফাঁকে কিছু ফটোগ্রাফি করলাম। তারপর আমরা চকোলেট এবং কোল্ড ড্রিংকস খেলাম কিছুক্ষণ বসে বসে। বিকেল হয়ে আসছিল আর লোকজনের আনাগোনা বাড়ছিল।
পার্কের কোনায় কোনায় বসে কপোত-কপোতীরা প্রেম করছে সেই দৃশ্যও দেখলাম। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে বিকেল হয়ে আসলো, তাই ভাবলাম পার্ক থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। কারণ রাস্তায় অনেক জ্যাম। পার্ক থেকে বের হওয়ার আগে কয়েকটি ফুলের ফটোগ্রাফি করলাম। সেই ফটোগ্রাফি গুলো অন্য পোস্টে শেয়ার করবো, নয়তো পোস্টটি অনেক বড় হয়ে যাবে। যাইহোক পার্ক থেকে বের হয়ে তাদের বাসায় গিয়ে, সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে। রাস্তায় আবারও সেই প্রচন্ড জ্যাম, তাই বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে।সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
| ক্যাটাগরি | ভ্রমণ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy Note 20 Ultra 5g |
| তারিখ | ১.১.২০২৩ |
| স্থান | w3w |
বাহ আপনি তো এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাইলেন। আবার সুন্দরভাবে পার্ক ভ্রমণ করলেন। পার্কের প্রাকৃতিক অপূর্ব সৌন্দর্য খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করেছেন নিশ্চয়। আপনার পার্কের ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর ছিলো। এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাইয়া,আসলেই তো এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছি। পার্কটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই উপভোগ করেছি। প্রশংসনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এভাবে যদি কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ফলে যদি আশেপাশে কোন ঘুরার জায়গা থাকে তাহলে অবশ্যই সেই জায়গায় যাওয়া হয় সবার। খুবই ভালো একটি সময় অতিবাহিত করেছেন দেখছি। আমার কাছে এরকম পার্কে ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। মনে হচ্ছে খুবই ভালো একটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন সেখানে গিয়ে। আপনার কাটানো এত সুন্দর একটি মুহূর্ত সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
জি আপু পার্কটি তাদের বাসার পাশেই এবং পার্কের মালিকও তারা। পার্কের ভেতরে খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি তো দেখছি একসাথে দুইটি জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন। মনে হচ্ছে আপনার আত্মীয়দের বাসায় যাওয়ার পর আপনাদেরকে অনেক আদর আপ্যায়ন করেছে। সেখানে যাওয়ার সাথে আবার দেখছি পার্কে ও ঘুরতে গিয়েছেন। মনে হচ্ছে খুবই ভালো সময় কাটিয়েছেন পার্কে গিয়ে। আসলে ঘোরাঘুরি করতে সবাই পছন্দ করে কমবেশি। যাইহোক এরকম পার্কে ঘুরার মজাটাই কিন্তু আলাদা। ধন্যবাদ।
জি ভাইয়া বেশ আদর আপ্যায়ন করেছে আমাদেরকে এবং পার্কে ঘোরাঘুরি করে ভীষণ ভালো লেগেছিল। গুছিয়ে মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।