সোনারগাঁও জাদুঘরের মেলা ভ্রমণ
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। কারণ বিয়ের পর এটা আমাদের প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স ডে। যাইহোক যোহর নামাজ আদায় করে, লাঞ্চের পর দুপুর ২টার দিকে বাসা থেকে বের হলাম আমরা দুইজন। বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ফুলের দোকানে গিয়ে একটি গোলাপ ফুল কিনলাম এবং আমার স্ত্রীকে গোলাপ ফুলটি দিয়ে নতুন করে আবারও প্রপোজ করলাম। আমার স্ত্রী গোলাপ ফুল অনেক পছন্দ করে এবং আবারও নতুন করে প্রপোজ করার কারণে সে ভীষণ খুশি হয়েছে।
এরপর আমরা সিএনজি নিয়ে মদনপুর থেকে চলে গেলাম সোনারগাঁও জাদুঘরে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই আমরা প্ল্যান করেছিলাম সোনারগাঁও জাদুঘরে যাবো। কারণ সেখানে একমাস ব্যাপী মেলা চলছে। সোনারগাঁও জাদুঘরের মেলা আমার ভীষণ ভালো লাগে। প্রতিবছরই সোনারগাঁও জাদুঘরে যখন মেলা হয়, তখন কয়েকবার করে যাওয়া হয়। তবে এই বছর অনেক ব্যস্ততার জন্য যাওয়া হয়নি। মেলা শুরু হয়েছিল ১৮ই জানুয়ারি এবং শেষ হবে ১৮ই ফেব্রুয়ারি। তাই ভাবলাম আজকে না গেলে এই বছর আর মেলায় যাওয়া হবে না। যাইহোক আমরা দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটের দিকে সিএনজি থেকে সোনারগাঁও জাদুঘরের গেইটের সামনে নামলাম।
তারপর ১০০ টাকা দিয়ে সোনারগাঁও জাদুঘরে প্রবেশ করার জন্য দুটি এন্ট্রি টিকেট কিনলাম। ভেতরে প্রবেশ করার পর প্রথম যেটা লক্ষ্য করলাম, সেটা হল লোকজনের আনাগোনা প্রচুর। যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, সেজন্য এমন ভিড় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় । আর সোনারগাঁও জাদুঘরের এরিয়া অনেক বড়। আমরা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম এবং ফাঁকে ফাঁকে আমি কিছু ফটোগ্রাফিও করে নিলাম। তারপর আমরা চলে গেলাম মেলার স্টল গুলো যেখানে অবস্থিত সেখানে। আমার স্ত্রী বললো সে নাকি জামদানি থ্রি পিস কিনবে। তারপর আমরা জামদানি থ্রি পিস কেনার জন্য একটি স্টলে ঢুকলাম।
তবে এখানে একটি কথা বলে রাখি যে, সোনারগাঁও জাদুঘরের ভেতর প্রায় বারো মাস জামদানি শাড়ি এবং থ্রি পিস তৈরি করা হয়। আর এখানকার জামদানি শাড়ি এবং থ্রি পিস এর মান খুবই ভালো। তবে তুলনামূলকভাবে মেলার সময় একটু বেশি দামে বিক্রি করা হয়। যাইহোক কয়েকটি থ্রি পিস দেখার পর, ১২০০ টাকা দিয়ে একটি জামদানি থ্রি পিস কিনলাম আমার স্ত্রীর জন্য। এরপর আমরা চলে গেল অন্য একটি স্টলে, যেখানে কাঠের জিনিসপত্র পাওয়া যায়। সেখান থেকে আমার স্ত্রী একটি কাঠের চিরুনি এবং কিছু কাঠের জিনিসপত্র কিনলো। তারপর আমি ঘুরে ঘুরে কয়েকটি স্টলের ফটোগ্রাফি করে নিলাম।
এরপর আমার স্ত্রী বলল সে ফুচকা খাবে। তারপর ফুচকা খাওয়ার জন্য আমরা একটি ফুচকার দোকানে ঢুকলাম। ফুচকা খেয়ে বিল দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম। তারপর আমরা চলে গেলাম নকশী কাঁথার একটি স্টলে। সুন্দর সুন্দর কয়েকটি নকশী কাঁথা দেখলাম এবং ফটোগ্রাফি করে নিলাম। অন্য একটি পাশে দেখলাম যে স্টেজ বানানো এবং দর্শকদের বসার জন্য অনেক গুলো চেয়ার। খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে, সন্ধ্যার পর লোকসংগীত হবে। তবে আমার ততক্ষণ পর্যন্ত থাকা সম্ভব নয়,কারণ বাসায় ফিরতে হবে সন্ধ্যার আগে। এরইমধ্যে দেখলাম যে, বিকেল ৫টা বেজে গিয়েছে। এরপর আমরা সোনারগাঁও জাদুঘর থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম এবং সন্ধ্যার একটু আগে বাসায় পৌছলাম।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে।সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
| ক্যাটাগরি | ভ্রমণ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy Note 20 Ultra 5g |
| তারিখ | ১৭.২.২০২৩ |
| স্থান | w3w |
আমার পরিচয়
🥀🌹আমি মহিন আহমেদ। আমি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসবাস করি এবং আমি বিবাহিত। আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে রেন্ট-এ- কার ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। আমি ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করি। তাছাড়া ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতেও ভীষণ পছন্দ করি। আমি স্টিমিটকে খুব ভালোবাসি এবং লাইফটাইম স্টিমিটে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি আমি সবসময় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে ইচ্ছুক।🥀🌹
জি ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন, সেখানে গিয়ে খুবই আনন্দে কেটেছে সময়টা। এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
লোককারু শিল্প মেলায় খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন । দেখে খুব ভালো লাগলো। এ ধরনের মেলা যাওয়ার আনন্দ সত্যি খুব অন্যরকম হয়ে থাকে। লোকজ সত্যি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আপনার ফটোগ্রাফি বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। আলপনা আঁকা মাটির তৈরি জিনিসপত্রগুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। এতো সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
মাটির তৈরি জিনিসপত্র গুলো দেখে আপনার কাছে খুব ভালো লেগেছে, জেনে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, প্রতিনিয়ত এত সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য।
বিবাহের পরে এটাই আপনাদের প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে আর প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে আপনি আপনার স্ত্রীকে নতুন করে আবার প্রপোজ করেছেন আসলে ব্যাপারটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর ছিল। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন যে সোনারগাঁও জাদুঘরের ঘুরতে যাবেন অবশ্যই সেখানে গিয়ে খুবই সুন্দর একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করার পাশাপাশি সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যেগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাদের কাটানো এই সুন্দর মুহূর্তটা আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
ফটোগ্রাফি গুলো আপনার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, জেনে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। আপনার মূল্যবান মতামত প্রকাশ করার জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সোনারগাঁও জাদুঘর মেলা ভ্রমণ করে অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন ফটোগ্রাফি গুলা বেশ দারুন ছিল।। বিশেষ করে আপনাদের ফুচকা খাওয়ার ফটোগ্রাফি দেখেই কিন্তু লোভে পড়ে গেছে নিশ্চয়ই খুব মজা করে খেয়েছেন।।
সব মিলিয়ে মেলা ভ্রমণ করে ভালো সময় অতিবাহিত করেছেন শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।।
জি ভাইয়া ফুচকা সত্যিই খুব মজা করে খেয়েছি। গুছিয়ে মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মাঝে মাঝেই আমার ঢাকা যাওয়া হয় তবে সোনারগাঁও কখনো যাওয়া হয়নি আপনার পোস্টটি দেখার পর সিদ্ধান্ত নিলাম এরপরে ঢাকায় গেলে সোনারগাঁও থেকে ঘুরে আসবো সময়টা দুজনে মিলে বেশ ভালোই কাটিয়েছেন গোলাপ পেলে মেয়েরা খব খুশি হয়। নিজের স্ত্রীকে গোলাপ দিয়ে আবার প্রপোজ করেছেন। ব্যাপারটা বেশ রোমান্টিক ছিলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
পরের বার ঢাকা আসলে অবশ্যই সোনারগাঁও জাদুঘর ঘুরে যাবেন ভাইয়া, যদি সম্ভব হয় তাহলে বাংলার তাজমহলও ঘুরে যাবেন। দাওয়াত রইল ভাইয়া। যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে কষ্ট করে একটু জানাবেন। ভালো থাকবেন ভাইয়া।